demo
Times24.net
মিথ্যে সার্ভে রিপোর্টে বেসিক ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ সার্ভেয়ার গ্রেফতার
Wednesday, 10 Aug 2016 19:50 pm
Times24.net

Times24.net


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: রাজধানীর ৪৫ বিজয় নগরে সৈয়দ ট্রেডার্স এর ১৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকার সম্পত্তিকে মিথ্যে সার্ভে রিপোর্টের মাধ্যমে বেসিক ব্যাংক থেকে প্রায় ৫৮ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ওই সার্ভেয়ার  মো: শাহজাহান আলীকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে তদন্ত কর্মকর্তা উপ-সহকারী পরিচালক  আ. স. ম. শাহ আলম পুলিশের সহযোগিতায় মতিঝিল জীবন বীমা ভবনের চতুর্থ তলা রূপসা সার্ভেয়ার্স অফিস থেকে আসামি শাহজাহান আলীকে গ্রেফতার করেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য সাংবাদিকদের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আসামি শাহজাহান আলী রূপসা সার্ভেয়ার্স এর  চীফ সার্ভেয়ার এবং  ম্যানেজিং পার্টনার। তার রূপসা সার্ভেয়ার্স প্রতিষ্ঠান সৈয়দ ট্রেডাসের ১৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকার  সম্পত্তিকে ৩৬.৭৫ কোটি টাকা দেখিয়ে মিথ্যা সার্ভে রিপোর্ট প্রদান করে। পরে বেসিক ব্যাংক শান্তিনগর শাখার কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ৪০ কোটি লোন মঞ্জুর করে উত্তোলন করে। ওই লোন আর পরিশোধ না করায় বর্তমানে সূদাসলে ৫৭ কোটি৭২ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪ টাকা হয়েছে।
এই অভিযোগে গত বছর ২৩ সেপ্টেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে পলটন থানায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা নম্বর ৫১ দায়ের করে। ওই মামলার ৭ নম্বর আসামি হলেন মো. শাহজাহান আলী। তার পিতার নাম-মরহুম সোহরাব আলী, স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম ও পোস্ট-ইসলামকাঠি, থানা-তালা, জেলা-সাতক্ষীরা।
এদিকে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরো জানান, জীবন বীমা কর্পোরেশনের কিশোরগঞ্জ জেলার সাবেক ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার-২ মো: নূরুল ইসলাম ভুঞাকে  চেক জালিয়াতির মাধ্যমে  ৫ লাখ ৯০ হাজার ৮৯৭ টাকা উত্তোলন পূর্বক আত্মসাতের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।  ২০০৩ সালের জানুয়ায়ী থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত  চেক জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক  ২০০৯ সালে ৯ জুলাই কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা নম্বর-০৭ দায়ের করে। আসামি মো: নূরুল ইসলাম ভুঞার পিতার নাম  মো: মিরাশ উদ্দিন ভুঞা। তার স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- নোয়াপাড়া, পোস্ট-মদন
 জেলা- নেত্রকোনা। আসামি নরুল ইসলাম ভুঞা কিশোরগঞ্জ-এ কর্মরত থাকাকালে তার অধীনস্থ সকল এজেন্ট, ডিও এবং ডিএমদের পাওনার সকল চেক সকল তিনি নিজে ইস্যূ করতেন। এই সুযোগে তিনি ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্তÍ বেশ কিছু ডেভেলপমেন্ট অফিসার (ডিও) কর্মরত না থাকা সত্ত্বেও তাদের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া বেতন-ভাতা ও বোনাস বাবদ তাদের নামে বিল তৈরী করে নিজে বেয়ারার চেকের মাধ্যমে জীবন বীমা কর্পোরেশন এর ব্যাংক একাউন্ট  থেকে ওই অর্থ উত্তোলন করেন।
দুদকের সমন্বিত ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম-এর নেতৃত্বে সহকারী পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা  মো: মাসুদুর রহমান আজ বুধবার আসামিকে ময়মনসিংহের  খাগডহর বাজার থেকে  গ্রেফতার করেন।
 
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, আজ বুধবার চট্টগ্রাম জেলার আগ্রাবাদ এলাকার জালিয়াত ও প্রতারক মো: গোলাম ফারুককে  সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লি: খাতুনগঞ্জ শাখার ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৯৬ হাজার ৫০৪ টাকা আত্মসাতের মামলায় গ্রেফতার করেছে দুদক।
 তিনি জানান, দুদকের সমন্বিত জেলা চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা  রইস উদ্দিন আহম্মেদ আসামিকে পুলিশের  সহযোগিতায় আগ্রাবাদ থেকে গ্র্রেফতার করেছেন।
তিনি জানান, আসামি মো: গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে ১২ আগস্ট চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি (সিএমপি) থানা মামলা নং ১২ দায়ের করে দুদক। তার স্থায়ী ঠিকানা: ফরিদারপাড়া, কাশেম কন্ট্রাক্টরের বাড়ী, থানা-চান্দগাঁও,চট্টগ্রাম।     
আসামির বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ মৌজার ২৫ শতাংশ জমি   প্রথমে লে: কর্ণেল (অব:) ডা: মো: ইমসাইল হোসেন ও তার স্ত্রী লে: কর্ণেল (অব:) ডা: রুনা বেগমের কাছে বিক্রি করে। পরবর্তীতে পাঁচলাইশ মৌজার ওই ২৫ শতাংশ জমি পুনরায় প্রতারণার মাধ্যমে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লি: খাতুনগঞ্জ শাখায় বন্ধক রাখেন। এমনকি ওই ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজসে  আসামি ৫০ লক্ষ টাকা লোন নিয়েছেন। কিন্তু লোন আর পরিশোধ না করায় বর্তমানে সুদাসলে ৩ কোটি ৮৮লাখ ৯৬ হাজার ৫০৪ টাকা হয়েছে।