demo
Times24.net
তসলিমার নির্বাসন-যন্ত্রণা ভাইরাল কেউই আমার দেশের দরজা আমার জন্য খুলল না
Wednesday, 10 Jul 2019 00:42 am
Times24.net

Times24.net


টাইমস ২৪ ডটনেট, কলকাতা: ধর্ম ও ধর্ম-রাজনীতির কারবারিদের চাপে রাজনীতির লোকেরা তাঁকে দেশছাড়া করেছিল। আড়াই দশক আগে। এই সময়পর্বে স্বদেশে বারকয়েক পালাবদল হলেও তাঁর প্রত্যাবর্তনের কোনও ব্যবস্থা হয়নি। অথচ বিশিষ্ট এই সাহিত্যিক বাংলাদেশ ও সুইডেন দু’দেশের নাগরিক। নানা দেশ ঘুরে এখন তাঁর অস্থায়ী ঠিকানা ভারত। তিনি তসলিমা নাসরিন। তাঁর নির্বাসিত জীবনের ২৫ বছর নিয়ে মঙ্গলবার ফেসবুকে একটি নাতিদীর্ঘ পোস্ট করেছেন লেখিকা। সেই পোস্ট ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। ৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪ হাজার লাইক। শ’খানেক কমেন্ট। শতাধিক শেয়ার।
ফেসবুকে তসলিমার বন্ধু-অনুরাগীদের সংখ্যা অনেক। দেশ-কাল-সমাজ নিয়ে নিয়মিত তিনি লিখে চলেন সেখানে। মানবাধিকার, নারী অধিকার, লিঙ্গসাম্যের পক্ষে এবং ধর্ম, রাজনীতি ও ধর্ম-রাজনীতির অনাচারের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষুরধার বিশ্লেষণ মানুষের নজর কাড়ে। খবরেও উঠে আসে নানা সময়। আলোচনা, সমালোচনা, নিন্দা-সাধুবাদ সবই জোটে। তবু নিজের অবস্থানে অনড় থেকে তসলিমা বুঝিয়ে দেন, জান থাকতে তিনি নিজের নীতি-আদর্শ থেকে সরবেন না, তাঁকে ‘বিতর্কিত’ বানানোর কোনও প্রয়াসই সাফল্যের মুখ দেখবে না। তাঁর এদিনের পোস্ট অবশ্য তাঁর অন্তরের গভীরতম ক্ষত প্রকাশ্যে এনেছে ফের। পঁচিশ বছর দেশছাড়া একটা মানুষের দেশে ফেরার আকূলতা প্রকাশ পেয়েছে সেখানে। কী লিখেছেন তসলিমা? পোস্টটি পড়ে নেওয়া যাক। ‘‘আজ ২৫ বছর পার হলো নির্বাসন জীবনের। দেশ নেই ২৫ বছর। একা ২৫ বছর। ১৯৯৪ সালের ৮ই অগাস্ট দেশ থেকে বের করেছিল খালেদা সরকার। এরপর কত সরকার এলো গেলো, কেউই আমার দেশের দরজা আমার জন্য খুললো না। নির্বাসন আমৃত্যু।’’ দেশে ফিরতে না পারার এই আক্ষেপ, এই যন্ত্রণার শরিক হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সেই দলে রয়েছেন তাঁর জন্মভূমি বাংলাদেশের বহু নাগরিক। ভারতীয় বাঙালিরাও সমানে সমবেদনা জানিয়েছেন লেখিকাকে। ইতিমধ্যেই লেখিকা নির্বাসনের রজতজয়ন্তী নিয়ে নিজের ভুল শুধরে নিয়েছেন। ‘‘উউফফ ভুল ভুল ভুল। এক মাস বাকি আছে।’’
ঝলকে দেখে নিই তাঁর ‘নির্বাসন’ পর্বকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশের মানুষ। ‘এই ২৫ বছর মানুষ আপনাকে আরও বেশি ভালবেসেছে।’ লিখেছেন মামুন আবদুল্লাহ। মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান লিখেছেন, ‘বেদনা বিধুর পদযাত্রা। তোমারই হবে জয়। আজ কিংবা কাল।’ সইদ আহমেদের ছোট্ট প্রতিক্রিয়া, ‘স্যাড।’ আবার রুদ্র মোস্তফা লিখেছেন, ‘তখন খুব ছোট। চারটাকা করে খাতা কিনতাম। খাতার কভার পেইজে আপনার ছবি থাকত। আপনার ছবিঅলা খাতা কিনতাম বলে সমবয়েসি কেউ কেউ এটাসেটা বলত। বড় হয়ে জেনেছি সবই অপ্রপ্রচার আর মনগড়া সব কথা। আলপনা জাহান সানি লিখেছেন, ‘অনেক দুঃখ লাগে, তার পরও আপনার ফেরার প্রতীক্ষায় আছি।’ ঢাকা থেকে প্রফেসর ডক্টর জাকিরুল হক লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ছোট্ট একটা ভূখণ্ড। আপনার দেশ সমগ্র পৃথিবী। এ সৌভাগ্য কয় জনের ভাগ্যে জোটে? মনখারাপ হতেই পারে। কিন্তু আপনার যে অদম্য সাহস তা দিয়ে কাটিয়ে উঠুন কষ্টের বেড়াজাল। আপনি আমার সমবয়সী। আপনি স্বাধীন আর আমি একজন অধ্যাপক হয়েও পরাধীন। সত্য বলার সাহস আমার নেই। আমরা মেরুদণ্ডহীন মানুষরূপী প্রাণী। আর আপনি শক্ত মেরুদণ্ড নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পৃথিবীর দেশে দেশে। আপনার মেধা এবং লেখনীশক্তি দিয়ে বিশ্বজয় করে চলেছেন। আরও জয় হোক আপনার। শুভ কামনা রইল।’
জামাল উদ্দিন ও আরিফুল ইসলাম পৃথকভাবে লিখেছেন, ‘যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন।’ ‘এখন সারাদুনিয়া তোমার দেশ। আমরা সবাই তোমাকে অনেক ভালবাসি।’ মন্তব্য রাকিব উদ্দিন সিদ্দিকির। ‘অপ্রিয় কথা’ নামের প্রোফাইলের মালিক লিখেছেন, ‘দেশটাকে কেউ বাপের দেশ, কেউ স্বামীর দেশ বানাইয়া রাখছে। জনগণের দেশ কেউ বানায় নাই।’ দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া লিখেছেন রাজীব নুর খান, ‘বোন এই দেশে দুষ্টলোক দিয়ে ভরে গেছে। একজন আরেকজনের চেয়ে বেশি বদ। তবে, আমি মনেপ্রাণে চাই, আপনি আসুন। সকল মিথ্যা অভিযোগ মুছে যাক। যারা আপনাকে দেশত্যাগ করতে বাধ্য করেছিল তারা ক্ষমা চাক প্রকাশ্যে। আর এই উন্নয়নের সরকার আপনাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনুক। যোগ্য সম্মান দিক আপনাকে। দেশের মেয়ে দেশে ফিরতে পারবে না, এ কেমন কথা! এই দেশে চোর, ডাকাত, দুর্নীতিবাজ, ধর্ষণকারী থাকতে পারলে, একজন সাহসী কবি কেন থাকতে পারবেন না? এটা কোন আইন? কোন জালিম বানিয়েছে এই আইন! বিশ্বাস করুন বোন, আমার হাতে ক্ষমতা থাকলে সেই কবেই আপনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতাম। যদি কখনও আমার সাথে প্রধানমন্ত্রীর দেখা হয়ে যায়, তা হলে আমি তাকে তিনটা কথা বলব। তার মধ্যে প্রথম কথাটিই হল- তসলিমা নাসরীনকে দেশে ফিরিয়ে আনুন। এই দেশে সবাই একটা ভদ্রতার মুখোশ পড়ে আছে। ধার্মিকেরা যেমন মাথায় টুপি পরে, দাড়ি রাখে। কপালে দাগ করে ফেলে। তেলবাজি, চামচাগিরি আর দালালি করে বহুলোক জিরো থেকে হিরো হয়ে গেছে। ক্ষমতাবানরা চাটুকারিতা খুব পছন্দ করে। তাই ক্ষমতাবানদের চারপাশে সব সময় চাটুকাররা থাকে। স্বচ্ছ পবিত্র মানুষ থাকে না। আমি প্রচণ্ড আশাবাদী মানুষ। আমি জানি একদিন আপনি মাথা উঁচু করে দেশে ফিরবেন। আমি সেই অপেক্ষায় আছি।’
সূত্র: মহানগর নিউজ।