সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯
Tuesday, 19 May, 2015 06:23:58 am
No icon No icon No icon

‘অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে দেশ এগিয়েছে’

//

‘অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে দেশ এগিয়েছে’


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার স্বল্পন্নোত দেশগুলো অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে বেশ এগিয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডা : দক্ষিণ-দক্ষিণ ও ত্রিমুখী সহযোগিতা এবং উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর’ শীর্ষক দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী দিনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দুদিনব্যাপী এ আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ কিভাবে আরো বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আর্ন্তজাতিক এ সম্মেলনের বিষয়বস্তু ও প্রাপ্তি সর্ম্পকে বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের মূল সমস্যা অর্থ।  আমরা উন্নয়ন কাজের বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিতে পারি, কিন্তু অর্থায়নের অভাবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো এবং দাতা সংস্থা ও দেশগুলো সহায়তার হাত বাড়াতে আগ্রহী আছে। কিন্তু এ এই দুইয়ের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা প্রয়োজন। এই সম্মেলনে মূলত ওই রকম উদ্দেশ্য নিয়েই আয়োজিত হয়েছিল এবং এ সব বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনাও হয়েছে।

 

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) মেয়াদ সেপ্টেম্বরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর পরবর্তী ধাপ হচ্ছে ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস’(এসডিজি)। এ বৈঠকে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও এর বাস্তবায়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

তিনি বলেন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে বেশকিছু লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী। এর একটি হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে কোনো অতিদরিদ্র গোষ্ঠী থাকবে না।

 

তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে অর্থায়ন। আর বাধা দূর করতে উত্তরের দেশগুলোর সহযোগিতা চায় দক্ষিণের বিভিন্ন দেশ।

 

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, এসডিজি অর্জনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক্ষেত্রে দক্ষিণের দেশগুলো পিছিয়ে আছে। আর এ জন্য উত্তরের দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে এ মোমেন, ঢাকায় নিযুক্ত ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিনস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

বাংলাদেশ বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে।


দুদিনব্যপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মোট তিনটি প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হচ্ছে- টেকনোলজি সায়েন্স অ্যান্ড ইনোভেশন, নিউ অপরচুনিটি ইন সাউথ-সাউথ অ্যান্ড ট্রায়াঙ্গুলার ফিনান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট  ও পাওয়ার্ডস মোর ইফেক্টিভ অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন। এই তিন সেশন ভিত্তি করে আরো আটটি ইমপেক্ট সেশন অনুষ্ঠিত হয়।


সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা বলেন, দক্ষিণের উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক,পরিবেশ ও কারিগরি ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ত্রি-মুখী সহযোগিতা একটি ব্যাপক কাঠামো।


তারা জানান, দক্ষিণের দেশগুলো নিজেদের মধ্যে দ্বি-পক্ষীয়, আঞ্চলিক, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা,দক্ষতা, প্রযুক্তি সহায়তা এবং আর্থিক বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়তা পেয়ে আসছে।


এছাড়া স্বল্পন্নত দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য ও বৈদিশিক বাণিজ্য ছাড়াও আঞ্চলিক সংযোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রাকৃতিক সমস্যা সমাধানে অভিজ্ঞতা বিনিময়ও করা হয়েছে।


দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন ৪৫ দেশ থেকে মন্ত্রী, সচিব ও বিভিন্ন পর্যায়ের ৮৩ জন প্রতিনিধি। ঢাকায় দুইদিনব্যাপী সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা যে সুপারিশমালা করেছন তা ‘ঢাকা ঘোষণা হিসেবে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠেয় দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা সম্পর্তিক তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK