demo
Times24.net
প্রাইমারী-সবচে মিষ্টি স্মৃতি
Tuesday, 10 Sep 2019 19:01 pm
Times24.net

Times24.net


বাবলু রহমান: চুয়াডাঙ্গা মহকুমা ( এখন জেলা) শহরে এই স্কুলের প্রাইমারী সেকশনে ৫ বছর আমি অনেক ছেলে-মেয়েদের সাথে পড়েছি। ষাটের দশকের শুরুর দিকে। সহপাঠীদের মধ্যে টেংরা কাদের দুদু বাবুল প্রণয় হিসা প্রাণেশ ইফতেখার কালাম মন্টু মুজিবুল খন্দকার মুকুল বেলী মাহবুবা সুশীলা ( মারোয়ারী) মিনা ইয়াসমিন রিনা সুপ্রিয়া কুন্ডুর কথা মনে পড়ছে। প্রায় সবার নামই আমার কবিতার বই (১৯৯৪) 'হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল' এ আছে। এটা তখন মূলতঃ মেয়ে স্কুল নামে পরিচিত ছিল। তবে, প্রাইমারী সেকশনে ছেলেতে-মেয়েতে সহশিক্ষা হতো। সেই সিসটেমটা পরে স্থগিত হয়ে গেছে। শহরের অভিজাত ধনী শ্রেণীর সন্তানেরা পড়তো। তাঁদের সাথে পড়তো কিছু মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে-মেয়েও । আমি এদেরই একজন। আমাদের বাড়ীটা (ছিল এবং এখনো আছে)--- শহরের উত্তরদিকে, পুরাতন মাদ্রাসা পাড়ার শেষ প্রান্তে। পাড়াটা একেবারে কর্মজীবী নিম্নবৃত্ত মানুষের। এর মাঝে আমার আব্বা ছোট্ট একখন্ড খড়ের ঘর কিনেছিলেন। আব্বা প্রথমে সাংবাদিক পরে এ্যাডভোকেট হন। সেখানেই বেড়ে ওঠা আমাদের ৯ ভাই-বোনের। পরে, এ পাড়ায় আমাদেরই প্রথম ইটের বাড়ী হয়। কালক্রমে, এখন সেটা পুরনো ধসে পড়া বাড়ী হয়ে গেছে। আশপাশে উঠেছে অনেক বড় দালান। এ পাড়া থেকে টিয়া লাকী বুড়ি ঘোপী আর আমি (একমাত্র ছেলে), জোয়ার্দ্দার পাড়ার রুপা আর মল্লিক পাড়ার একটা মেয়ে ঐ স্কুলে যেতাম। ২০১৪-১৫ সালের দিকে চুয়াডাঙ্গায় গিয়ে এ স্কুলের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা শুনলাম। স্কুলে ঢুকে হেড মিস্ট্রেসের কাছে আমার আগ্রহের কথা জানালাম। কয়েকটি ফরম পূরণ করে নিলেন। পরে তিনি জানান, আমাদের শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নাকি বাদ রাখা হয়েছে। শহরের প্রধান রোড শহীদ আবুল কাশেম সড়ক বয়ে গেছে--- এ স্কুলের সামনে দিয়ে। সে পথে হাটলে একবার অন্ততঃ থমকে দাঁড়াতে হয়---এখানটায়। টোকা দিয়ে যায় প্রীতিময় টুকরো স্মৃতির মেলা।

লেখক: বাবলু রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক, কবি ও গবেষক।