মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯
Sunday, 18 Aug, 2019 10:34:32 am
No icon No icon No icon

ডিজিটাল প্রতারণার ভয়ংকর ফাঁদ

//

ডিজিটাল প্রতারণার ভয়ংকর ফাঁদ


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: নানা ধরনের ভয়ংকর সব প্রতারণা হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। সময়ের সঙ্গে বাড়ছে প্রতারকের সংখ্যা। বদলাচ্ছে প্রতারণার ধরন। ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল ফোনে ওতপেতে থাকা প্রতারকরা নানা কৌশলে অর্থকড়ি হাতিয়ে নিয়ে নিঃস্ব করছে মানুষকে। এমন সব প্রতারণার ঘটনা ঘটছে- অনেকে সামাজিক অবস্থানের কথা চিন্তা করে চেপে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অবস্থাটা এমন- যেন প্রতি এক গজ দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে একেকজন প্রতারক। তারা বলছেন, এদের খপ্পর থেকে দূরে থাকার একমাত্র মাধ্যম সচেতনতা।

পুলিশ, র‌্যাব ও পিবিআই’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নানা কায়দায় প্রতারণার ফাঁদ পাতে। সাধারণত সহজসরল মানুষই তাদের লক্ষ্য। সুযোগ বুঝেই নানা ছলচাতুরী ও মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তারা প্রতারণা করছে। এসব প্রতারণার মধ্যে কম খরচে বিদেশ পাঠানোর প্রলোভন, বিকাশ বা মুঠোফোনে বড় পুরস্কার জেতা, জাদুর বাক্সে টাকাকে ডলারে রূপান্তর, কম দামে ভালো জিনিস বিক্রির নামে পুরনো কাপড় গছিয়ে দেয়া, অনলাইনে বিনিয়োগ করে দ্রুত অধিক মুনাফা অর্জন ও ভাগ্য পরিবর্তন ইত্যাদি বিচিত্র ও অভিনব কৌশলে প্রতারণা করে এরা।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, যেসব মানুষ ভার্চুয়াল প্রতারণার শিকার হন, তাদের মধ্যে ৭০ ভাগই মামলা করতে চান না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, নানা ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পেতে চারদিকে ওতপেতে রয়েছে নানা প্রতারক চক্র। ভয়ংকর সব প্রতারণার অভিযোগ থাকলেও নেই প্রতিকার। মামলার পর গ্রেফতার হলেও দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠছে চক্রের সদস্যরা। শুধু রাজধানীতে কয়েক হাজার প্রতারক সক্রিয়। ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত শুধু র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছে ৪ সহস্রাধিক প্রতারক। এর মধ্যে ডিজিটাল প্রতারকই বেশি।
প্রবাসী কোনো ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে ফেইক আইডি খুলত জাহাঙ্গীর আলী। এরপর ফ্রেন্ডলিস্ট নিয়ে তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব। একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলত। পরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীর ছবি সংগ্রহের পর তা এডিটিং করে নগ্ন ছবি তৈরি করে মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে ওই তরুণীর কাছে টাকা দাবি করত। না দিলে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিত। এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে ৪ আগস্ট সিআইডির একটি দল তাকে মৌলভীবাজার থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর সে সিআইডিকে জানিয়েছে, এ পর্যন্ত শতাধিক তরুণীকে অনলাইনে এভাবে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থকড়ি হাতিয়ে নিয়েছে সে। ৯ আগস্ট মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান থেকে আবদুল্লাহ আল মামুন নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, সে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে, ফেসবুকে পেজ খুলে কেনাকাটার চটকদার বিজ্ঞাপন দিত। কেউ তার পণ্য কিনতে চাইলে তার কাছ থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা নিয়ে কুরিয়ারের মাধ্যমে পুরনো কাপড় পাঠিয়ে প্রতারণা করত।

ছাব্বির হোসেন, সাগর খান, নাসির, সুমন সাহা ও কাজী মোর্তজা- এরা মোবাইল ফোন কোম্পানি থেকে লটারিতে গাড়ি, বাড়ি, অর্থ পুরস্কারের কথা বলে প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোটা অঙ্কের টাকা একাধিক বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বরের মাধ্যমে হাতিয়ে নিত। ২৬ মে তাদেরকে ফরিদপুর থেকে গ্রেফতার করে সিআইডির একটি দল। তাদের খপ্পরে পড়ে লাখ লাখ টাকা খুইয়েছেন অনেকেই।

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র হাসান মাহমুদ নাঈম। ধানমণ্ডির রেক্স আইটি ইন্সটিটিউট নামের একটি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিংয়ের কাজ শিখতে গত বছরের মে মাসে ভর্তি হন। প্রতিষ্ঠানটি তার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা ভর্তি ফি নেয়। এরপর ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের নামে মাসে লাখ লাখ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হাসানের কাছ থেকে ৪ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আবদুস সালাম। হাসানের বাবার মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১১ মে আবদুস সালামকে গ্রেফতার করে সিআইডি। জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডি জানতে পারে, অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে প্রতারণা করে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আবদুস সালাম।

সম্প্রতি সাইবার অপরাধবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সাইবার অপরাধ তথা ভার্চুয়াল অপরাধ কমানো সম্ভব। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

এদিকে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক যুগান্তরকে বলেন, ২৩ জুলাই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। এরা বিভিন্ন বিত্তশালী ব্যক্তিকে টার্গেট করে কৌশলে ফাঁদ পেতে অভিনব কৌশলে হাতিয়ে নিত টাকা-পয়সা। এরা এক ধরনের বাক্স (ম্যাজিক বক্স) থেকে টাকাকে ডলারে রূপান্তরের কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছে লোকজনের কোটি কোটি টাকা। লোভ পরিহার করলে ভার্চুয়াল প্রতারণা থেকে অনেকটা মুক্ত থাকা সম্ভব।

পিবিআই’র বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডিজিটাল প্রতারকরা এতটাই সক্রিয় যেন প্রতি দুই হাত দূরে একেকজন প্রতারক দাঁড়িয়ে আছে। তারা ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে ভার্চুয়াল প্রতারণার টোপ দিচ্ছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে প্রতিনিয়ত প্রতারক চক্রের সদস্যরা গ্রেফতার হচ্ছে। যতটা গ্রেফতার হচ্ছে এর অনেক গুণ বেশি প্রতারণার ঘটনা ঘটছে।

তিনি বলেন, এদের খপ্পর থেকে মুক্ত থাকতে হলে সচেতনতার বিকল্প নেই। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে সবকিছু মুছে যায় না, সব থেকে যায়। এটা লোকজনকে জানাতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ বা অপরাধীদের গ্রেফতার করে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
সূত্র: যুগান্তর।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK