শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Tuesday, 20 Aug, 2019 08:18:15 pm
No icon No icon No icon

২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় আহত সাংবাদিক টিটু অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছেন

//

২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় আহত সাংবাদিক  টিটু অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছেন

টাইমস ২৪ ডটেনট : রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গত ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম টিটু অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছেন। মৃত্যু-রক্তস্রোতের সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। বর্তমানে তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। তার একটি পায়ে এখনো গ্রেনের স্পিøন্টার রয়েছে। সাংবাদিক টিটু দৈনিক জনতা অফিসে এসে জানান, আমার সুন্দর জীবনটাই হারিয়ে গেছে। মৃত্যু-রক্তস্রোতের সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি আজও আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। পঙ্গুত্বের মতো আমার জীবন অনেক কষ্টের যাচ্ছে। কী যে ভয়াবহ- সে কথা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ অনুমানও করতে পারে না। গ্রেনেডের ঘাতক স্পিøন্টারের সঙ্গেই আমার নিত্য বসবাস। বিভীষিকাময় সেই ভয়াল দিনের কথা মনে হলে এখনও আঁতকে উঠি। তখন জীবনযন্ত্রণা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আরও শক্ত করে। দুই পা, পেট-সর্বাঙ্গে বিঁধে ছিল অসংখ্য স্পিøন্টার। শরীরের যেখানেই হাত দিই সেখানেই গ্রেনেডের স্পিøন্টার। মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করেই চলছে আমার নিত্যজীবন।
গতকাল মঙ্গলবার দৈনিক জনতা’র কাছে এভাবেই আবেগজড়িত কণ্ঠে ১৫ বছর ধরে পায়ে বিঁধে থাকা ২১ আগস্টের গ্রেনেডের স্পিøন্টারের তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার কথা জানালেন সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম টিটু। তিনি ফটো সাংবাদিক হিসাবে কাজ করেছেন দৈনিক লাল সালাম, দৈনিক নওরোজ ও খবরপত্র পত্রিকায়। 

২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা: আহত সাংবাদিক  টিটু অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছেন
হিংস্র শ্বাপদের ভয়ঙ্কর ছোবল থেকে প্রাণটা বাঁচলেও মরণঘাতী গ্রেনেডের স্পিøন্টারের যন্ত্রণাদগ্ধ অভিশাপ নিয়েই চলছে এখন তার জীবন। দীর্ঘদিন ক্র্যাচই ছিল তার একমাত্র অবলম্বন। বর্তমানে ক্র্যাচ ছাড়া চলাচল করলেও পায়ে অনেক ব্যাথা লাগে। তারপরেও জীবনের তাগিদে চলাচল করতে হচ্ছে। সাংবাদিক টিটু চোখে মুখে ২১ আগস্টের ঘাতকদের প্রতি তীব্র ঘৃণা-ধিক্কার স্পষ্ট। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারের রায়ে সন্তুষ্ট না হলেও হামলার মূল নায়কসহ ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানালেন দৃঢ়কণ্ঠেই।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ এই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে অকুতোভয় নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত এবং পাঁচশ’রও বেশি নেতাকর্মী আহত হন। এই নারকীয় বীভৎস হামলার ঘটনার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও বিচারের রায় কার্যকর হয়নি, শান্তি পায়নি নরপিশাচ ঘাতকরা।
১৫ বছর আগে ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলায় আহত অধিকাংশ নেতাকর্মীর অনুভূতি প্রায় একই রকম। সময়ের সঙ্গে কষ্টের তীব্রতা এতটুকুও কমেনি তাদের। এই ভয়াবহ রাজনৈতিক জিঘাংসার শিকার অনেকেই আজ পঙ্গু। কেউ চলৎশক্তিহীন। কেউ হারিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি। অনেকে প্যারালাইজ্ড হয়ে হুইল চেয়ারে চলাফেরা করছেন, অনেকের জীবনেই এখন ক্র্যাচই নিত্যসঙ্গী। অনেকেরই শরীরে বিঁধে রয়েছে অসংখ্য স্পিøন্টার। অনেকেরই শরীরে দগদগে ক্ষতের চিহ্ন জানান দিচ্ছে সেই ভয়াল দিনের মরণছোবলের বীভৎসতা। পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে জীবন্মৃত বেঁচে থাকা আওয়ামী লীগের বেশকিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে পনেরো বছর ধরে তাদের দুঃসহ জীবন-যাপনের করুণ অবস্থার বর্ণনা দেন।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK