বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯
Wednesday, 05 Jun, 2019 11:12:00 am
No icon No icon No icon

আমিও স্বপ্ন দেখি জুনিয়র এরশাদের সঙ্গে ঈদ করার

//

আমিও স্বপ্ন দেখি জুনিয়র এরশাদের সঙ্গে ঈদ করার


বিদিশা সিদ্দিক: আবার এলো ঈদ। ঈদের স্মৃতিচারণ করতে গেলেই চোখ দু'টো বুজে আসে। গাল গড়িয়ে দুই চোখের জল বেয়ে ঠোঁটে লাগে নোনতা স্বাদ। আব্বা আমাদের ৬ ভাই-বোনের মধ্যে আমাকেই বেশি ভালোবাসেন। আজও তাই আমি জানি। ঈদের সময়টা কেন জানি নিজেকে মনে হয় আমি সেই কৈশোরের বিদিশা। খুব সকালে উঠে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে, নতুন সাবান দিয়ে খুব ফেনা করে গোসল করা।
তারপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আমার সাইকেল নিয়ে ঘুরতে বেড়ানো। স্কুলের বন্ধুদের সাথে ঘুরে ঘুরে বাড়িতে গিয়ে সেমাই, জরদা খাওয়া। মা ৫ বোনকে একগজ কাপড় দিয়ে ইউনিফরমের মতো জামা বানিয়ে দিত। সেই জামা পড়ে ঈদের সালামি কালেক্ট করার মধ্যে সীমাহীন আনন্দ পেতাম। সেটা ছিল আমার ছেলেবেলার ঈদ। এরপর বিদেশে থাকা বছরগুলো অনেক ঈদের দিন পার করেছি না বুঝে। ঈদ কখন এলো কখন গেলো বুঝতাম হয়তো দেশে ফোন করে। জীবনের শ্রেষ্ঠ কয়েকটি ঈদ করেছি এরিক'কে কোলে নিয়ে রংপুরে। এরিক এর হাঁটতে সমস্যা ছিল। বহু বছর পরে হাঁটতে শিখে ও। ৪ বছর ধরে আমার কোলেই থেকেছে ও। যেহেতু বড় বৌ ছিলাম আমি, তাই সবাই আমাদের পল্লী নিবাস বাড়িতেই ঈদের দিন বেড়াতে আসতো। এরিক এর বাবার নির্দেশ সবাই খেয়ে যাবে ও সেই সাথে শাড়ি, জামা-কাপড় ও নিয়ে যাবে। প্যান্ডেল টানিয়ে বড় বড় ডেগ চড়িয়ে রান্না করতাম আমি নিজেই। ওহাব, বাদশা, মতি সাহায্য করতো আমায়। এরিকের বাবা আমার রান্নার খুব ভক্ত। উনি আমার রান্নার এতো প্রসংশা করতেন বলেই ডেগ-এ রান্নার মতো এমন দুঃসাহস আমি সাহস করে করে ফেলতাম, তাও কয়েকশো' মানুষের জন্য। উনি নিজ হাতে তুলে খাওয়াতেন গরীব, এতিমদের। উনার ছোট ভাই লালু, জাতীয় পার্টির নেতা ভরসা চাচাও আসতেন। এক সাথে সবাই খেতেন। আজ উনারা কেউ নেই। চলে গেছেন এক এক করে না ফেরা দেশে। এই ঈদে এরশাদ সাহেবও ভাবছেন, এটা হয়তো উনার শেষ ঈদ। আজ অসুস্থ, কাহিল হয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন। এরিক আছে পাশে। আমি ঈদ করছি বৃদ্ধাশ্রমে ভাগ্য বঞ্চিত বাবা-মা'দের সাথে।
শ্যাম্পুতে এখন আর ছোটবেলার মতো ঘ্রাণ পাওয়া যায় না। নতুন সাবান প্রয়োজন নেই আর। ভাই, বোনরা হয়তো ফোন করবে ঈদের দিন দেশ বিদেশ থেকে। রংপুরের পল্লী নিবাস বাড়ি নতুন করে তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন এরিকের বাবা। কি জানি, উনিও হয়তো মনে মনে চাইছেন আমার মতোনই যে, এরিক পল্লী নিবাসে ঈদ করবে ভবিষ্যতে, রংপরে সকল আত্মীয়স্বজন, গরীব, এতিম, দুঃখী মানুষের সাথে। সকালে ঈদের নামাজ পরে দাদা, দাদীর কবর জিয়ারত করে প্যান্ডেল টানিয়ে ডেগ চড়িয়ে রান্না করবে বাবুর্চিরা। আমিও স্বপ্ন দেখি জুনিয়র এরশাদের সাথে আবার ঈদ করার।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK