demo
Times24.net
পরকীয়া
Sunday, 14 Jul 2019 00:22 am
Times24.net

Times24.net


লেখকঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম
১ম,দূশ্য
লোকেশনঃ করিমের বাড়ী
চরিত্র : করিম ও তার সুন্দরী বউ লায়লা, 
সময়ঃ সকাল

(করিম একজন চাকরিজীবী মানুষ খুব সাদামাটা মনের, মাত্র কয়েক মাস আগে সে বিবাহ করেছেন।
কিন্তুু আজ তাকে অফিসের কাজে দেশের বাহিরে যেতে হবে,তার মনটা কিছুতেই যেতে চাচ্ছে না,
খুব কষ্টে ভারাক্রান্ত বদনে ল্যাকেজে তার জামা কাপড় তুলছে,পাশে তার নব বুধ লায়লা অশ্রু জলে বলছে,

লায়লাঃ তুমাকে কি যেতেই হবে? সবে মাত্র আমাদের বিয়ে হয়েছে,আমি এখানে নতুন তেমন কাউকে চিনিও না, কি করে আমি একা থাকব বল!,
করিম ঃ জানু সোনা মন খারাপ করে না,আমার অ তো যেতে ইচ্ছে করছে না, কিন্তুু যেতেই হবে।
লায়লা ঃ যেতেই যখন হবে তা হলে তোমার বস্ কে বল, আমি ও তোমার সঙ্গে যায়,তোমার কাজের পাশাপাশি আমাদের হানিমুন টা ও হয়ে যাবে,
করিমঃ তা হয়না সোনা, আর এইত মাত্র দু মাস তারপর আমি এসে ছুটি নিয়ে আমার জানকে নিয়ে সোজা সিঙ্গাপুরে যাব হানিমুনে, 
লায়লা অভিমানে বলে,- তোমার কাছে দু-মাস মাত্র হতে পারে, কিন্তুু আমার কাছে প্রতিটি দিন বছর সমান-তুমি কি করে বুঝবে!
(করিম লায়লা কে জরিয়ে ধরবে বুকে,) 
করিমঃ আমি সব বুঝি -লায়লা, কিন্তুু তুমি ত সব জানো,এবার না গেলে প্রমোশন টা হবে না।বিদায় দাও সোনা প্লেনের সময় হয়ে এলো প্রায়, 
(লায়লার চোখে নিদারুণ জল)
লায়লা -- ঠিক আছে যাও, সাবধানে যেও আর মনে রেখো প্রতিদিন তোমার ফোনের অপেক্ষায় আমি থাকব,তুমি ফিরে না আসা পর্যন্ত আমি আকাশের সূর্যটা ও দেখব না, জল স্পর্শ করব না,আজ থেকে এই ঘরই হবে আমার বন্ধু, চার দেওয়ালের মাঝে শুধু বিধাতার কাছে প্রার্থনা করব তুমি ভালোই ভাল আমার বুকে ফিরে এসো,
করিম ঃ আমি ধন্য লায়লা তোমার মত জীবন সঙ্গী পেয়ে,বোধয় আগের জন্মে কোন ভাল কাজ করেছিলাম, তাই তোমার মত সুতি স্বাবিত্তী সঙ্গী পেয়েছি,এবার লায়লা বিদায় দাও হাসি মুখে,,,,

(চলে যায় করিম পিছুন হতে লায়লা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে করিমের দিকে করিম ও পিছু চেয়ে দৌড়ে এসে জরিয়ে ধরে লায়লা কে আবার চলে যায়,করুণ দূশ্য করিম ও লায়লার,বিদায় দিয়ে ঘরে ফিরে লায়লা)

২য় দূশ্য
লোকেশন ঃ চা রেস্টুরেন্ট 
চরিত্র ঃ মজনু ও তার বন্ধুঃ

(চা খাওয়ার ফাঁকে)
বন্ধু ঃ কি রে মজনু শুনেছিস করিম নাকি বিদেশ গিয়েছে,তার সুন্দরী বউকে রেখে,এটা মুটেও সে ঠিক করেনি 
মজনুঃ হ্যাঁ শুনলাম, আর ঠিক করেনি মানে, কাজ আছে তাই গিয়েছে আবার কাজ শেষে ফিরে আসবে,
বন্ধুঃ ত চলি বন্ধু ভাল থাক, আমার একটু তাড়া আছে সেখানে যেতে হবে,
মজনুঃ আচ্ছা ঠিক আছে যা,

(মজনু মগ্নতার সহিত গালে হাত রেখে ভাবছে)
মজনুঃ এই ত সুযোগ মজনু এইত সুযোগ। 
করিম দেশে নেই, ঘরে তার একমাত্র বউ, তাকে যেমন করেই হোক ভুলিয়ে ভালিয়ে করিমের জমাকৃত অর্থ একবার হাতিয়ে নিতে পারলেই তোর কপাল খুলে যাবে,আর সেই টাকায় তোর বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন পূর্ণ হবে, হ্যাঁ আমি যাবো করিমের বাড়িতে,না বাড়িতে না আগে তার বউকে লাইনে নিয়ে আসি তারপর,যাই করিমের নং এ কল করে দেখি,,,,,

৩য়দূশ্য,
লোকেশনঃ করিমের রুম মজনু পার্কে (ফোন আলাপ)
চরিত্র ঃ লায়লা ও মজনু

(লায়লা করিমের ছবি নিয়ে ভাবছে) 
লায়লাঃআর কত দিন তোমাকে ছেড়ে থাকতে হবে,আমার যে কিছু ভাললাগে না,কেন তুমি বুঝ না আমার নিরব মনের যন্ত্রণা, কেন গেলে আমাকে ছেড়ে,তুমি আমাকে একটুও ভালবাসো না,ভালবাসলে কি কেউ এমন করে যেতে পারে বল জানু,

(এমন সময় কল আসে লায়লা র ফোনে)
লায়লা ঃ হ্যলো কে বলছেন প্লিজ,
মজনুঃ(মনে মনে,,,, হায় হায় কি মিষ্টি কন্ঠ না জানি সে দেখতে কতটা সুন্দর) জী আমি মজনু বলছি আপনি কি করিমের মিসেস বলছেন,
লায়লা ঃ জী
মজনুঃ জী আমি করিমের খুব কাছের বন্ধু বলছি
আসলে করিম চলে যাওয়ার পরে কিছু ভাললাগছে না তার সঙ্গে আমি সবসময় ঘুরতাম বেড়াতাম,কিন্তুু তাকে না পেয়ে হঠাৎ কল চলে গেল,আর ভাবলাম ভাবি একা একা আছে একটু আলাপ করলে বোধয় মনটা ভাল হবে আমারও কিছুটা করিমের অভাব দূর হবে,
লায়লাঃ তাই বুঝি ত আপনি কি করেন,,,,,,
(এমনি করে চলে দিনের পর দিন আলাপ লায়লা আর মজনুর, একদিন মজনু লায়লাকে বলে বসে ফোনে)
মজনুঃ আর কতদিন আমরা শুধু ফোনেই কথা বলে যাবো, একদিন আমাদের দেখা করা যায় না কি?
লায়লা ঃ আসলে আমি তাকে কথা দিয়েছি, সে বাড়ী ফিরে না আসা পর্যন্ত আমি বাড়ির বাহিরে যাবো না,
মজনুঃ আরে সে ত আর দেখছে না,চলে আসো একটু বাহিরের হাওয়াই ঘুরলে দেখবে মনটা কতটা ফ্রি লাগছে
লায়লা ঃ তাই বুঝি? আচ্ছা কোথায় আসব বলে দাও
মজনুঃ কোথায়, কোখায় আচ্ছা তুমি উত্তরা রেস্টুরেন্ট চলে এসো কালকে ঠিক সকাল ১০টায়, আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব কিন্তুু
লায়লা ঃ ওকে বাই বাই

৪র্থদূশ্য
লোকেশনঃ রেস্টুরেন্ট 
চরিত্র ঃ মজনু লায়লা ও প্রদীপ

(মজনু অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে লায়লা কে দেখবে বলে বারে বারে ঘড়ির দিকে তাকায়, এমন সময় আসে লায়লা শাড়ি পড়া এক অপরূপ সুন্দরী নারী) 
লায়লা ঃ ইসকিউস্ মি বলছি আপনি কি মজনু?
মজনুঃ জী তুমি লায়লা
লায়লাঃ হ্যাঁ
মজনুঃ আমাকে আপনি বলে সম্বোধন করতে হবে না,? আমি মজনু তবে তুমি একটু দাঁড়াও আগে তোমাকে দু- চোখ ভরে দেখে নেই, কি অপরূপ তোমার রূপ আমি মুগ্ধ হয়ে সারাটি জীবন তাকিয়ে দেখব শুধু তোমাকে
লায়লা ঃ কি বলছ এসব পাশে লোকজন কি বলবে,
মজনুঃ যে যাই বলুক আমি তোমার রূপ দেখে মুগ্ধ, দেখব শুধু তোমাকে দেখব, 
লায়লা ঃ ওঠো এখান থেকে, বাহিরে যাব চলো,
মজনুঃ না লায়লা এখানে একটু বসো কপি খেয়ে তারপর বাহিরে যাব
লায়লাঃ সত্যি বলছ ত
মজনুঃ আরে বাবা তিন সত্যি 
(কপি হাতে করে বাবুর্চি দাঁড়িয়ে আর মজনু হারিয়ে যাবে কল্পনায় লায়লা ও মজনুকে দেখে তাকিয়ে থাকবে,মজনু লায়লাকে নিয়ে কল্পনা করছে,গানের সুরে রোমান্টিক দূশ্য)

পড়েনা চোখের পলক কি তোমার রূপের ঝলক
আমি জ্ঞান হারাব মরে যাবো 
বাঁচাতে পারবে না কেউ

(গান শেষে এক রুমে মজনু লায়লাকে আদর করছে এমনটা ভাবতেই ডাক দিবে বাবুচি)
বাবুচিঃ এই যে স্যার, স্যার কপি এনেছি
(লায়লা তাকিয়ে মজনুকে ডাকবে 
লায়লাঃএই, এই কি ভাবছো)
মজনুঃ না না কিছু না (কপি নিবে)
লায়লা ঃ কিছু না বললেই হল বল কি ভাবছিলে
মজনুঃ সেটা তোমাকে বলা যাবে না 
লায়লা ঃ প্লিজ বল না, বল না
মজনুঃ ভাবছিলাম তোমাকে নিয়ে ঘুরছি আনন্দ করছি একি জায়গায় বসে আদর করছি, কিছু আসলে সেটা ত কল্পনা
লায়লাঃ আর কল্পনা যদি বাস্তব হয় তখন কেমন হবে
মজনুঃ কি বলছ তুমি 
লায়লা ঃ আমি ঠিকই বলছি চলো বাহিরে যাব আজ সারাটি দিন তুমি আর আমি ঘুরব 
(দুজন বাহিরে বের হবে হাত ধরে এমন সময় তাদের বের হওয়া দেখতে পাবে প্রদীপ, প্রদীপ রিয়েল করিমের ঘনিষ্ট বন্ধু তাকিয়ে দেখে প্রদীপ ভাবছে)

প্রদীপঃ হায় ভগবান এ কি দেখছি আমি, করিমের বউ লায়লা এটা ত সে ঘুরছে বদমাইশ মজনুর সাথে, না না বিষয় টা আমাকে দেখতে হয়, তারা কি করে,

(মজনু ও লায়লার ঘুরাফেরা সেলফি তুলা সব কিছু গোপনে দেখবে প্রদীপ)

৫ম দূশ্যঃঃঃঃ
লোকেশনঃকরিমের বাড়ী
চরিত্র ঃ প্রদীপ করিমের চাচা মজনুও লায়লাঃ
সময়ঃ সন্ধ্যা বেলা
(মজনু এদিক ওদিক তাকিয়ে করিমের বাড়ীর উদ্দশ্যে রওনা হয়েছে, আর মনে মনে ভাবছে আজকে যেমন করেই হোক লায়লার কাছ থেকে কিছু টাকা নিতেই হবে,রাতে ক্লাবে জোয়ার বোর্ড বসবে,খেলতেই হবে আমাকে,এমন ভাবতে ভাবতে করিমের বাড়ীতে প্রবেশ করতেই করিমের চাচা দেখতে পায় মজনুকে, কিন্তুু কিছু বলে না,আপন মনে রুমে প্রবেশ করে মজনু লায়লা সোফায় বসে,)
লায়লা ঃ মজনু তুমি সত্যি সত্যি চলে এসেছো কেউ দেখতে পায় নি ত তোমাকে,
মজনুঃ আরে জান তুমি ডাকলে নরকে ও আমি যেতে প্রস্তুুত আছি, আর ত তোমার বাড়ি,আমাকে কেউ দেখতেই পায়নি, 
লায়লা ঃ তুমি সত্যি আমাকে খুব ভালবাসো তাই না মজনু
মজনুঃ এই জীবনের চেয়ে ও বেশী,
লায়লা ঃ আমার কিছু ভাললাগে না জানো,চল আমরা পালিয়ে যায় দু-চোখ যেদিকে যায়,এমন জায়গাতে যাবো যেখানে তুমি আর আমি ছাড়া কেউ থাকবে না,
মজনুঃ পালাতে হবে না লায়লা, আমি এমন সময় তোমার কাছে আসব তখন কেউ থাকবে না, সেই সময়টুকু হবে শুধু তোমার আর আমার 
লায়লা ঃ তাই বুঝি বলে জরিয়ে ধরবে লায়লা মজনুকে মজনু ও জরিয়ে ধরবে লায়লাকে, আদরের ঠিক মাঝখানে মজনু বলবে 
মজনুঃ লায়লা আমি একটা বিগ পবলেমে পড়েছি রাতেই যেতে হবে আমাকে,
লায়লাঃ কি সমস্যা মজনু 
মজনুঃ আসলে আমার একটা বন্ধুর কাছে যাবো আমার হাজার বিষেক টাকা প্রয়োজন খুব আরজেন্ট 
লায়লা ঃ এটা নিয়ে তুমি টেনশন করো না, আমি দিব 
মজনুঃ সত্যি লায়লা তুমি আমার জান, যেমন তোমার মন তেমনি তোমার রূপ 
(আবার আদর শুধু করে মজনু,এভাবে কয়েকদিন আসা যাওয়া দেখবে করিমের চাচা, আসা যাওয়া দূশ্যগুলো সর্টকাটে দেখানো হবে,একদিন মজনু করিমের বাসায় ঢুকতেই পিছুন হতে ডাকে চাচা,
চাচাঃ এই যে শুনোন, কে আপনি বলুত ত? রোজ সন্ধ্যায় আপনি করিমের বাসায় আসেন, আবার ভোর রাতে চলে যান, করিম ত বাসায় নেই, কিন্তুু আপনি আসেন কেন?
মজনুঃ মানে, মানে মজনু আমার দুলাভাই সে বিদেশ আছে তাই আপুকে সময় দিতে আসতে হয় যাতে সে ভয় না পায়, চলি আসালামুআলাইকুম, 
(এই বলে মজনু চলে যাবে রুমে, রুমে গিয়ে লায়লাকে বলে মজনুঃ লায়লা একটা সর্বনাশ হয়েছে একটা লোক আমাকে দেখে নিয়েছে,
লায়লা ঃ কি বলছো হায় সর্বনাশ এখন কি করি,
মজনুঃ চিন্তা করেো না লায়লা,আমি আছি ত প্রয়োজনে ঐ চাচাকে এই জগত থেকে বিদায় করে দিব,
লায়লা ঃ কি করে? 
মজনুঃ তুমি লাখ খানিক টাকা দাও বাকি টা আমি দেখছি,
লায়লা ঃ মজনু সে করিমের চাচা নিশ্চিত করিম কে বলে দিবে,তুমি কিছু একটা কর মজনু যতটাকা লাগে আমি দিব তবু কিছু একটা কর
মজনুঃ তুমি টেনশন করো না লায়লা আমি দেখছি

(এদিকে করিমের চাচা চিন্তা করে না-না এ ভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না বিষয়টা প্রদীপ কে বলি সে করিম কে বললেই করিম চলে আসবে, চাচা হেঁটে যেতেই পথে দেখা প্রদীপের সঙ্গে
প্রদীপ ঃ আরে চাচা কই চললেন আমি আপনার খোঁজে ত আপনার কাছে যাচ্ছি 
চাচাঃ আমি ত তোমার খুঁজে যাচ্ছি বাবা,তোমার সাথে আমার কথা আছে,এ দূশ্য আমি আর দেখতে পারছি না,
প্রদীপ ঃ কি হয়েছে চাচা,
চাচাঃ করিমের বাড়ি তে রোজ রাতেএকটা অপরিচিত ছেলে আসে আর ভোররাতে চলে যায়,তুমি বাবা বিষয়টা করিম কে জানাও
প্রদীপ ঃ আমি ও দেখেছি চাচা, আর এ বিষয় টি করিম কে আমি ফোনে বলেছি, সে কালকেই আসবে দেশে,এখন চলেন গিয়ে দেখি করিমের বাড়ীতে সেই বদমাইশটা আছে কি না?

(চাচা আর প্রদীপ করিমের বাড়ীতে গিয়ে দেখবে মজনু আর লায়লা কে মজনু লায়লার উরুতে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে )
চাচাঃ ছিঃ বউ মা ছিঃ এই তোমার আসল রূপ, করিম গেল মাত্র একমাস হয়ে গেল আর তার মধ্য তুমি ছিঃ
চলো প্রদীপ করিম এলে এর ব্যাবস্থা করা যাবে,

(চলে যায় প্রদীপ আর চাচা,)
লায়লাঃ মজনু এখন কি হবে,? আমার মরণ ছাড়া কোন পথ খুলা নেই যে, বলে দাও মজনু আমি কি করব
মজনুঃ তুমি ভেবো না লায়লা,চল কালকে আমরা পালিয়ে যাবো, করিমের যত টাকা পয়সা অর্থকড়ি আছে সব তুমি নিয়ে নাও,আমরা অচিন কোন দেশে গিয়ে নতুন করে সংসার গড়ব, তোমার বাসায় এখন যা আছে আমাকে দাও আর কালকে ব্যাংক থেকে তুমি টাকা তুলে নিয়ে টারমিনালে চলে আসবে
লায়লাঃ ঠিক বলেছো মজনু এ ছাড়া আর কোন উপায় নেই,করিম আসার আগেই আমাদের পালাতে হবে,

(লায়লা টাকা পয়সা বেশ কিছু গহনা দিবে মজনু কে, মজনু সে গুলো নিয়ে চলে যায়ঃ)

৬ষ্ট দূশ্যঃ
লোকে শন ঃ টার্মিনাল 
চরিত্র ঃ লায়লা করিম ও প্রদীপ,,,,,,

(লায়লা সকাল সকাল চলে আসে টারমিনালে। 
বসে আছে মজনুর অপেক্ষায় আর মোবাইলে ট্রাই করে কিন্তুু মজনুর ফোন বারে বারে বন্ধ দেখাই,খুব টেনশান ফিল করেছে লায়লা,,, সকাল গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যা কিন্তুু আসে না মজনু লায়লার কাছে, লায়লা মনে মনে ভাবছে মজনু আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে সে আসলে একটা জাতীয় বেঈমান, তার উদেশ্যে ছিল আমার এই দেহ ভোগ করা, আর আমার টাকা পয়সা নেওয়া, হায় বিধাতা আমি কি করব কোথায় যাবো এখন, কোন জায়গাতে আমার যাওয়ার পথ নেই, আমি এই জীবনে আর রাখব না, আমি সুইসাইড করব,এই একটাই পথ আমার জন্য খোলা,আমি যে পাপ করেছি তার কোন ক্ষমা নেই, করিম কোনদিন আমাকে গ্রহন করবে না, ক্ষমা করবে না,

(লায়লা সুইসাইড করার উদেশ্যে উঠে পড়ে, একটু যেতেই দেখতে পায় করিম আর প্রদীপ তার সামনে দাঁড়িয়ে, অবাক হয়ে ভয়ে কাঁপতে থাকে লায়লাঃ)

করিমঃ লায়লা কোথায় যাচ্ছো তুমি? সাীরাটি দিন তোমাকে পাগলের মত খুঁজেছি কিন্তুু কোথাও পায়নি,তুমি কার জন্য পথ চেয়ে বসে আছো, লায়লা,কার জন্য হাহাহা কষ্টের হাসি
(লায়লা নিরব) 
আমি সব শুনেছি, সব জানি লায়লা,
এবং সেই বদমাইশ কে পুলিশে দিয়েছি,যে তোমার সরলতার সুযোগ নিয়ে, তোমার একাকীত্বর জীবনকে ভালবাসত, আসলে সে তোমাকে নয় তোমার টাকা পয়সাকে ভালবাসত,তুমি ভুল পথে চলেছো লায়লা ভুল পথে চলেছো
লায়লাঃ করিম আমি যে ভুল করেছি জানি তার ক্ষমা নেই, তবুও বলব তোমার মত স্বামীর সঙ্গে যে বিস্বাশঘাতকতা করছে, তার এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই , আমাকে পারলে ক্ষমা করে দিও করিম, আর যদি পারো এই পাপীর কবরে একমুঠো মাটি দিও
করিমঃ দাঁড়াও লায়লা দোষ শুধু তুমি একা করনি, আমি করেছি,আমি যদি তোমাকে একা না রেখে বিদেশ 
যেতাম, তা হলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটত না,আমি তোমাকে একাকীত্ব জীবনের মাঝে রেখে সমান অপরাদ করেছি,সাজা যদি পেতে হয়, তা হলে আমরা দু- জনেই পাবো, আর বাঁচতে হলে দুজনে এক সাথে বাঁচব, 
লায়লা ঃ (মনে মনে ভাবে)করিম কি মানুষ নাকি ফেরেশতা আমি ত আসল সোনা কে পায়ে টেলে ক্ষনস্থায়ী আনন্দের জন্য নকলকে গলে জরিয়েছি,আমি একি করেছি, (
দৌড়ে এসে লায়লা করিমের পায়ে পড়ে যাবে 
লায়লাঃ আমাকে ক্ষমা করে দাও করিম, ক্ষমা করে দাও, আমি তোমাকে চিনতে ভুল করেছি,
করিমঃ ওঠো লায়লা ওঠো, আমি খুব ভাল একটা শিক্ষা পেয়েছি আজ, আসলে অর্থ বা কর্ম জীবন কে প্রশান্তি দিতে পারে না,আর সেগুলোর পিছু ছুঁটলে এমন সরলা নিজ সঙ্গীকে হারাতে হয়,
প্রদীপঃ এমন ভুল আর কোন দিন করিস না বন্ধু 
দোষ লায়লার নয় তার বয়সের, এমন সময় একটা নারী তার স্বামীকে সব সময় কাছে পেতে চায়। আর আমরা তা না বুঝে কর্মের পিছু ছুটি আর সেই সুযোগে কিছু দুষ্ট মানুষ এমন পরকীয়া তে মজে যায়।

করিমঃ আসুন আমরা বেশী বেশী নিজ সঙ্গীকে সময় দেয়, দেখবেন পরকীয়ার মত পাপ এ জগত থেকে চিরতরে জন্য বিদায় নিবে,

পরকীয়া কঠিন পাপ,
এই পাপের নেইকো মাপ।