বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯
Friday, 09 Aug, 2019 03:55:39 pm
No icon No icon No icon
মধুপুর-ফুলবাড়িয়া

আমাদের কেন আদিবাসী বলেন ? আমরাতো বাঙালী !

//

আমাদের কেন আদিবাসী বলেন ? আমরাতো বাঙালী !

ইমতিয়াজ আহমেদ: ১. মধুপুর জলছত্র এলাকার  আমলীতলা গ্রামের শিখা দালবতের মেয়ে শিমলা দালবত । শিমলা তার  গ্রামের কারিতাসের একটি প্রকল্প আলোঘর শিশু শিক্ষা নিকেতন কেন্দ্রের তৃতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী । শিমলার বয়স যখন তিন বছর তখন সে  হারায় তার বাবা বাবলু মাংসাং কে। এর পর ওর মা শিমলাকে আর ওর বড় বোনকে  নিয়ে চলে আসে এই আমলীতলা গ্রামের বাবার বাড়িতে । এখানেই নানার বাড়িতে থেকেই  পড়াশুনা করে শিমলা ,বছর খানেক আগে ওর বড়বোন বিনা চিকিৎসায় মরাযায় । শিমলার নানা ইদেল মাংসাং(ছদ্দ নাম) অন্যের  জমিতে নিরানীর কাজ করে বিধোবা মেয়ে শিখা আর নাতনী শিমলার ভরন পোষন সহ সংসারের জাবতীয় চাহিদা মিটিয়ে থাকেন এই বয়বৃদ্ধ ইদেল মাংসাং । বেশ কিছুদিন যাবত শিমলা আর তার পরিবারের লোকজন অনাহারী দিন কাটাচ্ছে । কারন আজ  তিন দিন ধরে বনবিভাগের করা মমলায়)গ্রেপতার দেখিয়ে পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যায়  শিমলার নানা ইদেল মাংসাং কে । তাই পরিবারের এক মাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি জেলে থাকায় তাদের  উদ্বেগ উৎকন্ঠা যেমন বাড়ছে তেমনি তাকে ছাড়িয়ে আনার ব্যাপারেও আইনি জটিলতা কম নয় পোহাতে হচ্ছে না শিমলার পরিবারকে ।

ইদেল মাংসাংয়ের মেয়ে শিখা দালবত বলেন, আমার বাবা কখনো বনে গাছ কাটতে যায় নি ,সে অন্যের জমিতে নিরানির কাজ করতো , তাই জমির মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা না দিয়ে মামলা দেয় আমার বাবার নামে। আজ তিন দিন ধরে বাবা জেল খানায় আমরা গরীব মানুষ এখন অন্যের কাছ থেকে ধার দেনা করে টাকা সংগ্রহ করে আমার বাবাকে ছাড়াতে হবে । না হয় আমাদের সংসারের সবাইকে না খেয়ে থাকতে হবে । 
শুধু  ইদেল ই নয় আদিবাসীদের সকলের কাছে গুরুতর অভিযোগ তাদের বিরূদ্ধে হাজারো মিথ্যা বন মামলার ব্যাপারে । কেননা সরকারের বনবিভাগ বিভিন্ন সময় আদিবাসীদের তাদের পৈতৃক জমি জমা নিয়েই ক্ষ্যাšত হয় নি বরং বিভিন্ন সময়ের মত অব্যাহত রেখেছে তাদের ওপর  যুলুম নির্যাতন মাত্রা , মিথ্যা বন মমলায় জড়িয়ে বার বার কোন ঠাসা করে রেখেছে আদিবাসী সমাজকে যাতে করে তারা তাদের  অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে না পারে । এমন আনেক আদিবাসীর সাথে কথা বলে যানাযায় অনেক আদিবাসী গারোর নামে ৩০ থেকে ৫০ টির মতও বন মামলা রয়েছে । এমনকি বন মামলা থেকে বাদ পড়ে নি পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সহ পাঁচ বছরের  শিশু সšতান, প্রসুতী মা  পর্যšত। 

সম্প্রতী মধুপুর বনাঞ্চালের জয়েনশাহী গড়ের অরন খোলা মৌজার ৯১৪৫.০৭ একর     ভূমি বন বিভাগ সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষনা করায় উচ্ছেদ আতংকে দিন কাটাচ্ছে কম পক্ষ্যে ২৩ হাজার আদিবাসী গারো সহ ৩ হাজার কোচ-বর্মন সম্প্রদায়। বন বিভাগের সাথে আমেরিকান কোম্পানি USAID সহযোগীতায় CREAL মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বাতিল না করলে আন্দোলনে নামার দাবি  আদিবাসী নেতাদের । এছাড়াও  প্রভাবশালীদের কাছেই জিম্মি তথাকথিত সামাজিক বনায়ন, কাগজে কলমে আদিবাসীদের নাম থাকলেও  বা¯তবে সামাজিক বনায়নের দোর গোরায় নেই  আদিবাসী গোষ্ঠী ।
আমলীতলা গ্রামের দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষকতা করে আসা স্কুল শিক্ষিকা রুথ মানকিন বলেন, এই গ্রামে ক্যাথলিক,জিবিসি পরিবার সহ মোট ১০০টি গারো পরিবার বসবাস করে, আগে এই গ্রামে শিক্ষার হার ছিলো একেবারেই কম, তখন মেয়েরা জীবিকার তাগিদে চলে যেত শহরের বিউটি পার্লার গুলোতে আর ছেলেরা সেলুনে কাজ নিতো । বেশির ভাগ গারোদের বাড়ি ভিটা ছাড়া আর কোন সম্পত্তি নেই । তাই সবাই অন্যের জমিতে কাজ করেই তারা তাদের সংসার চালায় । সামাজিক বনায়নে আদিবাসীদের  নাম থাকলেও সব দখল করে আছে স্থানীয় নেতা খেতারা ।  সা¤প্রতী অরোন খোলাকে রিজার্ভ ফরেষ্ট ঘোষনার ব্যাপারে রুথ বলেন, আপনারা কেন  আমাদের আদিবাসী বলেন ? বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে যদি আপনারা এদেশে বসবাস করে  নীজেদের  বাঙালী বলে দাবি করেন তবে সে নায্য দাবি আমরাও করতে পারি । আমরা আদিবাসী না;  আমরা বাঙালি । তাই কেন সরকার আমাদের থাকার ভূমিকে সংরক্ষিক ঘোষনা করে আমাদের গুচ্ছ গ্রাম করে  রাখতে  চায় , আমরা গুচ্ছগ্রাম চাই না , আমরা আমাদের মত থাকতে চাই ।
এদিকে মধুপুরে  এডিবির অর্থায়নে করা তথাকথিত সমাজিক বনায়নের নামে যে হরিলুটের হিরিক লেগেছিলো তা এখনো অব্যাহত আছে ।এতে  করে এক দিকে কয়েক বছরে  যেমন বন ভূমির এলাকা অসংখ্য জমি জবর দখল হয়েছে, অন্যদিকে সমাজের সুবিধাভোগী স্থানীয় প্রভাবশাল দের  ভাগ্যের চাকাও  খুলেছে আলাদিনের চেরাগের মত । অথচ সময়ের আবর্তে  বারবার নীপিড়িত এবং  নিস্পেশীত হয়েছে দারিদ্র আদিবাসী সমাজ । মধুপুর জয়েন শাহী গড়ের অরনখোলা মৌজার বিভিন্ন সামাজিক বনারয়নের প্লট ঘুরে  চোখে পড়ে বন ব্যবস্থাপনার বেহাল চিত্র ,  এমন অনেক জবর দখল কৃত জমি আছে যেখানে অসাধূ ধন কুবেররা সামাজিক বনায়নের নামে বানিজ্যিকভাবে আবাদ করছে আনারস,কলা,হলুদ সহ বিভিন্ন মৌসুমী শ্ববজীর বাগান । ফলন বৃদ্ধি রোগ বালাই দূর করার জন্য পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জেনেও অহরহ জমিতে প্রয়োগ করছে কীটনাশক সহ ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান । বিভিন্ন সামাজিক বনায়নের প্লটে সরকারি ভাবে গাছের চারা লাগানোর  হলেও পরে অধিক মুনাফার আশায় উপকারভোগীরা  মেরে ফেলে সেই চারা গাছ । যানাযায়  বিট  অফিসকে ম্যানেচ করেই প্লট মালিকরা এরূপ করে  থাকে ।  

২. মধুপুরের পাশ্ববর্তী উপজেলা ফুলবাড়িয়ার হাতিলেইট ,এলাকাটা ছিলো সেগুন আর গজারীর গহীন বন । গারোরা  পাহারে ঝুম চাষ করতো, ফাল্গুন চৈত্র মাসে কোন কাজ থাকতো না তাই  সবাই মিলে  জঙ্গলে শিকারে বেড়িয়ে পড়তো । পাহারের জমিতে জুম চাষ , মাছ ধরা ,গাছের লাকড়ি সংগ্রহ ,জঙ্গলে শিকার করে তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো । সামাজিক মূল্যবোধ কৃষ্টি কালচারের মধ্য দিয়ে তারা মিলে মিশে বাঙালিদের সাথে বসবাস করতো সে সময় । এই অঞ্চলে প্রচুর গজারী গাছ ছিলো বলে এই গ্রামের নাম করন করা হয় গজারী চালা ।
 সেই গজারী চালা গ্রামের কালের সাক্ষী হীসেবে এখনো বেঁচে থাকা বৃদ্ধ অতুল সাংমা বলেন, এক সময় মধুপুরের পুরা এলাকাটা ছিলো সেগুন আর গজারীর গহীন বন । আমরা পাহারে ঝুম চাষ করতাম,ফাল্গুন চৈত্র মাসে কোন কাজ থাকতো না তাই সবাই মিলে  জঙ্গলে শিকারে  যাইতাম।জঙ্গলে বাঘ,হরিন,শুকর,হনুমান,বানর, বন মোরগ , সাপ সহ অনেক ধরনের জন্তু জানোয়ার বাস করতো তখন । একদিন আমি  আমাদের গ্রামের  পলানের  সাথে (গারো সমাজে শিকারীদের সরদার কে পলান বলা হয় ) গেলাম শিকারে, হঠাৎ সবার মাঝখান থেকে আমি পথ হারিয়ে ফেলি। হাটতে হাটতে একটা ঝোপের উপরে আমার পা পরতেই ঝোপের আড়াল থেকে হুংকার দিয়ে বেড়িয়ে আসলো মস্ত এক বাঘ। আমার হাতে ছিলো দা,আমি দা উচিয়ে জোরে জোরে চিৎকার করতে লাগলাম বাচাঁও বাচাঁও বলে । বাঘটাও আমার দিকে তাকিয়ে আছে এমন সময় পলান তার বন্দুক থেকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে এদিকে এগিয়ে আসতে থাকে । বাঘটি গুলির শব্দ শুনে পালিয়ে যায়। আমি খুব ভয়  পেয়েছিলাম সেদিন... আর এখন? সেই জন্তু জানোয়রো নাই সেই বন জঙ্গলও নাই। আমাদের বন থেকে ওরা বেড় করে দেবার পর , বনে কি সব বিদেশি গাছ লাগিয়েছে সেই গাছে এখন আর পাখিও বসে না, কোন ফুলও ফোটে না ।চোখে মুখে একটা রাজ্যের আক্ষ্যেপ নিয়ে কথাগুগো বলে শেষ করলো ফুলবাড়ীয়া-মধুপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা গজারী চালা গ্রামের আশি উর্দ্ধো  বৃদ্ধ অতুল সাংমা ।
অতুল সাংমা যখন এই মধুপুর জঙ্গলে  তার পরিবার পরিজন নিয়ে এই গ্রামে বসবাস শৃরু করে তখন পুরো এই এলাকার চিত্র কিন্তু এমন ছিলো না, পুরো এলাকাটা ছিলো গহীন গজারী আর  শাল  বন। আদিবাসিদের  মধ্যে গারো, কোচ, বর্মন আর মারাক এই কয়েকটি জাতীই মূলত বসবাস করতো এই গ্রামে । আদিবাসী গারোরা পাহারের জমিতে জুম চাষ , মাছ ধরা ,গাছের লাকড়ি সংগ্রহ,জঙ্গলে শিকার করে তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো । সামাজিক মূল্যবোধ কৃষ্টি কালচারের মধ্য দিয়ে তারা মিলেমিশে বাঙালিদের সাথে বসবাস করতো সে সময় । এই অঞ্চলে প্রচুর গজারী গাছ ছিলো বলে এই গ্রামের নাম করন করা হয় গজারী চালা । হয়ত সেই গজারী চালা গ্রামের একটি চিত্র ফুটে উঠেছিলো কালের সাক্ষী হীসেবে এখনো বেঁচে থাকা বৃদ্ধ অতুল সাংমার স্মৃতিপটে ।
 তবে অতুল সাংমার মত অনেক আদিবাসী পরিবারের এমন উজ্জল দিনের স্মৃতি হয়ত মুছে যাবার দ্বার প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। কেননা বন বিভাগ যে কোন সময় এই সব আদিবাসীদের তারা তাদের  জন্মস্থান তাদের জন্মভুমি থেকে উচ্ছেদ করে দিতে পারে । ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের দরগাচালা গ্রাম এবং মধুপুর উপজেলার গজারী চালা সহ  পীরগাছা-কামার চালার  গ্রামের কম পক্ষ্যে পাঁচ শতাধীক আদিবাসী গারো পরিবার এখনো  উচ্ছেদ আতংকে দিন কাটায় তারা । যে মাটিতে  মিশে আছে তাদের শত বছরের ইতিহাস তিহ্য কালের বিবর্তনে আজ তাও হারাতে বসেছে ইতিহাসের পাতা থেকে।
ফুলবাড়িয়া উপজেলায় সামাজিক বনায়নের নামে বনাঞ্চলে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠছে  প্রভাবশালীদের বাড়ি ঘর সহ অবৈধ স্থাপনা। বনায়নের বদলে ব্যক্তি মারিকানাধীন ভাবে  চাষ  হচ্ছে আবাদি হলুদ আনারস মত আবাদি ফসল । অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বন অফিসকে ম্যানেচ করেই প্রভাবশালীরা এসব আবাদী ফসল চাষাবাদ করছে ।
ফুলবাড়িয়া উপজেলার রসুলপুর রেঞ্জ সন্তোষপুর বনভ’মিতে মোট বনভ’মির পরিমান ৩৬৩৯.১৪একর তার মধ্যে জবর দখল জমির পরিমান ১৭২.৬২একর এলাকা ।
সামাজিক বনায়ন ২০০৪ থেকে ২০১০ সােেলর সংশোধিত বিদি ৬ এর খ উপ বিধিতে উল্লেখ আছে  “সাধারণভাবে কোন সামাজিক বনায়ন এলাকার এক বর্গকিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী স্থানীয় অধিবাসীগণের মধ্য হইতে উক্ত এলাকার উপকারভোগীনির্বাচিত হইবেন এবং নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ উপকারভোগী নির্বাচনে অগ্রাধিকার পাইবেন, যথা ঃ⎯ভূমিহীন; ৫০ শতাংশের কম ভূমির মালিক,দুস্থ মহিলা, অনগ্রসর গোষ্ঠী, দরিদ্র আদিবাসী, দরিদ্র ফরেস্ট ভিলেজার, এবংঅস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা অথবা মুক্তিযোদ্ধার অস্বচ্ছল সন্তান।
ফুলবাড়িয়া উপজেলার দুই সহস্রাধিক আদিবাসী তারা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি হারানোর আশংকায় দিন কাটাচ্ছে । উপজেলার রাঙামাটিয়া মৌজার ১৩০.৬২ একর ভূমি বন বিভাগের একটি গেজেটে প্রকাশে ১৯৮২ সাল থেকে এ জটিলতা দেখা দেয় বলে জানান তারা । এব্যাপারে ভূমি মালিকদের দু এক জন আদালতে মামলা করলেও সঠিক কাগজপত্র দেখাতে না পারায় মামলা হেরে যায়। আদিবাসিদের সমস্যা নিয়ে সরেজমিনে খোজ নিতে গিয়ে জানা গেছে ,ফুলবাড়িয়ি রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম হাতিলেট। গ্রামটির দরগাচালা,সাপমারা, হায়দারবাইদ ,গলাপাড়া ও বিলপার এলাকার যুগ যুগ ধরে দুই সহস্রাধিক  (গারো ও কোচ) বসবাস করে আসছে । এই সকল আদিবাসী গারোরা বাঙালীদের সাথে মিলে মিশে একেঅপরের পার¯পারিক সৌহার্দ পূর্ন আচরনের মধ্যে টিকে আছে। এত দিনের পথ চলায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতিতে হয়েছে অনেক অগ্রগতি। অনেকেই আছে, সরকারী বেসরকারী চাকুরী করে আজ তারা সাবলস্বী । ১৯৮৮ সালের দিকে মাঠ পর্যায়ে ভূমি জরিপ (বিআরএস )শুরু হলে রাঙামাটিয়া মৌজায় বসবাসরত আদিবাসীদের ভূমীর মালিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।আদিবাসীরা জানতে পারে তাদের অনেক আবাদী জমি সহ একাধিক ভিটে মাটি বন বিভাগের নামে ১৯৮২ সালে গেজেট ভুক্ত হয়ে গেছে । পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া তাদের জমির মালিকানা ফিরে পেতে জরীপ বিভাগে ৩০/৩১ ধার করের ভূমীর মালিকরা মালীকানা ফেরত পায় নি।এর পর থেকে গত দুই যুগ ধরে কয়েকহাজার কয়েক হাজার আদিবাসিদের মনে চলচে উচ্ছেদ আতংক। ভূমি মালিকদের মধ্যে দর্গাচালা গ্রামের সুপ্রভাত জেংচাম জানান, তিনি ভূমির মারিকানা ফেরত পেতে আদালতে মামলা করেন । মামলায় সঠিক কাগজ পত্র উপস্থাপন করতে না পারায় আদালত বন বিভাগের পক্ষ্যে রায় দেয় । এ মামলায় বন বিভাগের পক্ষ্যে রায় হওয়ায় বনবিভাগের গেজেট মূলে ভূমির মালিকানা হারানো কয়েক হাজার পরিবারে নেমে নেমে আসে হতাশা আর উচ্ছেদ আতংক। হায়দারবাইদ গ্রামের আদিবাসী নেতা লুইস সুপ্রভাত জেমচাং জানান, পৈতৃক সূত্রে তারা এ জমির মালিকানা হীসেবে ভোগ দখল করে আসছে , বন বিভাগের এ গেজেটের আলোকে অনেকের পৈতৃক জমি বিআরএস জরিপে বন বিভাগের নামে রেকর্ড ভূক্ত হয়েছে আর জরীপে জমি বন বিভাগের নামে বিআরএস মূলে রেকর্ডভূক্ত হওয়ায় বিভিন্ন ভূমিতে ইতি মধ্যেই বন বিভাগ দখল বুঝে নিতে খুটি (সীমানা পিলার )লাগানোর চেষ্টা করে । এ নিয়ে আদিবাসীদের সাথে বনবিভাগের কয়েকদফা সংঘর্ষের দেখা দেয় । এলাকার কয়েক হাজার আদিবাসী ভূমি মালিকদের বন বিভাগ যে কোন সময় উচ্ছেদ করবে এমনটাই শংকায় দিন কাটাচ্ছে এই সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিরা ।
তাই সংশ্লিষ্ঠরা মনে করছেন  ভুমি মালিকরা বন বিভাগের এ ধরনের অযোক্তিক গেজেট বাতিলের মাধ্যমে ভূমি সমস্যা নিরসনে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে হ¯তক্ষেপ কামনা করছেন।

লেখক: ইমতিয়াজ আহমেদ, সংবাদকর্মী, ঢাকা। 
[email protected] 

 

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK