শনিবার, ১৩ জুলাই ২০১৯
Friday, 12 Jul, 2019 08:11:39 pm
No icon No icon No icon

রাজধানীর আদাবরে মামলার বাদীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে আসামীরা

//

রাজধানীর আদাবরে মামলার বাদীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে আসামীরা


খন্দকার হানিফ রাজা, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: ঢাকার আদাবরে থানা এলাকায় হত্যা চেষ্টা মামলার এক বাদীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে আসামীরা। নিহত যুবকের নাম মোহাম্মদ জুয়েল (৩০)। ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় আদাবরের ১০ নম্বর সড়কের বালুর মাঠে এই ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়, সেখান থেকে বেসরকারি ডেল্টা হাসপাতালে নেয়ার পথে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই শাহীন জানান, তার ভাই জুয়েল রাইড শেয়ারিংয়ের মটর সাইকেল চালাতেন। মাস তিনেক পূর্বে স্থানীয় নেত্রী মমতাজ বেগমের গ্রুপের যুবলীগ কর্মী মিজান, খোকনসহ আরো কয়েকজন যুবক জুয়েলের উপর হামলা চালিয়ে তাকে আহত করেছিলো। ওই ঘটনায় থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন তিনি। এরপর থেকে তাকে মামলা তুলে নিতে মিজান, খোকনসহ অন্যান্যরা বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলো। পরে থানা পুলিশ খোকনকে গ্রেফতার করলে মমতাজ গ্রুপের সন্ত্রাসীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরই জের ধরে তারা গত রাতে বাসায় ফেরার পথে জুয়েলকে ধরে আদাবর ১০ নম্বর সড়কের বালুর মাঠে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে, তার ডাক-চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যায়। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে ডেল্টা হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানায়, নিহত জুয়েলও যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তবে তিনি আওয়ামীলীগ নেত্রী মমতাজ বেগমের বিরোধী পক্ষের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এই বিরোধের জেরে পূর্বে তার উপর হামলা হয়েছে এবং মামলা করায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে মামলার আসামীরা।
আদাবর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শাহিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নিহত মোহাম্মদ জুয়েল (৩০) রাইড শেয়ারিংয়ের মটর সাইকেল চালক ছিলেন। তিন মাস পূর্বে তার উপর মিজান, খোকনসহ আরো কয়েকজন হামলা চালিয়েছিলো। ওই সময় হামলার অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তারাই তাকে হত্যা করেছে। মিজান স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। মিজানের লোকজন মারধর করায় জুয়েল মামলা করেছিলেন। এর প্রতিশোধ নিতেই জুয়েলকে তারা হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছিল। হত্যাকান্ডের পর থেকে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইন্সপেক্টর (অপারেশন) সুজিত জানান, নিহত জুয়েলের স্ত্রী আরজিনা বেগম বাদী হয়ে জড়িতদের ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩০ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং- ১৭, ১২/০৭/২০১৯ইং)। 

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK