demo
Times24.net
ইজতেমায় যোগ না দিয়েই দিল্লিতে ফিরতে হচ্ছে মাওলানা সাদকে
Thursday, 11 Jan 2018 20:03 pm
Times24.net

Times24.net


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভি বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দেবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি কাকরাইল মসজিদ থেকেই নিজ দেশে ফিরে যাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।দিল্লির এই মাওলানাকে নিয়ে তাবলিগ জামাতের মধ্যে বিরোধের প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার বিকালে সচিবালয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে মন্ত্রী এ কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাওলানা সাদ সাহেব ইজতেমায় যাবেন না। সুবিধাজনক সময়ে তিনি দেশ থেকে চলে যাবেন। তিনি কাকরাইল মসজিদেই আপাতত থাকবেন।’‘কাল থেকে যথারীতি টঙ্গীতে ইজতেমা শুরু হবে। তবে যাকে নিয়ে বিতর্ক এবং সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে সেই মাওলানা সাদ ইজতেমায় যাবেন না।’
মাওলানা সাদ ২০১৪ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে এবার তার ইজতেমায় যোগ দেয়া নিয়েই বিরোধিতায় নামে তাবলিগ জামাতের একটি পক্ষ।মাওলানা সাদ এবার মোনাজাত পরিচালনা না করলে কে করবেন?- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা তাবলিগ জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ঠিক করবেন। এটা নিয়ে আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।’ভারতীয় উপমহাদেশের তাবলিগ জামাতের মূল কেন্দ্র দিল্লিতে। কেন্দ্রীয় ওই পর্ষদকে বলা হয় নেজামউদ্দিন, যার ১৩ জন শুরা সদস্যের মাধ্যমেই উপমহাদেশে তাবলিগ জামাত পরিচালিত হয়। এই পর্ষদের সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভি সম্প্রতি নিজেকে তাবলিগের আমির হিসেবে ঘোষণা দেন। এতে তাকে নিয়ে বাংলাদেশে আসা নিয়ে বাংলাদেশে তাবলিগের দায়িত্বশীলদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।
বিক্ষোভকারীরা অবশ্য বলছেন, মাওলানা সাদ ইসলাম নিয়ে নানা মন্তব্য করে বিতর্কিত হয়েছেন। এ কারণে তাকে ইজতেমায় যেতে দেবেন না তারা।মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আসা ঠেকাতে তার বিরোধীতা বুধবার দিনভর বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে রেখে নজিরবিহীন ভোগান্তির কারণ হয়। তবে সাদকে বিশেষ ব্যবস্থায় কাকরাইল মসজিদে নিয়ে আসা হয়। ইজতেমার ব্যবস্থাপনা এই মসজিদ থেকেই করা হয়।বৃহস্পতিবারও সাদবিরোধীদের বিক্ষোল সকাল থেকে চলছিল। তবে কাকরাইল মসজিদ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে পুলিশ সেখানে বিক্ষোভকারীদেরকে ঘেঁষতে দেয়নি।

এই পরিস্থিতিতে বেলা তিনটার আগে আগে নিজ মন্ত্রণালয়ে তাবলিগের দুই পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আড়াই ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিকাল পাঁচটার পর বৈঠক থেকে বের হয়ে এসে কারওয়ানবাজার মসজিদের খতিব আড়াই ঘন্টার রুদ্ধদার বৈঠকে সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে। এতে উভয় পক্ষই সিদ্ধান্তে খুশি।’‘সুন্দর সিদ্ধান্ত হয়েছে’জানালেও বিস্তারিত কিছু না বলে মাজহারুল বলেন, ‘সিদ্ধান্তের কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলবেন।’মন্ত্রী বলেন, ‘তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থান ভারতের নিজামুদ্দীন মারকাজে কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সেই বিতর্কের প্রভাব আমাদের দেশেও পড়েছে। গত বছর ইজতেমায়ও এটা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। সেটা অল্পতেই শেষ হয়েছে। কিন্তু এবার এই বিতর্ক বেশ জোরালোভাবেই উঠেছে। আমরা উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদেরেই নিয়েই বসেছি। সবার কথা শুনেছি। সবার মতামত নিয়েই আমরা আজকের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উভয়পক্ষই আমাদের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।’বাংলাদেশ তাবলিগের ১১ সদস্যের শুরা কমিটির দুজন বাদে সবাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর মাওলানা সাদের বিষয়ে ‘সর্বসম্মতভাবে’ ওই সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান মন্ত্রী। সভায় তাবলিগ জামাতের উপদেষ্টা পরিষদের পাঁচজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারাসিল আরাবিয়ার নেতারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরাও।