demo
Times24.net
অবশেষে পদ হারালেন রুহুল আমিন হাওলাদার
Tuesday, 04 Dec 2018 00:50 am
Times24.net

Times24.net


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: বেপরোয়া মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে অবশেষে পদ হারাতে হল জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে। মনোনয়ন বাণিজ্য ছাড়াও হাওলাদারের আমলনামায় অনিয়ম, দুর্র্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগের পাল্লা ক্রমেই ভারি হচ্ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের প্রবল ক্ষোভ-অসন্তোষের মুখে সোমবার তাকে পদ ছাড়তে হল। মহাসচিব হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে। এর আগে তিনি পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে ছিলেন। জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারা মোতাবেক এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে ২০১৬ সালে জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলুর পরিবর্তে অনেক নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে রুহুল আমিন হাওলাদার মহাসচিবের দায়িত্ব পান। এদিকে মহাসচিবের দায়িত্ব নিয়েই বনানীর পার্টি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মসিউর রহমান রাঙ্গা।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, দলের মধ্যে কেউ মনোনয়ন বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এজন্য প্রয়োজনে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হবে। এ অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘শুধু সাবেক মহাসচিবই নন, মনোনয়ন বাণিজ্যের সঙ্গে আরও কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে রাঙ্গা আরও বলেন, জাতীয় পার্টির মনোনয়ন কেনার জন্য টাকা দিয়েছেন এমন ভুক্তভোগী পাওয়া গেলে, কিংবা এ ধরনের কারও অভিযোগ থাকলে জাতীয় পার্টির দায়িত্বশীল পর্যায়ে জানান। মনোনয়ন বাণিজ্যের ঘটনা তদন্তে প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্র জানায়, মূলত মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে মহাসচিবের পদ থেকে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন নিয়ে দরকষাকষির সময় জাতীয় পার্টিতে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে খোদ দলীয় নেতাদের মধ্য থেকেই। দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কয়েকজন প্রকাশ্যে এ সংক্রান্ত অভিযোগ আনেন এবং তাদের ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রুহুল আমিন হাওলাদার।
জাতীয় পার্টির একজন সিনিয়র নেতা গণমাধ্যমকে বলেছেন, মূলত অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং মনোনয়ন বাণিজ্যসহ নানা কারণে রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম অভিযোগ ছিল মনোনয়ন বাণিজ্য। এছাড়া মহাজোটের সঙ্গে আসন বণ্টনে দরকষাকষিও রয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ।
মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগও বেশ পুরনো। তবে এবারই প্রথম মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খোলেন। তারা এজন্য বনানীর কার্যালয়ে হাওলাদারকে অবরুদ্ধও করে রাখেন। কার্যালয় ভাঙচুর করেন। সেখানে হাওলাদারপন্থীদের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। জাতীয় পার্টির বহু পোড় খাওয়া নেতা মনোনয়ন না পেলেও নিজের ও স্ত্রীর জন্য মহাজোট থেকে দুই আসন বাগিয়ে নেন রুহুল আমিন হাওলাদার।
অভিযোগ আছে, রুহুল আমিন হাওলাদারের নেতৃত্বে দলের একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের ব্যাপক অভিযোগ দলকে এবার বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়। টাকার বিনিময়ে দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত বিত্তশালীদের দলে ভিড়িয়ে মনোনয়ন দেয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে জাতীয় পার্টির তৃণমূল নেতাকর্মীরা মহাসচিবের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন। শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছাড়াও হাওলাদারের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল পর্যন্ত হয়। এসব ঘটনায় জাতীয় পার্টির অবশিষ্ট ইমেজ হুমকির মুখে পড়ে।