শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮
Thursday, 06 Dec, 2018 11:21:06 am
No icon No icon No icon

অরিত্রীর আত্মহত্যা: অভিযুক্ত শিক্ষিকা হাসনা হেনা গ্রেফতার


অরিত্রীর আত্মহত্যা: অভিযুক্ত শিক্ষিকা হাসনা হেনা গ্রেফতার


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন সহকারী শিক্ষকাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম হাসনা হেনা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (পূর্ব) একটি টিম তাকে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। ডিবির (পূর্ব) সহকারী কমিশনার আতিকুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, পল্টন থানায় অরিত্রীর বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার যে মামলা দায়ের করেছেন, সেই মামলার তিন নম্বর আসামি হাসনা হেনা।
 ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় প্রিন্সিপাল (ভারপ্রাপ্ত) নাজনীন ফেরদাউসসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্দেশে বরখাস্ত করা হয় প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদাউস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার এবং শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনা। তারা তিনজনই সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি। অভিযুক্ত শিক্ষকদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবিতই অরিত্রীর আন্দোলনরত সহপাঠীদের ছয়দফা দাবির অন্যতম একটি। দাবি আদায়ে গত দুইদিন ধরে তারা স্কুলটির সামনে পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করছে।
হাসনা হেনাকে গ্রেফতারের বিষয়ে ডিবির (পূর্ব) উপকমিশনার খন্দকার নুরুন্নবীর ভাষ্য, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষকদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করেন গোয়েন্দারা। শিক্ষিকা হাসনা হেনার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে রাত ১১টার দিকে উত্তরায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয় মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে। আগামীকাল সকালে তাকে আদালতে নেওয়া হবে।
পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার কারণে অরিত্রী অধিকারীর বিরুদ্ধে নকল করার অভিযোগ আনেন ভিকারুননেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকারা। তারা তার বাবা-মাকে ডেকে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা করতে বলেন। অরিত্রীর বাবার ভাষ্য: ৩ ডিসেম্বর আনুমানিক সকাল ১১টায় আমার স্ত্রী বিউটি অধিকারী ও মেয়ে অরিত্রী অধিকারীকে নিয়ে আমি স্কুলে যাই। সেখানে গিয়ে আমরা প্রথমে ক্লাস টিচার হাসনে হেনার কাছে যাই। তিনি আমাদের অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখেন এবং পরে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রভাতী শাখা প্রধান জিনাত আক্তারের কাছে নিয়ে যান। তিনি আমাদের দেখেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং আমাদেরকে বলেন, ‘আপনার মেয়েকে টিসি দিয়ে দেবো।’ তিনি রাগান্বিত অবস্থায় আছেন বুঝতে পেরে আমি তার কাছে ক্ষমা চাই। কিন্তু তিনি বলেন, ‘আমার কিছু করার নেই।’ তখন আমরা অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) নাজনীন ফেরদৌসের সঙ্গে দেখা করতে যাই। আমার মেয়ে তার কাছে গিয়ে পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং মেয়ের ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কথা চিন্তা করে আমরাও করজোড়ে ক্ষমা চাই। তারপর আমরা কেঁদে ফেলি। আমাদের বা অরিত্রীর কারওর ক্ষমাপ্রার্থনাই অধ্যক্ষের হৃদয় গলাতে পারেনি।
পরে বাসায় ফিরে যাওয়ার পর অরিত্রী নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেকক্ষণ তার সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের ভেতরে ঢোকেন স্বজনরা। সেখানে তাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখা যায়। তারপর উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় অরিত্রীকে। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK