demo
Times24.net
অকাল প্রয়াত কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ জন্ম দিবসে কবিতা ও জীবন সে আর ফিরবে না..
Wednesday, 16 Oct 2019 23:56 pm
Times24.net

Times24.net

ইমতিয়াজ আহমেদ : ৬০ দশকের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ আধুনিক বাংলা কবিতার আকাশে ক্ষনজন্মা গুটিকয় নক্ষত্র মন্ডলীর মত অন্যতম একজন প্রধান কবি হীসেবে পরিচিত। মাত্র ৩৫ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে অনেকটা নিসঙ্গ কাব্যময় তার জীবন। তিনি যেমন একদিকে আধুনিক বাংলা কবিতাকে করেছেন অরো অলোকিত একাধারে পাঠকের হৃদয়ের মনিকোঠায় মরমর জাগিয়ে আজন্ম স্থান দখল করে নিয়েছেন অল্প সময়ের মধ্যেই। জীবদ্দশার রুদ্র রচনা করেছেন ঈর্ষণীয় সংক্ষ্যক কবিতা ।অসংখ্য গান গল্প,একটি কাব্যনাট্য ও চিত্রনাট্য।
বাতাসে লাশের গন্ধ- 
নিয়ন আলোয় তবু নর্তকীর দেহে দোলে মাংশের তুফান।
মাটিতে রক্তের দাগ-
চালের গুদামে তবু জমা হয় অনাহারী মানুষের হাড়।  
                                                    [বাতাশে লাশের গন্ধ ]
আজন্মই অনেকটা বহেমিয়ান স্বভাবের কবি রুদ্রমুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ,যাকে  স্কুল কলেজের নিয়মতান্ত্রিক প্রথা শুরুর দিকে কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রন করলেও পরবর্তী সময়ে আর  বাধতে পারে নি কোন কালেই। যে কিনা নিজেকে আপাদমস্তক উস্বর্গ করেছেন কবিতার কাছে, শহর জীবন ,বন্ধু আড্ডা পাখির শীষ , সবুজ আকাশ,স্বাধীনতা সংগ্রাম পরবর্তী উত্তাল কালপর্বে শুধু নয় শ্বৈরাচার ও স্বাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ছিলো তার বলিষ্ঠ উচ্চারন । ভেঙে পড়া রাতের তাবত ক্লেদাক্ততায় সুপ্ত শিশির বিম্বের  মতই মোহ নিয়ে খুজেছেন কবিতার নিবীর স্পর্শ । হয়ত রক্ত মাংসের প্রেম না পেলেও প্রকৃতির রূপ লাবন্যে কবি পেয়েছেন বিদায়ের শেষ সন্ধিক্ষনে অস্ত যাওয়া সোনালী দিগন্তে  চোখ ফেলা রাখা এক জোরা সারসের ডানা ঝাপটে উড়ে যাওয়া আর্তনাদ।
সব কথা শেষ হলে ফিরে যাবো ,
একটি চোখ রেখে যাবো শিথানের জানালায়।
সব কথা শেষ হলে করাঘাত জাগাবে তোমায়,
তমি এসে খুলবে দুয়ার - দ্যাখা হবে না !!
                                              [ইচ্ছের দরোজায়]
সময়ে সময়ে বারবার আমাদের মাঝে আর্বিভ’ত হয় কবি, একাধারে হৃদয়ে নিয়ে সব ক্লোদাক্ততা-দ্রোহ-প্রেম শোষন নিপিড়ন,হত্যা,অর্থনৈতিক মুক্তি সংগ্রামের ভেতর চীরন্তন গাথামালা হয়ে আসে সে ..  যার রক্তে অস্থিমজ্জা জুড়ে কবিতার আলকেমি,যিনি আপাদমস্তকই কবিতা। রুদ্র তার বনার্ঢ্যময় কাব্য জীবনে দেখেছেন জীবনের সবচেয়ে বেনার মহর্ত্বগুলো প্রেমিকার সহ¯্র  বিদ্রƒপ;তবুও রুদ্র কবিতায় নিয়তই খুজেছেন প্রয়িতমার ঘ্রান। যার কাব্য মাধুরী একদিন মুগ্ধ করেছিলো তসলিমাকে ;তাইতোর কবি অবিরত ছুটে গেছেন প্রিয়তমার কাছে, পাশাপাশি হাতেহাতে রেখে ভেঙেগেছে রেলপথ- ভালবাসা, দূরেসরে যাওয়া আবার কাছে আসা; নীজেকে নীজেই যন্ত্রনার আরশিতে বেধেছেন বারবার আর পালিয়েছেন সুহৃদের কাছ থেকে । 
তখন সন্ধার পর আমাদের সব কথা বলা হয়ে গেছে মুখোমুখি-  
বসে থাকা কথাহীন ক্লান্ত চোখ 
নখ খুটেখুটে যে যার স্মৃতি কাছে ফিরে আসে, হয়েছিলো
কোলাহল
সব কথা বলা হয়ে গেছে ..  
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতায় অতি নিবির ভাবে ফুটে ওঠে তার চারপাশের চলমান জীবন বা¯তবতার  শানিত রূপ,আবহমান গ্রাম বাংলার সবুজ প্রকৃতীর মাধুরী।বেগুমার জ্যোৎস্নায়  কচি ধান শীষের চিবুকে লেগে থাকা ফসলের নব্য দুধেল ঘ্রান- গাঙের  ঘোলা  জলে বেদনা , অন্তক্ষরন যার সাথে কবি  অতি সুক্ষ মেলবন্ধন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে তার কবিতার পাঠকদেও মাঝে । তার কলমের কালিতে বার বার বেজে ওঠে  নাঙলের কঠিন ফলায় উগলে দেয়া কঠিন মাটির যন্ত্রনায় মিশে থাকা বিষের ভায়োলিন; যার বিরহী সুর ডেকে আনে কেবলী হাহাকার তবুব এমন শস্যের  বনে বুক পেতে দেন কবি অকপটে -
কোনদিন শুনবেনা কেউ।
জেনে যাবো ঋনমুক্ত,আমাদের কাংখিত পৃথিবী এলো।
ভরা শস্যের প্রান্তরে যদি মৃত্যু হয় তবে আর দুঃখ কিসে! 
জেনে যাবো শেষ হলো বেদনার দিন- ফসল ফলেছে মাঠে, 
আমাদের রক্তে শ্রমে পুষ্ট হয়েছে এই শস্যের প্রতিটি সবুজকনা।
                                                                 [ফসলের কাফন ]  
রুপসী বাংলার  কবি জীবনাানন্দ দাশের পর কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ কবিতায় বাংলার মধুর রূপ তার  লেখনিতেই সেই ধারা  খুজে পাওয়া যায়। চাবুকে দাবড়ানো ফেলা আসা শৈশব কে ডিঙিয়ে কৈশরকে বরাবরি তার কবিতায় বয়ে নিয়ে গেছেন কবি। ব্যক্তি জীবনে অতি কাছের কিছু বন্ধু ,মধ্যরাত অব্দি আড্ডা দেয়া, কাউকে কিছিু না  বলে হুট হাট উধাও হয়ে যাওয়া সবার অগোচরে স্টেশন থেকে স্টেশনের সাইরেনে পুনশ্চ ফিরে অসা তার কোন কাব্য নিয়ে... ক্রমাগত জীবনের নানান ঘাত  প্রতিঘাতে তুলে এনেছেন মুক্তি সংগ্রামের ইতি-কথা, ব্যক্তি চিন্তাধারা, রাজনীতি সমাজ বা¯তবতার  অতি সুক্ষ বিশে¬ষনে কবি  লিখেছেন-  

উন্নয়নের রাজনীতি চর্চা করে  উন্নয়ন করেছে যারা ক্যাশ,
ঊ্যাক্তিগত চেকনাই,লাবন্যশোভন মেদ স্বাস্থ্য সমাচার,
কোথায় তাহারা? জনতা জানতে চায় এর প্রকাশ্য বিচার ।
মায়েদের  চোখ ভেজা, একনো বোনের মুখে কৃষনপক্ষ রাত,
অনুজের রক্তের ভেতর পুড়ছে এখনো কোন এক লরী,
কোন এক শুল্কহীন শ্রীমতি পাজেরো জিপ, দীপ্তিময় ক্রলিং !!
                                                     [বিচারের কথা কেউ বলছেনা ] 
কবি বারবার প্রেমে পরেছেন, আঘাত পেয়েছেন, তবুও  আবার প্রেমে পরেছেন।  রুদ্রের কবিতার শরীর জুড়ে থাকে বিস্তর এক  বেদনা কাতর প্রেম যার  আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হওয়া তার শরীর বেয়ে ঝড়ে পড়া নোনা রক্তের স্্েরাত ধার , যার কান্নার রোল তার অগনিত পাঠক হৃদয় আজও আপন আরশীতে  বয়ে বেড়ায় নিয়তই । রুদ্রের  কবিতা মানেই এক উম্মাদনা - অপেক্ষার প্রহর  ফুরালেও থেকে যায় তার আকন্ঠ ; যে আকন্ঠ কলিকুল প্রস্ফুিটত হবার প্রাক্কালের,যে আকন্ঠ এক বর্ষা বৃষ্টির জন্য, চৈত্রের পুড়ে যাওয়ার ক্ষরস্রোতা তৃষিত নদীর হয়ত যে আকন্ঠ রেখেছেন তিনি কারো চলে যাবার বিদায় ক্ষনে - 

মাধবী কাল চ’ লে যাবে।
ওর হাতে ফুলগুলো তুলে দিয়ে বললাম
তুমিও কি ফুল হয়ে ঝড়ে যাবে?
ও নির্বাক উদাসীন।
ওর কাকের পাখার মতো কালো চোখ 
মুহূর্তে জলে ভ’রে  এলো 
মৃদু কাঁপলো পাপড়িগুলো !! 
                             [মাধবীর অবিশ্বাস্য স্মৃতি ]

এভাবেই কবি  জীবনকে খুড়ে গেছেন অতল থেকে অতলে আর জীবনের পাওয়া না পাওয়ার অন্তিম  আচ্ছাদনের শেষ হীসেবে কবি লিখেছেন ঃ
কোনদিন এই সব মানুষেরা ফিরবেনা আর..
যে রাখাল উদাস দুপুরে তার বাঁশির সুবাস ছড়াতো বাতাসে 
সে আর ফিরবেনা ।
যে নারী সিঁথায় সিদুরের স্নিগ্ধ প্রেমে এঁকেছিলো মুগ্ধ নীড়

সে আর ফিরবে না..  
 [স্বজনের শুত্র হাড়]
আজ বালাং সাহিত্যের ক্ষনজন্মা ক্লেদাক্ত কুসুমের  কবি রুদ্র  মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্ম দিবস; কবি আত্মার প্রতি রইলো সহস্র বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা, ভালো থেকো কবি ...

আমাদের কেন আদিবাসী বলেন ? আমরাতো বাঙালী !
 ইমতিয়াজ আহমেদ 
[email protected]
ছবি : ফাইল ছবি  ।