রবিবার, ১৭ মার্চ ২০১৯
Monday, 07 Jan, 2019 06:40:21 pm
No icon No icon No icon
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও উত্তরায় সড়ক অবরোধ

শ্রমিকদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও বাসে আগুন


শ্রমিকদের সাথে পুলিশের ধাওয়া  পাল্টা ধাওয়া ও বাসে আগুন

শামীম চৌধুরী ও বাবুল বিক্রমপুরী, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তরায় সড়ক অবরোধ করে গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সময় শ্রমিক-পুলিশের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া, পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা অবরোধের পর সড়ক থেকে সরে দাঁড়িয়েছে পোশাক শ্রমিকরা। শ্রমিকরাও শান্তিপূর্ণভাবে হেঁটে তাদের কর্মস্থলে ফিরে যায়। এর পরপরই সড়কের দুইপাশে যানচলাচল শুরু হয়। জানা গেছে, সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো বেতন বৃদ্ধির দাবিতে উত্তরায় সড়ক অবরোধ করে গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে। সোমবার সকালে উত্তরার পরিবর্তে গাজীপুরের সড়ক অবরোধ করে গার্মেন্টস শ্রমিকরা। পরে পুলিশি বাধার মুখে সোয়া ১১টার দিকে তারা আবদুল্লাহপুর ও উত্তরার দিকে চলে আসে। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে যানচলাচল বন্ধ ছিল। ঢাকা থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া গাড়িগুলো জসিম উদ্দিন রোড দিয়ে ঘুরিয়ে দেয়া হয়। এতে করে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে।
সোমবার সকাল থেকে ন্যূনতম মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে গাজীপুর, আবদুল্লাহপুর, উত্তরা ও বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে পোশাক শ্রমিকরা। আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গতকাল দুপুর সোয়া ১টার দিকে বিমানবন্দর গোলচত্বরে এনা পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয়। ফায়ার সার্ভিস সদরদফতর কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার মো. এরশাদ বাসে আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আন্দোলনকারী গামেন্টস শ্রমিক নাসিমা আক্তার জানান, সরকার ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে গত রোববার চালাবনের চৈতি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা আন্দোন শুরু করলে মালিকদের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেয়ার শ্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তাদের প্রতিশ্রæতির পর আন্দোলন স্থগিত করে শ্রমিকরা কিন্তু আজ (সোমবার) কাজে এসে তাদের দাবি বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ না দেখে আবারও আন্দোলনে নামে শ্রমিকরা।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী হোসেন খান বলেন, শ্রমিকদের সড়িয়ে দিতে পুলিশের সর্বোচ্চ ১০ মিনিট সময় লাগবে। কিন্তু আমরা সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছি। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই, তবে তাদের কিছু অযৌক্তিক দাবিও আছে। 
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বরাত দিয়ে শ্রমিকরা বলেন, আব্দুল্লাহপুরে পুলিশের কর্মকর্তারা গার্মেন্টস মালিকদের সাথে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানানো হয়। কিন্তু তারাও সেখানে ব্যর্থ হয়েছেন।
উত্তরা জোনের ডিসি, বিজিএমইএ ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা গত রোববার দাবি পূরণ করার আশ্বাস দিলেও এ বিষয়ে এখনও কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে বলে জানিয়েছেন পোশাক শ্রমিকরা। 
গতকাল ঘটনাস্থলে শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) নাবিদ কামাল বলেন, আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে থাকেন। যদি জ্বালাও-পোড়াও করেন তাহলে আমরা কোনো সহযোগিতা করব না। আমরা চাই আপনারা সরকারি কাঠামো অনুযায়ী বেতন পান।রোববার আমরা সহ্য করেছি, আজ করছি। আর করবো না।
এর পরপরই নিপা গ্রুপের চেয়ারম্যান খশরু চৌধুরী ঘটনাস্থলে এসে বলেন, আমি সরকারি কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেব। আপনারা ফিরে যান। যদি সরকারি কাঠামো অনুযায়ী বেতন দিয়ে গার্মেন্ট নাও চালাতে পারি, যদি গার্মেন্ট বন্ধ করে দিতে হয়, এরপর আমি ১ মাসের অগ্রিম বেতন দিয়ে যাব। তাদের আশ্বাসের পর পুলিশ পায়ে হেঁটে তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে তারা শান্তিপূর্ণভাবে সরে যায়।
বিক্ষোভের বিষয়ে টেক্স গ্রুপ লিমিটেডের অপারেটর রুবেল বলেন, মজুরি স্কেল অনুযায়ী ১৬ হাজার টাকা পাওয়ার কথা মালিক ৮ হাজার দিচ্ছে। অন্যান্য গার্মেন্ট মালিকরা এখানে এসে কথা বললেও আমাদের মালিক কোনো আশ্বাস দেননি। এখন আমরা কী করবো?
ডিসেন্সি গ্রুপ লিমিটেডের শ্রমিক রবিন জানান, নতুন স্কেল অনুযায়ী বেসিক (মূল বেতন) ১০ হাজারসহ সব মিলে ১৬ হাজার হওয়ার কথা। মালিকপক্ষ নতুন মজুরি অনুযায়ী বেতন দিচ্ছে না, আশ্বাসও দেয় না কিছু বলে না। আজ (সোমবার) আমরা আশ্বাসে ঘরে ফিরছি দেখি মালিকরা মজুরি বাড়ায় কি-না।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK