শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Monday, 19 Aug, 2019 06:21:09 pm
No icon No icon No icon

র‌্যাবের অভিযানে "আল্লাহর দল" এর ৪ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার

//

র‌্যাবের অভিযানে

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র‌্যাব জঙ্গি দমনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠা হতে এ পর্যন্ত ১৮৯৭ জন বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদেরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। হলি আর্টিজান হামলার পর হতে জঙ্গি বিরোধী ২৬২টি সফল অভিযানে ৭১৭ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার এবং ২৪ জন জঙ্গি সদস্য র‌্যাবের সাথে গুলিবিনিময়ে নিহত এবং ০৭ জন জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছে। জঙ্গি দমনের লক্ষ্যে অবিচল থেকে প্রতিনিয়ত র‌্যাব বিভিন্ন সংগঠনের উপর গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রেখেছে। এই কার্যক্রমের আওতায় জঙ্গি সংগঠন আল্লাহর দল @ আল্লাহর সরকার এর উপরও র‌্যাবের নজরদারী চলমান রয়েছে। জঙ্গি সংগঠন আল্লাহর দল @ আল্লাহর সরকার এর উপর গোয়েন্দা নজরদারী ও গোয়েন্দা  তথ্যের ভিত্তিতে গত ২০১০ সালে ০৮ জন জঙ্গি এবং সাম্প্রতিক সময়ে খুলনা থেকে ৩ জন জঙ্গি, ঢাকা থেকে ৪ জন জঙ্গি এবং রংপুর থেকে ৩ জন জঙ্গিসহ সর্বমোট ১৮ জন জঙ্গি সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, যাচাই-বাচাই এর মাধ্যমে র‌্যাব অধিকতর গোয়েন্দা অনুসন্ধানের আলোকে অভিযান পরিকল্পনা করে।
এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল গত ১৮ আগস্ট ২০১৯ তারিখ ২২.০৫ ঘটিকা হতে ২৩.৩০ ঘটিকা পর্যন্ত রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে জঙ্গি সংগঠন "আল্লাহর দল" এর নিম্নবর্ণিত ০৪ জন সক্রিয় জঙ্গি সদস্যকে গ্রেফতার করেঃ

ক।    ইব্রাহিম আহমেদ হিরো (৪৬), জেলা- পাবনা।
খ।     আবদুল আজিজ (৫০), জেলা- গাইবান্ধা।
গ।    মোঃ শফিকুল ইসলাম সুরুজ (৩৮), জেলা- পাবনা।
ঘ।    মোঃ রশিদুল ইসলাম (২৮), জেলা- কুড়িগ্রাম। 

গ্রেফতারকৃতদের নিকট হতে মোবাইল, পেনড্রাইভ এবং হার্ড ড্রাইভ ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জঙ্গি সংগঠন "আল্লাহর দল @ আল্লাহর সরকার" এর সদস্য বলে স্বীকারোক্তিসহ নানাবিধ চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গি সংগঠন আল্লাহর দল @ আল্লাহর সরকার এর প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। জানা যায় যে, ১৯৯৫ সালে জঙ্গি মতিন মেহেদী @ মুমিনুল ইসলাম @ মতিন মাহবুব @ মেহেদী হাসান @ মতিনুল হক এর নেতৃত্বে "আল্লাহর দল" নামক জঙ্গি সংগঠনটি গড়ে উঠে। ২০০৪ সালের শেষের দিকে জঙ্গি সংগঠনটি জেএমবি‘র সাথে একীত্রিভূত হয়। সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলায় অংশগ্রহণের মামলায় জেএমবি এর নেতৃত্বে স্থানীয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের সক্রিয় সদস্যরা গ্রেফতার হলে জেএমবি নেতৃত্ব শূন্য এবং সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় জেলের ভিতর বাহিরসহ নানা গ্রুপে জেএমবি বিভক্ত হয়ে পড়ে। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। তখন জঙ্গি মেহেদী তার মুল সংগঠনটির অধীনস্থদের (আল্লাহর দল) নিয়ে জেএমবি ত্যাগ করে এবং সংগঠনটি পূনঃ জাগরনের চেষ্টা শুরু করে। পরবর্তীতে জঙ্গি মতিন মেহেদী ২০০৭ সালে গ্রেফতার হয়। তবে বর্তমানে তাকেই আমীর বা তারকা হিসেবে মান্য করা হয়। তথাপি বর্তমানে গ্রেফতারকৃত জঙ্গি ইব্রাহিম আহমেদ হিরো ভারপ্রাপ্ত আমীর/তারকা এর দায়িত্ব পালন করছে। ২০১৪ সালে কৌশলগত কারনে দলটির নাম পরিবর্তন করে আল্লাহর সরকার নামকরণ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা সংগঠনটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানায় যে, সশস্ত্র সংঘাত ও নাশকতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে উৎখাত করে উগ্রবাদি শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করার অভিপ্রায়ে এই সংগঠনটি গঠন করা হয়।
গ্রেফতাকৃত আসামীদের জঙ্গি সংগঠনটির অবকাঠামো সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর/বাহিনীর অবকাঠামোর অনুরুপে জঙ্গি সংগঠনটির অবকাঠামো বিন্যস্ত করার প্রয়াশ নেওয়া হয়েছে। এই অনুযায়ী গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরিকল্পনা অর্ন্তভূক্ত রয়েছে। নেতৃত্ব বিন্যাস অনুযায়ী বিভাগ পর্যন্ত ‘নায়ক’ উপাধির মাধ্যমে প্রধানদের চিহিƒত করা হয়। এছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত¦পূর্ণ পদকে অধিনায়ক, উপ-অধিনায়ক, অতিঃ অধিনায়ক, যুগ্ম অধিনায়ক এবং সবোর্চ্চ পদকে তারকা হিসেবে চিহিƒত করে থাকে। সংগঠনটিতে সদস্যদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণের ঝামেলা এড়াতে বিভিন্ন বাহিনীর অবসর প্রাপ্ত, চাকুরীচ্যুত সদস্যদের যুক্ত করার প্রয়াশ রয়েছে বলে জানায়। এক্ষেত্রে তারা বিজিবি কার্নেজে চাকুরীচ্যুত সদস্যদের দলে অর্ন্তভূক্তির বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ায় পরিকল্পনা নেয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারীর ফলে তাদের বর্ণিত কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হয়।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, সংগঠনের সদস্য পদ সংগ্রহের জন্য তারা ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে রিক্রুটিং এর মাধ্যমে সংগঠনটির কাঠামো মজবুত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পারস্পারিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তারা চিরকুট ও লোক মারফত দুত ব্যবহার করে থাকে। সংগঠনের সদস্যরা জঙ্গি মতিন মেহেদী‘কে আমীর মেনে বায়াত বা শপথ বাক্য পাঠ করার মাধ্যমে দলে অর্ন্তভূক্ত হয়। 
জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে, দলভূক্ত জঙ্গি সদস্যরা ইসলামের অপ-ব্যাখ্যার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিনীতি গুলো ভিন্নভাবে অনুশীলন করে। তারা মনে করে বর্তমান পরিস্থিতি একটা যুদ্ধাবস্থা। তাই ঈদ, কোরবানী, হজ্ব ইত্যাদি তারা পালন করে না। যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে তারা মাস ভিত্তিক যাকাত প্রদান করে থাকে, যা তাদের জঙ্গি সংগঠনের কাজে ব্যবহƒত হয়। তাদের বিবেচনা অনুযায়ী যুদ্ধাবস্থায় বিধায় জুমার নামাজ আদায় করে না; ওয়াক্তের নামাজ ২ রাকাত আদায় করে। তারা জামাতে ও নামাজ আদায় করে না। এমনকি ইসলামের কালেমা এর সাথে শেষ নবীর নাম যুক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের ভিন্নমত রয়েছে। তারা মনে করে বর্তমান সময়ের জন্য জঙ্গি মতিন মেহেদি আল্লাহর বিশেষ দুতও হয়ে উঠতে পারেন। তাছাড়া সংগঠনটির সদস্যদের উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে উগ্রবাদী সংগীতের প্রচলন রয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, নজরদারী ও আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে সংগঠনের আর্থিক বিষয়াদি সম্পর্কে নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তারা ব্যক্তি পর্যায়ে চাঁদা/ইয়ানত প্রদান করে এবং তাদের প্রদত্ত যাকাতের অর্থ জঙ্গিবাদে ব্যবহার করে। এছাড়া তাদের কয়েকটি নামে বেনামে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসা লব্ধ লাভসহ তাদের যাবতীয় আর্থিক মূলধনের একটি বিরাট অংশ নামে বেনামে বিশেষ করে মহিলাদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে বলে জানা যায়। এ সম্পর্কে আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, সংগঠনের নেতৃস্থানীয় সদস্যরা ফিল্মী স্টাইলে তাদের তারকা (আমীর) জঙ্গি মেহেদী মতিন’কে কারাগার থেকে মুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে ছিল। প্রিজনভ্যানে হামলা করে মুক্ত করার গৃহিত কয়েকটি পরিকল্পনা ও রেকি সম্পর্কে গ্রেফতারকৃতরা তথ্য প্রদান করেছে।
গ্রেফতারকৃত জঙ্গি ইব্রাহিম আহমেদ হিরো‘কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দল’@ আল্লাহর সরকারের ‘অধিনায়ক’ হিসেবে কেন্দ্রীয় দায়িত¦ পালন করছে। তারকা (আমির) এর অনুপস্থিতিতে সে জঙ্গি সংগঠনটির নেতৃত্বে রয়েছে অর্থাৎ ভারপ্রাপ্ত তারকা (আমীর)। সে জঙ্গি সংগঠনটির অধিনায়ক ও ভারপ্রাপ্ত তারকা (আমীর) হিসেবে দলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, দাওয়াতী ব্যবস্থাপনা, রিক্রুটিং, মামলা মোকাদ্দমাসহ সার্বিক বিষয়াদির উপর তদারকী করে থাকে। দলীয় নীতি নির্ধারণ সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্তসমূহ প্রদান করে থাকে। তবে সুযোগ সুবিধামত জঙ্গি মতিনের শলাপরামর্শ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। বর্ণিত গ্রেফতারকৃত ইব্রাহিমের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচ এস সি পাশ এবং পেশায় একজন মটর পার্টস্ ব্যবসায়ী। ১৯৯৭ সালে মাহমুদ @ ভাগিনা মাহমুদের মাধ্যমে বর্ণিত উগ্রবাদী দলে তার প্রবেশ ঘটে। সে তারকা জঙ্গি মেহেদি মতিনের নিকট হতে সরাসরি বায়াত প্রাপ্ত। সে আরও জানায় যে, জঙ্গি সংগঠনটির কার্যক্রম পাবনা জেলা হতে শুরু হয়েছিল এবং বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ বেশ কয়েকটি জেলাতে রিক্রুটিং কার্যক্রম রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত জঙ্গি আব্দুল আজীজ’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় সে গাইবান্ধার একটি কলেজ হতে বি.কম সম্পন্ন করেছে। সে পেশায় একজন প্রাইভেট টিউটর। সে ১৯৯৭ সালে জঙ্গি মতিন মেহেদি মাধ্যমে উগ্রবাদিতায় প্রবেশ করে এবং বায়াত গ্রহণ করে। সে জঙ্গি সংগঠনের অতিরিক্ত অধিনায়ক হিসেবে দায়িত¦ পালন করছে। সে বর্তমানে সংগঠনটির আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়াদি পরিচালনার দায়িত¦ পালন করছে বলে জানায়। সে সংগঠনের আর্থিক ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী সংগঠনটি কয়েকটি বেনামী সংস্থা/প্রতিষ্ঠান তৈরী করে ব্যবসা বানিজ্যের মাধ্যমে বেশ মুনাফা অর্জন করেছে বলে জানায়।
গ্রেফতারকৃত জঙ্গি শফিকুল ইসলাম সুরুজ’কে জিজ্ঞসাবাদে জানা যায় যে, সে পাবনার একটি স্কুল হতে এসএসসি সম্পন্ন করেছে। সে অপর জঙ্গি সদস্য আওয়াল এর মাধ্যমে বর্ণিত দলের সাথে যুক্ত হয়। সে ফেব্রুয়ারি ২০১৯ হতে ঢাকা জেলা নায়ক হিসেবে কাজ করছে। গ্রেফতারকৃত জঙ্গি রশিদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে নবম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেছে এবং বর্তমানে একটি কম্পিউটার দোকানে কর্মচারী হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে। সে গ্রেফতারকৃত শীর্ষ জঙ্গি ইব্রাহিম আহমেদ হিরোর প্ররোচনায় বর্ণিত জঙ্গি দলে যোগদান করে। বিগত প্রায় ৪ বছর যাবত সে কুড়িগ্রাম জেলা নায়ক হিসেবে দায়িত¦ পালন করছে। বর্ণিত জেলায় দাওয়াতী কার্যক্রমের পাশাপাশি সংগঠনকে মজবুত করার দায়িত্ব পালন করে আসছে।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK