মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮
Thursday, 04 May, 2017 12:58:43 am
No icon No icon No icon

টাইমস ২৪ ডটনেটের আড্ডায় অঞ্জনা সুলতানা


টাইমস ২৪ ডটনেটের আড্ডায় অঞ্জনা সুলতানা


জিয়াউদ্দীন চৌধুরী (জেড সেলিম), টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: বাংলাদেশের চলচ্চিএ জগতে অঞ্জনা সুলতানা বহুল আলোচিত একটি নাম। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ৩৫০টির ও অধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আসছেন। তিনি একজন গুণী অভিনেত্রী , কত্থক নৃত্য শিল্পী ও মডেলিং এই তিনটিতেই রয়েছে তাঁর সফল বিচরণ। প্রথম চলচ্চিএ বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘সেতু’। কিন্তু দর্শকের সামনে তিনি প্রথম আসেন মাসুদ পারভেজের ‘দস্যু বনহূর’ ছবির মাধ্যমে। অঞ্জনা সুলতানার সাথে টাইমস ২৪ ডটনেট’র আড্ডায় উঠে আসে অভিনয়, নৃত্যসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গিক বিষয়। লিখেছেন সনিয়ির রিপোর্টার জয়িাউদ্দীন চৌধূরী(জেড সেলিম)।
 
টাইমস ২৪ ডটনেট : কেমন আছেন?
অঞ্জনা সুলতানা: আল্লাহ্‌র রহমতে অনেক  ভালো আছি।
টাইমস ২৪ ডটনেট : নিজেকে ভালো রাখতে কোন জিনিষটা সবচাইতে বেশি জরুরি?
অঞ্জনা সুলতানা: নিয়মানুবর্তিতা। আমার মতে নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে থাকলে এবং যেগুলো শরীরের জন্য ক্ষতিকর যেমন নেশাজাতীয় দ্রব্য, মদ বা ধুমপান এগুলো থেকে বিরত থাকলে একটা ভালো জীবন কাটানো সম্ভব।
 
টাইমস ২৪ ডটনেট : ব্যক্তিগত প্রশ্ন। মন খারাপ হয়?
অঞ্জনা সুলতানা: হয়।
টাইমস ২৪ ডটনেট : কী কারণে মন বেশি খারাপ হয়?
অঞ্জনা সুলতানা: আমার চিন্তার অনেকটা জুড়েই থাকে সিনেমা। যখন দেখি অনেক সুন্দর কোন সিনেমা দর্শক পাচ্ছে না তখন সেটি আমাকে মন খারাপ করে।
 
টাইমস ২৪ ডটনেট :  পথচলার শুরুর গল্পটা বলুন!
অঞ্জনা সুলতানা: মধ্যবিত্ত এক ব্যাংকার পরিবারে ২৭ জুন ১৯৬৫ সালে ঢাকা ব্যাংক কোয়ার্টারে জন্ম আমার। সংস্কৃতিমনা পারিবারিক আবহে আমি ছোটবেলা থেকেই । নৃত্যে ছিল বিশেষ দুর্বলতা। তাই বাবা-মা আমাকে ভারতে পাঠান নৃত্য শেখাতে। সেখানে আমি ব্যাক্তিগতভাবে ওস্তাদজি বাবুরাজ হীরালালের অধীনে বেশ ভালোভাবেই কত্থক নৃত্য আয়ত্ত শেষে দেশে ফিরি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে আমার পারফর্ম ভালো লাগলো মাসুদ পারভেজ  (সোহেল রানা) আমাকে ঢাকাই ছবিতে প্রথম কাস্ট করেন। সেই থেকে আমার পথচলা।আর ও কিছু কথা আছে!
টাইমস ২৪ ডটনেট : কি কথা?
অঞ্জনা সুলতানা: আমি কিন্তু অভিনয় ও নৃত্যে অনেক পুরষ্কার পেয়েছি

Inline image
টাইমস ২৪ ডটনেট : তাহলে বিস্তারিত বলুন
অঞ্জনা সুলতানা: ‘পরিণীতা’ (১৯৮৬)‘গাংচিল’ (১৯৮২)ছবিতে অভিনয়ের জন্য আমি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করি।জাতীয় পুরস্কারের পাশাপাশি দুবার বাচসাস, নৃত্যে দু’বার শ্রেষ্ঠ জাতীয় পুরস্কার অর্জন করি।এছাড়া ১৯৯৮ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে নৃত্যে প্রথম হয়ে জিতে নিয়েছি হলিউড এ্যাওয়াড পুরষ্কার।
 
টাইমস ২৪ ডটনেট : বাংলাদেশের মানুষরা এখন অনেকটাই সিনেমাহল বিমুখ।এর প্রধান কারণ কি?
অঞ্জনা সুলতানা: মূল কারণ সিনেমা তৈরির দুর্বলতা।এরমধ্যে এদেশের সিনেমাগুলোতে অশ্লীলতা ঢুকে দর্শকদের আরো হল বিমুখ করেছে।এই ফাঁকে দর্শকরা টেলিভিশন বা ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে পড়েছে।যদিও এখন অনেক ভালো ভালো সিনেমা তৈরি হচ্ছে কিন্তু দর্শকদের এই হলবিমুখ মানসিকতাটা পরিবর্তন করা যাচ্ছে না।
 
টাইমস ২৪ ডটনেট : আপনার অভিনীত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছবির নাম বলুন।
অঞ্জনা সুলতানা: নায়করাজ রাজ্জাকের সঙ্গে সর্বাধিক ৩০টি ছবির নায়িকাও আমি! এর মধ্যে অশিক্ষিত, রজনীগন্ধা, আশার আলো, জিঞ্জির, আনারকলি, বিধাতা, বৌরানী, সোনার হরিণ, মানা, রামরহিমজন, সানাই, সোহাগ, মাটির পুতুল, সাহেব বিবি গোলাম ও অভিযান উল্লেখযোগ্য।‘পরিণীতা’ (১৯৮৬)‘গাংচিল’ (১৯৮২)ছবিতে অভিনয়ের জন্য আমি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করি।আর আমার উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো:দস্যু বনহুর,গুনাই বিবি,পরিণীতা,অশিক্ষিত,গাংচিল,রাজবাড়ী,নূরী,মাটির-মায়া,সুখের-সংসার,অন্ধবধূ,যাদু নগর,রূপালি সৈকত।
টাইমস ২৪ ডটনেট : আর আপনার অভিনীত শ্রেষ্ঠ দর্শক নন্দিত কিছু গান
-১।ঢাকা শহর আইশা আমার আশা ফুরাইছে। ছায়াছবি:অশিক্ষিত!রাজ্জাক/অঞ্জনা। ২।আমি যেমন আছি তেমন রবো বউ হবোনা রে।ছায়াছবি:অশিক্ষিত। ৩।বাবারে বাবা কই দিলা বিয়া।ছায়াছবি:অভিযান।রাজ্জাক/অঞ্জনা। ৪।তোমারি পরশে জীবন আমার ওগো ধন্যহলো।ছায়াছবি:অংশীদার।জাফরইকবাল/অঞ্জনা।৫।চলে আমার সাইকেল হাওয়ার বেগে উইরা উইরা।ছায়াছবি:নান্টুঘটক।ওয়াসিম/অঞ্জনা।রাজ্জাক/অঞ্জনা।৬।ও মিস্টি ভাবীরে ও লক্ষী ভাবীরে লজ্জা কেনো পাও।ছায়াছবি:রজনীগন্ধা।আলমগীর/অঞ্জনা।৭।কতো দূরে আর কতো দূরে ভালোবাসার ঠিকানা।ছায়াছবি:সখিতুমিকার।ফারুক/অঞ্জনা।সোহেলরানা/অঞ্জনা।৮।প্রেম যেনো এক ছোট্ট চিটি লিখেছি তোমার নামে।ছায়াছবি:মেহমান।ফারুক/অঞ্জনা।০৯।এই তো সময় ভালোবাসার এই তো সময় কাছে আশার।ছায়াছবি:বিধাতা।রাজ্জাক/অঞ্জনা।১০।জীবনে মরনে আমি তোমারি তুমি আমারি।ছায়াছবি:প্রতিরোধ।ইলিয়াসকাঞ্চন/অঞ্জনা।১১।চোখের পানি কেনো থামেনা মাগো আচল দিয়ে মুছে।ছায়াছবি:মাসুম।ফারুক/অঞ্জনা।১২।জীবনের গল্প এতো ছোট নয় একদিনে তা ফুরিয়ে যাবে।ছায়াছবি:রামরহিমজন।রাজ্জাক/অঞ্জনা।১৩।যাবে কোথায় আমি যে হেথায়।ছায়াছবি:বৌরানী।রাজ্জাক/অঞ্জনা।১৪।আমেরিকা লাভ মাই আমেরিকা।ছায়াছবি:দেশবিদেশ।জসিম/অঞ্জনা।১৫।আরে ও লাঠিয়াল তোর কথায় বড় ঝাল।ছায়াছবি:প্রিয়বান্ধবী।ফারুক/অঞ্জনা।১৬।এই ভালোবাসা বেচে থাকবে এই ভালোবাসা বেধে রাখবে।ছায়াছবি:হিম্মতওয়ালী।জসিম/অঞ্জনা।১৭।এই তো এখানে আমি তোমার চোখেরই কাছে।ছায়াছবি:যাদুনগর।

Inline image
টাইমস ২৪ ডটনেট : দর্শকদের হলমুখী করা যায় কীভাবে তা নিয়ে আপনার কোন পরামর্শ আছে কী?
অঞ্জনা সুলতানা: আমি সত্যিই জানিনা এদেশের দর্শকদের আবার কীভাবে হলমুখী করা যেতে পারে। বিশেষ করে অশ্লীলতার আগ্রাসন ও মেধাবিহীন চলচ্চিত্র দর্শকদের যেভাবে হলবিমুখ করেছে তাতে তাঁদের আবার নতুন করে সিনেমা হলে ফিরিয়ে আনা যায় কীভাবে সেটা সত্যিই আমি জানিনা।তবে সিনেমায় নতুনত্ত্ব, সুন্দর নির্মাণ এসব থাকলে এখনও কিন্তু দর্শকরা হলমুখী হয়, সম্প্রতি কিছু সিনেমাতে তার প্রমাণ আমরা দেখেছি।
 
টাইমস ২৪ ডটনেট : নায়ক-নায়িকাদের সংকটওোরন বিষয়ে কিছু বলুন:
অঞ্জনা সুলতানা: নায়ক-নায়িকাদের সংকটের কথা উঠতেই তিনি বলেন, আমাদের সময় রাজ্জাক, প্রবীর মিত্র, জাফর ইকবাল, ফারুক, ইলিয়াস কাঞ্চন, ওয়াসিম, জসিম, কবরী, শাবানা, ববিতা,রোজিনা,অঞ্জু ঘোষ,দিতি,চম্পার ধারাবাহিকতায় পেয়েছি মৌসুমী, শাবনুর,পূর্ণিমা,মান্না সালমান,রিয়াজ,ফেরদৌসকে।শাকিব খান পর্যন্ত শেষ।এরপর যারা আছে তাদের পায়ের নিচে মাটি শক্ত করার বদলে সংখ্যা আর অর্থের পেছনে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখি।ফলে দর্শক তাদের এক সপ্তাহের বেশি মনে করতে পারে না।তবে অপু-মাহি-ববিরা ভালোর করার তাড়নায় ছুটছে।অন্যদের দেখি ফেসবুকে লাইক-শেয়ার নিয়ে সারাক্ষণ স্মার্টফোন হাতে।অনেকে শর্ট দেয়ার শেষ হতে না হতেই নিজের ছবি দিয়ে ভাই-বেরাদারকে জানিয়ে দিচ্ছেন তিনি ছবি করছেন।কী হাস্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।এরা প্রত্যকেই ব্যস্ত! অনেকের দেখেছি দ্রততম সময়ের মধ্যে গাড়ি থেকে শুরু করে প্রযোজনার মতো ঝুঁকিও নিচ্ছে।এরপর এরা হারিয়ে যাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে সে খবরে কার বা কি আসে।তিনি বলেন, নতুনদের ছবির সংখ্যা বাড়ানোর প্রতি মনোযোগী না হয়ে কোয়ালিটির দিকে মনোযোগী হওয়া দরকার।শিল্প ত্যাগের জায়গা, ত্যাগ করলে দর্শক এর মূল্যায়ন করবেই।সময়টা খুব অস্থির যাচ্ছে তাই ভালো গল্পে নিজেকে জড়াতে হবে, যদি সে চায় নিজের ক্যারিয়ার এখানেই তৈরি করতে।নাটকের মেজাজ নিয়ে যেমন ছবি হবে না তেমনি র‌্যাম্প থেকে এসে শাবানা-ববিতা-রোজিনা হতে পারবে না,সেজন্য শ্রম দিতে হবে আন্তরিকভাবে।অভিনয় গুণ ভেতরে থাকতে হবে ওই গুণটাই জাগিয়ে তুলবে।
টাইমস ২৪ ডটনেট : একটা বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিছু নির্মাতা এমন নাটক নির্মাণ করছেন, যেখানে বাংলা ভাষাকে ধ্বংস করে দেয়ার পাঁয়তারা করছেন? একজন অভিনেএী হিসেবেআপনার ক্তব্য কি?
অঞ্জনা সুলতানা: আমার কাছে মনে হচ্ছে ওনারা ফিরে আসতে বাধ্য। কারণ এতো সমালোচনা হচ্ছে ওনারা ভেবেছিলেন ওনারা জনপ্রিয়তার একটা জায়গায় চলে গেছেন। কিন্তু সেই জায়গা থেকে ক্রমাগত পিছু হটছেন। ভাষাকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। ভাষার শক্তি অন্যরকম। বাংলা ভাষার মতো পৃথিবীর অন্যতম ভাষাকে ধ্বংস করার ক্ষমতা কেউ রাখে না। এদেশে অসংখ্য কবি সাহিত্যিক আছেন। ভাষাকে বিকৃতি করার সংখ্যা খুবই নগণ্য। যেখানে রবীন্দ্রনাথের মতো বড় মাপের স্টলোয়ার্ড আছেন বাংলা সাহিত্যে।
অবসর সময়টুকুতে কি করেন:
সমাজের আর দশজন মানুষের মতোই আমি আমার ঘরের সব কাজ করি। ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় সব দরকারি জিনিস প্রতিদিন বাজারে গিয়ে কিনতে না পারলেও সপ্তাহের একদিন প্রয়োজনীয় সব জিনিস কিনে নিয়ে আসি। তিনি বলেন ‘আসলে নিজ হাতে বাজার করতে পারার আনন্দটা অন্যরকম। এতে কিনতু বাজারদর সম্পর্কেও অভিহিত থাকা যায়।’এছাড়া অঞ্জনা ভাবেন তার আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে। আর সেই সঙ্গে নিজের ড্রেস ডিজাইন তিনি নিজেই করে নেন। চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’আন্দোলনের সঙ্গেও জড়িত অঞ্জনা। তিনি এ সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। ডা. অরূপ রতন চৌধুরীর মাদকবিরোধী সংগঠন ‘মানস’রও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অঞ্জনা।
টাইমস ২৪ ডটনেট: বর্তমান ব্যস্ততা
অঞ্জনা সুলতানা: বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যবসা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। অচিরেই আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে আবারো একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছি। চলতি বছরেই ‘ফুলেশ্বরী’ শীর্ষক একটি ছবি নির্মাণ করব।’ এর আগে আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ‘প্রাণ সজনী’, ‘দেশ-বিদেশ’, ‘লাভ ইন সিঙ্গাপুর’, ‘নেপালি মেয়ে’সহ একাধিক ছবি নির্মিত হয়েছে।
টাইমস ২৪ ডটনেট : মিডিয়াতে তো অনেক!অনেক বছর ধরে কাজ করছেন। নিজের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন।
অঞ্জনা সুলতানা: আসলে শিল্প এমন একটা জায়গা, যেখানে হাহাকার থাকবেই। আমার কাছেও তাই মনে হয় ভাল কাজ বলতে যাই বুঝায় তা এখনও করতে পারিনি। একটা অতৃপ্তি সব সময় কাজ করে। ছবি পরিচালনা/প্রযোজনা করার সময় মনে হয় আরো ভালো কাজ করার দরকার ছিল। আসলে ছেটিছফেকশন চলে আসলে দেয়ার কিছু থাকে না।
টাইমস ২৪ ডটনেট : কখনও কী মনে হয়েছে অভিনয় পেশায় এসে ভুল করেছেন?
অঞ্জনা সুলতানা: কখনও মনে হয়নি। বরং এটা মনে হয়েছে আমি ভাগ্যবানদের একজন। আমি খুব কৃতজ্ঞ যে- সৃষ্টিকর্তা আমাকে সৃষ্টি করার ক্ষমতা দিয়েছেন। আমি আমার চিন্তা, চেতনা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে দর্শককে স্বপ্নের জগতে নিয়ে যেতে পেরেছি।
টাইমস ২৪ ডটনেট : অভিনয় শিল্পী হিসেবে কোয়ালিটি এবং কোয়ান্টিটি কোন্টিকে বেশি প্রাধান্য দেন?
অঞ্জনা সুলতানা: কোয়ালিটি অবশ্যই এর কোন বিকল্প নেই।
টাইমস ২৪ ডটনেট : এবারে নৃত্য প্রসঙ্গ!আপনার দৃষ্টিতে বর্তমান নৃত্যের অবস্থাটা কী রকম?
অঞ্জনা সুলতানা: গুণগত দিক থেকে আসলে আমাদের নৃত্য আগের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। চর্চা ও সাধনার ক্ষেত্রে আমাদের নৃত্য অনেক পিছিয়ে আছে। যদি এর কারণ বলতে হয় তাহলে বলব গুণগত মানটাকে আমরা এখনো দর্শকদের কাছে তুলে ধরতে পারছি না। মিডিয়া এবং সরকারের সহযোগিতা আরো প্রয়োজন।
টাইমস ২৪ ডটনেট : আগের তুলনায় বর্তমানে নৃত্যের বিস্তার প্রসারিত হচ্ছে। এটিকে আরো প্রসারিত করার জন্য কি কি করতে হবে?
অঞ্জনা সুলতানা: কিছু দিন পর পর উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেটা হতে পারে বিদেশ থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষক আনার মাধ্যমে। অবশ্য এই দারিদ্রটা শিল্পকলা একাডেমীর। নৃত্যের জন্য একটি গবেষণাগার খোলা জরুরি। যা বাইরের দেশে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়েও নাচের কোর্স চালু করা উচিত।যদি ও কিছু জাগায় চালু হয়েছে।
টাইমস ২৪ ডটনেট : পূর্বে একটি টিভি চ্যানেল ছিল। নৃত্যানুষ্ঠান প্রচার হওয়ার সাথে সাথে ফিডব্যাক পাওয়া যেত। এখন অনেক চ্যানেল। অনেক নৃত্যের অনুষ্ঠান। এটা কি ইন্ডাস্ট্রির জন্য পজেটিভ?
অঞ্জনা সুলতানা: আমি মনে করি আমাদের এন্টারটেইনমেন্ট অনেক গ্রো করেছে। আমি এটাকে নেগেটিভ ভাবি না, এর ভাল দিকটি হলো এর মাধ্যমে ট্যালেন্ট ছেলেমেয়ে বেরিয়ে আসছে। এখানে সবার পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে আমাদের নৃত্য একদিন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাবে। আর নেগেটিভ...বলার কিছু নেই। অনেকগুলো চ্যানেল হওয়ার কারণে অনেক অযোগ্য লোক চ্যানেলে ঢুকে পড়েছে। টিভি চ্যানেলের দায়িত্ব ভালো প্রযোজক দিয়ে কাজ করানো স্পন্সর ওয়ালাদের উচিত ভাল কাজকে সাপোর্ট দেয়া।
টাইমস ২৪ ডটনেট : একটা সময় টেলিভিশনে নৃত্যকে ফিলার হিসাবে যেত এমন কি সেটা আছে?
অঞ্জনা সুলতানা: ব্যাপারটি হচ্ছে সিডিউল অনুযায়ী একটা নাচের অনুষ্ঠান হয়তো যাওয়ার কথা ছিল, কোন একটা কারণে সেদিন একটা বিশেষ অনুষ্ঠান পড়ে গেছে, দেখা যায় সর্বপ্রথম নাচের অনুষ্ঠান বাদ দেয়া হয়।
টাইমস ২৪ ডটনেট : শিশু বয়সে এদেশে প্রচুর ছেলেমেয়ে নাচ শেখে কিন্তু বড় হয়ে অনেকেই নাচ ছেড়ে দেয় অথবা অন্য পেশায় চলে যায়- এটা কেন?
অঞ্জনা সুলতানা: এটা সত্যি ছোট বেলায় অনেক বাবা মা তাদের ছেলেমেয়েদের নাচ শেখার জন্য উঠে পড়ে লেগে যায়। পড়ে সেটা কন্টিনিউ করতে পারে না। কারণ সমাজে এখনও নাচটাকে বাকা চোখে দেখে। ছেলেরা বড় হয়ে দেখে এ পেশায় মর্যাদা কম, সম্মানী কম। আমি অনেককেই দেখেছি যারা বিয়ের পর নাচটাকে আর কন্টিনিউ করতে পারে না। কতজন এভাবে ঝড়ে গেছে শুধু স্বামীর বাড়ির সাপোর্ট পায়নি বলে। এটা এক ধরনের হীনমন্যতা। অন্য দেশের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশেও নাচটাকে কত মূল্য দেয়া হয়। আজকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঈঙ্গিতা, তারিনের শুরু কিন্তু নাচ দিয়ে। তারপর তারা অভিনয়ে চলে গেছে। এটা হওয়ার কারণ ওখানে মর্যাদা এবং অর্থ বেশি।হসতে হাসতে…..আরে আমি নিজেও কম কিসে?
টাইমস ২৪ ডটনেট : হমমমম আচ্ছা আপনার নিজের বিনোদন কী?
অঞ্জনা সুলতানা: দর্শকদের ভালো লাগা এবং ভালাবাসা পাওয়াই হচ্ছে আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিনোদন। আমি খুব ভ্রমণ প্রিয় মানুষ। সময় পেলেই ঘুরতে বেরিয়ে যাই।
টাইমস ২৪ ডটনেট : পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন কি?
অঞ্জনা সুলতানা: পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলবো সবাই আপনারা আপনাদের পাশের মানুষদের নিয়ে ভালো থাকুন। বিশেষ করে পথ-শিশুদের প্রতি সবাই দায়িত্ত্বশীল হোন।
টাইমস ২৪ ডটনেট : এতো ব্যস্ততার মাঝেও ‘টাইমস ২৪ ডটনেট’ এ আড্ডা দেয়ার জন্য এবং সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
অঞ্জনা সুলতানা: আপনাকেও ধন্যবাদ।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK