demo
Times24.net
সোনাগাছির পতিতাদের ব্যবসা জমজমাট (ভিডিও সহ)
Thursday, 21 Mar 2019 23:22 pm
Times24.net

Times24.net


টাইমস ২৪ ডটনেট, ভারত:‌ দুগ্গাপুজা। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। উৎসবপ্রিয় বাঙালি বছরের এই চারটি দিনের জন্য চাতক পাখির মতো বসে থাকে। কেউ যাবেন শহরের বাইরে। কেউ বা পরিবারের সঙ্গে ঠাকুর দেখবেন। রেস্তোরাঁয় খাওয়া–দাওয়া কত মজা। বান্ধবীকে নিয়ে লং ড্রাইভে বেরিয়ে পড়া। নেই অফিস। নেই স্কুল–কলেজ পড়াশুনা। এক্বেবারে ফূর্তিপ্রাণ গড়ের মাঠ। সমাজের এককোণে ওঁরাও থাকেন। তথাকথিত ভদ্রসমাজ নাম দিয়েছে, ‘‌রেড লাইট এরিয়া।’‌ দুর্গাপুজোয় সোনাগাছির দিন কাটে কীভাবে?‌ খদ্দেরের আশায় বসে থাকা তো বছরের ৩৬০ দিন। এই পাঁচটা দিন না হয় একটু আলাদা কাটুক। এই আলাদা কাটানোটা আবার সবার জন্য নয়?‌ 
যারা মূলত রাস্তার ধারে খদ্দেরের আশায় বসে থাকেন, তারাই সোনাগাছির দুর্গাপুজোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকেন। এদের ‘‌রেট’‌ ওঠানামা করে। মূলত ২০০–৩০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিরা এদের ধারও মারান না। তাই পুজোয় বাড়তি রোজগারের সম্ভাবনা কম। এদের কাছে যে খদ্দেররা আসে, তারা বাড়তি টাকা দিতে উৎসাহী নন। 
কিন্তু নাইট লাভার্স, রুপশ্রী, কাঞ্চন প্যালেস, সঙ্গমের মতো বাড়িগুলোর ছবি একদম আলাদা। কয়েকবছর আগেও সোনাগাছির সেরা বাড়ি ছিল নাইট লাভার্স। হাইপ্রোফাইল বাবুরা এখানেই হানা দিতেন বেশি। ঘণ্টায় রেট ৩২০০ টাকা। কিন্তু জনপ্রিয়তায় নাইট লাভার্সকে এখন ছাপিয়ে গেছে রুপশ্রী। তার পরেই থাকবে কাঞ্চন প্যালেস, সঙ্গম, প্রেম বন্ধন। রুপশ্রীর রেট বর্তমানে সবচেয়ে বেশি। ১ ঘণ্টার নূন্যতম রেট ৪২০০ টাকা। মূলত আগ্রার মেয়েদের দরই বেশি। নতুন কেউ এলে তার রেট ৫২০০ থেকে ৫৫০০ হয়ে যায়। তাতেও কুছ পরোয়া নেই বাবুদের। রাত কাটিয়ে যান অনেকেই। রেট সেখানে ২৫ থেকে ৩০ হাজার। পকেট থেকে টাকা বের করতে এক সেকেন্ডও ভাবেন না বাবুরা। 
চাহিদা সবচেয়ে বেশি কার?‌ রুপশ্রীর তিনতলায় খুশি সিং (‌নাম অপরিবর্তিত)‌। বাড়ি পাটনা। রেট ঘণ্টায় ৪২০০ টাকা। কোনও পুজো–ফুজো নয়। সারাবছরই খুশির ঘরের সামনে খদ্দেরদের লম্বা লাইন থাকে। পুজোর সময় সেটাই দ্বিগুণ হয়ে যায়। সুযোগ পেয়ে বাবুদের পকেটে ছুরি মারতেও সিদ্ধহস্ত। কিছু খাবেন?‌ পানীয় থেকে খাবার যাই আনুন, দাম দিতে হবে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেশি। শুধু পুজোর চারদিনেই খুশির রোজগার হয়েছে ৫ লাখের বেশি। রুপশ্রীর বাকি মেয়েদেরও পুজোর চারদিনে দেড় থেকে দু’‌লাখ আয় হয়েছে। ছবি অনেকটা একইরকম নাইট লাভার্স, সঙ্গম, কাঞ্চন প্যালেসের। খুশির কথায়, ‘‌ধরে নিতে পারেন, এই বাড়িগুলো থেকে কম করেও প্রায় ১ কোটির বেশি টাকা আয় হয়েছে পুজোর চার দিনে। তবে পুরো টাকাই তো আমরা হাতে পাই না। দালালদের কমিশন থাকে। ঘরের চাকরকে টাকা দিতে হয়।’‌ 
দালাল কিষেণ (‌নাম অপরিবর্তিত)‌ বলছিলেন, ‘‌আমাদের কমিশনের হিসেবটা একটু অদ্ভুত। ধরুন একটি মেয়ের রেট ৪২০০ টাকা। এরমধ্যে মেয়েটির চাকর পাবে ২০০ টাকা। ১০০০ টাকা দালাল। বাকি ৩০০০ মেয়েটির। দালালের ১০০০ টাকারও হিসেব রয়েছে। কোনও খদ্দের গলিতে ঢুকলে একজন আওয়াজ দেন। তার হাতে ২৫০। একজন হাত নাড়ান। তার ২৫০। যিনি ঘরে নিয়ে যাবেন, তার হাতে ৫০০। মেয়েদের কথা ছেড়ে দিন, এখানে অনেক দালাল রয়েছে, যারা পুজোর চারদিনে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা কমিশন পকেটে পুরেছে। তার উপর চেনা বাবুরা পুজোয় ভাল বকশিস দেন।’‌   
মোদির নোটবাতিলের পর সোনাগাছি অন্তত ৪ থেকে ৫ কোটি লাভ করেছিল। পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল হয়ে যাওয়ায় অনেকেই ব্যাঙ্কে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে চাননি। তার বদলে সোনাগাছিতে সেই টাকা উড়িয়েছেন। আর রুপশ্রী, নাইট লাভার্সের মেয়েরা এই সুযোগটাই নিয়েছে। রেট হুহু করে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সেইসময়। ঠিক দেড়বছর আয়কর দপ্তর একবার এই বাড়িগুলোয় হানা দিয়েছিল। এক একটা বাড়ি থেকে নগদ ৫০ থেকে দেড় লাখ পর্যন্ত টাকা উদ্ধার হয়েছিল।
সমাজের নানা ক্ষেত্রের মতো সোনাগাছিতেও সেই বৈপরীত্য। রাস্তায় যারা দাঁড়িয়ে থাকেন, তাদের রোজগার অনেক কম। তুলনায় নাইট লাভার্স, রুপশ্রীর মতো বাড়িতে থাকা মেয়েদের রোজগার অনেক বেশি। যা নিয়ে লড়াই চালাচ্ছে যৌনকর্মীদের সংগঠন। 
  সূত্র: আজকাল।