শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯
Monday, 22 Apr, 2019 12:27:01 am
No icon No icon No icon

নফল এবাদত এবং প্রথা নিয়ে অযথাচিত বাড়াবাড়ি

//

নফল এবাদত এবং প্রথা নিয়ে অযথাচিত বাড়াবাড়ি


আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ: ইসলামের নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ(সাঃ) খুব ভালভাবেই জানতেন, ইসলামে বিশ্বাসী/মুসলমান ঘরের সন্তান সবাই ইসলাম ধর্মালম্বী মুসলিম কিন্তু তারা সবাই মুমিন/ঈমানদার না। এজন্য তিনি বার বার পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং হাদিসে মুসলিমদের মুমিন হতে বলেছেন। আর আলেম ও ওলামারা বার বার মুসুল্লি, দর্শক, শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, মুমিন না হয়ে কবরে যেও না। অধিকাংশ মুসলমানের ঈমান, আখলাক, আমল মোটেও ভাল, ঠিক না। আর হলেও অনেক দুর্বল। অধিকাংশ মুসলমান ইসলামের পাঁচ ফরজ বিধান সঠিকভাবে, সৎ পথে আদায় করছে না। অধিকন্তু একশ্রেণির উগ্র আলেম, ওলামা, ভন্ড পীর, তাদের অন্ধ অনুসারী, অশিক্ষিত/স্বল্প শিক্ষিত ধর্মান্ধ এবং ধর্মভীরু জনসাধারণ এখন আল্লাহ ও রাসূল(সাঃ)-এর নির্দেশিত ফরজ, সুন্নাহ, ভাল কাজ, ইসলামের দাওয়াত বাদ দিয়ে নফল এবাদত ও সামাজিক প্রথা নিয়ে একে অপরের সাথে অযথা তর্কবিতর্ক করছে, অন্যের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে এবং একে অপরকে অকথ্য ভাষায় কথাবার্তা বলছে, গালিগালাজ করছে। নামাজে মোনাজাত করা, মিলাদ পড়ানো, শবে বরাত, শবে মেরাজ, শবে কদর, ঈদে মিলাদুন্নাবী, শিয়া মাযহাবীদের ১০মহরমে তাজিয়া মিছিল প্রভৃতি দিবস পালন, শবে বরাতের দিন নতুন কাপড় পড়া, হালুয়া-রুটি রান্না করা, তা খাওয়া ও আত্নীয়/প্রতিবেশীদের দেয়া, কোরবানী পশুর মাংস তিনভাগ বন্টন করা এগুলো সবই নফল এবাদত এবং প্রচলিত সামাজিক প্রথা মাত্র। এগুলো সরাসরি ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক কোন ব্যাপার নয়।

ফরজ ও সুন্নাহর গুরুত্ব থাকলেও এসব বাড়তি নফল এবাদত করলে সওয়াব/পূণ্য হতে পারে। কিন্তু না করলে কোন গুনাহ/পাপ হয় না। তাই এগুলো পালন, অনুসরণ করতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আবার কেউ যদি এসব নফল এবাদত করে নিজের মনে শান্তি খুজে পায় তাহলে তাদের ব্যাপারে আপত্তি, বিরোধীতা করার এবং বাধা দেবার কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ ও প্রয়োজন নেই। যারা এসব বিশ্বাস, পছন্দ করেন না, পালন করেন না/মানেন না তারা করবেন না। কিন্তু তাই বলে তারা যারা করতে চায় তাদের জোর করে করতে দিবে না। পালনকারীদের উদ্দেশ্যে যথেচ্ছভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ওয়াজ মাহফিল, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে অকথ্য ভাষায় পোস্ট দিবে, কমেন্ট করবে, কথাবার্তা বলবে, বক্তৃতা দিবে, গালিগালাজ করবে, ফেতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করবে এবং কাফের, মুশরিক, মুরতাদ, বিদাতী, শয়তান বলবে এটাও সঠিক ও যৌক্তিক না। এগুলো করে কি তারা ইসলাম ও মুসলমানদের খুব উপকার করছেন! না নিজেরা খুব সওয়াব হাসিল করছেন! এভাবে এসব করে চরমপন্থী ওহাবী, সালাফি, আহলে হাদিসরা একদিকে মুসলিম সমাজকে বিভক্ত ও দুর্বল করার অপকর্মটি করছে এবং অপরদিকে মুনাফেক ও অমুসলিমদের কাছে ইসলাম ও মুসলমানদের হাসির পাত্র বানাচ্ছে ও বিতর্কিত করছে। আর যে মুসলমান কালেমায় বিশ্বাসী তথা আল্লাহর একত্ববাদ এবং তার সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ(সাঃ)-কে স্বীকার ও বিশ্বাস করেন তাকে কাফের, মুশরিক, মুরতাদ, শয়তান বলা গুনাহ, অন্যায় এবং অনধিকার চর্চা।

ইসলামীয় বিশ্বাস মতে, কোন মুসলমান মারা গেলে তাকে কবরস্থ করার পর মুর্দার/মৃত ব্যক্তির কাছে ফেরেশতারা তার রব ও রাসূল কে? অর্থাৎ কালেমা। এবং দ্বীন কি? অর্থাৎ ধর্মবিশ্বাস। এই তিনটি ব্যাপারে প্রশ্ন করবে ও জানতে চাইবে। আল্লাহ ও রাসূল(সাঃ) তথা কালেমায় যার বিশ্বাস থাকবে এবং ইসলামের দেখানো পথ অনুসরণের ব্যাপারে ঈমান, আখলাক, আমল যার ভাল হবে সেই মুমিন ব্যক্তিই ফেরেশতাদের কাছে উক্ত তিন প্রশ্ন বা সওয়ালের উত্তর বা জবাব সঠিকভাবে দিতে পারবে। কবরে শায়িত মুর্দারের কাছে ফেরেশতাদের হিসাব নেয়ার সময় এবং শেষবিচারের দিন ফরজ ও সুন্নাহ আদায়ের উপর সওয়াল-জওয়াব করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই সেই মুর্দারের সারা জীবনের আমলের হিসাব নেয়া হবে। তখন জীবীতাবস্থায় মুর্দারের পালন করা পাঁচ ফরজ বিধান (তাওহীদ, নামাজ, রোজা, যাকাত, হজ্জ্ব) এবং ঈমান, আখলাক, আমলগুলো তার ব্যাপারে সাফাই/সাক্ষী দিবে। সে জীবীতাবস্থায় তার এবাদত-বান্দেগী, মা-বাবা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্তুতি, বয়োজোষ্ঠ-শিশু, আত্নীয়, প্রতিবেশী, বন্ধু, সমাজ, রাষ্ট্র, জাতির প্রতি ঠিক মত সততা, নিষ্ঠার সাথে যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুসারে কতটুকু দায়িত্ব, কর্তব্য পালন, কাজ করেছেন? তার আধ্যাত্নিক, পারিবারিক, সামাজিক জীবনের সামগ্রিক ভাল-মন্দ কৃতকর্মের উপর ভিত্তি করে তার সার্বিক মূল্যায়ন, বিচার, শাস্তি বা উপহার প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে মুমিন ব্যক্তির আযাব কম হবে এবং তার জান্নাত প্রাপ্তি সহজতর হবে।

আর কোন নফল এবাদতের ব্যাপারে কাওকেই কোন কিছু জিজ্ঞেস করা হবে না। চূড়ান্ত বিচারের মালিক যেহেতু আল্লাহ তাই তিনি তার বান্দাদের বাড়তি নফল এবাদত-বান্দেগীর সওয়াব দেবেন? কি দেবেন না? তা তিনিই বিচার করবেন। তাই আমাদের সবার ধর্মের নামে সর্বপ্রকার ফেতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টির শয়তানী, ফাতরামী, ছোটলোকী কুচিন্তা, কুকাজ, কুপথ বাদ দিয়ে এবং পরিত্যাগ করে মুমিন ও মুত্তাকী হবার উপর সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য প্রত্যেক মুসলমানকেই ইসলামের পাঁচ ফরজ আদায়কারী হতে হবে। ঈমান, আখলাক, আমল ভাল হতে হবে। মুমিন হয়েই কবরে যাবার যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। যাদের আখলাক ও আমল ভাল না সে মুমিন/প্রকৃত ঈমানদার হবে কি করে? সহজে জান্নাত/বেহেশত পাবে কি করে? কবরে শোয়াবার পর এবং শেষবিচারের দিন প্রত্যেককেই তার ইয়া নফসি তার নিজেকেই করতে হবে। আপনার ঈমান, আখলাক ও আমলের জবাব আপনাকেই দিতে হবে। তাই সবার আগে নিজের আখলাক ভাল করে একজন ভাল সৎ চরিত্রবান মানুষ এবং আমল ভাল করে মুমিন হবার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিন। কারণ ভাল উৎকৃষ্ট পরিপূর্ণ ঈমান, আখলাক ও আমলই আমাকে, আপনাকে কবরের আজাব থেকে বাঁচাতে দিতে পারে এবং শেষবিচারের দিন পুলসিরাত পার, শেষ নবীর শাফায়াত, আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ তথা জান্নাতে প্রবেশ সহজতর করতে পারে। ভাল লাগলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করুন। 
লেখক:আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ, সিনিয়র সাংবাদিক, ঢাকা:
[email protected]

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK