বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯
Saturday, 24 Aug, 2019 10:22:59 pm
No icon No icon No icon

বালু নদীতে আনন্দ ভ্রমনে মাদকের ছড়াছড়ি-ট্রলার মালিকদের দখলে ইছাপুরা লঞ্চ টার্মিনাল

//

বালু নদীতে আনন্দ ভ্রমনে মাদকের ছড়াছড়ি-ট্রলার মালিকদের দখলে ইছাপুরা লঞ্চ টার্মিনাল


এস.এম.নাহিদ, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : নারায়নগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানার অর্ন্তগত ইছাপুরা বিআইডাব্লিউটিসি'র লঞ্চ টার্মিনাল দখল করে নিয়েছে ইছাপুরা বাজার বোট ও সাউন্ড মালিক সমিতি। ট্রলারের মালিকেরা আনন্দ ভ্রমনের নামে মাদক সহ ৩০/৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়া দিয়ে তাদের ব্যক্তিগত পকেট ভারী করছেন। এমনকি টার্মিনালের ভিতর যাত্রীদের বসার স্থানেই হাই ভোল্টেজ সাউন্ড সিস্টেম, অসংখ্য বড় বড় স্পিকার ও জেনারেটর,বড় বড় হাড়ি,গামলা, সহ ট্রলার সাজানোর নানা আসবাবপত্র রেখে তালা বদ্ধ করে রেখেছে সরকারী এ ভবনটিতে।
অনুসন্ধানে জানা যায় – আনন্দ ভ্রমনের নামে বালু নদিতে কোন ট্রলারের নেই কোন ফিটনেস। এমনকি ভ্রমনকারীদের নিরাপত্তায় নেই কোন ধরনের বয়া কিংবা লাইফ জ্যকেট। ইতিপূর্বে এমন আনন্দ ভ্রমনে এই বালু নদীতে অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা ও ঘটেছে। তবে ভ্রমন ইচ্ছুকরাও এইসবের তেমন একটা তোয়াক্কা করে না। কারন অধিকাংশ কিশোর কিশোরী বালু নদীতে আনন্দ ভ্রমন কিংবা পিকনিক করার নামে ট্রলার ভাড়া করে তারা মেতে উঠেন ইয়াবা, ফেন্সিডিল, বিয়ার সহ নানা রকম মাদক সেবনে। নদী পথে প্রশাসনিক কোন ঝামেলা না থাকায় মাদকের নেশায় উত্তেজিত হয়ে লাউড স্পিকারের উচ্চস্বরে গানের তালে তালে নিজেদের শরীরকে ও বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিমায় দোলাতে থাকে মনের আনন্দে। এমনকি আশে পাশের মসজিদের আজান কিংবা নামাজের সময়ে স্থানীয় মসজিদগুলোর মুসল্লিদের গান বন্ধ রাখার অনুরোধ সত্ত্বেও ট্রলার মালিক কর্তৃপক্ষ কিংবা ভ্রমনকারীরা মুসল্লিদের কথার কোন তোয়াক্কা বা কর্নপাত করে না। আনন্দ ভ্রমনের সু-সজ্জ্বিত ট্রলারে বিভিন্ন রংএর লাইটিং ছাড়াও এসব ট্রালারের মালিক ও চালকরা ভ্রমনকারীদের ব্যবস্থা করে দেয় প্রয়োজন মোতাবেক বিভিন্ন ধরনের মাদক। এদিকে ইছাপুরা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, তালাবন্ধ টারমিনাল নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ইছাপুরা বাজার বোট ও সাউন্ড মালিক সমিতি। এমনকি সরকারি এই টার্মিনালের উত্তর পাশের চায়ের দোকানদার সোহেল মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাড়া তুলছে। আনন্দ ভ্রমনের যাত্রীদের খেদমতে ব্যস্ত থাকে পাতিরা ও পূর্বাচল উপশহরের ভাসমান মাদক ব্যবসায়ীরা। সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয় ইয়াবা, ফেন্সিডিল সহ নানা রকম মাদক। ইতিপূর্বে টঙ্গী থেকে এমনি এক আনন্দ ভ্রমনে এসেছিল কিছু স্কুল ছাত্র। ট্রলারের মধ্যে অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারনে বালু নদীতে ট্রলার থেকে পড়ে তানি নামের নবম শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধাকারী ডুবুরী দল নিহত তানিকে উদ্ধার করে। এভাবে চলতে থাকলে বালু নদীতে আনন্দ ভ্রমনের নামে যে কোন সময়ে ঘটে যেতে পারে অনেক বড় ধরনের দূর্ঘটনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত জরুরী বলে মনে করেন সচেতন মহল।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK