demo
Times24.net
অনশনরত হবু মাদ্রাসা শিক্ষকদের উপর বর্বরতা প্রসঙ্গে
Sunday, 07 Apr 2019 11:21 am
Times24.net

Times24.net


গৌতম রায়: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সফল করার লক্ষ্যে সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায় কে একটি সোপান হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন ।সংখ্যালঘু আবেগের মিথ্যা অভিনয় করে তিনি নিজের ভোট ব্যাংক কে সমৃদ্ধ করেছেন ।নিজের রাজনৈতিক উচ্চাশা কে পূরণ করেছেন। মমতার সংখ্যালঘু মুসলমানদের ,নিজের এবং দলের স্বার্থে ব্যবহারের এই রাজনৈতিক কৌশল কে সব সময় সাদা চোখে বুঝে ওঠা সংখ্যালঘু মুসলমানদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি ।মমতা একদিকে সংখ্যালঘু মুসলমানদের প্রতি ছদ্ম ভালোবাসার অভিনয় করে গিয়েছেন।এই অভিনয়ের ভিতর দিয়ে মুসলমান সমাজের আর্থিক ,সামাজিক সাংস্কৃতিক সমস্ত দিক গুলি কে অবরুদ্ধ করে দেবার যে গভীর ষড়যন্ত্র করছেন ,সেই বিষয়ে সার্বিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অবহিত নন। একটা বড় অংশের মানুষ মমতার হিজাব পড়া ,মোনাজাতরত ফটোশুটের ছবি দেখে ধরে নিয়েছেন মমতা সংখ্যালঘুদের প্রতি বিশেষ রকমের পক্ষপাতপূর্ণ ।আরেকটি অংশ তাঁর এই তথাকথিত পক্ষপাত ঘিরে এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতার পরিবেশকে মজবুত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন ।
এই চাপানউতোরের ভেতর দিয়ে যে বিষয়টি চাপা পড়ে গিয়েছে সেটি হল, সংখ্যালঘু মুসলমান সমাজের শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকার একটা ভয়ংকর ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, বিজ্ঞানসম্মত ,যুগোপযোগী করে তোলপাড় ক্ষেত্রে পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকার একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন ।মাদ্রাসা শিক্ষা যে নিছক কোন ধর্মীয় শিক্ষা নয়, আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার কোন ফারাক নেই ,এটি প্রমাণ করবার লক্ষ্যে মাদ্রাসা শিক্ষার বিজ্ঞানসম্মত আধুনিকীকরণ ঘটেছিল বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ।রাজ্যের মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠক্রমের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার পাঠক্রমের মৌলিক কোন ফারাক নেই ।বামফ্রন্ট সরকার মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে এই যে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা চালু করেছিলেন তা কেবলমাত্র ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলির ক্ষেত্রেই নয় ,আরব দুনিয়ার মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও একটি আদর্শ ব্যবস্থা হিসেবে উল্লিখিত হচ্ছিল।
মাদ্রাসা শিক্ষায় নিয়োগের প্রশ্নে একটি অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তৈরি করা হয়েছিল মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যে ক্ষমতাসীন হয়ে সেই মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে কার্যত অকেজো করে দিয়ে পুরনো মাদ্রাসা কমিটি গুলিকে সক্রিয় করে তোলবার চেষ্টা করতে শুরু করেন ।এই ব্যবস্থার ভেতর দিয়ে মুখে সংখ্যালঘু প্রীতির কথা বলে আদতে সংখ্যালঘুদের যাবতীয় স্বাধিকারের বিষয়টিকে জলাঞ্জলি দেওয়া র এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে পড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। গোটা এই প্রক্রিয়াটির প্রতিবাদে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মাদ্রাসার হবু শিক্ষকেরা আদালতের দ্বারস্থ হয়। সম্পুর্ণ বিষয়টি এখন দেশের মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন ।গত ১৩ই ডিসেম্বর(২০১৯) মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত শুনানি সুপ্রিম কোর্টে শেষ হয়েছে। রাজ্যবাসী এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্ট মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন সম্পর্কে যে অন্তর্বর্তী রায় দিয়েছেন, তাতে কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে কিছু ইতিবাচক কথা বলা হলেও তাঁদের মানসিকতা ঘিরে মামলাকারী মাদ্রাসার হবু শিক্ষকদের মধ্যে বেশ কিছু হতাশার মনোভাব ও ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে। সার্বিকভাবে প্রশাসনের চরম উদাসীনতা ঘিরে সংখ্যালঘু মুসলমান সমাজের ভেতরে যে একটা ভয়ঙ্কর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, সেই ক্ষোভ টি কিন্তু যথাযথভাবে প্রচারমাধ্যমের দ্বারা সাধারণের সামনে উঠে আসছে না। এইসব বঞ্চিত সংখ্যালঘু সমাজের ছেলেপিলেরা ই রাজপথে নেমে আন্দোলন করেছেন।তাঁদের সেই আন্দোলন কিন্তু মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন কে নিষ্ক্রিয় করে রাখার ভেতর দিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার এক সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে ।
মাদ্রাসার হবু শিক্ষকরা রাজ্য সরকারের উদাসীনতা প্রতিবাদে অনশন করেছেন। সেই অনশন কে তোলবার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের উপরে কি ভয়ংকর অত্যাচার করেছে তার বিবরণ সে ভাবে সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসেনি। কলকাতা মহানগরীর বুকে গত ২৯ শে মার্চ রাতে যেভাবে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের সমস্ত শূন্যপদ পূরণের দাবিতে অনশনরত, বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীদের উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ অমানবিক আক্রমণ করেছে ,সার্বিকভাবে তা সভ্যতার কলঙ্কও হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ২০১৩ সালে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৮৮ হাজার পরীক্ষার্থীদের মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় সফল হয়েছিলেন তিন হাজার ৩৭০৬ জন ।এঁদের ভিতরে মাত্র চাকরির সুপারিশ পত্র পেয়েছিলেন ১৯৮০ জন ।এই সময় মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন মাদ্রাসায় শূন্যপদ কমিয়ে দেওয়ার জন্য এক ধরনের নোংরা পরিকল্পনা নেয় ।সংখ্যালঘু সমাজকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মাদ্রাসা শিক্ষায় পরিকল্পিত কৃত্রিম শূন্য পদের জট তৈরি করেন। 
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের তৈরি করা সেই কৃত্রিম জটের শিকার হন কয়েকশো ছেলে মেয়ে ।তাঁরা চূড়ান্ত তালিকা ভুক্ত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এই বঞ্চিত ছেলে মেয়েদের একটা বড় অংশ বঞ্চনার হাত থেকে বাঁচবার তাগিদে আইনের আশ্রয় নেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন ভয়াবহ ভাবে হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, সার্ভিস কমিশনের ধারা ২০১০,কমিশনের নোটিফিকেশন ২০১৩ এনসিটিই রুলস ২০১১ সহ বহু আইনকে চূড়ান্ত ভাবে অমান্য করে।
মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন ঘিরে যে সমস্ত মানুষজন অনশনে বসেছিলেন , তাঁদের সেই কর্ম কাণ্ড নিয়ে সামাজিক স্তরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা কম হয়নি ।এসএসসি উত্তীর্ণ হবু শিক্ষকদের অনশনের আন্দোলন দেখেই মাদ্রাসার এই সব ছেলে মেয়েরা তাদের অনশন শুরু করেছেন– এমন একটা অসত্য প্রচার কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল থেকে খুব ভালো ভাবেই শুরু করে দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের যথাযথ কার্যকারিতার দাবিতে এইসব ছেলেমেয়েদের আন্দোলন কে ছোট করে দেখানোর উদ্দেশ্যে তাঁদের আন্দোলন ঘিরে এই ধরনের অপপ্রচার।
আমাদের মনে রাখতে হবে মাদ্রাসার হবু শিক্ষকদের যে আন্দোলন , সেটি কিন্তু শুরু হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রাজ্যে ক্ষমতাসীন হওয়ার অব্যবহিত পরেই। ২০১৪ সাল থেকে এই সব ছেলে মেয়েরা অনশনে বসার আগে আইন-আদালতের সব কটি স্তর, হাইকোর্ট ,সুপ্রিমকোর্ট এবং অবশ্যই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আবাস সহ সব জায়গাতেই দরবার করেছিল। যথারীতি সেভাবে বিচার না পেয়ে তাঁদের এই অনশনের সিদ্ধান্ত ।মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের যথাযথ ভূমিকার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের এই অনশনের মতো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী রায়ের সঠিক বাস্তবায়নে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের চরম উদাসীনতা , গা-ছাড়া মানসিকতা ,এবং স্বেচ্ছাচারিতা জনিত পরিবেশ অন্যতম প্রধান দায়ী ।সংখ্যালঘু সমাজের একটা বড়ো অংশকে এই পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ভূমিকা ও কিন্তু বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় ।
রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তর টি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে রয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা এবং মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত ছাত্র ,শিক্ষক, অভিভাবক – সকলেরই স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে এই সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের ভূমিকা আদৌ ইতিবাচক নয় ।একথা পরিষ্কার করে বলতে হয় যে ,সংখ্যালঘু দপ্তরের বেশ কিছু আধিকারিক মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন কে অকেজো করে দেওয়ার লক্ষ্যে ,বিভিন্ন মাদ্রাসায় যে পরিচালন কমিটি এখনও রয়েছে ,তাঁদের হয়ে কাজ করে চলেছেন। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের পাশাপাশি কিছু মাদ্রাসায় এখনো পরিচালন সমিতি সক্রিয় ভূমিকায় থাকা এবং সেই সমিতির পেছনে রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের একাংশ এবং রাজ্যের শাসক দলের একাংশের হাত থাকার কারণে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের অস্তিত্ব আজ ভয়াবহ সংকটের মুখে ।
এইরকম একটি সংকটময় অবস্থায় মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত ছাত্রদের, অভিভাবকদের এই অনশনকে ঘিরে একটি কথা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে হয় যে, রাজ্য সরকার এবং সুধী সমাজের একাংশ এসএসসি অনুসরণকারীদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে ন, মাদ্রাসার ছাত্র দের ক্ষেত্রে কিন্তু সে ভূমিকা তাঁরা পালন করেনি ।এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে এসএসসি উত্তীর্ণ হবু শিক্ষকদের অনশন মঞ্চের পাশে এসে কিছু আশ্বাস দিয়েছেন। অপরপক্ষে মাদ্রাসার ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়ানো তো দূরের কথা , রাজ্য সরকার পরিচালিত পুলিশ অনশনরত সেই সব ছাত্রদের উপর, অভিভাবক দের উপর , সংখ্যালঘু মহিলাদের উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে।
মাদ্রাসা কে কেন্দ্র করে এ রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলমান সমাজের একটা বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকারের অপদার্থতার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে চলেছে ।সেই আন্দোলনের সাফল্য বা আন্দোলন সম্পর্কে মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু আইনের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের নেতিবাচক ভূমিকা র প্রতিবাদে এই সব ছেলেমেয়েদের বার বার আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে , এমনকি সুপ্রিম কোর্টে ও যেতে হচ্ছে ।মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের বঞ্চিতদের পক্ষে হাইকোর্টের একাধিক রায় এবং সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন রায় প্রমাণযোগ্য। 
দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে যে , কোন এক অদৃশ্য শক্তির অঙ্গুলিহেলনে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন নানা রকম অজুহাত দেখিয়ে আদালতের কোন রায় কেই মর্যাদা দিচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন ২০১০ সালের আইনের ২৫ নম্বর ধারার ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চূড়ান্ত প্যানেল প্রকাশের ১৫ দিন পর বিস্তারিত পিডিএফ কমিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া বাধ্যতামূলক ।মজার কথা হল ,মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তাঁদের আইনের এই বিষয়গুলির উপর আদৌ কোনো গুরুত্ব আজ পর্যন্ত দেয়নি ।মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন এখনো পর্যন্ত কোন পিডিএফ রেজাল্ট প্রকাশ করেনি ।আমাদের মনে রাখা দরকার যে ,মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তাঁদের ০৬\০২\১৪ সালের ঘোষণা অনুযায়ী ৩১৮৩ শূন্য পদ আজ পর্যন্ত পূরণ করেনি ।
এই পরিস্থিতি তেই কিন্তু সংখ্যালঘু সমাজের একটা বড় অংশকে নিজেদের জীবন বিপন্ন করে এই অনশণের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন কর্তৃক বিজ্ঞাপিত ৩১৮৩ টি পদের ভিতরে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশপত্র পেয়েছিল মাত্র ১৯৮০ জন। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের আন্ডারগ্রাজুয়েট ১৫ জন প্রার্থী কে ২০১৮ সালের জুন মাসে কাউন্সিলিং করবার পরও সার্ভিস কমিশন আজ পর্যন্ত কোন সুপারিশ পত্র দেয় নি ।কমিশনের দ্বারা চরম বিড়ম্বিত হতাশাগ্রস্থ এইসব সংখ্যালঘু সমাজের ছেলেমেয়েরা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। মহামান্য হাইকোর্ট গত জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখে এই সব ছেলেমেয়েদের নিয়োগের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ জারি করেছেন।তা সত্ত্বেও সেইসব ছেলে মেয়েরা কোনোরকম নিয়োগপত্র রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পান নি।এই চরম হতাশা থেকেই তাঁরা শেষ পর্যন্ত অনশনের পথে যেতে বাধ্য হয়েছিল।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অভিনয়কে ঘিরে সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশের এই ধারণা জন্মেছে যে , সংখ্যালঘুদের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী একটু পক্ষপাতিত্ব নিয়ে চলেন। মমতার এই লোক দেখানো পক্ষপাতিত্বের গভীরে যে কী ভয়ঙ্কর সংখ্যালঘু বঞ্চনার চিত্র রয়েছে , সেদিকে দৃষ্টি দিলে আমাদের শিউরে উঠতে হয়। মাদ্রাসার অনশনরত হবু শিক্ষকদের উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ যে কি দানবী অত্যাচার চালিয়েছে তা কল্পনা করতে পারা যায় না ।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঐ সব ছেলেদের উপর রাজ্যের পুলিশ এমনই নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে যার জেরে দুজন অনশনরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছেলেকে এই মুহূর্তে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে হচ্ছে ।অনসণ তুলে দেওয়ার পর অনশনকারীদের কলকাতার ভৌগোলিক সীমানার বাইরে বের করে দিতে পুলিশ যে ধরনের আচরণ পালন করেছে তা কোন সভ্য দেশে দেখতে পাওয়া যায় না ।পুলিশের হাত থেকে বাঁচবার জন্য দিনের পর দিন না খেয়ে নিজেদের শারীরিক নিপীড়নের ভিতর দিয়ে যাঁরা ন্যায় বিচার দাবি করছিলেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সেই সব ছেলেরা আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন স্থানীয় টিপু সুলতান মসজিদে।
কোনো রকম ধর্মীয় তাগিদ থেকে তাঁরা কিন্তু টিপু সুলতান মসজিদে গিয়ে হাজির হননি ।পুলিশের অত্যাচারে অনশন মঞ্চ থেকে উৎখাত হওয়া সেই সব ছেলেদের ধারণা ছিল যে , পরম কারুনিকের দরবার -মসজিদে হয়তো শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ তাদের উপরে অত্যাচার চালাতে সাহস করবে না ।কিন্তু দুঃখের বিষয় হল ,পুলিশ ও প্রশাসনের ভয়ে সেই মসজিদ কর্তৃপক্ষ ওইসব অসহায় ছেলেদের বেশিক্ষণ মসজিদ চত্বরে রেখে দিতে রাজি হয়নি ।
পুলিশ নানাভাবে ওই মসজিদে আশ্রয় নেওয়া অনশনরত ছেলেদের কলকাতা শহরের চৌহদ্দির বাইরে বের করে দিয়ে তাঁদের সমবেত হবার যাবতীয় সম্ভাবনাকে সমূলে উৎপাটিত করবার জন্য তখন কার্যত আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছিল ।শিয়ালদা , হাওড়া স্টেশনে অনশনরত ছেলেদের একদম ট্রেনে চাপিয়ে তাঁদের বাড়ি না পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুলিশ যেন নিশ্চিন্ত হতে পারছিল না। দুঃখের বিষয় হল , সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এইসব শিক্ষিত যুবকদের উপর রাজ্য সরকারের যে প্রশাসনিক , নির্যাতন, নিপীড়ন , বঞ্চনা ছিল এতোকাল ধরে , তার সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে পুলিশের নানা ধরনের হেনস্থা ।সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষিত বেকার যুবকদের উপরে পুলিশ প্রশাসনের এই হেনস্থা ঘিরে সমাজের প্রথম সারির মানুষ হিসেবে যাঁরা পরিচিত, প্রগতিশীল মানুষ হিসেবে যাঁরা পরিচিত সেই সব মানুষ জন আশ্চর্যজনক শীতল ভূমিকা পালন করে চলেছেন।