সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯
Friday, 19 Jul, 2019 12:13:49 am
No icon No icon No icon

দু’দিন বাদেই একুশে জুলাই, কড়া নিরাপত্তার চাদরে মহানগরী কলকাতা

//

দু’দিন বাদেই একুশে জুলাই, কড়া নিরাপত্তার চাদরে মহানগরী কলকাতা


টাইমস ২৪ ডটনেট, কলকাতা: আর মাত্র দু’দিন পরেই একুশে জুলাই শহিদ দিবস পালন করবে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতি বছরের মতো ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে এবারও বাঁধা হচ্ছে একুশে জুলাই সভামঞ্চ। দলীয় স্তরে তৃণমূলের অন্যতম বড় এই সভার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্বে। শাসক দলের এই শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান কড়া নিরাপত্তায় পার করতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দিয়েছে কলকাতা পুলিশও। দু’দিন আগে থেকেই মহানগরী কলকাতাকে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলতে চলেছে লালবাজার। একুশে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে এক দিন আগে থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মী সমর্থকরা আসতে শুরু করেন কলকাতায়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলীয় কর্মীরা কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ক্যাম্প বানিয়ে রাত কাটান। সেই কথা মাথায় রেখে সভার একদিন আগে থেকেই নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে শহরে। আগের দিন থেকেই চব্বিশ ঘণ্টা মোতায়েন থাকবে পুলিশ কর্মীরা। প্রসঙ্গত, এবার একুশে জুলাই রবিবার হওয়াতে খানিক স্বস্তি পেয়েছে শহরবাসী। সে দিন শহরের স্কুল, কলেজ, অফিস বন্ধ থাকায় অন্যবারের তুলনায় এবার রাস্তায় যানজট তুলনামূলক কম হবে বলে আশাবাদী কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। তাই সে দিন রাস্তায় বেরিয়ে অন্যবারের তুলনায় এবার কম নাজেহাল হতে হবে শহরবাসীকে। তবে রবিবার বলে নিরাপত্তায় কোনরকম আপস করতে নারাজ লালবাজার।
পুলিশ সূত্রে খবর, এবার একুশে জুলাই নিরাপত্তায় শহরজুড়ে মোতায়েন থাকবে প্রায় পাঁচ হাজার পুলিশকর্মী। সে দিন রাস্তায় থাকবেন কলকাতা পুলিশের প্রায় সাত থেকে আট জন ডেপুটি কমিশনার মর্যাদার আইপিএস অফিসার। শহিদ দিবসের নিরাপত্তা নিয়ে ইতিমধ্যেই লালবাজারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা। সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন শহরের সব কটি ডিভিশনের ডিসি, এডিশনাল কমিশনার, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিকেরা। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেই বিভিন্ন ডিভিশনের ডিসিদের তাঁদের নিজেদের এলাকা ও দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে লালবাজারের তরফে। সভামঞ্চের চারিদিকে একাধিক জোন তৈরি করে, প্রত্যেক জোনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একজন করে ডিসিকে।
লালবাজার সূত্রে খবর, সভার দিন যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হবে কিউআরটি বা কুইক রেসপন্স টিম। কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলেই মাঠে নামানো হবে এই বাহিনীকে। এছাড়াও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে কলকাতা পুলিশের ডিএমজি বা বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনীকে। সভাস্থলের আসেপাশে রাখা থাকবে একাধিক দমকল ইঞ্জিনও। পাশাপাশি সভা মঞ্চকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দিকে অস্থায়ী ওয়াচ টাওয়ার বানাচ্ছে পুলিশ। ২১ জুলাই হাজারো মানুষের ভিড়ে গোটা এলাকা কড়া নজরে রাখতে কাজে লাগানো হবে সেই সব ওয়াচ টাওয়ারগুলি। এছাড়াও সভাস্থলের চারিদিকে তৈরি করা হচ্ছে পুলিশি সহযোগিতা কেন্দ্র। বাইরে থেকে আসা যে কোনও কেউ কোন রকম সমস্যায় পড়লে যোগাযোগ করতে পারবেন সেখানে। মেট্রোর যাত্রীদের কথা ভেবে শহরের মোট ১০টি মেট্রো স্টেশনের গেটের বাইরেও থাকবে এই পুলিশি সহায়তা কেন্দ্র। প্রতি বছরই সভায় যোগ দিতে এসে প্রবল গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন বহু মানুষ। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তাই একাধিক এম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখছে কলকাতা পুলিশ। কোথাও কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশের নিজস্ব এম্বল্যান্সেই দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যাবে হাসপাতালে।
২১শে জুলাই সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে দলীয় কর্মীরা আসতে শুরু করবেন। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও বাস, ট্রাকে করে লোক আসতে শুরু করবেন। লালবাজার সূত্রে খবর, হাওড়া, শিয়ালদহ, শ্যামবাজার, গিরিশ পার্ক, হেঁদুয়া, পিয়ারলেসের দিক থেকে কয়েকটি বড় মাপের মিছিল আসবে ধর্মতলায়। তাই এই রাস্তাগুলিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বৃহস্পতিবার কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল জাভেদ শামিম বলেন,”কলকাতা শহর এবং বিশেষ করে শহরের বাইরে থেকে আসা মানুষজনের যাতে কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন না হতে হয় তার জন্য সব রকম সম্ভাব্য ব্যবস্থা কলকাতা পুলিশ করবে। আমাদের লক্ষ্য সেদিন সভায় যোগ দিতে আসা এবং নিজেদের কাজে রাস্তায় বেরনো উভয়ই যাতে নিরাপদে নিজেদের গন্তব্য থেকে বাড়ি ফিরতে পারে।”

সূত্র: মহানগর নিউজ।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK