শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯
Saturday, 13 Apr, 2019 11:20:25 am
No icon No icon No icon

লালন রক স্টার লালন ব্যান্ডের সুমি


লালন রক স্টার লালন ব্যান্ডের সুমি


আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ্ : ২০০১ সালে ১লা বৈশাখে প্রতিষ্ঠিত লালন ব্যান্ড একটি ফোক রক ব্যান্ড। লালন ব্যান্ড খুলনার ব্যান্ড এবং সুমি খুলনার মেয়ে। সুমি লালন ব্যান্ডের ভোকাল/কণ্ঠশিল্পী এবং একজন প্রতিভাময়ী রক স্টার। তিনি প্রধানত রক স্টাইলে লালন ও ফোক গেয়ে থাকেন। সুমি লালন ছাড়াও সিরাজ সাঁই, শাহ আব্দুল করিম, রাধা রমনের লোকজ বাউল গান গেয়ে থাকেন। সুমি তালিম নিয়েছেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত আলী আহমেদ আর নাসির হায়দারের কাছে। অসীম দেবনাথ তাকে লালন সাঁই সম্পর্কে জানতে উৎসাহী করে তোলেন। সুমি বলেন, “অসীম স্যারের কাছে সাঁইজির গানের বেশি সংগ্রহ ছিল না বলে আমি গিয়েছি সুফী মন্ডলের কাছে। তার কাছে তালিম নিয়েছি লালন গীতি।” তবে লালন ব্যান্ড শিল্পীরা তাদের ব্যান্ডের নামের স্বাতন্ত্র‍্যতা তুলে ধরার জন্য সুমি ও লালন ব্যান্ড লালন সংগীতকে প্রাধান্য দিয়েই সংগীত সাধনা ও স্টেজ পারফর্ম করে থাকেন। বি-প্রতীপ(২০০৭), ক্ষ্যাপা(২০০৯) লালনের প্রথম ও দ্বিতীয় এলবাম। জাত গেলো, সুধা সিন্ধু, সময় গেলে সাধন হবে না, চাতক বাঁচে কেমনে, ক্ষ্যাপা রে, আল্লাহ বল মন রে পাখী, মা বলি তোরে, আমি অপার হয়ে বসে আছি, কৃষ্ণপ্রেমে পোড়া দেহ, কেউ বলে ভগবান কেউ বলে আল্লাহ তারে, পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না প্রভৃতি জনপ্রিয় লালন গানকে সুমি ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় রক ফিউশনে গেয়ে লালন সংগীতকে অনন্য অভিনব মাত্রা দান করেছেন নিজস্ব গায়কী কন্ঠ, স্টাইল এবং স্টেজ পারফর্ম দক্ষতা বলে। এছাড়া তাদের ব্যান্ডের মৌলিক গান তাল তমালের বনেতে মনে লাগে আগুন রে, আমার এক চোখেতে হাসন কান্দে আরেক চোখে লালন, বসন্ত বাতাসে প্রভৃতি জনপ্রিয় গানও আছে।

সুমি আধুনিক ক্লাসিক লালন সংগীতকে সর্বপ্রথম সার্থকভাবে রক স্টাইলে নাগরিক সমাজের মাঝে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের উপযোগী করে উপস্থাপন করে জনপ্রিয়তা অর্জন এবং দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন দেশবিদেশের দর্শন, শ্রোতা ও সাধারণ মানুষের। লালন ব্যান্ডের সুমির হাত ধরেই নতুন প্রজন্মের মাঝে ফকির লালন শাহ, লালন সংগীত এবং লালন ব্যান্ড এক অনন্য উচ্চতর শিখরে আরোহণ করেছে। লেডি রক ভোকাল সুমির উচ্চকিত কন্ঠে লালনের আধ্যাত্নিক ও দেহতাত্ত্বিক গানগুলো ঐশ্বরিক ভাব পূর্ণতা লাভ করেছে। ব্যান্ড লালন রক ফিউশন লালন এবং লোকজ গানের মাধ্যমে বাংলা ব্যান্ড সংগীত এবং লালন সংগীতে আধুনিক নাগরিক এবং বৈশ্বিক মাত্রা এনেছেন। প্রচলিত ক্লাসিক, পপ লালন সংগীতের ধারাকে ভেঙ্গে রক লালন স্টাইলে গেয়ে সুমি বাংলা সংগীত জগতে, দেশবিদেশের বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ ও নতুন প্রজন্মের মাঝে লালন সংগীতকে এক ভিন্নতর অভিনব ভাব, সুর রস, ছন্দ মাত্রায় উপস্থাপন করেছেন। বাংলাদেশে নতুন প্রজন্ম এবং শিক্ষিত নাগরিক সমাজের মাঝে লালন সাঁইজি ও লালন সংগীতের ব্যাপক পরিচিতি এবং জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ ও কৃতিত্ব হচ্ছে লালন রক স্টার সুমির রক লালন সং এবং তার ইন্টারন্যাশনাল গ্রেডের স্টেজ পারফমেন্স। সুমির গানের কণ্ঠ ও স্টেজ পারফমেন্স অসাম, ইনক্রেডিবল, রকিং। আমার ধারনায় সুমি লালন সংগীতের লালন রক স্টার। তিনি লালন সংগীত এবং লালন সংগীতের নতুন প্রজন্মের ভক্ত ও শ্রোতাদের গর্ব, আশা।

লালন ব্যান্ড সারা দেশে কনসার্ট করার পাশাপাশি বিদেশে বিভিন্ন স্থানে কনসার্টে অংশগ্রহন করেছে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কনসার্টে লালন ব্যান্ড ও সুমি 'আমি অপার হয়ে বসে আছি' গানটিসহ তিনটি গান পরিবেশন করে দেশের জন্য অনন্য সম্মান বয়ে আনেন। ২০১৭ সালে বর্ষবরণ ১৪২৩ এ ‘ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি ১৪২৩ বর্ষবরণ উৎসব’ এ ওয়াশিংটন মাতিয়ে আসে লালন। তারা ইউকে এবং শ্রীলংকায় ফেস্টিবলে গেয়েছেন। লালনের সুমির রক লালন সং প্রবাসী বাঙালীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সুমি ও ব্যান্ড লালন আমাদের দেশের সনাতন ক্লাসিক লালন সংগীতকে ফিউশান রক লালন সংয়ের ব্রান্ড বানিয়ে বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে গিয়েছেন আধুনিক ভাব, ছন্দ, রূপ, রসের উচ্চ তরঙ্গের মাত্রা নিয়ে। তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের লালন সংগীত একটি দেশজ ব্রান্ড সং হিসাবে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন, প্রতিষ্ঠা লাভ করবে লালন সাঁইজি, লালন ব্যান্ড ও সুমির একজন ভক্ত, শ্রোতা, দর্শক হিসাবে ব্যান্ড লালন ও সুমির কাছে সবাই সেই প্রত্যাশাই করে। ব্যান্ড লালন ও সুমির জয়যাত্রা শুভ ও দীর্ঘজীবী হোক। 

লেখক:আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ্ ।
[email protected]

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK