মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯
Tuesday, 26 Mar, 2019 12:36:43 pm
No icon No icon No icon

একদিনের বৌ আমি !

//

একদিনের বৌ আমি !


স্বাস্থ জনিত বিশেষ একটি কারণে আমার স্ত্রী ২৪ ঘন্টা হাসপাতালে থাকতে হবে। মানে হলো পুরো একদিন এবং সম্পূর্ণ একটি রাত । আগে থেকেই জানতাম এমন একটি ২৪ ঘন্টার ঘটনা আসবে। যদিও বিশেষ কোনো সমস্যা নয় , স্বাভাবিক অসুস্থতার কারণেই সেটা করতে হচ্ছে। যাক, বৌ হাসপাতালে সে বিষয়ে আমি মোটেও উদ্বিগ্ন নই , আপাতত।কারণটি তেমন উদ্বিগ্নের বিষয় নয় আগেই বলেছি। স্ত্রী নিজেই ২৪ ঘন্টার যাবতীয় প্রয়োজনীয় পোশাকাদি এবং জিনিসপত্র একাট্টা করা লাগেজ গুছিয়ে রেখেছে। পাশাপাশি আমাদের পরিবারের বাকি সদস্যদের জন্য ২৪ ঘন্টার খাবার প্রস্তুত করে রেখেছে। বাসাটা সম্পূর্ণ ধুয়ে মুছে টিপটপ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে যেনো এই চব্বিশ ঘন্টায় আমার উপর তেমন উটকো চাপ না আসে।

বাসায় রইলাম আমি আর আমার ছোট্ট ২ মেয়ে। 
আমি ২৪ ঘন্টার পুরো দায়িত্ব নিলাম তাঁদের।

অভিজ্ঞতা নাম্বার ১ !!!

রাতে যখন বাবুদের ডিনার করানোর জন্য প্রস্তুতি নিলাম, ১ ঘন্টা শুধু তাদের ২ জনের পেছনে দৌড়াতে হয়েছে।

বাবুদের গান, রাইমস, অভিনয় , চিৎকার , চেঁচামিচি , অবশেষে ক্লান্ত এক শরীর নিয়ে বিছানার দিকে যাত্রা।

মনে হচ্ছিলো অজানা এক উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি। 
অনেক রাতে ক্লান্ত হয়ে তারা ঘুমালো।

অভিজ্ঞতা নাম্বার ২ : সব শেষে সবগুলো লাইট নেভাতে হয়েছিল।

বাক বাকুম পায়রা, ওই দেখা তাল গাছ, এক জোনাকি ২ জোনাকি , কমপক্ষে ২০ টা গান গেয়েছি। 
আমি ঘুমের ঘোরে হারিয়ে যাচ্ছিলাম তবুও বাবুদের ঘুমের দেখা মিলছিলোনা।

অভিজ্ঞতা নাম্বার ৩ : সকালে উঠে ব্রাশ করতে তাদেরকে , ব্রাশ ব্রাশ ব্রাশ ইউর টিথ গানটি অনিচ্ছা সত্বেও পরিবেশন করতে হয়েছে।

তারা গানের তালে তালে নিজেদের দাঁত নিজেরা কোনো রকম পরিষ্কার করলো।

রেডি নাস্তা গরম করে তাদের খাওয়ানো ছিলো আরেকটা যুদ্ধের মতো।

অভিজ্ঞতা ৪: ঘর ঝাড়ু দেয়া, মোছা, বাবুদের গোসল করানো , বাসন প্লেট ধোয়া .

দুপুরের আগেই অর্ধ মৃতের মতো ফ্লোরে শুয়ে লিখতে বসলাম আমার পুরুষ জাতিদের উদ্দেশ্যে কিছু লিখবো বলে।

হে পুরুষ তোমাদের শত সহস্র জন্মের সৌভাগ্যের ফলে বাঙালি নারীর স্বামী হিসেবে জন্মেছ।

আজ সত্যি হাড়ে হাড়ে অনুভব করতে পারছি একজন গৃহিনী নারী কত পরিশ্রম করে আপন গৃহে।

নিজেকে প্রশ্ন করতে লাগলাম, তারা কি শুধুই গৃহিনী ???

আমি মনে করি একজন গৃহিণীকে শুধুমাত্র গৃহিনী উপাধি দিয়ে অন্যায় করা হচ্ছে .

অনুভব : আজকাল আমরা যখন কোনো নারীর সাথে পরিচিত হই , দ্বিতীয় প্রশ্নটি আমরা করি, আপনি কি কাজ করেন।
গৃহিণীরা নিজেদেরকে খুব লজ্জিত বোধ করে নিচু কণ্ঠে বলে" কিছু করিনা, আমি গৃহিনী "
বন্ধুরা শুধু একদিন বছরে অন্তত একদিন নিজের ঘরের সকল কাজের দায়িত্ব নিন . তবেই বুঝতে পারবেন এই গৃহ কর্ম কি শুধুই সাধারণ কাজ নাকি সকল কাজের চেয়ে পরিশ্রমী কাজ। নারীদের প্রতি সত্যি এক অমানবিক অবিচার আমরা করেই চলেছি . বিশেষ করে তাঁদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পেশাটিকে সম্পূর্ণ অমর্যাদাকর পেশাহীন হিসেবে দেখি।

আমি দাবী করবো , গৃহিণীদের এই মহৎ কর্মটিকে মর্যাদাকর পেশা হিসেবে গণ্য করা হোক।

প্রতিটি গৃহিণীকে সরকারি বিভিন্ন চাকুরীর সমপরিমাণ সুবিধা ওমর্যাদা দেয়া হোক। একটি বিশেষ স্কিম চালু করে তাদেরকে মাসিক বা বাৎসরিক ইনসেনটিভ দেয়া হোক।

এবং শেষ বয়সে প্রতিটি গৃহিণীকে পেনশনের আওতায় আনা হোক।

মর্যাদার দিক দিয়ে সর্বোচ্চ বিবেচনা দিয়ে গৃহিনী বাদ দিয়ে একটি ভিন্ন মর্যাদা সম্পন্ন পেশায় নামকরণ করা হোক।

নারীদের পরিশ্রমী জীবনের অনুভবতা যতদিন পুরুষদের বিবেচনায় না আসবে, ততদিন আমাদের নারীদের প্রতি যথাযত মূল্যায়ন করা সম্ভব হবেনা।

হে নারী, নত আমি তোমাদের তরে !!!

লেখক: সাইফুর সাগর, সাংবাদিক।
সংগ্রহ: ফেইজবুক।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK