demo
Times24.net
পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে ইউরোপের প্রতিশ্রুতি ও ইরানের প্রত্যাশা
Friday, 06 Sep 2019 19:21 pm
Times24.net

Times24.net


টাইমস ২৪ ডটনেট, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পরমাণু শিল্পে গবেষণা ও উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চিকিৎসা, কৃষি, শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য পরমাণু কর্মসূচির বিরাট গুরুত্ব রয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ফতোয়া অনুযায়ী পরমাণু বোমা তৈরি সম্পূর্ণ হারাম। তাই ইরানের ইসলামি সরকার পরমাণু শিল্পকে মানব সমাজের উন্নয়নে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। পরমাণু জ্ঞান দিয়ে বহু দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা করা যায় এবং গবেষণা ও শিল্প ক্ষেত্রেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এ কারণে পরমাণু সংক্রান্ত জ্ঞান গবেষণা মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কাজ করার অধিকার সব দেশেরই রয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যেই ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা সই হয়েছিল যাতে সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষিত হয়।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরমাণু ক্ষেত্রে ইরান কিছু সীমাবদ্ধতা মেনে চলবে অন্যদিকে এর বিনিময়ে ইরানের তেল বিক্রি, অবাধ বাণিজ্যসহ দেশটির অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা হবে। কিন্তু আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ফের ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং গত এক বছরে ইউরোপও তাদের প্রতিশ্রুতি পালন না করায় ইরান পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি থেকে পর্যায়ক্রমে সরে আসার পদক্ষেপ নিয়েছে।
পরমাণু সমঝোতা একটি বহুপক্ষীয় চুক্তি এবং এর ২৬ ও ৩৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী যেকোনো পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে অন্য পক্ষও তা মেনে চলতে বাধ্য থাকবে না। ইরান তার অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য পরমাণু সমঝোতায় উল্লেখিত সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েছিল। কিন্তু আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এবং ইউরোপও ইরানের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় ইরান তার পূর্বের অবস্থা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইরান এ পর্যন্ত তিন দফায় পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন কার্যক্রম স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। কারণ এই চুক্তি রক্ষার দায়িত্ব কেবল ইরানের একার নয় বরং সবার।
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় পৌঁছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, ইরানের স্বার্থ রক্ষায় ইউরোপ তেহরানকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার সঙ্গে আমেরিকার কোনো সম্পর্ক নেই এবং আমেরিকার অনুমতিরও প্রয়োজন নেই।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইউরোপের আচরণে প্রমাণিত হয়েছে, ওয়াশিংটনের অনুমতি ছাড়া ইউরোপ পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করতে রাজি নয়। অথচ ইউরোপের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে আমেরিকার কোনে সম্পর্কই নেই। যাইহোক, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান পরমাণু সমঝোতা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ থেকে পরমাণু কর্মসূচিতে বেধে দেয়া বহু সীমাবদ্ধতা স্থগিত রেখে তৃতীয় পর্যায়ে স্থগিত রাখার কাজ শুরু করেছে ইরান এবং ফের তেহরান ইউরোপকে দুই মাসের সময় বেধে দিয়েছে। ইরান জানিয়ে দিয়েছে ইউরোপ যদি ইরানের স্বার্থ রক্ষা করে তাহলে তেহরান তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এমন নয় যে পরমাণু সমঝোতায় ইউরোপ ইরানকে দয়া করছে বরং আমরা চাই ইউরোপ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করুক। 

সূত্র: পার্সটুডে।