বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯
Saturday, 11 May, 2019 11:55:05 pm
No icon No icon No icon

ইসলামে মায়ের সর্বোচ্চ মর্যাদা, সম্মান ও অধিকার

//

ইসলামে মায়ের সর্বোচ্চ মর্যাদা, সম্মান ও অধিকার


আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ: ইসলামে মায়ের মর্যাদা, সম্মান এবং অধিকার উচ্চ আধ্যাত্নিক স্তরে উপনীত। ইসলামী দর্শন ও মূল্যবোধের সীমায় মা নিশ্চিতভাবে সন্তানদের জন্য আধ্যাত্নিক উৎকর্ষতা অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং স্তর বটে। কারণ এই ইহজগতে সন্তানের জন্য মার অকৃতিম ভালবাসা, স্নেহ-মমতা, সন্তুষ্টি, মনের অন্তঃস্থল থেকে আশির্বাদ, দোয়া সন্তানের জান্নাত পাবার এক চাক্ষুস জীবন্ত উসীলা এবং সদর দরজা। ধর্মানুভূতি/আধ্যাত্নিকতা মানুষের মনের অন্তঃস্থলের একটি ভাব, আবেগ, বিশ্বাস মাত্র এবং এজন্য তা অনেকক্ষেত্রেই মানুষের নৈতিক চিন্তা, পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাঙ্গণের জ্ঞান, যুক্তি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, আবিষ্কারের ধার ধারে না। কারণ ধর্মকে সব দিক থেকে পরিপূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয় এবং স্রষ্টাকে চাক্ষুস দেখা যায় না, কোনভাবে দেখা সম্ভব না। মানুষের মন ও হৃদয়ের অকুন্ঠ আস্থা, বিশ্বাস, ভক্তি এবং অনুভবই কেবল তার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু জন্মদাত্রী মাকে দেখা এবং অনুভব করা যায়। যেসব শিশু জন্মের পূর্বে বা সময় বা শিশুকালেই মাকে হারিয়েছে বা হারায় তাদের কাছে মা কেবলই স্মৃতি বা কাল্পনিক অনুভবের বিষয়। আর যারা মার ভালবাসা-মমতা, শাসনটুকু অন্তত পেয়েছেন, দেখেছেন, জেনেছেন তাদের কাছে মা চাক্ষুস ও বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অনুভবের ব্যাপার। ইসলামী শরীয়া মোতাবেক জীবীত থাকাবস্থা থেকে মরণের পরও সন্তানদের কাছ থেকে মর্যাদা, সম্মান, আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা লাভ, দোয়া পাওয়া মা-বাবার হক/অধিকার। মার হক কেবল আপনার বাবার অর্থ-সম্পত্তির উপরই নয় বরং তার নিজ সন্তান এবং নাতি-নাতনীদের অর্থ-সম্পদের উপর সুনিশ্চিত করা হয়েছে।(এছাড়া মার নিজেরও তার বাবা-মার অর্থ-সম্পদের উপর সুনির্দিষ্ট শরীয়া হক ও অংশ প্রতিষ্ঠিত)। আমাদের নবীজী মৃত মা-বাবার কবরের আজাব থেকে মাফ, মুক্তি, জান্নাত লাভের জন্য তাদের সন্তানদের আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতে এবং রাব্বি হাম হুমা কামা রাব্বা ইয়ানী সাগিরা সূরাটি সর্বদা বেশি বেশি করে পড়তে বলেছেন।

ইসলাম ধর্মে বাবা-মার পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত বলে ঘোষিত। আর এক্ষেত্রে মার স্থান বাবার চেয়ে তিন গুণ বেশি উচ্চে। একথা স্বয়ং ইসলাম ও মুসলমানদের নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ(সাঃ)-এর মুখের কথা। হাদিস মতে, এক ঘটনাক্রমে একদিন এক সাহাবী অন্যান্য সাহাবীদের সম্মুখে নবীজীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি আল্লাহর পরে এই পৃথিবীতে আল্লাহ কাওকে সেজদা করার/সবচেয়ে সম্মান দেয়ার কথা বলতেন তাহলে কাকে করতে বলতেন? এই সময় নবীজী উক্ত সাহাবীর এই একই প্রশ্নের উত্তরে পর পর প্রথম তিনবার মার কথাই উল্লেখ করেছেন এবং চতুর্থবারে তিনি বাবার কথা বলেছেন। এই কথার অর্থ যার যার পিতামাতার পদতলে তাদের সন্তানদের/ছেলেমেয়েদের বেহেশত। এছাড়া অন্য কারো পায়ের নিচে কারো বেহেশত নেই। বাবা-মা উভয়ের ক্ষেত্রে মার স্থান বাবার চেয়ে তিনগুণ বেশি উচ্চে বলেই মার পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত আছে কথাটির ব্যাপক প্রচলন ঘটেছে। এই কথাটি ভাবার ও বলার মাজেজা/তাৎপর্য হচ্ছে একজন/প্রতিটি মা যে অপরিসীম কষ্ট-বেদনা সহ্য করে একটি সন্তানকে প্রথম পেটের প্রকোষ্ঠের ডিম্বাশয় ও গর্ভাশয়ের ভেতর ধারন, পালন, প্রসব করে আবেগ, ভালবাসার নাড়ির বন্ধন দিয়ে জন্ম দেয়। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বুকের দুধ পান করিয়ে, আদর, ভালবাসা, স্নেহ, মমতা, যত্ন, সেবা, শাসন, শিষ্ঠাচার শিক্ষা-দীক্ষা দিয়ে বড় ও ভাল মানুষ করে তোলে তা পৃথিবীর কোন পুরুষ/স্বামী/বাবার পক্ষেই কোনদিন করা সম্ভব না। মা তার সন্তানের মুখের হাসি, আনন্দ ও সুখ দেখার জন্য, সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত এবং জীবন রক্ষার জন্য নিজে সারা জীবন সকল দুঃখ, কষ্ট-বেদনাকে সহ্য করে, নিজের অনেক শখ, চাওয়া, পাওয়াকে ত্যাগ করে থাকে এবং সময়ের প্রয়োজনে অকাতরে নিজের প্রাণকে বিসর্জন পর্যন্ত দিয়ে থাকে/দিতে পারে। যা অনেকক্ষেত্রেই অধিকাংশ বাবা মার মত সন্তানের জন্য এতটা নিঃস্বার্থ, কষ্ট সহিষ্ণু, স্নেহ প্রবল, সংযমি, সাহসী, আত্নত্যাগী হতে পারে না। এজন্যই মুহাম্মাদ(সাঃ) পৃথিবীতে স্রষ্টার পর মাকেই সর্বোচ্চ মর্যাদাকর স্থান দিয়েছেন। আমার ছেলেও একদিন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল মার পায়ের নিচে আমার বেহেশত কেন? তখন আমি ওকে ঠিক এই কথাগুলোই বলেছিলাম।

তাই মাকে ভাল না বাসলে, মার কথা না শুনলে, না মানলে, সম্মান না করলে, মার কাছ থেকে ভালবাসা, আশির্বাদ, দোয়া না পেলে এবং তাকে কষ্ট দিলে, অপমান করলে, তার কাছ থেকে অভিশাপ, বদদোয়া নিলে কোন সন্তান/মানুষ মানে নারী/পুরুষ যেই হোক সে ইসলামের পাঁচ ফরজ(অবশ্য পালনীয় ইসলামী বিধান) তাওহীদ, নামাজ, রোজা, যাকাত, হজ্জ সব সুষ্ঠুভাবে পালন ও সম্পন্ন করলেও এই একটি মাত্র কারণে তার/একজন ব্যক্তির সব ঈমান, আখলাক, আমল ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়ে যেতে পারে। আর এই ধরনের কোন ব্যক্তি কখনো মুত্তাকী ও মুমিন হতে পারে না। তার কবরে আজাব বেশি হতে পারে। তার জন্য শেষবিচারের দিন মুহাম্মাদ(সাঃ) কর্তৃক সাফায়াত প্রাপ্তি এবং মহান আল্লাহর অনুগ্রহ, করুণা লাভ অত্যন্ত কঠিন/প্রায় অসম্ভব হয়ে যেতে পারে। জান্নাতের দুয়ারে তার প্রবেশ/ অনুপ্রবেশ অনেক কঠিন/নিষিদ্ধ হতে পারে। তাই দেখা যাচ্ছে মার প্রতি অকুন্ঠ স্নেহ-মমতা, ভালবাসা, সম্মান, শ্রদ্ধা, আনুগত্য ইসলামের পাঁচ ফরজ বিধানের বহির্ভূত হয়েও প্রায় ফরজের ন্যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদা সম্পন্ন ইসলামী দর্শন, মূল্যবোধ এবং মুসলিম সমাজে। ইসলাম এবং মুসলমানদের মত পৃথিবীর আর কোন ধর্ম ও সমাজে নারী জাতি এবং মাকে এত উচ্চ মর্যাদাকর স্বীকৃতি ও স্থান দেয়া হয়নি। এক্ষেত্রে ইসলাম এবং মুসলিম সম্প্রদায় গর্ববোধ এবং অহংকার করতে পারে। অত্যন্ত মর্মান্তিক বেদনার বিষয় অনেক ছেলেমেয়েই এখন জীবনে প্রতিষ্ঠিত বা বিয়ে করে সংসারী হবার পর বৃদ্ধ মা-বাবাকে আর সম্মান দিচ্ছে না, তাদের সাথে রাখতে চাচ্ছে না। তাদের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিচ্ছে/বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছে/রাস্তাঘাটে ফেলে পর্যন্ত আসছে। ফলে রাষ্ট্রশক্তিকে বাধ্য হয়ে সমাজের এই অধঃপতনকে রোধ করার লক্ষ্যে পিতা-মাতার ভরণপোষন আইন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যেগ গ্রহন করতে হচ্ছে। তাই জন্মদাত্রী মার জন্য কোন একটি সামান্য বিশেষ দিবস নয়। বরং মায়েদের প্রতি সন্তানদের আবেগ, স্নেহ-মমতা, ভালবাসা, সম্মান, শ্রদ্ধা, আনুগত্য বোধ হোক প্রতিটি দিন, মাস, বছর, অনন্ত যুগব্যাপী এবং আমৃত্যু পর্যন্ত। ভাল লাগলে লাইক, শেয়ার, কমেন্ট করুন। 
[email protected]

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK