demo
Times24.net
ত্রিপুরায় এক টুকরো বাংলাদেশ!
Sunday, 10 Dec 2017 01:06 am
Times24.net

Times24.net


টাইমস ২৪ ডটনেট, ত্রিপুরা থেকে ফিরে: বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমার ‘চোত্তাখোলা’ গ্রামে ছিল মুক্তিযুদ্ধের ২ নং সেক্টরের ট্রেনিং ক্যাম্প। মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়েছিল এখানে। বিলোনিয়ার সেই ঐতিহাসিক সময়ের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে সচেষ্ট হয়েছিলেন বিলোনিয়ার এমএলএ বাবু সুধন দাস এবং ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। যার ফলাফল হিসেবে গড়ে ওঠে ভারত-বাংলা মুক্তি মৈত্রী পার্ক। আগামী ডিসেম্বরে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দেশের বাইরে দেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরী এই স্মারকস্থান। 
আসছে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে ঘুরে আসতে পারেন জায়গাটি। মুক্তিযুদ্ধে পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার নামে খ্যাত আখাউড়া সীমান্তের পোর্টটি বেছে নিতে হবে আপনাকে এজন্য। সাধারণ ভিসার মতোই ভিসা নেবেন এবং আখাউড়া পোর্ট নির্বাচন করবেন। আপনার যদি ভিসা আগেই থেকে থাকে এবং ভিন্ন পোর্ট নির্বাচিত করা থাকে তাহলে পোর্ট পরিবর্তন করে নিতে হবে। 
চোত্তাখোলার অবস্থান ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ১৩০ কিলোমিটার এবং আমাদের ফেনী সীমান্তের ওপারে বিলোনিয়া শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে। অপূর্ব সুন্দর পাহাড় ঘেরা এই অঞ্চলটি একাত্তরে ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল। প্রশিক্ষণ তো এখানে হতোই, পাশাপাশি যুদ্ধে শ্রান্ত যোদ্ধারা এখানে চলে আসতেন আবার এখান থেকেই ঢুকে যেতেন দেশের অভ্যন্তরে।
যুদ্ধকে কেন্দ্র করে প্রতিটি বিষয় আমাদের রক্তক্ষয়ী ইতিহাসকে সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেই কাজেই সহায়তা করলেন ত্রিপুরা সরকার। এখানে গড়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিফলিত করে এমন ভাস্কর্য। তৈরি করা হয়েছে যাদুঘর। এছাড়া আছে ১৯৭১ গণহত্যা জাদুঘর মঞ্চ। 
স্থপত্যগুলো ঠিক সেই সময়ের প্রতিচ্ছবি। কোনো ভাস্কর্যে দেখা যাচ্ছে যুদ্ধরত সৈনিককে। কোনো ভাস্কর্যে যুদ্ধাহত সোইনিককে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে চিকিৎসার জন্য। যুদ্ধের সময়ে তৈরি বাংকারগুলো তেমনি আছে এখনো। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সমাধিও দেখতে পাবেন এখানে। 
একাত্তরে তৎকালীন ফেনীর আওয়ামীলীগ নেতা খাজা আহম্মেদ চোত্তাখোলায় ঘাটি গড়ে তুলেছিলেন। চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আগত শরণার্থীরা আশ্রয় নিতেন এই ঘাটিতে। এটিই ছিল মুক্তিবাহিনীর প্রথম রিক্রুট সেন্টার। এখান থেকে প্রশিক্ষিত হয়ে জোয়ান ঝাঁপিয়ে পড়তে শুরু করে যুদ্ধে। চোত্তাখোলা থেকেই পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল ফেনী, পশুরাম, ছাগলনাইয়া, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চল। 

Chottakhola 1481485829
২০০৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্মৃতি রক্ষা পার্কটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়। ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন সেই সময়কালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মণি। 
দারুণ ব্যাপার হলো জায়গাটি মোটেও কাঠখোট্টা যাদুঘর নয়। ২০ হেক্টর জায়গার পুরোটাই ঘন বন। বনের মাঝে আছে ৭টি টিলা আর একটি প্রাকৃতিক লেক। এখানে যাওয়ার পথটিও খুব সুন্দর। ত্রিপুরা একটি শুদ্ধ আবহাওয়ার রাজ্য। এখানে প্রকৃতি এতই নির্মল যে আপনি সহজেই ফুরফুরে অনুভব করবেন। বাতাসে কোনো দূষণ নেই। কোথাও কোনো কৃত্তিমতার ছাপ নেই। আদিম একটি দেশ। 
বাসে বা ট্রেনে প্রথমে আপনাকে যেতে হবে আখাউড়া। আখাউড়া স্থলবন্দরে প্রশাসনিক কাজ শেষ করুন। আগেই সোনালী ব্যাংকে ভ্রমণ কর ৫০০ টাকা জমা দিয়ে দিন। তাহলে স্থলবন্দরে কাজ দ্রুত হবে। এখান থেকে প্রথমে চলে যান আগরতলা। আগরতলা থেকে বাসে চোত্তাখোলা।