demo
Times24.net
ফুটপাত থেকে মাসে ১০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের কাছে জিম্মি মিরপুরের সাধারণ মানুষ
Sunday, 20 Jan 2019 18:17 pm
Times24.net

Times24.net

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : মিরপুর জোনের ৭টি থানা এলাকায় ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা ও কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক। উক্ত এলাকার ফুটপাত ঘিরে প্রতি মাসে প্রায় ১০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে। এছাড়াও মিরপুর জোনে সাধারণ লোকজনের জমি ও বাড়ি দখলের অভিযোগ রয়েছে জামাল মোস্তফা ও মানিকের বিরুদ্ধে। তাদের শেল্টারেই চাঁদাবাজরা নিয়মিতভাবে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে। চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে মিরপুরের সাধারণ মানুষ। অথচ প্রশাসনের টনক লড়ছে না। জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা ও পল্লবী থানার আওতাধীন হোপের গলি (অরজিনাল-১০) ও অ্যাভিনিউ-৫ এলাকায় কাপড় ও ঝুটের প্রায় এক হাজার দোকানের প্রতিটি থেকে দৈনিক ৩শ’ থেকে ৮শ’ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। যা প্রতিমাসের হিসাবে দাঁড়ায় দেড় কোটি টাকারও বেশি। বিশাল এলাকার এই ফুটপাতের নিয়ন্ত্রক হলেন প্রভাবশালী মেয়র জামাল মোস্তফা ও কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক।
পল্লবীর মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামের পাশে জিংজিয়ান রেস্টুরেন্টের গলিতে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত একটি কাঁচাবাজার বসে। এই বাজারের প্রায় ৩শ’ দোকান। প্রতি দোকান থেকে দৈনিক ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। সেই হিসাবে মাসে এখান থেকে উঠছে গড়ে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। জামাল মোস্তফা ও জহিরুল ইসলাম মানিকের শেল্টারেই বাজারটির নিয়ন্ত্রক হলেন পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি তাইজুল চৌধুরী বাপ্পী। তবে এই ফুটের দখল নিতে মরিয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাইউল খান ও খাদা খোকন। বাজার দখল কেন্দ্র করে কয়েকদিন পরপরই এ দুগ্রæপের মধ্যে হামলা পাল্টাহামলার ঘটনা ঘটছে। যদিও ফুটপাত চাঁদাবাজির সাথে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন যুবলীগ নেতা বাপ্পী।
এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের এক নেতার নাম ভাঙিয়ে মিরপুর মডেল থানাধীন ১০ নম্বর ফলপট্টির দেড়শতাধিক দোকান নিয়ন্ত্রণ করছেন যুবলীগ নেতা পরিচয় দানকারী গাজী সুমন। দোকানভেদে দৈনিক ২শ’ থেকে ৬শ’ টাকা পর্যন্ত আদায় করে তার নিয়োগকৃত লাইনম্যানরা, যা মাসের হিসাবে দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা। গ্যালাক্সি হসপিটাল থেকে ১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত শতাধিক দোকান রয়েছে। দোকানপ্রতি দৈনিক ২শ’ থেকে ৫শ’ টাকা তোলা হয়, মাসের হিসাবে প্রায় ৯ লাখ টাকা। এই ফুটের নিয়ন্ত্রক যুবলীগ নেতা পরিচয় দানকারী গাজী সুমন ও আখের। কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পিরেরবাগ মসজিদ গলি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ দোকানের নিয়ন্ত্রকও সুমন। হকারদের কাছ থেকে টাকা তোলেন তাদের অনুসারী সাইফুল্লাহ সাইফুল, মিজান, সেন্টু ও মোরসালিন। মিরপুর-১০ নম্বর ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে থেকে স্টেডিয়ামের আশপাশ ঘিরে আড়াই শতাধিক দোকানের নিয়ন্ত্রক যুবলীগ নেতা বাপ্পী।
সূত্র জানায়, রূপনগর থানা-পুলিশের নাম ভাঙিয়ে রূপনগরের ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করছেন কাদির ওরফে হেরোইন কাদির। শিয়ালবাড়ী মোড় থেকে দোয়াড়ীপাড়া, আবাসিক মোড় থেকে মিল্কভিটা পর্যন্ত প্রায় ১৫শ দোকানের নিয়ন্ত্রক তিনি। লাইনম্যান রাজু, রোহান, সজীব ও বেবীকে দিয়ে প্রতিদিন দোকানপ্রতি ১শ’ থেকে ২শ’ টাকা করে তুলছেন এই কাদির। মিরপুরের রাইনখোলা বাজার থেকে চিড়িয়াখানা পর্যন্ত প্রায় ৩০০ দোকানের নিয়ন্ত্রক মান্নান শেখ। মিরপুর-১ থেকে টেকনিক্যাল, আনসার ক্যাম্প, টোলারবাগ এলাকার রাস্তার দুপাশে প্রায় ১১০০ দোকান থেকে নেওয়া হচ্ছে দোকানপ্রতি ২০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। নিয়ন্ত্রক হলেন সমন্ধী মনসুর ও হ্যাপী। কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে টেকনিক্যাল পর্যন্ত ২০০ দোকানের নিয়ন্ত্রকও মনসুর। মিরপুর মডেল থানাধীন ৬০ ফিট রোডের দুধার, গ্রামীণ ব্যাংকের হেড অফিস পর্যন্ত প্রায় এক হাজার দোকান থেকে দৈনিক নেওয়া হচ্ছে গড়ে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এখানকার নিয়ন্ত্রক গাজী সোহাগ। মিরপুর-১৩ নম্বর মোড় থেকে নতুন বাজার শিশু কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তার দুধারে ১০০ দোকান থেকে দৈনিক দোকানপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা তোলেন হিরো ও মোক্তার। মিরপুর-১৪ নম্বর থেকে কচুক্ষেত মোড় পর্যন্ত ৪ শতাধিক দোকান থেকে দৈনিক ভিত্তিতে দোকানপ্রতি টাকা তুলছেন কিলার আব্বাসের অনুসারী আকাশ। মিরপুর-১২ নম্বর থেকে অরজিনাল-১০ পর্যন্ত রাস্তার দুধার ও অলি-গলির প্রায় দেড় হাজার দোকান রয়েছে। দোকানপ্রতি দৈনিক ১০০ থেকে ৩০০ টাকা তুলছেন যুবলীগ নেতা বাপ্পীর অনুসারী ইকবাল, ইউসুফ, হাসান, সোহেল, জিয়া ও সাইফুল। পুরবী সিনেমা হল থেকে কালশী মোড় হয়ে লালমাটিয়া টেম্পোস্ট্যান্ড, বাউনিয়া বাঁধসহ রাস্তার দুপাশের ফুটপাতের দেড় হাজার দোকান থেকে দৈনিক ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা আদায় করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী নান্নু, ফারুক, নুরু ইসলাম, জাকির মোল্লা, মিলন ঢালী, শাহ আলম, শুক্কুর, লাভলু ও আড্ডু-গুড্ডুর অনুসারীরা।
পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহম্মেদ গণমাধ্যমকে বলেন, মিরপুর বিভাগের ৭ থানা এলাকায় প্রায়ই হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের পর আবার এসব রাস্তা ও ফুটপাত চলে যায় হকারদের দখলে। তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকায় হকারদের বিরুদ্ধে চরমপন্থা অবলম্বন করা যায় না। ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাÐ যেন না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে বলে জানান।
ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র মো. জামাল মোস্তফা গণমাধ্যমকে জানান, তিনি নিজেই কুচক্রীমহলের শিকারে পরিণত হয়েছেন। তাকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তিনি চাঁদাবাজি ও ভ‚মিদস্যুতার সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।