রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯
Friday, 24 May, 2019 12:34:03 am
No icon No icon No icon

মুহাম্মাদ(সাঃ), কুরআন এবং ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব

//

মুহাম্মাদ(সাঃ), কুরআন এবং ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব


আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ: ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মাদ(সাঃ) অন্য সকল ধর্মমতের ধর্ম প্রচারক ও প্রবর্তকদের মতো কোন পৌরাণিক বা কাল্পনিক দেবতা বা ব্যক্তিত্ব নন। নিজেকে কখনো দেবতা হিসাবে দাবী করেননি। বরং তিনি মক্কা-মদীনা নগরী এবং আরব উপদ্বীপের একজন জীবন্ত ও ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি মক্কার কুলীন/সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহন করেছিলেন। তার বাবার নাম আবদুল্লাহ ও মার নাম আমেনা ছিল। তিনি তার চাচা আবু তালিবের ঘরে ও তার কাছে প্রতিপালিত ও বড় হয়েছেন। তিনি ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত আসমানী কিতাব আল কুরআনের বাহক এবং ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসূল। চল্লিশ বছর বয়সে হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় তার উপর এই ওহী/ঐশী বাণী নাজিল/অবতীর্ণ হয় ফেরেশতা জিবরাঈল মারফত। তার মাধ্যমে প্রচারিত আল্লাহর মনোনিত দ্বীন/ধর্ম ইসলাম পরিপূর্ণতা অর্জন করে পৃথিবীর মানব জাতির মাঝে। এই ইসলাম ধর্ম ঐতিহাসিকভাবে সত্য-সুন্দর, কল্যাণকর, জীবনমুখী, বাস্তবতাপূর্ণ, বৈজ্ঞানিক, শান্তির ধর্ম। এজন্য হযরত মুহাম্মাদ(সাঃ)-কে মানবতার মুক্তিদাতা বলা হয়।

একেশ্বরবাদী ইসলাম ধর্মমত প্রচারের জন্য তিনি মক্কার মুশরিক/পৌত্তলিক দেবদেবীর উপাসক কুরাইশদের প্রধান শত্রুতে পরিণত হন। একপর্যায়ে কুরাইশরা মুহাম্মাদ(সাঃ)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করলে তিনি তার জন্মভূমি মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত/দেশত্যাগ করেন। এরপর সেখানে তিনি মদিনার স্থানীয় মুসলমান, ইহুদী, খ্রীষ্টান, মুশরিক গোত্রের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে এবং লিখিত চুক্তির মাধ্যমে তার নেতৃত্বে মদীনায় সাধারণ মুসলিম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি এর প্রধান সভাপতি পদে আসীন হন। এরপর তিনি পরের বছর এখান থেকে মুসলিম সেনাবাহিনীকে সংগঠিত ও শক্তিশালী করে প্রায় দশ হাজার জিহাদী সাহাবী নিয়ে প্রায় বিনা রক্তপাতে মক্কা নগরী জয় করেন এবং পবিত্র কাবা শরীফকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিমা মুক্ত করেন। তিনি তার শাসনকালে আরব উপদ্বীপ, ইয়েমেন, ইরাক, সিরিয়া, জেরুজালেম পর্যন্ত সফলতার সাথে বিশাল মুসলিম সাম্রাজ্য বিস্তার, স্থাপন ও শাসন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি মদীনা থেকেই শাসনকার্য পরিচালনা করেছিলেন এবং এখানেই তিনি ওফাত লাভ/মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করেছিলেন। মদীনা মনোয়ারা মসজিদে নববীতেই তাকে দাফন করা হয় এবং এখানে তার পবিত্র রওজা মুবারক/মাজার শরীফ রয়েছে।

ইসলামকে তিনি সত্য, মানবতা, ক্ষমা, সামাজিক ন্যায় নীতি ও বিচারের আলোকে প্রচার, প্রতিষ্ঠা করে এবং ধর্ম ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে জিহাদ/ধর্মযুদ্ধ করার শিক্ষা ও দৃষ্টান্ত তিনি বিশ্ব মুসলিম উম্মার সামনে রেখে গিয়েছেন। পৃথিবীর আর কোন ধর্ম প্রবর্তক ইসলাম এবং মুসলমানদের নবী মুহাম্মাদ(সাঃ)-এর ন্যায় জীবীত থাকাবস্থায় তাদের স্ব স্ব ধর্মমতকে ও সামগ্রিক ধর্মীয় আদর্শনীতিকে পরিপূর্ণভাবে প্রচার, প্রসার, প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি অনুসারী ও মানব সমাজের মাঝে। নিজ হাতে নেতৃত্বে কোন রাজ্য বা সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে একে ধর্মীয় অনুশাসনের ভিত্তিতে শাসন পরিচালনা করার সময় সুযোগ পাননি। নিজেদের প্রচারিত ধর্মমতকে নিজের অঞ্চলের অনুসারীদের সামাজিক, আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দিতে এবং দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যেতে পারেননি। এক্ষেত্রে মুহাম্মাদ (সাঃ) তার জীবনদশাতেই আধ্যাত্নিক এবং জাগতিক উভয় জগতেই চূড়ান্ত সফলতা ও সম্মান অর্জন করতে সফল হয়েছেন। এজন্য পৃথিবীর ইতিহাসে মু্হাম্মাদ(সাঃ)-কে সর্বাধিক সফল ও প্রভাবশালী ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক, সামরিক নেতা বলে অভিহিত করা হয়।

ইসলাম ধর্ম ও তার ইতিহাস ঐতিহাসিকভাবে আল্লাহর একত্ববাদ, মানবিকতা, যুক্তিবাদ, বাস্তবতার উপর প্রতিষ্ঠিত। ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রীয় জীবন, বিশ্ব সভ্যতার প্রতিটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, ক্ষেত্র, স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা, সম্ভাবনাকে ইসলাম স্বীকার করেছে। মার গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় থেকে মৃত্যুর পর মাটির বুকে কবরস্ত হওয়ার পর পর্যন্ত মুসলমানদের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্র ও কাজের পরিপূর্ণ ইসলামী বিধিবিধান আল কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে আমাদের সামনে রেখে গিয়েছেন আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ(সাঃ)। এছাড়া বিশ্বের আর অন্য কোন ধর্মের ধর্মগ্রন্থই কুরআনের মত বিশুদ্ধ অবিকৃত অবস্থায় নেই। ইসলাম ধর্মের পুরোহিতরা ছাড়া অন্য সব ধর্মের পুরোহিতরাই তাদের ধর্ম এবং ধর্মগ্রন্থকে বিভিন্ন সময় আরো পরিপূর্ণতা দেয়ার এবং যুগোপযোগী করার জন্য নিজ নিজ আদি বিশুদ্ধ ধর্মগ্রন্থকে সংস্কার ও আধুনিক করেছেন। সেক্ষেত্রে রাসূল(সাঃ)-এর ওফাত লাভের পর ইসলামের একনিষ্ঠ অনুসারী মুসলিম শাসক, প্রশাসক, ওলামারা মিলে এবং কুরআনে হাফিজদের কাছ থেকে শুনে বিশুদ্ধ লিখিত কুরআন লিপিবদ্ধ করেছেন। যা জন্মলগ্ম থেকে বিগত ১৪০০ বছরের অধিক সময় ধরে মুসলমানদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ আল কুরআন আদিম অবিকৃত বিশুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। এজন্যই ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, কুরআনকে অবিকৃত ধর্মগ্রন্থ এবং হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব বলা হয়। আমিন। 
[email protected]

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK