বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯
Tuesday, 02 Jul, 2019 10:28:23 am
No icon No icon No icon

এই ভারী অস্ত্রের উৎস কী, গন্তব্য কোথায়

//

এই ভারী অস্ত্রের উৎস কী, গন্তব্য কোথায়


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: রাজধানী ঢাকা থেকে ফের উদ্ধার হলো স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র একে-২২ রাইফেল। তিন বছর আগে গুলশানে হালি আর্টিসান বেকারিতে হামলায় একই মডেলের ভারী অস্ত্র ব্যবহার করেছিল জঙ্গিরা। এরপরও জঙ্গিদের হাতে পাওয়া গেছে এমন স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র। গুলশানের সেই নৃশংস হামলার তিন বছরের মাথায় গত রোববার রাজধানীর স্বামীবাগ এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে একে-২২, সঙ্গে ৩০ রাউন্ড গুলি। অস্ত্র হাতবদলের সময়ে কামাল হোসেন ও সাইদুল ইসলাম মজুমদার ওরফে রুবেল নামে দু'জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের আর্মস এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান চালায়।
আর্মস এনফোর্সমেন্ট টিমের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে যাচ্ছিল এই অস্ত্র। তবে নজরদারি এড়াতে ঢাকায় হাতবদল হচ্ছিল। কিন্তু এই অস্ত্রের মূল উৎস কোথায়, গন্তব্যই বা কোথায় বা এমন ভারী অস্ত্র কোথায় ব্যবহার হতো- সে রহস্য উদ্ঘাটন করা যায়নি এখনও।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলার ঠিক এক মাস আগে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে দুটি একে-২২ রাইফেলসহ গ্রেফতার হয়েছিল দু'জন। ওই সময়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিল, এর আগে আরও ৭ থেকে ৮টি ভারী অস্ত্র হাতবদল করেছে। এরপর সেই অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা গেছে গুলশান হামলায়। জঙ্গি দমনে যুক্ত কাউন্টার টেররিজম  ইউনিটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বৈশ্বিক কারণে দেশেও ছোট ছোট গ্রুপে স্থানীয় জঙ্গিদের মধ্যে একটু চাঙ্গা ভাব রয়েছে। গত কয়েক মাস আগেই ঢাকাতে ছোট দুটি হামলার চেষ্টা হয়েছে পুলিশের ওপর। আপাতত বড় হামলার কোনো শঙ্কা বা জঙ্গিদের সেই শক্তি না থাকলেও ফের ঢাকা থেকে এমন ভারী অস্ত্র উদ্ধার চিন্তায় ফেলেছে কিছুটা। তাই এর উৎস ও গন্তব্য অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
রোববার রাতে একে-২২ উদ্ধার অভিযানে থাকা আর্মস এনফোর্সমেন্ট টিমের পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ সমকালকে জানান, রোববার রাতে তারা ওয়ারীতে রাজধানী সুপার মার্কেট এলাকায় অবস্থানের সময় খবর পান স্বামীবাগ এলাকায় সন্দেহভাজন কয়েক ব্যক্তি অবস্থান করছেন। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই এলাকা ঘিরে ফেলেন তারা। তখন সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কামাল হোসেন ও সাইদুল ইসলাম মজুমদার ওরফে রুবেল নামে দু'জনকে আটক করেন। পরে কামালের হাতে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে একে-২২ রাইফেল উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রটির ম্যাগাজিনে ১৫ রাউন্ড গুলি ভরা ছিল। রুবেলের দেহ তল্লাশি করে আরও ১৫ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।
এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই দু'জন জানিয়েছে, একটি গ্রুপের কাছে অস্ত্রটি পৌঁছে দিতে এসেছিলেন তারা। এই অস্ত্রের মালিক বাবুল উদ্দিন ও সাদেক আহম্মেদ। তাদের কাছ থেকে অস্ত্রটি কিনতে এসেছিলেন কাজী গোলাম কিবরিয়া ও মো. হাসিব নামের দু'জন।
কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সূত্র জানায়, হাসিবের বাড়ি কুমিল্লায়। সে আগে থেকেই অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। একসময়ে বিস্ম্ফোরণে তার একটি হাতও উড়ে যায়। একই এলাকার বাসিন্দা অপর আসামি কাজী গোলাম কিবরিয়া তার বন্ধু। তিনি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং জামায়াত নেতা। বাবুল উদ্দিনের বাড়ি চট্টগ্রামের ডবলমুরিংয়ে। তিনিও মহানগর জামায়াত নেতা। চট্টগ্রামের চকবাজারের বাসিন্দা সাদেক যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে।
কাউন্টার টেররিজম ইউনিট স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের আর্মস এনফোর্সমেন্ট টিমের প্রধান অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই ভারী অস্ত্রের শেকড়ের সন্ধান করছেন তারা। কোথায় থেকে এসেছিল বা কোথায় যাচ্ছিল, জানার চেষ্টা করছেন তা। এ জন্য গ্রেফতার দু'জনসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া চার আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ওয়ারী থানায়। গ্রেফতার দু'জনকে গতকাল সোমবার আদালতে হাজির করে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

আর্মস এনফোর্সমেন্ট টিমের এই কর্মকর্তা বলেন, এর আগে জঙ্গিদের কাছ থেকে এই ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। হলি আর্টিসান হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি একে-২২ উদ্ধার করা হয়। এরপর নারায়ণগঞ্জের আস্তানায় নব্য জেএমবির প্রধান তামিম আহম্মেদ চৌধুরী নিহত হলে সেখানেও একটি একে-২২ পাওয়া যায়। এ ছাড়া বগুড়ায় একটি মসজিদে জঙ্গি হামলার সময়েও একে-২২ ব্যবহারের দৃশ্য মেলে। এর আগে রেলওয়ে থানা পুলিশ আরও দুটি একে-২২ রাইফেল উদ্ধার করে। তবে এবারের অস্ত্রটির সঙ্গে সংশ্নিষ্ট ৬ আসামিরই জামায়াত-শিবিরের কানেকশন মিলেছে। এতে নতুন চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে।

রেলওয়ে পুলিশ একে-২২ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের সময়ে ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন আবদুল মজিদ। তিনি এখন ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ২০১৬ সালের জুনে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে যাত্রীবেশী দু'জনকে আটক করে তাদের কাছ থেকে একে-২২ রাইফেল পাওয়া যায়। ওই সময়ে তাদের সঙ্গে শিবিরের রাজনীতির সম্পৃক্ততা মিলেছিল। তারা জানিয়েছিল, এর আগেও একই ধরনের ৭ থেকে ৮টি অস্ত্র তারা হাতবদল করেছে। ওই মামলাটির চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা একে-২২ মডেলের অস্ত্র ব্যবহার করত। আরও অত্যাধুনিক অস্ত্র আসার পর এই মডেলের অস্ত্র ব্যবহার হতো প্রশিক্ষণে। এখন আর এই অস্ত্র বৈধভাবে ব্যবহার হয় না। আমদানিও করা হয় না দেশে। তবে এতে পয়েন্ট ২২ বোরের গুলি ব্যবহার করা যায়। এই গুলি আমদানি হয় এবং ডিলারদের কাছে পাওয়া যায়। এজন্য এগুলো জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করে আসছে। একে-২২ রাইফেলে একটি করে গুলি করা যায়। আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে এলোপাতাড়ি গুলিও বের হয়। একটি ম্যাগাজিনে ২৫ থেকে ৩০টি গুলি লোড করা যায় একসঙ্গে। 
সূত্র: সমকাল।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK