demo
Times24.net
ভাল রেজাল্ট জায়গায় পিতা মাতা উপহার পেল সন্তানের ঝুলন্ত লাশ
Wednesday, 05 Dec 2018 11:01 am
Times24.net

Times24.net


ফিরোজ বাবু: আমি বাবা হয়েছি। সবেমাত্র আমার সন্তানের বয়স এক বছর দেড় মাস। এই এক বছর দেড় মাসে সন্তানের প্রতি আমার যে মায়া, মমতা, স্নেহ, ভালবাসার টান সৃষ্টি হয়েছে তা আমি বলে অথবা ভাষায় প্রকাশ করতে চাইনা। আমার স্ত্রীর কথা না হয় বাদ দিলাম। নিজেরটাই বললাম। একজন সন্তানের বাবা হওয়া আর সন্তানকে কোলে পিঠে করে বড় করা কতটা দায়ীত্বের তা এই কয়েক মাসে আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি। আর যারা বছরের পর বছর ত্যাগ- তিতীক্ষা-কষ্ট সহ্য করে সন্তানকে লালন পালন করে সেই বাবা মায়েরা কত বড় দয়ালু মহানুভবের হয় তা ভাবতে গেলে শরীরের লোম শিউরে ওঠে। কারো না কারো  কারনো যদি সেই আদরের প্রিয় সন্তানের ঝুলন্ত লাশ দেখতে হয় তাহলে বাবা মায়ের কি অবস্থা হয় তা কল্পনা করা যায়। এমনি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনায় সন্তানকে হারিয়ে পাগল প্রায় মা বাবা।

গত দু এক দিনে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো পরে আমি বেশ আহত ও মর্মাহত হয়েছি। এর চেয়ে কিবা করার ক্ষমতা আছে আমার।  যাক এবার মূল ঘটনায় আসা যাক। 
অরিত্রি অধিকারী (১৬) নামের এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ইতিমধ্যে সারাদেশের মানুষের হৃদয়কে নাড়া দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও বেশ তোলপাড় শুরু হয়।

পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ ডিসেম্বর  সোমবার শান্তিনগরের নিজ বাসায় ঐ শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ভিকারুননেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্রী সে। পরিবারের দাবি, অরিত্রির বিরুদ্ধে ফাইনাল  পরিক্ষায় মোবাইলে নকল করার অভিযোগ তুলে তার বাবাকে স্কুলে ডেকে প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপাল এর সামনে বাবা ও মেয়েকে অপমান করে টিসি দেয়ার কথা জানানো হয়। তবে অরিত্রি তার বাবা মাকে জানায় তার কাছে শুধু মোবাইল পাওয়ায় এ ঘটনা। বাবা আর নিজের সেই অপমান সহ্য করতে না পারায় অরিত্রি ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেয়।

তবে কথা এখানেই শেষ নয়। কথার ভিতর অনেক কথাই থেকে যায়। যা আমাদের ভাবায়। যেহেতু কথা উঠেছে মোবাইলে নকলের কথা। তাহলে আমরা ধরে নিব এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুনগত শিক্ষা নেই। যার ফলে অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে নকলের আশ্রয় নেয়। আমরা কোন দিন এই প্রতিষ্ঠানের কাছে এমনটি আশা করিনি। আমরা জানি রাজধানীতে যে কয়েকটি স্বনামখ্যাত প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি ভিকারুননেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ। 
এই প্রতিষ্ঠানে নকলের কারনে একজন শিক্ষার্থীর করুন মৃ্ত্যু হবে তা কোনমতেই কারো কাম্য নয়। শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ শিক্ষকের হৃদয়কে কি আহত করে না? 

ফের ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে

বাবা মা অনেক আশা করে অনেক অর্থ ব্যয় করে সন্তানকে ভাল প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করায়। নিজে কষ্ট করে কিন্তু সন্তানকে কখনো তা বুঝতে দেয়না। ভাল প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করার কারন ভাল শিক্ষা ভাল রেজাল্টের আশা।  কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানে যদি ভাল রেজাল্টের জায়গায় বাসায় বসে সন্তানের ঝুলন্ত লাশ উপহার পায় তাহলে বাবা মা কি করে তা মেনে নেয়। 
শিক্ষার মান কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তা এখান থেকে সুস্পষ্ট বোঝা যায়।

বাবাকে অপমান শিক্ষকের, সইতে না পেরে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

ইতিমধ্যে সহপাঠিকে হারিয়ে ক্লাসের ফাইনাল পরীক্ষা দেয়া থেকে বিরত রয়েছে শিক্ষার্থীরা। দাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানের সামনে বিচারের আশায়।
বিবেকবুদ্ধি বিক্রি করে না দিয়ে শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীর সাথে সংযত এবং কৌশলী হত তাহলে নিশ্চয় এ ধরনের ঘটনা ঘটতো না। তবে কৌশলী হলে তো বুদ্ধি লাগে। যার অভাব হয়তো অনেক ছিল।
আমরা অবিভাবকেরা সকল শিক্ষকদের প্রতি বিনীত অনুরোধের মাধ্যমে জানাই, দয়া করে আপনারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুনগত শিক্ষার মান ফিরিয়ে এনে অভিশপ্ত নকলকে বিদায় জানান। তা না হলে ভবিষ্যৎে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আর যে সকল শিক্ষকের সঠিক শিক্ষা দানের অভাবে শিক্ষার্থীরা বুঝতে না পেরে নকল করতে বাধ্য হয় তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেন।

লেখক: ফিরোজ বাবু, লেখক ও সাংবাদিক।