demo
Times24.net
এসপি হারুনের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে পুলিশ
Thursday, 03 Nov 2016 11:41 am
Times24.net

Times24.net


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর  রশিদের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তদন্তে নেমেছে পুলিশ। বিশিষ্ট শিল্পপতি আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ রাসেলের কাছে এসপি হারুন এ চাঁদা দাবি করেন।পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সে এ বিষয়ে অভিযোগ জানালে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। সে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুবুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়।অভিযোগকারী শওকত আজিজ পুলিশের কাছে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
 
গত ৫ মে হারুনের বিরুদ্ধে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
 
পুলিশের কাছে দেয়া অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ৩ মে সন্ধ্যায় এসআই আজহারুল ইসলামের মাধ্যমে এসপি হারুন আম্বার ডেনিমের স্টোর ম্যানেজার ইয়াহইয়া বাবুর কাছে প্রথমে মোবাইলে এ চাঁদা দাবি করেন।
 
সে সময় আজহার বলেন, “এসপি হারুন সাহেব এইমাত্র আমাকে ফোন করেছেন। উনি বলেছেন, আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যানের লোকজনকে ডাকাও। আমার টাকা লাগবে। তাড়াতাড়ি ৫ কোটি টাকা পাঠাও।”
 
অভিযোগকারী সূত্রে জানা যায়, এর আগেও এসপি হারুণ দুই দফা এ চাঁদা দাবি করেন। অভিযোগপত্রে শওকত আজিজ রাসেল উল্লেখ করেন, “এসপি হারুন আমাকে গুলশান ক্লাবের লামডা হলে ও গুলশানের কাবাব ফ্যাক্টরি রেস্তোরাঁয় ডেকে নিয়ে দুইবার আমার কাছে চাঁদা দাবি করেন। ওই টাকা ডলারে আমেরিকায় এসপি হারুনের নির্ধারিত ঠিকানায় পাঠাতে বলেন। টাকা না দিলে আমার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আম্বার ডেনিম ধ্বংস করে দেয়া হবে বলে হুমকি দেন।”
 
অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমার কোম্পানি আম্বার ডেনিম ফ্যাক্টরির ৪৫জন কর্মীকে গভীর রাতে গাজীপুর থানায় ধরে নিয়ে যান। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলে পাঠান এসপি হারুন।”
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদা না দেয়ায় আম্বার গ্রুপের ওপর অসন্তুষ্ট হারুন। আম্বার গ্রুপের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে নানা সময়ে ফোনে ও থানায় ধরে নিয়ে গিয়ে চাঁদার জন্য হুমকি দেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।
 
এ বিষয়ে শওকত আজিজ রাসেল অভিযোগে উল্লেখ করেন, “এসপি হারুনের ক্রমাগত হুমকি, চাঁদাবাজি আর ভয়-ভীতি প্রদর্শনের কারণে আমার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনটি হলে শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত কয়েক হাজার কর্মী ও কর্মকর্তা বেকার হয়ে পড়বে।”
 
এসপি হারুনের এসব ‘অপকর্ম’ বন্ধে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে আবেদন করেন তিনি। শওকত আজিজ রাসেল জানান, প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বিঘ্নে পরিচালনা করে দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখার জন্য এসপি হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
 
এ অভিযোগ প্রসঙ্গে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমি তো তদন্ত করছি। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।”