শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯
Friday, 21 Jun, 2019 10:41:45 am
No icon No icon No icon

মৎস্য কন্যা

//

মৎস্য কন্যা


হাসনা হেনা রানু: ছোট্ট মফঃস্বল শহর চালনা।মংলা নদীর উত্তর পশ্চিমেে এর অবস্থান।একেবারে শহরতলী এলাকা।নদীর গা ঘেঁষে একটা বাংলো বাড়ি।বাংলোটির সুবিস্তীর্ণ দক্ষিণ প্রান্ত জুড়ে চালনা কলেজ দন্ডায়মান। পাশে একটা রেস্তোরাঁ,একটা মসজিদের চুড়ো আকাশের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। আরও আছে অধ্যাপক খান আওলাদ গ্রন্হাগার।সুবিস্তীর্ণ কলেজ প্রাঙ্গনের পূর্ব প্রান্ত জুড়ে দন্ডায়মান আগরওয়ালা হাসপাতাল।কলেজ সংলগ্ন স্কুলের পাশেই আছে এক বিশাল জলাশয়।কিছুকাল আগেও চালনা একটি বিধ্বস্ত গ্রাম ছিল।আজ তার চারিধারের বহু স্থাপনা আর প্রকৃতি সেই পরিবেশ পাল্টে দিয়েছে।দিনে দিনে বিকশিত ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে এই চালনা শহরটা।পুরো শহরটা আলোচনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।আগামীকাল ঈদুল ফিতর।কে কি ভাবে ঈদুল ফিতর উৎসব পালন করবে সে পরিকল্পনা চলছে সবার মাঝে।আর মাত্র একটি রাত বাকী।বিকেলের দিকে শহরটা প্রায় সব বাসার আঙ্গিনায়,ছাদে ছেলে-মেয়েদের আড্ডা জমে উঠেছে।তার উপর প্রতিটি ঘরে ঘরে চলছে ঈদ আনন্দ আয়োজন কেনাকাটা।সবাই ভীষন ব্যস্ত কেনাকাটা নিয়ে।যে যেভাবে পারবে ঈদ আনন্দ  উৎসব উদযাপন করবে।গৃহিণীরা কে কোন শাড়ি,মেয়েরা থ্রি পিচ,সালোয়ার-কামিজ,ছেলেরা পাঞ্জাবী,ট্রাওজারস,ফতুয়া,প্যান্ট-শার্ট আর ছোট ছেলে-মেয়েরা নিত্য -নতুন বাহারি রঙের পোশাকে মেতে উঠেছে।এবার ঈদের সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গা পূজা উৎসবও যোগ দিয়েছে।চারিদিকে একটা উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।পোশাকের সাথে আবার ম্যাচিং করে জুতা,ইমিটেশন,মেটালি,আর্নামেন্ট ও কেনা হচ্ছে।
ঈদ আনন্দকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বেরোচ্ছে কবিতা,ছড়া,গল্প,রম্যরচনা,উপন্যাসের অংশবিশেষ আরো কত কি!এ সবই "ঈদ আনন্দ উৎসব" সংখ্যা নামে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। কলেজের দেয়াল পত্রিকায় ও অনেক লেখা বেরিয়েছে। ঈদ আনন্দ সমান ভাবে ভাগ করে নেওয়ার জন্য ঈদের দিন বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাসে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একজন যুবক নিজ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের মুল উপস্থাপনার দায়িত্ব নিল।যুবকটির নাম জুবায়ের যয়েদ। সে পাশের বাংলো বাড়িতে একা থাকে। যায়েদের বাবা-মা আমেরিকায় থাকেন।আগরওয়ালা হাসপাতালটা যায়েদের বাবার নামে নামকরণ করা হয়েছে। স্কুল কলেজেও তাদের অনেক(স্বামী-স্ত্রী) অবদান রয়েছে।একদিন এই চালনা বন্দরটা হতদরিদ্র এক গ্রাম ছিল। আজ অনেক পরিবর্তন এসেছে। প্রতিটি ঘরে ঘরে শিক্ষার আলে পৌঁছে গেছে।মানুষের জীবনমান আমূল বদলে গেছে।এখানকার প্রতিটি পরিবার এখন স্যানেটারী ব্যবহার করে।এখন এ শহরে মানুষের মাঝে ক্ষুধার অপচ্ছায়া নেই।সবাই এখন স্বাবলম্বী।সূর্যটা হঠাৎ করে ঘড়ির কাঁটার মত পশ্চিম দিগন্তে ঝুঁকে গেছে।আর তখন টুকরো টুকরো হালকা রূপালি  আলো এসে আলতো করে এলিয়ে পড়ে চালনা শহরেরে উপরে। শহর গ্রাম বাংলায় ঈদের আগের রাতকে বলে চাঁন রাত।এ রাত যেন সত্যিই   প্রতিটি ঘরে ঘরে চাঁদের আলোর মত জোয়ার বইয়ে দিচ্ছে ঈদের আনন্দ।
চাঁদ রাত বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারল না।ঠিকই 
রাতের অন্ধকার ঠেলে ভোরের আলোয় রাঙিয়ে দিল ঈদের দিন। শুরু হলো মানুষের সেকি ছুটাছুটি। মানুষ যে কত আয়োজনে ঈদ উৎসব উদযাপন করছে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। এটা যে ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব সেটা উৎসবমুখর দিনটি বলে দিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি মেতে উঠেছে ছোট ছেলে- মেয়েরা।ঈদ আনন্দে মানুষ রকমারী খাবারেও মেতে উঠেছে।বাহারি খাদ্য-খাবার ছাড়া ঈদ কে কল্পনাই করা যায় না। যায়েদের বাসায় একজন কেয়ারটেকার আছে।সে সবকিছু তদারকি করে।রান্নাবান্না ও সে করে।
ঈদের পড়ন্ত বিকেলে চালনা কলেজ ক্যাম্পাসের মাঠে আয়োজন করা হলো এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।অত্র অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হলো প্রধান অতিথির সঙ্গে একজন সুন্দরী যুবতী মেয়ে।সে প্রধান অতিথি খান সাহেবের নাতনী। কানাডায় থাকে। কিছুদিন হলো দেশে বেড়াতে এসেছে। বাংলা বলতে পারে খুব সুন্দর গলায়। এইমাত্র প্রধান অতিথি সাহেব অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাঁর আসন অলংকৃত করলেন। প্রধান অতিথি আসন গ্রহণ করার সাথে সাথেই বাতাস আমোদিত হয়ে উঠল। জুবায়ের যায়েদ উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। আর পড়ন্ত বিকেল টা উজ্জ্বল হয় অধিকতর।অনুষ্ঠানের পুরো প্যান্ডেল যেন ঝলমল করে ওঠে।সুন্দরী যুবতী নানার পাশে আসন গ্রহণ করল। জুবায়ের যায়েদ যুবতীকে দেখে চমকে উঠল। আর মনে মনে  উচ্চারণ করল, সত্যিই অপরূপা তুমি! কে তুমি মেয়ে?যায়েদ যুবতির কাছে এসে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিস ফিস করে বলল,হায়! আপনাকে কি বলে সম্বোধন করব বলুন তো?যুবতী হেসে উঠল।ভুবন ভুলানো এক হাসি যুবতীর মুখে। সে ঠোঁটেে রহস্যময় হাসি নিয়ে বলল, হায়! আমি ম্যাডোনা ক্যামেলিয়া। আমাকে আপনি শুধু ক্যামেলিয়া নামেই ডাকতে পারেন। যুবতীর কথা যেন অনেকটা নেশার মত লাগল যায়েদের কাছে।সে ভীষন উৎসাহিত হয়ে বলল, ভেরি নাইস! আপনার নামটা বড় চমৎকার। সাথে আপনিও। আপনি চমৎকার ভঙ্গিতে কথা বলেন।আপনার কথা বলার স্টাইলটাই একটা আর্ট। তার মানে আমার কথা বলার স্টাইলটাকে একটা শিল্প সপ্তার মধ্যে ফেলছেন।ঠিক তাই। একটু হালকা ইমেজে কথাটা বলল যায়েদ। যুবতীর নীল চোখে বিস্ময় লেগে থাকে যায়েদের জন্য!
যায়েদ আর যুবতীর দিকে আগ্রহ দেখাতে পারে না। তার মাথায় এখন অনুষ্ঠান নিয়ে টেনশন কাজ করছে। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় যায়েদের সঙ্গে আছে সালমা দেবযানী।  শহর বা গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যায়েদ আর  সালমা দেবযানী  ছাড়া কোন অনুষ্ঠানই জমে না। ওরা দুজনই যেন ওই এলাকার গর্ব। সালমা কবিতা লেখে  ভীষন আবেগ দিয়ে।তার বেশিরভাগ কবিতায় প্রেম ও প্রকৃতি উঠে আসে। সালমা দেবযানী  এবং যায়েদ দুজনেই বাংলা সাহিত্যের উপর এম.ই করেছে।সালমা দেবযানীর আবৃতির কন্ঠ ও খুব ভাল।
প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যায়। বক্তৃতা ও আলোচনা পর্ব। পুরো অনুষ্ঠানটি তিনটি পর্বে সাজানো হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে আছে নাটক। তৃতীয় পর্বে আছে কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দ্বিতীয় পর্বের নাটকের নাম "জলপরী" নাম ভুমিকায় অভিনয় করবে কুমকুম মেহরীন। আর নায়কের চরিত্রে আছে জুবায়ের যায়েদ। কিন্তু সমস্যা হলো কুমকুম মেহরীনকে নিয়ে। তিনি উক্ত অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত। গত তিনদিন ধরে সে ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরে ভুগছে।সেজন্য কুমকুম মেহরীন আসতে পারেনি। এদিকে নায়ক এর মাথা খারাপ হওয়ার অবস্থা হয়েছে। নায়ক ভীষণ অস্থির হয়ে উঠেছে। এখন নাটকের কি হবে? সে কিছুটা ক্ষিপ্ত হলো। এভাবে নাটক হয় নাকি? জায়েদের অস্থিরতার কারণ সালমা দেবযানী বুঝতে পেরে বলে, আমি কি আপনাকে হেল্প করতে পারি? আমি হয়তো নায়িকার রোলটি করতে পারব।
সালমা দেবযানী হয়তো কিছু একটা আঁচ করতে পেরেই শূন্য পদটা লুফে নিতে চেয়েছিল। যায়েদ ভ্রু কুঁচকে বলল,আমার মনে হয় না আপনি পারবেন। সালমা দেবযানী  বুঝতে পারে তার ব্যাপারে যয়েদের ঘোর আপত্তি আছে। অথচ এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সে অনেক নাটকে যায়েদের বিপরীতে নায়িকার  চরিত্রে অভিনয় করেছে। তখন তো জায়েদ কোন আপত্তি করেনি। তাহলে আজ কেন সে ঘোর আপত্তি করছে। সালমা দেবযানী একটু ঈর্ষান্বিত হয়ে বলে, আসলে সময় খুবই সংক্ষিপ্ত। এদিকে আলোচনা পর্ব প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। তবে কি মিস ক্যামেলিয়া কিছু করতে পারেন? ক্যামেলিয়া দাঁড়িয়ে পড়ে।আমি?আমি কেন?বাংলার কত সুন্দরীী সুন্দরী ললনা আছেন এখানে?আমি কি পারব নায়িকার রোলটি করতে?যায়েদ অনেক বড় মাপের শিল্পী।কোথায় আমি? সেখানে আমি দাঁড়াতে পারব নাকি? আসলে নাটক একটা টিম ওয়ার্ক কাজ।সেখানে নায়ক কে সালমা দেবযানী হেল্প করতে পারেন।আপনাদের কালচার আপনাদের ভাল জানা আছে।বাট আমিতো অতিথি মাত্র।কয়েক দিনের জন্য বেড়াতে এসেছি।আমাকে টানা হেচড়া না করলেই বোধ হয় ভাল হয়।ঠিক তখন প্রধান অতিথি খান সাহেব আপত্তি করলেন।তিনি বললেন দিদা মনি তুমি পারবে।তুমি তো ছোট বেলা থেকেই নাটকে অভিনয় করে আসছ।তাহলে এখন তুমি আপত্তি করছ কেন?তুৃমি একটা কাজ কর।তোমার লেখা অনেক নাটকের স্ক্রীপ্ট আছে।তার একটা অভিনয় করে দর্শকদের দেখাও।যায়েদের খুব ইচ্ছে তার পাশে ক্যামেলিয়া নায়িকার রোলটি করুক।এবার ক্যামিলিয়াকে উঠতেই হল। ওরা দু'জনই ভিতরে চলে গেল নাটকের রিহার্সালের জন্য।অনুষ্ঠানের প্রোগ্রাম চেঞ্জ করে দ্বিতীয়  পর্বে আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। এদিকে অনুষ্ঠান উপস্থাপনার দায়িত্ব এসে পড়ল সালমা দেবযানীর কাঁধে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ প্রান্তে এসে গেলে সালমা দেবযানী একটা কবিতা আবৃত্তি করল।কবিতাটা বড় বেশি আবেগপ্রবন হয়ে উঠল।
আজো রাতের জ্যোৎস্না কথা বলে চাঁদের সাথে
-
সুনীল আকাশ দূুর সাগরে ধারণ করে জলন্ত রক্তিম সূর্যকে
:
পাখি ডাকে,প্রজাপতির পাখায় জল রঙ ছবি আঁকে প্রকৃতি
তোমার হৃদয়ে অদৃশ্য নাচ ঘরে বাজে আমার নৃত্যমগ্ন নিক্কন নূপুর 
শিশিরের শুভ্রতা আমার পদতল ধুয়ে দেয়
রাঙা ধুলো মুছে নেয় আমার আর্দ্রতা 
কবিতার নানা পদ ব্যঞ্জন রচনা করে এক কালের বাল্মীকি! 
সেই স্বপ্নের ঘুড়ি ওড়াই আকাশে;
অভিজ্ঞ হাতে সুতো ছাড়ে সবুজ বালক 
আমার ঘুড়ি দিন শেষে মিলিয়ে যায় মহাশূন্যের নীলে 
এই গল্পে জীবনের পরতে এনে দেয় ম্লান হাসি,
চোখে ও এনে দেয় টলমল জল --
আঁধারের বুকে মোহিনী আলো ধোঁয়া ধ্রুপদী নক্ষত্র আমি 
বাতি পোড়া মোমের নরম আলোতে 
নিজেকে পুড়িয়ে করেছি নিঃস্ব 
কে বলে আমি জীবিত! আমি মৃত
শব্দাংশে বাক‍্য অস্থির ছন্দ চঞ্চল কবিতায়
দমকা বাতাসে নিভে যায় জীবনের বাতি :
মাথার উপর অন্ধকার ঘুরে ঘুরে বৃত্ত আঁকে মরণের 
নীরব, নিভৃতে কাঁদে আমার কবিতার পংক্তিমালা,
অবশেষে ক্লান্ত শয‍্যায় কবিতাগুলো ঘুমোয় নিঃশব্দে
ভোর বেলায় কড়া নেড়ে দরজা খোলে ,--
ঘুম ভাঙ্গে -- দুঃস্বপ্নের নিয়তির ঘোরে !
আজ সে স্বপ্ন ভেঙ্গে চলে গেছে অনেক দূরে
তবুও বারবার সে ফিরে আসে আমার কবিতায়।
কবিতা আবৃত্তি পর্ব শেষ হলো । দর্শক মুহুর্মুহু করতালি দিল । অনেকে বলল,আহা কতদিন এমন আবৃত্তি শুনিনি।সালমা দেবযানীর দু'চোখ ফেটে অশ্রু ঝরছে ।সে নিজের ভেতরে একটা চাপা কান্নার শব্দ শুনতে পেল।তার ভেতরে রক্তক্ষরণ সে কাউকে বুঝতে দিল না। কিন্তু একটা তীব্র যন্ত্রণা তাকে ক্রমেই অস্থির করে তুলছে। হয়তো সে এতকাল পর বুঝতে পারল যুবায়ের যায়েদকে সে ভালবেসেছে।এদিকে নাটকের রিহার্সাল কমপ্লিট।নায়ক - নায়িকা স্টেজে উঠে এসেছে উপস্থাপনায় আছে সালমা।সে যায়েদের দিকে একবার তাকাল।ওর চোখের মধ্যে এমন কিছু ছিল যার অর্থ যায়েদ বুঝতে পারেনি।সালমা দেবযানী ঘোষণা দিল আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। আমাদের যে নাটক হওয়ার কথা ছিল সেটা করা সম্ভব হচ্ছে না।কারণ আমাদের নায়িকা অসুস্থ। এখন শুরু হতে যাচ্ছে অন‍্য নাটক "মৎস্য কন্যা"। আপনারা উপভোগ করুন আমাদের আজকের নাটক -----
ডোরা ঃ  দেখ ওই শুকতারাটা দেখতে খুব সুন্দর লাগছে না ?
যোহায়ির ,আমাকে রেখে তোমার কাছে হঠাৎ শুকতারা সুন্দর লাগছে কেন ? তুমি যেন কেমন।
আমাকে একটুও ভালবাসো না। তোমার এমন বাজে অভ্যাসটা বদলাও। তাছাড়া শুকতারার মধ্যে কি আছে বলতো ? এগুলো তো প্রতি রাতেই দেখা যায়। হুম! তা যায়। তারপরও পৃথিবীর সব মানুষ কিন্তু এগুলোর প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়।
সুতরাং সেক্ষেত্রে তুমি-আমি তো আর এ পৃথিবীর মানুষ নই ।আমরা রোবট অন‍্য জগতের মহাজাগতিক বাসিন্দা।
যোহায়ির ঃ কিন্তু ডোরা পৃথিবীর মানুষ জানে রোবটদের মানুষের মত কোন অস্তিত্ব নেই। কোন প্রাণ ও নেই।আমরা মৃত!
ডোরাঃ কী? এসব তুমি কী বলছ যোহায়ির ! আমরা মৃত হতে যাব কেন?
আমরাও পৃথিবীর মানুষের মত কথা বলতে পারি। হাঁটতে পারি।কাজ করতে পারি। যোহায়ির চলো আজ আমরা পৃথিবীর সুন্দর কোন স্থান দেখে ল‍্যান্ড করি।
আজ পৃথিবীর অনেক মুসলিম দেশে ঈদ উৎসব উদযাপন করছে।চলো আমরাও অংশ নিই ঈদ মিলন অনুষ্ঠানে। এবং তাদেরকে আমাদের সম্পর্কে অনেক তথ্য জানিয়ে আসি ।
যোহায়িরঃ ডোরা তুমি তো খুব সুন্দর কথা বলেছ? তোমার আইডিয়াটা খারাপ নয়।আমাকে মুগ্ধ করেছে। ডোরা তাহলে তুমি কী পৃথিবীতে ল‍্যান্ড করতে বলছ?  কিন্তু আমি ভাবছি পৃথিবীর তিন ভাগ পানি আর একভাগ মাত্র স্থল (মাটি)।আমরা যদি পানিতে ল‍্যান্ড করি? তাহলে --? ডোরা বিস্ময় প্রকাশ করে ! আরে বোকা! তুমি নিচের দিকে তাকিয়ে দেখ,ওই গ্রহটা দেখা যাচ্ছে ওটাকে পৃথিবী বলে ।আর এই পৃথিবীতে মানুষ বসবাস করে।আমরা যদি অনিচ্ছাকৃত ভাবে পৃথিবীর পানিতে পড়ে ও যাই সেক্ষেত্রেও কোন ভয় নেই।কারণ আমি এক জীবনে"মৎস্য কন্যা" ছিলাম। আমার পানিতে থাকার অভ‍্যাস আছে। তোমাকে আমি সব কৌশল শিখিয়ে দিব । সুতরাং ভয় কী  ? 
যোহায়ির ঃ কী ? কী বললে ডোরা ? তুমি মৎস্য কন্যা ছিলে?এ তুমি কী বলছ ডোরা ?আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। তুমি তো খুবই ভয়ানক।
ডোরা এক রহস্যময়ী হাসি ছড়িয়ে দিয়ে বলল, জাস্টামিনিট ওয়েট কর।তোমাকে আমি একটা রিপোর্ট দেখাচ্ছি বলেই ডোরা তার ব‍্যাগ থেকে ল‍্যাপটপ বের করে বলে, এখন তুমি ল‍্যাপটপে মূল রিপোর্ট দেখ। এই যে গ্রীন ল‍্যান্ড ড্রীম হাউজের সামনে সুইমিং পুলটা দেখতে পাচ্ছ এটা আমার বাসার সামনে অবস্থিত। এই পুলে একটা মৎস্য কন্যাকে দেখতে পাবে । মজার ব্যাপার হল কি জান -- সে এই পুলে দিনের পর দিন যাপন করেছে। আরও মজার ব্যাপার হল মেয়েটি অন্য কেউ নয়। স্বয়ং আমি নিজেই। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ আমেরিকার পাশের দেশ কানাডা। আমি কানাডায় বড় হয়েছি।কানাডিয়ানরা জাতি হিসেবে খুব ভাল, খুব উন্নত। কিন্তু সমস্যাটা হলো বাঙালিদের নিয়ে।
ওরা বিশ্বের যতদূর ছড়িয়ে গেছে, ততদূর সমস্যার সৃষ্টি করেছে।
আর এই বাঙালির কয়েকজন হলো আমার বাপীর  ঘনিষ্ঠ বন্ধু।ওরা প্রপার্টির লোভে এক পার্টিতে আমাকে হত্যা করে নিক্ষেপ করেছিল ওই সুইমিং পুলে।আর পার্টিটা হয় আমার নিজ ভবনে । শত্রু পক্ষ আঘাত করার পর ভেবেছিলাম, আমি মৃত বা মারা গিয়েছি। কিন্তু না,ওরা আমাকে ধ্বংস করতে পারেনি।
আমাকে মৃত ভেবে নিক্ষেপ করেছিল সুইমিং পুলে। আমি তখন ঐ পুলের মধ্যে অলৌকিক ভাবে বেঁচে যাই।পুলের মধ্যে গোপন একটা রুম আছে।রুমটা সম্পূর্ণ গোপনীয় আর সুরক্ষিত একটা গবেষণাগার সেটা‌। রুমটাতে অনেক পুঁথি, গ্রন্থ ঘুমিয়ে আছে।
আমি সেটা আবিষ্কার করি। কিন্তু একটা ব‍্যাপার ,ঐ রুমের মধ্যে একটা মৎস্য দম্পতি বসবাস করছে। প্রথমে আমি ওদের দেখে ভীষণ অবাক হয়েছিলাম।
আমাকে যখন শত্রুপক্ষ পুলের পানিতে নিক্ষেপ করেছিল, তখন ঝুপ করে অনেক বিকট একটা আওয়াজ হয়েছিল। সেই আওয়াজ শুনে গোপন কক্ষ থেকে মৎস্য রাণী আমাকে পুল থেকে উদ্ধার করে তাদের গোপন কক্ষে নিয়ে যান।সেই থেকে আমি ওদের সঙ্গে থেকেছি।
রিপোর্টে দেখ, একজন নারী পুলের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। আমার মাম্মা। মাম্মা প্রতিনিয়ত আমার শোকে কাঁদছেন। আমার আবছা আবছা মনে পড়ে  কোন এক জীবনে আমি মানুষ ছিলাম।
মাম্মা আমাকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছেন। আমি সফল হয়েছি।আমি এখন শত্রু পক্ষের খাঁচা থেকে মুক্ত।বাট ,তারপরও ওদের দৃষ্টি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি ‌। আমার স্মৃতিতে অস্পষ্ট কিছু ভাসছে। আমি কোন এক জীবনে মানুষ ছিলাম। আমার একটি পরিবার ছিল বাপী- মাম্মাকে ঘিরে। আমার দুঃখিনী মাম্মা মংলা বন্দরের চালনার মেয়ে ছিলেন।বাপী অতীস রোজারিও সিলেটের সন্তান ছিলেন। বাপী- মাম্মার বিবাহের পর বাপী পোল‍্যান্ডে পাড়ি জমান।
পরবর্তীতে বাপী স্বপরিবারে কানাডায় সেটৈল হন। আমার তখন উঠতি বয়স ছিল।সবে  ম‍্যাচিউরড হয়েছি। নিজের ভাল - মন্দ বুঝতে শিখেছি। ঠিক তখন শত্রুতা করে বাপ্পীকে তার বন্ধুরা হত‍্যা করে।বাপীর বিজনেস তারা একে একে হাতিয়ে নেয়।বাপীর অনেক বিজনেসে তারা পার্টনার ছিল।বাপীর মৃত্যুর পর তার এক লম্পট বন্ধু মাম্মাকে জোর পূর্বক বিবাহ করে। আমি জানি মাম্মার কোন দোষ ছিল না ‌। মাম্মা তার লাইফে দ্বিতীয় স্বামীকে মেনে নেননি।তাকে খুন করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। খুনের ঘটনা জানাজানি হলে মাম্মার জেল হয়। দীর্ঘ মেয়াদি সাজার পর মাম্মা জেল থেকে ছাড়া পান। আমি তখন ইংলিশ ইউনিভার্সিটিতে গ্র‍্যাজুয়েশন নিচ্ছিলাম।পড়া শেষ করে ওই ইউনিভার্সিটিতে ইংলিশ টিচার হিসেবে যোগ দিলাম।সেলারি  ভালই পেতাম। হঠাৎ মাম্মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে দেখাশোনা করা প্রয়োজন। মাম্মার প্রতি প্রচন্ড এক মমত্ববোধ জেগে ওঠে আমার। মাম্মার হার্টের প্রবলেম ছিল।এক মাস    ছুটি নিয়ে মাম্মাকে দেখতে আসলাম। পরবর্তীতে মাম্মাকে ছেড়ে আর কাজে ফেরা হয়নি। মাম্মা আমাকে জব করতে দিতে রাজি হননি।
মাম্মার একটাই কথা, তুমি কেন জব করবে ? তোমার কোন কাজ না করলে ও চলবে বেবী। তোমার বাপী এই বিশাল ফ্ল্যাট বাড়ি রেখে গেছেন(বার তলা )।এর ওয়ারেশ এখন তুমিই।
তোমার বাপীর কিছু বিজনেস হাত ছাড়া হয়েছে ঠিকই।বাট এখনও দুই একটা বিজনেস আছে আমার হাতে। তুমি এগুলো দেখাশোনা কর।আর বাকী দিনগুলোতে আমার পাশে থাক।আমাকে দেখাশোনা কর ।
তোমার নিজের এত কিছু থাকতে তুমি কেন অন‍্যের অধীনে জব করবে বেবী ?
আমি বুঝতে পারলাম, মাম্মার কথায় যুক্তি আছে। মাম্মা ঠিকই বলেছেন।
মাম্মাকে জেলে খুনের দায়ে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে সেটা বুঝতে পারি। সেজন্য মাম্মা এত দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। হঠাৎ মাম্মা সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি যাবতীয় প্রপার্টি আমার নামে উইল করে দেবেন। শহরের একজন নামকরা উকিল সাহেব বাসায় আসলেন। মাম্মা প্রকাশ‍্যে আমাকে সব লিখে দিলেন।আর সেই খবর বিদ্যুৎ বেগে শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাপীর বন্ধু মহলে। সেই থেকে তাদের মাঝে শুরু হয়েছে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা। বেশ কয়েকবার ওরা চেষ্টা চালিয়েছে। ওদের ধারণা তারা সফল হয়েছে। এখন ওরা জানে আমি মৃত। কিন্তু আল্লাহ পাক যাকে রাখেন,তাকে কে মারতে পারে? আমি বেঁচে আছি। আমার মাম্মাও এখন আগের চেয়ে একটু ভাল আছেন। তাঁর চিকিৎসা চলছে। মাম্মার সেবা - শুশ্রূষার জন্য একজন বাঙালি নার্স রেখেছি।অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে ডোরা বলল, মিস্টার  যোহায়ির তুমি কী আমাকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পার না ? প্লিজ! আমার পাশে দাঁড়াও।
চালনা শহরের সবচেয়ে বড় কাপড় ব‍্যবসায়ী খান আওলাদ সাহেব বলেন,
যোহায়ির দাদু তুমি আমার নাতনীর মন জয় করেছ ।ওর প্রস্তাবে রাজি হলে আমি বড় খুশি হব।
সব অনুষ্ঠানেই একজন বিশিষ্ট ব‍্যক্তি থাকেন।এ অনুষ্ঠানে ও আছেন।তিনি বলেন,এক্সিউজ মি ! এই নাটকে কী দাদুর চরিত্রটি আছে ? দাদু একটু নড়েচড়ে বসে বলেন, কেন থাকবে না?আছে , আমি সবার দাদু। আর দাদুরা একটু ঠোঁট কাটা হয়।
হঠাৎ সবাইকে অবাক করে দিয়ে যোহায়ির বলে,দাদু এই মুহূর্তে আমি আপনাকে কোন কথা দিতে পারছি না।একটু ভেবে দেখি।আমাকে কয়েকটা দিন সময় দিন।

যোহায়িরের বুকে অন্ধকার পেঁচিয়ে একটা ভয়ানক শীতল অনুভূতি হামাগুঁড়ি দিয়ে এগিয়ে আসছে। ডোরা ভারী দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,এ্যাকচুয়ালি তুমি আমার জীবনে হঠাৎ করে মরুভূমির বুকে সবুজের হাতছানি হয়ে আসলে । নিজের কথা আর বাড়াবো না। কিন্তু ওই দম্পতির গোপন রুমের মৎস্য পরিবার হওয়ার পিছনে অনেক রহস্য আছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ডোরা বলতে শুরু করল,এক সন্ধ্যায় এই দম্পতি তাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে নিজ ভবনে একটা পার্টির আয়োজন করেছিল।
মিঃ কেনেডি স্ত্রী জামিয়ানকে খুশি করার জন্য ৬০০ পাউন্ড ওজনের সেরা কেকে মোমবাতি সাজিয়ে ( সাথে আরও অন‍্যান‍্য উপাদেয় ছিল) খোলামেলা ভাবে আনার সময় দূর থেকে একটা পাগলা ঘোড়া তাকে ধাওয়া করেছিল।উনি অস্থির হয়ে বাসায় ছুটে এলেন। ফ‍্যাকাসে মুখে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন, গেস্টরা কোথায়?
তখন বাসায় বিদ্যুৎ চলে গেছে। চারিদিকে অন্ধকার। স্ত্রী জবাব দিল সবাই চলে গেছে। আমি তাদের অনেক রিকোয়েস্ট করলাম। কিন্তু কেউ থাকল না।একটু আগে আমাদের ভবনে প্রচন্ড ভূমিকম্প হয়েছে।

সেজন্য আতংকে সবাই পালিয়ে গেছে। স্ত্রীর কথা শুনে স্বামী অবাক হয়ে বললেন,বলো কী ? ঠিক আছে একদম ভেঙ্গে পড়ো না। কোন গেস্ট ছাড়াই তুমি- আমি এ অনুষ্ঠান করব। স্ত্রী কেক দেখে ভীষণ খুশি হলো।এত সুন্দর একটা কেক উপহার দিয়েছ তুমি আমাকে?
সাথে দেখছি অনেক ফুল ও এনেছ । ওয়াও.... কাশফুলও আছে।
আমার খুব প্রিয় ফুল এটা।
স্ত্রী জামিয়ানের কাছে মনে হলো তার স্বামী এক অরণ্য কাশফুল কিনে এনেছেন। স্ত্রী আনন্দিত হয়েই বলল, তোমার চয়েস আছে।এ ভবনে এখনও বিদ্যুৎ আসেনি।
অথচ পাশের ভবনে বিদ্যুৎ আছে।মিঃ কেনেডি বললেন, ভূমিকম্পের সময় হয়তো বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রুমে বেশ কয়েকটি মোমবাতি জ্বলছে।মিঃ কেনেডি বললেন,আর দেরি কেন এসো আমরা অনুষ্ঠান শুরু করি।উনি কেকের ওপর সাজানো সবকটা মোমে অগ্নি সংযোগ করে স্ত্রীকে বললেন,জান জামিয়ান আজ রাতে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে কেক আনার সময়।
ব‍্যস্ত ভঙ্গিতে স্ত্রী বলল,কী এমন ঘটনা ঘটেছে শুনি ? রুমের প্রতিটা দেওয়ালে বিশাল সব গ্লাস সেট করা আছে।
মিঃ কেনেডি ফুঁ দিয়ে মোমবাতি গুলো নিভিয়ে দেওয়ার পর অপেক্ষা করছে স্ত্রী কেক কাটবে।মিঃ কেনেডি বলতে লাগলেন, কেক আনার সময় একটা পাগলা ঘোড়া আমাকে ধাওয়া করেছে।
আঃ বলো কী ? কথাটা বলেই স্ত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল ফ্লোরে।
মিঃ কেনেডি বুঝতে পারলেন, ঘরের ভেতরে কেউ ঢুকেছে । কেনেডি পাশ ফিরে দেখলেন , অবিকল সেই পাগলা ঘোড়াটা দাঁড়িয়ে আছে চাকু হাতে কেক কাটার জন্য।
ঘোড়াটা ভয়ঙ্কর ভঙ্গিতে হাসি দিয়ে বলল,তোর স্ত্রী অজ্ঞান হয়ে গেছে কেন তুই বুঝিস না? তোর বাসার আমন্ত্রিত অতিথিরা কেন চলে গেছে তুই সেটাও বুঝিস না?
আর ওই ভূমিকম্প আমি সৃষ্টি করেছি।বোকা মানব কোথাকার!
কিছুই বোঝে না। এখন আমি কেক কাটবো তুই খাবি।
কারণ তখন আমি কেক খেতে চেয়েছিলাম তোর কাছে।তুই দিস নি। এখন ঠেলাটা সামলা ।মিঃ কেনেডি দেখলেন কেকটা অদ্ভুত ভঙ্গিতে নাচছে । জ্বলন্ত মোমগুলো নাচছে।আর তার স্ত্রীও ভূতের আকৃতি নিয়ে নাচছে। ।মিঃ কেনেডির তখন দম বন্ধ  হওয়ার  উপক্রম হলো।
উনি করজোড়ে বললেন,
আমাকে তুমি ক্ষমা কর । আমি ভুল করেছি। আমি অন‍্যায় করেছি আমাকে তুমি ক্ষমা কর। তুমি পুরো কেকটা নিয়ে যাও।আর আমাকে মুক্তি দাও।মিঃ কেনেডির স্ত্রীও নাচতে নাচতে তার কাছে চলে এসেছে।
কেনেডি তখন বললেন, নীল পরীর মত সুন্দর বউটা আমার ভূত হয়ে গেছে ‌। উনি জোরে চিৎকার করে বলেন, বন্ধ কর তোমার এই ভয়াবহ দৃশ্য। তুমি আমার সবকিছু নিয়ে যাও । আমার স্ত্রীকে সুস্থ করে দাও।কেক তখন খিল খিল করে হেসে ওঠে বলে, রাতের বেলা তুমি আমাকে খোলামেলা এনে এই শহরের লোকদের বোঝাতে চেয়েছিলে , স্ত্রীকে কতটা ভালবাসো তুমি তাইনা ?
বড়ই সর্বনাশ করেছ তুমি তোমার স্ত্রীর। চেষ্টা করে দেখ,ওই পাগলা ঘোড়াটাকে ঘায়েল করতে পার কিনা?
দ্রিম করে কেঁপে ওঠে মিঃ কেনেডির বুকের ভেতর।কেক এসব কী বলছে ?
একবার চেষ্টা করে দেখি না ,কাজে লাগতেও তো পারে কেকের কথা । ব‍্যস্ত হয়ে ছুটে এসে পাগলা ঘোড়ার ওপর আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হলেন কেনেডি। পাগলা ঘোড়া তখন অবাক হয়ে দেয়ালের আয়নায় নিজের ছবি দেখছিল। ঠিক তখনই আক্রমণটা পড়ল।
পর পর দু'বার বন্দুকের গুলির আওয়াজ হল । ততক্ষণে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে পাগলা ঘোড়ার মুখ। দৌড়ে এসে জাপটে ধরলো কেনেডিকে। ক্রমেই সে হিংস্র হয়ে ওঠে কেনেডিকে পাল্টা আক্রমণ করার চেষ্টা চালায়। ঠিক তখন এক কঠিন হিংস্র ভঙ্গিতে এগিয়ে এলো কেনেডির স্ত্রী, এবং স্বামীকে সে মুক্ত করল হিংস্র ঘোড়ার কবল থেকে। ঘোড়া তখন দড়াম দিয়ে পড়ে গেল ফ্লোরে এবং উচ্চ কন্ঠে বলল, ধ্বংস হোক তোদের এই ভবন। ঠিক তখন ভবনটি ধসে পড়ে সুইমিং পুলে পরিনত হলো। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী  দু'জনেই একটা গোপন কক্ষে মৎস্য পরিবার হয়ে বসবাস করতে শুরু করল। আমিও ওই দম্পতির সঙ্গে থেকে মৎস্য কন্যা হয়ে গিয়েছি।
এ পর্যায়ে নাটকের রিহার্সেল আবার শুরু হলো। ডায়লগ এগিয়ে যাচ্ছে তর তর করে।যোহায়ির,ডোরার শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা প্রায়।নাটকে রিহার্সেল ,প‍্যান্ডেল ,স্টেজে, মেকআপ, লাইটিং, কনসার্ট- সিটিং অ‍্যারেঞ্জম‍্যান্ট কোনটার কমতি নেই।সবকিছু যেন পরিপূর্ণ।ডোরার শরীরে রোবটের পোশাক পরিহিত। মুখাবয়বে  রাত্রের স্টেজের লাইটিংয়ের আলো আছড়ে পড়ে পোশাক এবং শরীরের রং একাকার হয়ে মিশে গেছে।ডোরা চোখ তুলে যোহায়িরের দিকে তাকাতেই যোহায়ির বুকের ভেতরটা জ্বলে ওঠে।যোহায়ির ডোরার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে।ডোরা একটুও নড়ছে না।ওর মনে কোন বিচলিত ভাব নেই। যোহায়ির ক্ষীণ কন্ঠে ডাকল ডোরা ? কিন্তু কোন উত্তর সে পেল না।ডোরা আনমনে  কি যেন ভাবছে ‍।সেটা বুঝতে পারল যোহায়ির । অনেকক্ষণ পর ------
যোহায়ির আমরা ঠিক কোথায় ল‍্যান্ড করব বলো তো ? একটা ভাল স্থান দেখে ল‍্যান্ড করা উচিত।
যোহায়ির ঃ  ডোরা দেখ ওইখানে কত মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। এই দেশটি নাকি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী দেশ। দেশটার নাম বাংলাদেশ। এখানে মানুষের মাঝে মানুষের সম্প্রীতির বন্ধন আছে ।আমরা তো এখানে ল‍্যান্ড করতে পারি।কি বলো ডোরা ?
ডোরা ঃ যোহায়ির তুমি ঠিকই বলেছ। ঠিক আছে চলো আমরা ওখানেই ল‍্যান্ড করি । এই মাত্র কলেজ মাঠের অনুষ্ঠানে দু'জন রোবট এসে নামল।রোবট দু'টো নেমেই হাত  - পা , নেড়েচেড়ে সবাইকে স্বাগত জানাল। ইতিমধ্যে অত্র এলাকায় চাউর হয়ে গেছে,চাঁদ গ্রহ থকে পৃথিবীতে এক বিস্ময়কর মহাজাগতিক প্রাণী রোবট প্রবেশের খবর । মানুষ তো অবাক রোবট দু'টো দেখে। একজন মানবী (নারী) সালমা দেবযানী এগিয়ে এসে বলল,হ‍্যালো... চাঁদ গ্রহের রোবট তোমাদের স্বাগতম! তোমরা কেমন আছ? 
যোহায়ির ঃ ডোরা দেখ পৃথিবীর মানুষ আমাদের সঙ্গে কথা বলছে ।হ‍্যালো , পৃথিবীর মানুষ তোমাদেরও       সু- স্বাগতম! আমরা ভাল আছি।তোমরা ভাল আছ তো ? তোমাদের দেশে উন্নয়নের জোয়ারে মুগ্ধ হয়ে আমরা এখানে ল‍্যান্ড করেছি ‌। কিন্তু পৃথিবীর মানুষ , আমাদের মাথায় একটা বিষয় কিছুতেই ঢুকছে না একটু খুলে বলবে কি? আমরা ল‍্যান্ড করার সময় দেখলাম, সাবেক বিরোধীদলীয় নেত্রী বক্তৃতা দিচ্ছেন , দীর্ঘ সে বক্তৃতা ।এসব বক্তৃতা শুনে বুঝতে পারলাম, এদেশের জনসাধারণ ভাল নেই। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তখন তাঁরা টাকা আত্মসাত করে ব‍্যাংক ব‍্যালান্স বাড়ায় আকাশ সমান। ত্রাণের টিন আত্মসাৎ করে । ত্রাণের চাল,ডাল ,গম আত্মসাৎ করে। অবৈধ ভাবে গাড়ি, বাড়ি সম্পাদের মালিক হয়।এসব কি শুনলাম ? এই কি বাংলাদেশের মত একটা সুখী দেশের পরিচয় ? আরো আছে ডোরা ---- আমরা ল‍্যান্ড করার সময় দেখলাম,ওই যে বাস্তুহারা বস্তিতে, কয়েকজন মানুষ কাঁদছিল ? আমরা তাদের কাছে গিয়েছিলাম, বললাম মা আপনি কাঁদছেন কেন?আজ যে একটা খুশির দিন। এদিনে কেউ কাঁদে ? তখন পাশে থাকা বাবা ডুকরে কেঁদে উঠে বলেন,তোমরা কে বাবারা ? তোমাদের তো চিনবার পারলাম না।আজ কয়দিন ধরে আমরা না খাইয়া আছি।পোলা মাইয়াগোর মুখে কোন খাবার দিতে পারি নাই। এখন আমার কোন কাজ নাই।ঘরেও কোন খাবার নাই।
ডোরা ঃ যোহায়ির এক্ষুনি ভাল কোন রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার নিয়ে এসো।একটু পরেই আমি ভাল কিছু খাবার নিয়ে আসলাম।ওরা অভুক্ত পেটে বড় তৃপ্তি সহকারে খেল।আজ যে ঈদের একটা বিশেষ দিন।সে জন্য বোধহয় কষ্টটা ওদের বেশি করে পীড়া দিচ্ছিল। খাবার শেষ করে তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে দু'হাত তুলে অনেক দোয়া করলেন।আমরা যেন দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকি। এই যে অসহায় মানুষদের প্রাণ খোলা দোয়া এটা যে কত বড় প্রাপ্তি সেটা আমরা অনুভব করলাম।প্রত‍্যেক দেশের সরকার যদি ,এইসব ছিন্নমূল অসহায় মানুষদের জন্য বছরে দু'টো ঈদ উৎসবে একটু উন্নতমানের খাবার, একটু ভাল পোশাকের আয়োজন করেন। তাহলে এই নিয়মটা কত সুন্দর একটা সিস্টেমের আওতায় পরিচালিত হতো একবার ভেবে দেখেছ ডোরা ? তাছাড়া সরকার এমন একটা সিস্টেম চালু করতেই পারেন ছিন্নমূল মানুষের ম। এমন বিশেষ দুই একটা দিনে তাঁদের তদারকি করা উচিত। তাহলে ঈদের দিনে দেশের কোন গরীব মানুষ কি আর না খেয়ে থাকে ?
আমার খুব কষ্ট হলো ওদের জন্য ডোরা।
ডোরা ঃ যোহায়ির ,চলো আমরা এখান থেকে তাড়াতাড়ি পালিয়ে যাই। এদেশের মানুষ যে কত ভাল ,তা বোঝাই যাচ্ছে ‌।যে দেশে ঈদের দিন ছিন্নমূল মানুষগুলো না খেয়ে দিনাতিপাত করছে,অথচ সরকারে এসে তাঁরা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ব‍্যাংক ব‍্যালান্স বাড়ায়। তাদের বিবেকে কি একটুও নাড়া দেয় না? এটা কোন কথা হলো ? এই টাকায় ওই সব গরীবের ও হক আছে। চলো আমরা ফিরে যাই। এখানে থাকলে শুধু কষ্টই পাব।
আমরা ফিরে যাওয়ার সময় দেখলাম গাছ, ফুল,পাখি ,নদী, প্রজাপতি, সাগর, প্রকৃতি সব কিছু কত সুন্দর।একটা সুন্দর ছবির মত।আর এত সম্পদে ভরপুর একটা দেশের মানুষরা কিনা না খেয়ে থাকে ?
আমার বিশ্বাস হতে চায় না। আমাদের আর ফেরা হলো না। মানুষ সম্পর্কে আমাদের জানার আগ্রহ আরও বেড়ে গেল।
যোহায়ির ঃ ডোরা একটু দাঁড়াও আরও আছে ---- আমরা পৃথিবীর গ্রহে নামার সময় আরও দেখলাম,  দেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার রেসকোর্স ময়দানে বক্তৃতা দিচ্ছেন -- আগামী নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ।দ্রব‍্যমূল‍্যের দাম উর্ধ্বগতি রোধ করতে হবে।আমরা এদেশটাকে মানুষের বাসযোগ্য করে যেতে চাই।  এদেশের একটি মানুষ ও আর না খেয়ে দিনাতিপাত করবে না। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে এদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। বিশ্বের মানচিত্রে আমরাই একমাত্র দেশের মানুষের জন্য, ভাষার জন্য, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য ৩০ লক্ষ মানুষের তাজা রক্তের বিনিময়ে এদেশটাকে স্বাধীন করেছি। আর সেই দেশের মানুষ না খেয়ে অনাহারে ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে ?তা হয় না ?আমরা এই দেশকে সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবো অচিরেই।
যোহায়ির ঃ দেখলে ডোরা, সব মানুষ খারাপ নয়।সবাই খারাপ হতে পারে না। এদের মধ্যে ভাল মানুষ ও আছে।
ডোরা ঃ  কিন্তু যোহায়ির , তুমি জান না এরা কথা দিয়েও কথা রাখে না। যখন  ক্ষমতায় আসে,সব ভুলে যায়। পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকে লুটপাট করতেই ব‍্যস্ত হয়ে পড়ে।এরা গরীব দুঃখীদের কখন দেখবে?এরা হাজার, হাজার ,কোটি ,কোটি টাকা দিয়ে  যে কি করবে বুঝিনা?
যোহায়ির বাদ দাও। ভাল লাগছেনা এসব আলোচনা।
ডোরা ঃ  ( গাছ দেখিয়ে বলে ) কিন্তু যোহায়ির এগুলো কী ? এরা আবার কোন জাতীয় প্রাণী?
যোহায়ির ঃ তুমি জান না ডোরা ? ওগুলো তো গাছ , উদ্ভিদ প্রাণী।গাছ থেকে মানুষ অক্সিজেন গ্রহণ করে। পানির ওপর নাম যেমন জীবন।ঠিক গাছ ও তেমনি মানুষের জীবন বাঁচায়। পৃথিবীর এ ক্ষুদ্র গ্রহের জন্য আমি চাঁদ গ্রহের পক্ষ থেকে নিবেদন করছি পৃথিবীর সব মানুষের জন্য অজস্র অজস্র ভালবাসা।
যোহায়ির ঃ কিন্তু ডোরা, একটা ব‍্যাপার কী বুঝতে পেরেছ ?আমরা চাঁদ গ্রহ থেকে মনে করেছিলাম, বাংলাদেশটা সুখী সমৃদ্ধশালী একটা দেশ। কিন্তু যা আমরা দেখলাম,তাতে তো এদেশটাকে আর সুখী দেশ বলতে পারি না। আমার নিজেরই খুব লজ্জা লাগছে বিষয়টা ভাবতে। ডোরা, গণতন্ত্রের মাধ্যমে সরকারের উচিত  ক্ষমতায় আসা  এবং এদেশকে সুন্দর ভাবে পরিচালনা করা। সুখ- দুঃখে জনগণের পাশে দাঁড়ানো। জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন করা। মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।
অথচ তারা এসব পরোয়া  না করে ,
ক্ষমতার অপব্যবহারের খেলায় মেতে ওঠে। অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যায় রাতারাতি।
গড়ে তোলে পাহাড় সম অর্থ  সম্পদ।অর্থ পাচার করে বাইরের দেশে। দেশের ব‍্যাংকে তাদের টাকা রাখার জায়গা থাকেনা । বিদেশের ব‍্যাংকে তারা অর্থ পাচার করে।এমন কী বাইরের দেশ থেকে এদেশের গরীব দুঃখীদের জন্য যে সকল ত্রাণ সামগ্রী আসে সেটাও আত্মসাৎ করতে তাদের বিবেকে এতটুকু বাঁধে না।আযব এ দেশ ? এই যদি হয় একটি স্বাধীন দেশের পরিস্থিতি? তাহলে এর মত লজ্জার আর কী হতে পারে?
ডোরা ঃ যোহায়ির,তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটা কাজের মত কাজ করেছে।তারা বিগত সরকারের অপরাধ সমূহ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। সেজন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিঃসন্দেহে দেশের জন্য এবং দশের মঙ্গলের জন্য অবশ্যই অনেক বড় সাহসি ভূমিকা রেখেছেন।যেটা এর আগে কখনও কোন সরকারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এটা একটা স্বাধীন দেশের জন্য অবশ্যই ইতিহাসের পাতায় মাইল ফলক হয়ে থাকবে।
নাটক এখানেই শেষ হলো । মুগ্ধ হলো দর্শকমন্ডলী। কোন অপরাধ প্রবণতা মানুষের মাঝে  যখন কোন প্রতিক্রিয়া ছড়ায় না, সেক্ষেত্রে দু'জন রোবটের মাঝে কথোপকথনে সেগুলো অতি চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে। তাহলে কে বলে, মানুষের মত রোবটের  কোনস্মৃতি শক্তি নেই? প্রাণ নেই ? হয়তো অদূর ভবিষ্যতে রোবট মানুষকেও ছাড়িয়ে যাবে।
ফুলের তোড়া হাতে এগিয়ে এলো সালমা দেবযানী। আপনি ডোরা চরিত্রে দারুণ অভিনয় করলেন মিস ক‍্যামেলিয়া‌। অসাধারণ ভাল লেগেছে আপনাদের অভিনয়। এ‍্যাকচুয়ালি  এত অল্প সময়ের মধ্যে আমি ভাবতেই পারিনি এত সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে পারব নাটকটি।সব কৃতিত্ব কিন্তু নায়ক জুবায়ের যায়েদের প্রাপ‍্য। উনি হেল্প না করলে ভাল করা সম্ভব হত না। আমি কিন্তু নাটক,নাচ , গানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রধান অতিথির পক্ষ থেকেও ফুলের তোড়া দেওয়া হল নায়ক - নায়িকাকে। অনুষ্ঠান শেষে রাত নয়টায় সুন্দর ডিনারের আয়োজন করা হলো।দাদু -- বললেন, সর্বনাশ! রোবটরা কী খাবার খেতে পারে নাকি ? তিড়িং বিড়িং করে লাফিয়ে ওঠে ক‍্যামেলিয়া বলে,হ‍্যাঁ নানু আমাদের ও পেট আছে।আমরাও খেতে পারি অনেক খাবার।হেসে উঠলেন নানু।তাই নাকি দিদা এত দেখছি,এক আযব রোবট!
সবাই খান সাহেবের সাথে হেসে উঠল।

যায়েদ অনুষ্ঠান শেষ করে রাত এগারোটার দিকে বাসায় ফিরল। তখন অন্ধকার আছড়ে পড়ছে চারিদিকে। গাছের ফাঁকে ফাঁকে ও রাস্তার দু'পাশে জোনাকিরা আলো ছড়াচ্ছে। ঝিঁঝিঁ পোকাদের ডাক ছাড়াও আরও কিছু অচেনা পোকাদের শব্দ কানে বাজছে। মনের অজান্তে যায়েদের পুলকিত মন মৃদু কন্ঠে গেয়ে ওঠে  -------------

"যার ছায়া পড়েছে -- মনের ও আয়নাতে 
সেকি তুমি নও --"
সম্ভবত এতক্ষণে যায়েদ কিছুটা হলেও আঁচ করতে পেরেছে সে ক‍্যামেলিয়াকে প্রথম দর্শনেই ভালবেসে ফেলেছে। কিন্তু মনের একান্ত গোপন কথাটা সে এত শিঘ্রই ক‍্যামেলিয়াকে বলতে চাই না।সে ভাবে,থাক না রূপবতী, নিজের মত করেই থাক কিছুদিন। ওর দেখা তো আমি পেয়েছি।সারা রাত্রি ভাবতে ভাবতে কেটে গেল তার।সে এক ভাললাগার ভাবনার রাত। অনুভূতিকে নাড়া দেওয়ার রাত। মৎস্য কন্যার সান্নিধ্য লাভের রাত।
পরদিন বিকেল বেলা যায়েদ বসে আছে বাংলোর লেকের সামনে ।ওই লেকের জলেই যেন সে মৎস্য কন্যাকে খুঁজতে শুরু করল। হঠাৎ আকন্ঠ ভিজিয়ে  মৎস্য কন্যা লেকের জল থেকে বলল, কী করছ যায়েদ ? আমাকে খুঁজছো তাই না?
আরে আমি তোমার লেকের জলে আছি। আমার জন্য তুমি তোমার বাংলোর সামনে এত সুন্দর একটা লেক নির্মাণ করেছ । আমার বিশ্বাস হয় না। আমি সারাজীবন থাকব তোমার এই লেকের গভীর জলে । তুমি পাশে বসেই উপভোগ করছ সুন্দরের এই মহাৎ 
আয়োজন।
হঠাৎ যায়েদের দু'চোখ ঝাপসা হয়ে আসল।এ সে কোন দৃশ্য দেখছে ? হঠাৎ তার কান ও বন্ধ হয়ে এলো।এ সে দু'কানে কি শুনছে ? তবে কি তার দু'চোখ ঝলসে যাচ্ছে?
দু'কান  বধির  হয়ে যাচ্ছে? ওই তো সেই রূপবতী। কাল রাত্রে স্টেজে দেখা সুন্দরী ক‍্যামেলিয়া ।সে এখন তারই লেকের জলে মৎস্য কন্যা হয়ে ডুব সাঁতার খেলছে? 
যায়েদ ধীরে ধীরে লেকের জল স্পর্শ করল , এবং  সে লেকের জলে নেমে পড়ল। মৎস্য কন্যাকে সে ধরার চেষ্টা করল। কিন্তু তার দু'চোখ ফাঁকি দিয়ে মৎস্য কন্যা লেকের পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকে। যায়েদ আপন মনে ভাবে , আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি নাতো ? ঠিক তখন ক‍্যামেলিয়া ঘিয়ে রঙ বানিয়া কাতান শাড়ি পরে এলো চুলে এসে দাঁড়ায় লেকের পাড়ে। লেকের জল আনন্দে উছলে উঠল চারিদিকে।আর ক‍্যামেলিয়ার দু'চরণ ছুঁয়ে গেল লেকের জল।কী ভীষণ স্নিগ্ধ পেলব শুভ্রতার মধুর স্পর্শে ধন‍্য হলো যায়েদ । তখন সে হেসে বলে,কে বলে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি?ওই তো আমার "মৎস্য কন্যা।"আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।কী এক গভীর দূর্বার মুগ্ধতায় দু'চোখ বন্ধ হলো ওর।ক‍্যামেলিয়া নেমে এল লেকের জলে।যায়েদের কাছে এগিয়ে এসে বলল,কী খুঁজছো তুমি এমন গভীর ভাবে ? আমি তো তোমার খুব কাছেই আছি। যায়েদ দু'চোখ বন্ধ করেই বলল,হ‍্যাঁ ঠিক তাই। আমি তো এতক্ষণে বৃথাই তোমাকে খুঁজছিলাম এখানে। যায়েদ স্পর্শ করল মৎস্য কন্যাকে। মৎস্য কন্যা আবেগাপ্লুত হয়ে বলে, কেন বৃথাই সময় নষ্ট করছি আমরা ? চলো চলো লেকের জলের গভীরে লুকাই দু'জন।আমাকে আর কোন শত্রুরা খুঁজেই পাবেনা।ক‍্যামেলিয়া মৎস্য কন্যার ড্রেস পরল।সাথে অক্সিজেন ব‍্যবস্থাও আছে।ব‍্যাপারটা যায়েদের কাছে খুব অদ্ভুত লাগল।সেও মৎস্য কন্যার কাছ থেকে সকল কলাকৌশল আয়ত্ব করে নিল।সে মৎস্যকন্যার রথে চড়ে বসল। তারপর ডুব সাঁতারে দু'জন তলিয়ে গেল লেকের জলের তলদেশে।এক জোড়া মানব মানবী রহস‍্যময় গভীর ভালবাসার দাবীতে তলিয়ে গেল চোখের পলকে লেকের জলে।
মুহুর্তে মনে হলো হাসছে , লেকের জল ঝর্নার পতনের মত ঝির ঝির শব্দ করে।যেন স্বার্থক হল এক " মৎস্য কন্যার প্রেম" যুবায়ের যায়েদকে ঘিরে।

 সমাপ্ত --------

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK