demo
Times24.net
ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ছড়াছড়ি
Monday, 05 Aug 2019 19:29 pm
Times24.net

Times24.net

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : দেশে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ছড়াছড়ি। ঢাকা থেকে শুরু করে একেবারে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্রই বিক্রি হচ্ছে এইসব নকল ও ভেজাল ওষুধ। মরণব্যাধি ক্যান্সারের ওষুধসহ জীবন রক্ষাকারী অতিগুরুত্বপূর্ণ ওষুধই বেশি নকল ও ভেজাল হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অপকর্ম চললেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে ওষুধ প্রশাসন ও র‌্যাবের তত্ত্বাবধানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কিছু অভিযান হলেও বাকিটা সময় সবাই একেবারে চুপচাপ। জানা গেছে, নকল ও নিম্নমানের ওষুধে বাংলাদেশের বাজার ছেয়ে গেছে। তার সঙ্গে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ অতিগুরুত্বপূর্ণ ওষুধও। এ যেন একে তো মরণ তার ওপর ধরেছে পচন। মেয়াদোত্তীর্ণ এবং মানহীন ওষুধ ব্যবহারের ফলে দেশের বিপুলসংখ্যক রোগী আরোগ্য লাভের পরিবর্তে আরও অনেক অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় পতিত হচ্ছেন। মূলত ওষুধের বাজারে সরকারের কোনো তদারকি না থাকায় এক শ্রেণির অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ীরা ভেজাল, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বাজারজাত করার সুযোগ পাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফার্মেসিওয়লারা অতিরিক্ত লাভের আশায় নাম সর্বস্ব কোম্পানির নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করছে। ওইসব ওষুধ সেবন করে রোগীর রোগ তো ভালো হয়ই না বরং মানুষের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিসহ মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। 
সূত্র আরো জানায়, ভেজালে আজ ভরে গেছে সারাদেশ। কোথায় নেই ভেজাল। নিখাদ নির্ভেজাল বলে আজ আর কিছু নেই। সর্বত্রই আজ ভেজালের জয়জয়কার। খাদ্যে ভেজাল। ওষুধে ভেজাল। চালে, ডালে, মাছে, তেলে ভেজাল। ইদানীং বিষেও ভেজাল পাওয়া যাচ্ছে। ভেজাল করার ফরমালিনেও আজ ভেজাল পাওয়া যাচ্ছে। বিষ খেয়ে মানুষ মরে না। বিষেও ভেজাল আছে। ভেজালের কারণে অকালেই ঝরে যাচ্ছে অসংখ্য প্রাণ।  
নকল বা ভেজাল ওষুধের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক শ্রেণির চিকিৎসক নানা ধরনের সুবিধা নিয়ে অখ্যাত প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা ভেজাল ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লিখে দিচ্ছেন। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে ওই ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে চিকিৎসকদের ওষুধের নমুনা দিলেই হতো। এখন আর ওষুধের নমুনা তারা নেন না। তাদের এখন নগদ টাকা দিতে হয়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে ওষুধ কোম্পানির চেক বর্তমানে পৌঁছে যাচ্ছে। কখনও কখনও বিদেশে যাওয়ার জন্য বিমান টিকিট, বাসার ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, গাড়ি পর্যন্ত কিনে দিচ্ছে ওষুধ কোম্পানিগুলো। চিকিৎসকের খ্যাতির উপর নির্ভর করে তার পেছনে কত খরচ করবে তারা।
কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ বলেন, শুধু ভেজাল বা নকল ওষুধ নয়, ওষুধের মধ্যে যে যে উপাদান দেয়ার কথা তাও দেয়া হচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠানের ওষুধে লেখা থাকছে ৫০০ মিলিগ্রাম। অথচ পরীক্ষার পর দেখা যায় সেটি আসলে ৫০০ মিলিগ্রাম নয়, ২০০ বা সর্বোচ্চ ২৫০ মিলিগ্রাম। ফলে চিকিৎসকের লেখা ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ খেয়েও কাজ হচ্ছে না। কারণ চিকিৎসক মনে করছেন, যে মাত্রায় ওষুধ রোগীকে দেয়া দরকার তা তিনি দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে রোগীর শরীরে ওই মাত্রায় ওষুধ যাচ্ছে না। ফলে রোগীকে দ্বিগুণ ওষুধ খেতে হচ্ছে। এতে তার খরচও বাড়ছে।