সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯
Friday, 03 May, 2019 09:18:34 pm
No icon No icon No icon

ঢাকাইয়া এবং কলকাত্তাইয়াদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির তুলনামূলক পর্যালোচনা-(২)

//

ঢাকাইয়া এবং কলকাত্তাইয়াদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির তুলনামূলক পর্যালোচনা-(২)


আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ: (খ)কলকাত্তাইয়াদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিঃ ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজের কেন্দ্রীয় এবং বাংলা প্রেসিডেন্সী প্রদেশের রাজধানী হিসাবে কলকাতাতে সর্বপ্রথম আধুনিক পশ্চিমা ও বাংলা শিক্ষা ও সভ্যতার পত্তন ও বিকাশ ঘটেছিল। তাই আধুনিক ইংরেজি ও বাংলা স্কুল ও কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়/উইনিভার্সিটি, লাইব্রেরী, গবেষনাগার, যাদুঘর, ক্লাব/সমিতি প্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্র ও পত্রিকা প্রকাশ, ঘোড়ার গাড়ি, ইঞ্জিন গাড়ি, বজড়া, লঞ্চবোট, সানাই, মাইক, ব্যান্ড পার্টি, ফুটবল টিম গঠন, দেশজ ও আন্তর্জাতিক ফুটবল টুনামেন্ট আয়োজন, ক্রিকেট, দাবা, পাশা, বাইজীদের মুজ্রা নাচ-গানের জলসা আসর, শিক্ষাঙ্গণে র‍্যাগ ডে, যাত্রাপালা, থিয়েটার/মঞ্চ নাটক মঞ্চায়ণ, বায়স্কোপ, চলচ্চিত্র প্রদর্শন, সার্কাস/বিনোদন, সাহিত্য, চিত্রকলা, ভাস্কর্য, পতিতালয়ের প্রচলন এই সবই সর্বপ্রথম রাজধানী কলকাতার ইংরেজ শাসকগোষ্ঠী, প্রশাসন, তাদের অনুগত অভিজাত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অবাঙালী ও বাঙালী হিন্দুদের দ্বারা প্রথম প্রতিষ্ঠিত এবং প্রচলিত হয়েছিল। তখন লন্ঠন বাতি, হেচাক বাতি, হারিকেন বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত হত। ভারতের সর্বপ্রাচীন ইংলিশ নিউজ পেপার/ইংরেজি সংবাদপত্র দ্যা স্টেটম্যান এবং বাংলা সংবাদপত্র আনন্দবাজার কলকাতা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। অখন্ড বাংলার সরকারী/বেসরকারী চাকুরী, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, বিনোদন, খেলাধুলা, শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল ছিল কলকাতা। এজন্য ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগে সমগ্র পূর্ববাংলার অন্যান্য শহরের মধ্যে সর্ববৃহৎ এবং সর্বক্ষেত্রে অগ্রসর ঢাকা নগরীও আধুনিক উচ্চশিক্ষা, সাহিত্য, সংগীত, সংস্কৃতি, চাকরী, ব্যবসা, বিনোদন, রাজনীতির জন্য অনেকাংশেই কলকাতার উপর নির্ভরশীল ছিল। ব্রিটিশ যুগ থেকেই শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত কলকাত্তাইয়ারা প্রধানত শিক্ষিত, চাকুরীজীবী, পেশাজীবী নাগরিক সমাজ। ধর্ম, শিক্ষা, পেশা, শ্রেণিগত এবং রুচিবোধের কারণে শিক্ষা, সাহিত্য, সংগীত, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি তারা অনুরাগী, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন। ফলে কলকাতায় উচ্চশিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চা/সাধনার বিশাল ক্ষেত্র ও সুযোগ আছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুনদের শিক্ষা, যোগ্যতা ও প্রতিভা অনুসারে মেধা বিকাশের, প্রতিভা দেখানোর এবং স্বীয় যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠা অর্জনের পর্যাপ্ত সুযোগ আছে।

ব্রিটিশ শাসনের প্রথমদিক থেকে কলকাতার নব্য ঢনাঢ্য অভিজাত বর্ণ হিন্দু পুজিপতি ও জমিদারদের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় পারিবারিক ও উচ্চ শ্রেণিগত পর্যায় থেকে কলকাতায় জাকজমকপূর্ণভাবে দূর্গাপূজা উৎসবের সূচনা হয়। সে সময় কলকাতার অভিজাত হিন্দুরা তাদের পারিবারিক দূর্গাপূজা উৎসবে ইংরেজ অভিজাতদের সপরিবারে নিমন্ত্রণ/দাওয়াত করতেন। তাদের ও নিজেদের বিনোদনের জন্য বাইজী সংগীত-নৃত্য-জলসার আয়োজন করতেন। রাজকীয় ভোজ, সুরা/মদ, পান-সুপারী, হুক্কা/চুরুট পানের ব্যবস্থা করতেন। এজন্য তখন দূর্গাপূজাকে বণেদী বাড়ির পূজা বলে অভিহিত করা হোত। যা পরবর্তীকালে খুব দ্রুত সারা অখন্ড বাংলার বর্ণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। তবে উনিশ শতকের প্রথমদিক থেকে দূর্গাপূজার সামগ্রিক নির্মাণ, পরিচালনা ও আয়োজনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ত্রিশের দশকের দিক থেকে পাড়ায় মহল্লায়, গ্রামে গ্রামে উচ্চ-নিম্ন বর্ণের হিন্দুরা মিলে চাঁদা তুলে দূর্গাপূজার মন্ডপ তৈরি, উৎসব আয়োজন এবং সামগ্রীক ব্যয় নির্বাহ করতে শুরু করে। সেই থেকে দূর্গাপূজা আজকের কমিউনিটিভিত্তিক সার্বজনীন উৎসবের রূপ ধারণ করেছে। কলকাতার অনেক অভিজাতের বিশাল সব অট্টালিকার নিচতলার ঘরে অথবা বাড়ির আঙ্গিনা কোণে আলাদাভাবে ঠাকুর/মন্দির ঘর থাকত/আছে। কলকাতার সবচেয়ে প্রাচীন, সর্ববৃহৎ, আকর্ষনীয়, ব্যয়বহুল উৎসব হচ্ছে এই শারদীয় দূর্গাপূজা/দূর্গাৎসব। বিগত কয়েক দশক ধরে কলকাতায় দূর্গাপূজা মন্ডপ নির্মাণ নিয়ে বিভিন্ন পাড়ার পূজা উৎযাপন কমিটির মধ্যে থিম কনটেস্ট/বিষয় ভিত্তিক প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং তাদের মধ্যে বিষয় অনুসারে সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দর, সুসজ্জিত পুজামন্ডপ ও প্রতীমা নির্মাণকারী পূজা উৎযাপন কমিটি পুরূস্কার লাভ করে থাকে। দূর্গাপূজা উৎসবকে কেন্দ্র করে কলকাতা নগরী আলোক সজ্জায় সজ্জিত অপূর্ব সুন্দর আকর্ষনীয় নগরীতে পরিণত হয়। পূজায় ছেলেরা রঙবেরঙের পাঞ্জাবী পড়ে। মেয়েরা লাল পাড়ের সাদা শাড়ী-লাল ব্লাউজ পড়ে। পায়ে আলতা দেয়। এখন হিন্দু ছেলে/মেয়েরাও মুসলমান ছেলে/মেয়েদের মত করে তাদের বিভিন্ন পূজায় নিজেদের মধ্যে কোলাকুলি করে থাকে। সাদা পাঞ্জাবী/শার্ট ও ধুতি কলকাতার বাবু/বর্ণ হিন্দুদের প্রিয় পোষাক। মহিলারা শাড়ী-ব্লাউজ, সালোয়ার-কামিজ পড়ে। তবে এখন কিশোরী/তরুনী, পুরুষ/তরুন/শিশুরা ওয়েস্টার্ণ ড্রেসেই অভ্যস্ত।

কলকাতার স্থানীয় ইংরেজ শিক্ষক ও হিন্দু পন্ডিতরাই গ্রাম্য পুথি বাংলাকে আধুনিক বাংলা ভাষা হিসাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। তাদের সৃষ্ট আধুনিক বাংলা ভাষা মূলত কৃতিম এবং সংস্কৃত শব্দ ঘেষা। কলকাতা শহরের অগ্রসরমান, প্রতিষ্ঠিত, বিকাশমান পেশাজীবী মধ্যবিত্তশ্রেণির ভেতর/মধ্য থেকেই পরবর্তীকালে কলকাতাকেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবী শ্রেণিত উদ্ভব ঘটে এবং তাদের হাতেই আধুনিক বাংলা ভাষা বিনির্মাণ, কাব্য-সাহিত্য, সংগীত রচনা, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, মঞ্চ নাটক আন্দোলন বিকাশ লাভ করে। কলকাতা সারা ব্রিটিশ ভারতের এবং বাংলার পশ্চিমাঞ্চলের বাঙালী বর্ণ হিন্দুদের আধুনিক বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষা-গবেষনা, কাব্য-সাহিত্য, সংস্কৃতি(সংগীত, নৃত্য, মঞ্চ নাটক, চিত্রকলা, ভাস্কর্য), বিজ্ঞান চর্চা, সরকারী/বেসরকারী চাকুরী, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, বিনোদন, খেলাধুলা, ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারমূলক কর্মকান্ড, রাজনৈতিক চিন্তাচেতনা(দল প্রতিষ্ঠা, দলীয় রাজনীতি, হিন্দু পুনর্জাগড়ণ, জাতীয়তাবাদী, খিলাফত, কমিউনিস্ট আন্দোলন, রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার বিপ্লব/আন্দোলন)-র জন্মভূমি/কেন্দ্রস্থল ছিল। কলকাতার নাগরিক সমাজের ধর্মীয়, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক চিন্তাচেতনা মূলত স্থানীয় ও অভিবাসী বর্ণ হিন্দু শ্রেণির নগরজাত আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা, উচ্চশিল্প রুচি, ধর্মাশ্রিত প্রথা, আভিজাত্যবোধ, সর্বভারতীয় জাতীয়তাকে ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠা ও বিকাশ লাভ করেছে। এজন্যই আমরা দেখতে পাই শারদীয় দূর্গাপূজা, কালী/দিপাবলী পূজা, স্বরস্বতী পূজা, জন্মাষ্টমী/দোলযাত্রা, রথযাত্রা, পৌষ সংক্রান্তি, ভাইফোটা/রাখী বন্ধন, জামাই ষষ্ঠী এবং এগুলোকে কেন্দ্র করে মেলার আয়োজন তাদের সবচেয়ে বড় বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। হিন্দু মধ্যবিত্তশ্রেণির এই ধর্মীয় ও সামাজিক চিন্তাভাবনা ও জীবনযাত্রাকে ধারন করেই কলকাতাভিত্তিক কাব্য-সাহিত্য, মঞ্চ ও টিভি নাটক, চলচ্চিত্র, শর্ট ফিল্ম, সংগীত, নৃত্য, বুদ্ধি চর্চার ধারা গড়ে উঠেছে। কলকাতা থিয়েটারের বিশাল ঘূর্ণায়মান মঞ্চ অত্যন্ত আকর্ষনীয়, লেক সার্কাসে সার্কাস দেখার ব্যবস্থা আছে।

কলকাতা এবং বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে ধুমকেতুর মত বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের আবির্ভাবই ঢাকার সাহিত্যাকাশে ইসলামী রেনেসার কবি ফররুখ আহমেদ, সাম্যের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য, রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাসের আবির্ভাবকে তরান্বিত করেছিল। দেড়শত বছরের প্রাচীন ফুটবল টিম মোহনবাগান এবং শতাধিক বছরের প্রাচীন ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব চির প্রতিদ্বন্দ্বী দল। কলকাতা লীগ হচ্ছে ভারতের সর্বপ্রাচীন এবং বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ফুটবললীগ। সল্ট লেক ফুটবল স্টেডিয়াম হচ্ছে ভারতের সর্ববৃহৎ ফুটবল স্টেডিয়াম। সারা ভারতের অধিকাংশ শহরে ক্রিকেট জনপ্রিয় হলেও কলকাতায় ফুটবল অধিক জনপ্রিয়। প্রতিটি পাড়ার নিজস্ব খেলার মাঠ আছে। এজন্য কলকাতাকে ভারতের ফুটবলের হাব/তীর্থক্ষেত্র বলা হয়। ইডেন গার্ডেন হচ্ছে ভারতের সর্বপ্রাচীন এবং তৃতীয় বৃহৎ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। কলকাতার স্থানীয় কলকাত্তাইয়া ও পূর্ববঙ্গীয় হিন্দুদের মধ্যে ঘটি-বাঙাল বিরোধ আজো আছে। এই ঘটি-বাঙালের বিদ্বেষ থেকেই কলকাতার স্থানীয় ফুটবল খেলোয়ারদের নিয়ে গঠিত মোহনবাগান স্পোর্টিং ক্লাবের চির প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসাবে পূর্ববঙ্গীয় খেলোয়ারদের নিয়ে গঠিত ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের প্রতিষ্ঠা ঘটেছিল। কলকাতার স্থানীয় কলকাত্তাইয়া ও পূর্ববাংলা থেকে আগত হিন্দুদের মধ্যে এবং ঢাকার স্থানীয় ঢাকাইয়া ও কলকাতা থেকে আগত মুসলমানদের মধ্যে এই ঘটি-বাঙাল বিরোধ/বিদ্বেষ ছিল ও আছে। ১৯৪৭ সাল থেকে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে যেসব বাঙালী মুসলমান ঢাকা ও পূর্ববাংলায় আগমন করেছিল স্থানীয় ঢাকাইয়ারা তাদের 'ঘটি' নামেই অভিহিত করত এবং একইভাবে ঢাকা ও পূর্ববাংলা থেকে যেসব হিন্দু কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে এসেছে স্থানীয় কলকাত্তাইয়ারা তাদের 'বাঙাল' বলেই সম্বোধন করে থাকে।

আশির দশক পর্যন্ত কলকাতায় সর্বত্র ট্রাম গাড়ি, আদম গাড়ি/টানা রিক্সা চলত, রাস্তার ধারে কলাপাতায় মিক্স ফ্রুট সালাদ, মাটির খোড়ায় চা/দুধ বিক্রি হোত। এক সময় কলকাতার বিয়েবাড়ির নিমন্ত্রণ্যে এবং হোটেলগুলোতে কলাপাতায় খাবার খেতে, মাটির ঘটিতে জল পান করতে দেয়া হোত। এই আর সেই চল নেই। তবে কিছু পরিবার ঐতিহ্যগত কারণে বিবাহ, বৌভাতে এবং প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী হোটেলগুলো নিতান্ত বাণিজ্যিক কারণে এর প্রচলন রেখেছে। কলকাতাসহ দুই বাংলার হিন্দু পরিবারগুলোতে কাসার প্লেট, গ্লাস, বাটিসহ ঘরের ব্যবহার্য জিনিসপত্র ব্যবহার হত। কিন্তু আধুনিক যুগের প্রভাবে এবং কাসার জিনিসপত্র বেশি দামী হবার কারণে হিন্দু পরিবারের মাঝে এর ব্যবহার অনেক কমে গিয়েছে। তবে অনেক হিন্দু পরিবার এখনো ঐতিহ্যের কারণে কাসার থালি/প্লেট, বাটি/বোল, গ্লাসে খাবার-জল দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করে থাকে। শহরের সর্বত্র মদের দোকান, ডান্স বার, ক্লাব আছে। অনেক স্থানে মুজ্রা/বাইজী নাচ দেখার ব্যবস্থা আছে। পাড়াভিত্তিক যুব সংস্কৃতি কলকাতার একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। অধিকাংশ পাড়ারই নিজস্ব খেলার মাঠ, ছোটবড় পাঠাগার, ব্যায়ামাগার আছে। তাদের মধ্যে শাস্ত্রীয়, রবীন্দ্র এবং আধুনিক ব্যান্ড সংগীত অধিক জনপ্রিয়। দূর্গাপূজা ছাড়া কালী/দিপাবলী পূজা, স্বরস্বতী পূজা, লক্ষ্ণীপূজা, জন্মাষ্টমী/দোলযাত্রা, পৌষ সংক্রান্তি, শিবরাত্রি, জগন্নাথের রথযাত্রা, জগদ্ধাত্রী পূজা, মুসলমানদের ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শবে বরাত, মোহররম, শিখদের গুরুনানকের জন্মজয়ন্তি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তি, বার্ষিক হিন্দুস্তানী/উচ্চ শাস্ত্রীয় সংগীত উৎসব, আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তক মেলা, কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব, নন্দীকরের জাতীয় নাট্য উৎসব প্রভৃতি কলকাতার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে কলকাতা সারা ভারতকে ধর্মীয়, সামাজিক, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সেক্যুলার ও কমিউনিস্ট রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা, কর্মকান্ড, বিপ্লব/আন্দোলন, প্রশাসনিক শাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্যবাদ এবং ঐক্যের পথ দেখিয়ে চলেছে। এজন্য কলকাতাকে ভারতের বুদ্ধিজীবীদের রাজধানী এবং সাংস্কৃতিক রাজধানী বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে। ২য় পর্বে সমাপ্ত। ভাল লাগলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করুন।

 [email protected]

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK