demo
Times24.net
সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত
Monday, 07 Oct 2019 17:29 pm
Times24.net

Times24.net

জাহাঙ্গীর খান বাবু: সারা বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ পর্যটনসমৃদ্ধ । পর্যটন খাতকে কেন্দ্র করে সেসব দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্য, নেপাল ,শ্রীলংকা এবং থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে পর্যটন সমৃদ্ধ দেশ। ভারতের কাশ্মীর অরুণাচল মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ, দার্জিলিং চেন্নাই, মুম্বাই ,দিল্লি সবেস কয়েকটি রাজ্যে সারাবিশ্বের পর্যটকের আনাগোনা । ভারতের অভ্যন্তরীণ পর্যটকরাও বিভিন্ন রাজ্যে ছুটি কাটাতে অথবা অবসরে চলে যান । ভারতের পর্যটন নীতিমালা  পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সে দেশের পর্যটক কে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক চাকা পরিচালিত হয়ে আসছে যা থেকে লাভবান হচ্ছে ভারত সরকার । পর্যটন খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভারতের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে । এই অর্থ থেকে ভারতের পর্যটন খাতকে শক্তিশালী করাসহ দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন কে সম্মৃদ্ধ করার জন্য সেদেশের সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করছে । আরেক প্রতিবেশী দেশ নেপাল । সে দেশের পর্যটন কেন্দ্র করে সারা বিশ্বের পর্যটকরা সারাবছরই  সে দেশকে মুখর করে রাখছে ।
 নেপালের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী  সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের পর্যটন খাত।  বাংলাদেশের বৈচিত্র এবং ভৌগলিক কাঠামো এবং আবহাওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নেপালের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। নেপালের  দর্শনীয় স্থানের দিকে আমরা যদি তাকাই তাহলে চোখে পড়বে শুধু পাহাড় লেক আর ঝর্ণা আর বিস্তীর্ণ বনভূমি।অপরদিকে বাংলাদেশের পর্যটন স্থান গুলোর দিকে একটু তাকাই তাহলে আমাদের পূর্বে বিশাল সমুদ্র সৈকত সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বন টাঙ্গুয়ার হাওর হাকালুকি হাওর সিলেটের চা বাগান টিলা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য  ! রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান পাহাড় ঝর্ণা পাহাড়ের মাঝে মাঝে প্রাকৃতিক অপার সম্ভাবনাময় সৌন্দর্য মুগ্ধ করবে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের।
দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন সমৃদ্ধ দেশ শ্রীলঙ্কা।  শ্রীলংকার সরকারের জাতীয বাজেটে প্রজনন খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়  সেদেশের পর্যটন নীতিমালা অনেক শক্তিশালী। পর্যটন নীতিমালা শক্তিশালী হওয়ার কারণে সে দেশের এই সেক্টর লাভবান অথচ শ্রীলঙ্কা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিস্তর পার্থক্য কারণ ব-দ্বীপের এই বাংলাদেশের নদী , পাহাড় ,সমুদ্র ,জলাশয় সমভূমিকে কেন্দ্র করে যে অপার সৌন্দর্য এর সাথে  শ্রীলংকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কোনো ভাবে কোনো ভাবেই মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশের পর্যটন শুধুমাত্র বহিঃবিশ্বে প্রচারণার অভাবে  পিছিয়ে ছিল । সম্ভাবনার কথা সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপে বাংলাদেশের পর্যটন খাত র্যাংকিংয়ে 5 ভাগ উপরে উঠে এসেছে । এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আসার খবর।বহিঃবিশ্বের পর্যটকদের দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের দিকে এসে থামলে বাংলাদেশ পর্যটন সমৃদ্ধ হবে ।  বাংলাদেশের পর্যটন খাত জাতীয় অর্থনীতিকে একটি সম্ভাবনাময় স্থানে পৌঁছে দিবে । যা থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকা আরো শক্তিশালী হবে।  ইউরোপ এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশ পর্যটন সমৃদ্ধ। ডমিনিকান রিপাবলিক অথবা হাওয়াই দ্বীপ সম্পূর্ণ পর্যটন নির্ভর। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার বালি থাইল্যান্ডের পাতায়া সারাবিশ্বের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত পছন্দের একটি স্থান। এসব দেশের পর্যটন নীতিমালা পর্যটকদের জন্য যেমন অনুকূলে তেমনি সে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করার ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের পর্যটন খাত পাঁচ ধাপ এগিয়ে গেল আমাদের আরো অনেক এগিয়ে যাবার কথা ছিল । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের  সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বহিঃবিশ্বে ব্রান্ডিং করার ক্ষেত্রে বিগত সময় দৃশ্যমান তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি পর্যটন কর্পোরেশন । বিভিন্ন সরকারের সময় বিভিন্নভাবে পদদলিত করে রাখা হয়েছে পর্যটন খাত।বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করার জন্য এখনো সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে ও নীতিমালার ঘাটতি রয়েছে। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে গুরুত্বের সাথে দেখছেন। বেশ কিছু নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের হাওর পাহাড় সমুদ্র ,সমভূমি কে কেন্দ্র করে বহিঃবিশ্বের পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। বাংলাদেশের পর্যটন খাত সারাবিশ্বের পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। বহিঃবিশ্বের পর্যটকদের বাংলাদেশ অবস্থান এবং দর্শনীয় স্থান দেখানোর জন্য বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন কেও সমৃদ্ধ করা হচ্ছে।সারা বিশ্বের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য । অপার সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ উন্মুক্ত হোক সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে এমনটাই প্রত্যাশা করি আমরা। 

লেখক:জাহাঙ্গীর খান বাবু, সাংবাদিক ও চেয়ারম্যান টুরিস্ট হ্যাভেন বাংলাদেশ।