demo
Times24.net
ম্যাপেলিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ১৪২৬ বর্ষ বরণ
Friday, 19 Apr 2019 10:16 am
Times24.net

Times24.net


আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ: ম্যাপেলিফ স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আধুনিক পশ্চিমা মূল্যবোধের সাথে ইসলামী এবং দেশজ ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধারন, সমন্বয় করে স্কুলের শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার জন্য তাদের মধ্যে উদার আধুনিক, নৈতিক, মানবিক, সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশের যে মহৎ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। যা সারা দেশের ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাঙ্গণগুলোর জন্য এক উদার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রতি বছরের ন্যায় বাংলা ১৪২৬-এর বর্ষ বরণ উপলক্ষ্যে ম্যাপেলিফ স্কুলের অডিটোরিয়ামে ছাত্র/ছেলে এবং ছাত্রী/মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে দু'দিন ১লা বৈশাখ উৎযাপনের আয়োজন করা হয়েছে। এদিন স্টুডেন্ট, মিস, স্যার, পেরেন্স সবাই রংবেরংয়ের পোষাক পড়ে, সেজেগুজে স্কুল ক্যাম্পাসে হাজির হয়েছে ১লা বৈশাখ পালন করার জন্য। ছেলে-পুরুষরা বাহারী রঙের পাঞ্জাবী-পাজামা-পেন্ট পড়ে এবং মেয়ে-মহিলারা রঙিণ বৈচিত্র‍্যময় শাড়ী, কামিজ পড়ে দল বেধে ঘুরছে, আড্ডা দিচ্ছে, হৈচৈ করছে, আনন্দ-মজা, গল্প-গুজব করছে, চটপটি-সেনেক্স খাচ্ছে। সবার মুখের আনন্দ-উল্লাসের চ্ছ্বটায় বাঙালীয়ানার শতভাগ বৈশাখী উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সারা স্কুল প্রাঙ্গণ জুড়ে।

স্কুলের বৈশাখী অনুষ্ঠান পাঁচ তলার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অডিটোরিয়াম এবং স্টেজকে বৈশাখী অনুষ্ঠানের জন্য বাহারী ব্যানার, রংবেরংয়ের ককসিটে বাঘের মুখোস, ঢোল, আল্পনা এবং ছাতা ঝুলিয়ে সাজানো হয়েছে। সেখানে কেবল স্কুলের মিস, স্যার শিক্ষার্থী, কর্মচারীরা উপস্থিত ছিল। অভিভাবকগণ স্কুলের নিচতলার স্কুল ক্যাম্পাসে বসে, দাঁড়িয়ে, হেটে, আড্ডা দিয়ে, গল্পগুজব করে সন্তানদের জন্য অপেক্ষা করেছে। তবে সেখানে দুটা প্রজেক্টর বসানোর ব্যবস্থা করলে অভিভাবকরাও অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখার সুযোগ পেত।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর সমবেত স্বরে শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত গায়। এ সময় অডিটোরিয়ামে সবাই দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেকে মনে মনে গাইছিলেন। এরপর বৈশাখের থীম সং এসো হে বৈশাখ এসো এসো গান গাওয়া হয়। আতি খাতি বেলা গেল সুতি পারলাম না ওরে সদুরুদ্দীন মা, মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে, গাড়ি চলে না গাড়ি চলে না পর পর কয়েকটি সমবেত গান হয়। এরপর একজন মিস শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঝিলমিল ঝিলমিল করে মোর গানটি গেয়ে শোনান। আরেক মিস কিছুক্ষণ গিটার বাজিয়ে সবাইকে আনন্দ দেন। এরপর মোরা ঝর্ণার মত উচ্ছল মোরা ঝর্ণার মত চঞ্চল গানের পর কয়েকটা এককভাবে প্রাণটা আমার মন রে বুঝায় মন থাকে পাগল পাড়া, একতারা বাজাইও না দোতারা বাজাইও না, ফাগুণের মোহনায় মন মাতানো মহুয়ায় গানগুলো গাওয়া হয়।

শুধুমাত্র গানের অনুষ্ঠান এই ধরনের কালচারাল প্রোগ্রামে একঘেয়েমী সৃষ্টি করে বলে অনুষ্ঠানের মাঝে ম্যাজিক শোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নেপথ্য আবহ সংগীতের সাথে ম্যাজিশিয়ান তার ম্যাজিক দেখান। তিনি পায়রার আঁকা ছবির ফ্রেমের ভেতর থেকে জীবন্ত পায়রা বের করে সবাইকে চমৎকৃত করেন। একটি বাটিতে একটি মুরগীর ডিম থেকে দশটি মুরগীর ছানা ফুটিয়ে দেখান। 
কাগজের রোল থেকে ছাতা ও ফুল, কোকের বোতলের ভেতর থেকে ফুল ও পতাকা, মিসের হাতে ধরা তার আংটি অন্য একটি বক্সের ভেতর থেকে, কাপড়ের উপর চাল ছিটিয়ে থেকে মুড়ি, একজনের এক কানে দুধ ভরে আরেক কান দিয়ে দুধ, কাপড়ের ঝুড়িতে কাগজ থেকে টাকা, টেবিলের উপর রাখা খালি বাক্সের ভেতর রাখা বল নাই করে তা নিজের পকেট থেকে বের করে দেখান।
খালি পাত্র থেকে পানি ঢেলে, একটি খালি সাদা খাতাকে আঁকা সাদা ও রঙিণ ছবির খাতা বানিয়ে,
আলাদা পাঁচটি রিংকে একটি অপরটির ভেতর ঢুকিয়ে, সাদা কাগজের নোটকে টাকার নোট বানিয়ে দেখান।

সবশেষে জেমসের আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি গানটি একক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়। প্রতিটি গান এবং ম্যাজিক শেষে তাদের ধন্যবাদ জানাতে এবং উৎসাহ দিতে উপস্থিত সবাই হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানাচ্ছিল। আর শিক্ষার্থীরা সমবেতভাবে চিৎকার করে মনের আনন্দ ও উল্লাস প্রকাশ করছিল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনকারীরা অত্যন্ত মনোরমভাবে সঞ্চালনা করছিলেন। মেয়েদের অনুষ্ঠানে নাচের ব্যবস্থা থাকে। আমার ব্যক্তিগত অভিমত স্কুলের এই ধরনের কালচারাল প্রোগ্রামে ঢোল/বাঁশি বাদক, কৌতুক অভিনয় ও ক্ষুদ্র নাটিকা রাখা উচিত। এই কালচারাল প্রোগ্রাম স্কুলের শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ্য বিনোদন, সাংস্কৃতিক চিন্তা ও প্রতিভার সুকুমার বৃত্তিকে বিকশিত করে এবং দেশজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়। তাই দেশের সকল সরকারী ও বেসরকারী বাংলা ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে এই ধরনের মনোজ্ঞ দেশজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা উচিত। [email protected]