শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Tuesday, 20 Aug, 2019 07:39:08 pm
No icon No icon No icon

২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা: আহত সাংবাদিক টিটু অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছেন

//

২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা: আহত সাংবাদিক  টিটু অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছেন

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: ২০০৪ একুশে আগষ্ট শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ হত্যার পরিকল্পনা বিএনপি, জামায়াত এর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐ দিন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা মিটিং শেষে মিছিল উদ্ধোধন করার কথা ছিল। বিএনপি জামাত সরকার মিটিং করার পারমিশন না দেওয়ায় পার্টি অফিসের সামনে খোলা আকাশের নীচে ট্রাকের উপর মঞ্চ করে। তৎকালীন বিএনপি জামায়াত সরকারের আমলে বিরোধী আলোচনা সভা এই সুযোগে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টায় গ্রেনেড গুলি ব্যবহার করে। এই দিন ময়মনসিংহে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি এডভোকেট  মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, আনন্দ মহন কলেজের সাবেক ভিপি, উনার আহ্বানে আমিও ঐ পরিষদের সদস্য হিসেবে  সদস্য হিসেবে যাওয়ার জন্য প্রস্ততি নিলে আমার সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজ করিম চৌধুরী রাজউক ভবনের চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা ও সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর  ময়মনসিংহ যাওয়ার আর সময় হল না। তখন আমি দৈনিক লাল সালাম, দৈনিক জনতা, দৈনিক নওরোজ ও খরর-পত্র পত্রিকার ফটো সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতাম। বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি তোলানিয়েই ব্যাস্ত সময় কাটাইতাম। আল্লাহর কি মেহেরবানী ঐ মঞ্চে তিনজন সাংবাদিক ট্রাক মঞ্চে ছিল একজন ইলেক্ট্রনিক্স, দুইজন প্রিন্ট, জীবন, হাবিব ছবি নেওয়ার পর রফিকুল ইসলাম টিটু, (গফরগাঁও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ময়মনসিংহ জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য, ২০০২ ইং সাল থেকে জননেত্রীর রেগুলার ফটোগ্রাফার) ছবি নিতেছে এমন সময় জননেত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য আরম্ভ করেন। মঞ্চের নীচে থাকা রতন, আজিমসহ সাংবাদিকরা  চিল্লাচিল্লা করতেছে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম টিটুকে লক্ষ করে সরেন সরেন তখন আমি সরতে পারছিলাম না। অলৌকিকভাবে আল্লাহর রহমতে মঞ্চের নীচে থাকা সাংবাদিকরা ছবি নিতে পারছে না, আমি সাংবাদিক টিটু মিয়া অনেক কষ্ট করে ট্রাকের এক কোনায় দাড়িয়ে ভাবতে ছিলাম আমার এই রকম হচ্ছে কেন? আমিত সম্পূর্ন সুস্থ আছি। তবে আমার হাত পা কাপছে , বুক ধরফর করছে, পা সরাইতে পারছিনা কেন? মনে মনে ভাবছি তখন মনে হয় আমার মা বাবা অসুস্থ না হয় কোন বিপদে আছে। সেইজন্য আমার অস্থিরতা লাগছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য প্রায় শেষের দিকে এমন সময় সাংবাদিক হাবিব বলতেছে এই টিটু নামছিস না কেন? আপার বক্তব্য প্রায় শেষ, মিছিল আরম্ভ হবে, ৩২ নাম্বার যাবে। আমি ট্রাক মঞ্চ হতে নেমে পরলাম আর সাংবাদিকরা আমাকে মন্দচারী বলতে লাগল। এই মূহুর্তে আইভি আপার সাথে থাকা উম্মে রাজিয়া কাজল, মাহবুবা পারভীন, রুমাসহ মহিলা নেতৃরা বলতেছিল এই মিছিলের ছবি তুইল্লেন। এমন সময় বঙ্গ কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলে মিটিং শেষ করে মঞ্চ থেকে নামতে লাগলেন। এই সময় সাংবাদিক গরকি বললেন আপা প্লিজ “এক মিনিট দাড়ান” আমরা ছবি তুলতে পারি নাই। ততক্ষনাৎ নেত্রী দাড়িয়ে গেলেন ট্রাকের সাথে লাগানো সিড়ির কাছে। আমিওত এই ছবি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নিয়ে ছিলাম। তার পর ভাবলাম এই ছবিগুলিতো আমি ট্রাক মঞ্চ থেকেই নিয়েছি। এটা মনে করে আমি সামনে এগিয়ে গেলাম যারজন্য আমিও প্রানে বেঁচে যাই। এই সময় দুর্বিত্তরা ভাবলেন শেখ হাসিনা নেমে গেল, তিন তালা, চার তালা, কিংবা ছাঁদের উপর থেকে ধামার ধাম ট্রাক মঞ্চের তিন চার হাত সামনে ত্রিশ চল্লিশ সেকেন্ডের মধ্যে গ্রেনেড গুলি ফেলতে থাকে। এই সেই “এক মিনিট” শেখ হাসিনার সাথে থাকা তার নেতৃবৃন্দরা তাকে ঘেরা করে গাড়িতে তুলে দেন। এই সময় অনেক গুলি ছুটছে, অনেক গ্রেনেড নিক্ষেপ হচ্ছে। আমি তখন শরীরের গ্রেনেডের প্রিন্টার নিয়ে অন্য একজনকে ভরকরে  মুক্তিযোদ্ধা অফিসের উত্তরে আহত অবস্থায় ছিলাম। একটুর জন্য প্রাণে বেঁচে যাই। ১০/১৫ মিনিট পর লোকজনের ভীড় কমলে আমি আবার মঞ্চের সামনে আহত অবস্থায় খুড়ে খুড়ে আইভী আপার কাছে যাই। তখন থেকে এখন পর্যন্ত  ১৫ বছর চলছে আমার কষ্টের জীবন। আমার আল্লাহর রহমতে শেখ হাসিনা উক্ত “১ মিনিট” সময়ের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। আইভী রহমান , আদা চাচা, কুদ্দুস পাটোয়ারী সহ ২৪ জন মারা গেল, আহত হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম, আমির হোসেন আমু, ওবায়েদুল কাদের, মোফাজ্জাল হোসেন মায়া চৌধুরী, আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম, পঙ্কজ দেবনাথ, জিল্লুর রহমান, আব্দুল জলিল, আব্দুর রাজ্জাক, সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, এম এ জলিল, মোতাহার হোসেন মোল্লা, এড. মঞ্জুর নাজনিন, এড. উম্মে রাজিয়া কাজল, নাজমুল হাসান নাজিম, লিটন মোল্লা, মাহবুবা পারভিন, মিজি মনির হোসেন, শফিকুল ইসলাম জমাদার, আব্দুর রাজ্জাব, বিটু বিশ^াস, বিল্লাল মিয়া, রানু , সবুজ, মোহাম্মদ মমিন, আবুল হোসেন মোল্লা,  দোলোয়ার হোসেন, আব্দুল করিম সেন্টু, রাশিদা আক্তার (রুমা), ফটোসাংবাদিক হাবিব, ফটোসাংবাদিক জীবন, ফটোসাংবাদিক গরকী, ফটোসাংবাদিক রফিকুল ইসলাম টিটু, জাকির হোসেন, আশরাফুল আলম খোকন, সুমন, মাহবুর রতন, সাংবাদিক আজিমসহ শত শত নেতাকর্মী।     

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK