শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮
Tuesday, 10 Jul, 2018 12:00:34 pm
No icon No icon No icon

ভূতোমপেঁচা কথন


ভূতোমপেঁচা কথন


মো: জাহাঙ্গীর হোসেন: কোথা থেকে এক ভূতোম পেঁচা এসে হাজির অফিসে। প্রতিদিন সকালেই ফ্যাক্টরীতে এসে দেখি পাখিটার বিষ্টা ও ময়লায় ফ্যাক্টরীর অনেক পন্যই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ফ্যাক্টরীর ছাঁদও অনেক উপরে, ওর বাসাটাও ভাঙ্গতে মন সায় দিচ্ছিলনা কোনভাবেই, বড় ধরনের একটা সমস্যাতেই পড়ে গেলাম। আমার শ্রমিকরা আমার কষ্টগুলো উপলব্ধি করতে পারল। যাহোক ১৩-০৭-১৮ ইং তারিখে মহা আনন্দে একটা খাঁচা কিনে ভূতুম পেঁচাটিকে আমায় উপহার দিল। পেঁচাটি দেখে আমারও খুব আনন্দ হল, বাসায় নিলে, আমার স্ত্রীও খুব আনন্দ পাবে – না , না, বনের পাখিরেতো আমি, মনের আনন্দে ঘরে আটকে রাখতে পারব না। ছোট বেলায়ও অনেক পাখি কিনে এনে, আদর যত্ন করে খাওয়াতাম, দু’দিন পরই, আবার মুক্ত আকাশে ছেড়ে দিতাম, খুব আনন্দ হত। একবার তো এক চড়ুই পাখি বাসার ফ্যানের সাথে আঘাত পেয়ে ডানা ভেঙ্গে গিয়েছিল, আমরা ভাইবোনরা মিলে ওর ডানাতে হলুদ মেখে অনেকদিন দেখভাল করে, সুস্থ্য করে ছেড়ে দিয়েছিলাম। ও যখন চলে যায়, আমাদের অনেক কষ্ট লেগেছিল, ভালও লেগেছিল – ভালবাসা, কেমন ভালবাসা, কেন যে কষ্ট হয়, আবার ভীষন ভালও লাগে, যখন দেখি, অন্যে ভালো আছে। যাহোক ভূতোম পেঁচাকে খাঁচাসহ ঢাকা উত্তরা পাঠিয়ে দিলাম, যাতে সে আর এ এলাকায় ফিরে না আসতে পারে, সে আর ফিরে আসেনি, খুজেও পায়নি, হয়ওতবা সে তার সাথীকেও আর ফিরে পাবে না – বাস্তবতা ভীষন কঠিন, ভালবাসার মন থাকলেও, প্রতিটি মানুষকেই জীবন, জীবিকার জন্য কঠিন হতে হয়, আমাকেও হতে হল, পাখিটার কাছে দুঃখিত – ভাল থাক পাখি, সুখে থাক।

ছোট বেলা থেকেই কেন জানি, পাথি আমার ভীষন পছন্দের ছিল, ছোট বেলা খুব মিস করি, সেই দিনগুলোতে কেমন চুপি, চুপি পাখি দেখতাম, টুনটুনি পাখি, ঘু ঘু, দোয়েল, টিয়া, ময়না ডাহুক, বাবুই আরও কত পাখি। আমি রাস্তার চারপাশে যখনই কোন ঘু ঘু পাখির ডাক শুনতাম, তখনই ওটার পিছু নিয়ে নিয়ে ওর বাসা খুজতাম, কি সুন্দর খেজুর গাছের ডালের, ফাঁকে, গোল মোড়ানো বাসা, চারটা ডিম দিয়েছে, গাছের ডালে উঠে ডিমের পাশে চাল দিয়ে আসতাম, মা পাখিটার জন্য, কয়েকদিন পরপর বাচ্চা কত বড় হত, লক্ষ্য করতাম, কি সুন্দর ভাললাগা, কি সুন্দর শৈশব – নদীর ধারের মাটির গর্তে, জোট শালীকের বাসা, মনভরে দেখতাম ও উপভোগ করতাম। একবার হল কি টুনটুনির বাসা লক্ষ্য করে এগিয়ে গেলাম, দুইটা ডুমুর পাতা কি সুন্দর বুননে জোড়া লাগিয়ে বাসা করেছে, ভিতরে কি সুন্দর সাদা ঝকঝকে তুলোর গোল বিছানা, দুই পাতার ফাঁক দিয়ে যেই পাখিটা বাসায় ঢুকেছে, পাতা সহকারে টুনটুনিকে ধরে ফেলেইতো চিৎকার, বহুবার হাতের ফাঁক দিয়ে পালিয়েছ, এবার – ওমা টুনটুনিতো নড়ে না, উঠেও দাড়ায় না, মরেই গিয়েছিল পাখিটা-হাতের চাপ খেয়ে, আমরা বন্ধুরা অনেক কান্না করেছিলাম, পরে আধাকেজি লবন দিয়ে দাফন করেছিলাম, জানিনা স্রষ্টা আমাকে মাফ করেছেন কিনা (ছোট বেলায়, আমরা বাচ্চারা বলতাম, কোন পাখি বা বিড়াল কোন কারনে তোমার কারনে মরে গেলে, কবরে লবন দিলে নাকি গোনা মাফ হয়ে যায় – ছোটবেলা বলে কথা)। আহা! আবার যদি ফিরে পাওয়া যেত ছোটবেলা, যা হারায় তা আর পাওয়া যায় না, এটাই বাস্তবতা।

মনের আনন্দে, আমরা অনেকেই পাখিকে বাসায় আটকে রাখি , যা মোটেও কাম্য নয়। ক্ষনিকের এ আনন্দ যে কত বড় কষ্টের কত বড় কঠিন কাজ, যা আমরা বুঝতে পারিনা। যার যতটুকু স্বাধীনতা, অতটুকু তাকে দাও – এখানেই শান্তি, এখানেই বেঁচে থাকার আনন্দ। প্রত্যেকটা মানুষকেই স্বাধীনভাবে বাঁচতে দিতে হবে, মুক্ত আকাশ দেখতে দিতে হবে, আর পশুপাখির বেলায়তো এটা অপরিহার্য, নিজের আনন্দের জন্য ওকে কষ্ট দেওয়া যাবে না, বন্যেরাতো বনেই সুন্দর, এ সুন্দর হরন করার অধিকার স্রষ্টা আমাদের দেননি, সুতরাং বনের পাখিকে আমরা খাঁচায় আর বন্দি করব না, কাউকে বন্দি করতে দিব না – ভাল থাক না পৃথিবীর সকল জীব-জন্তু, মানুষ ও প্রানীকূল – এখানেই যে বেঁচে থাকার সার্থকতা । “বড় ভালবাসি মা, বাবা, ভাইবোন, আত্মীয় পরিজনসহ বিশ্বের সকল শান্তিকামী মানুষকে, বড় ভালবাসি প্রিয় এই জন্মভূমি বাংলাদেশকে।”

লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, ঢাকা।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK