মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯
Friday, 07 Dec, 2018 09:19:27 pm
No icon No icon No icon

২য় রেকর্ড ১ম টি ভাঙ্গার আগে

//

২য় রেকর্ড ১ম টি ভাঙ্গার আগে


আবিদুর রহিম: ২৮ বছর আগের করা আমার ১ম রেকর্ড কেউ না ভাংতেই আবার গডলাম ২য় রেকর্ড! অভিনন্দন আমাকে! এই দীর্ঘ সময়ে কোনো বাংলাদেশী আমার সেই ১ম রেকর্ড ভেংগেছে বলে জানি না! আগামীতে কোনো বাংলাদেশী আমার এই ২য় রেকর্ড ভাংবে সেই সম্ভাবনাও দেখি না! 
প্রথমে বলি ২৮ বছর আগের ১ম রেকর্ডটি কি? সেটি ছিল- ঢাকার তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়া থেকে দক্ষিন খান পর্যন্ত হেঁটে আসার। সেটি ছিল ১৯৯০ সাল। দেশজুড়ে চলছে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, ঢাকায় আন্দোলন তখন তুঙ্গে। দেশের সব দল-মতের মানুষ তখন সে আন্দোলনে শরীক। এমনকি এখন যারা এই এরশাদকে কোলে নিয়ে নাচেন তারাও তখন ঐ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল! আন্দোলনের অংশ হিসাবেই চলছিল লাগাতার হরতাল। এমনি এক হরতালের দিনে জরুরী প্রয়োজনে নাখালপাডা থেকে দক্ষিন খান পর্যন্ত হেটে গিয়েছি। এছাড়া জ্যামের কারণে জগন্নাথ কলেজ থেকে গুলিস্তান বা কাকরাইল মালিবাগ হেটে গেছি বহুবার। 
এবার বলি কেন সে রেকর্ড কেউ ভাংতে পারেনি এবং পারবে না বলে মনে করছি- কারণ আজকাল ঢাকায় তৈরী হওয়া অস্বাভাবিক যানজটের প্রক্ষাপটে ফেসবুকে অনেক বন্ধু অগ্রজ অনুজদেরকে স্ট্যটাস দিতে দেখি যে, যানজটে কেউ তিন কেউ চার কেউ পাঁচ ঘন্টা বসে ছিলেন, কেউ ৩০ মিনিটের পথ ৩ ঘন্টায় গেছেন কেউ ৪০ মিনিটের পথ ৪ ঘন্টায় পারি দিয়েছেন বলে জানাচ্ছেন! কিন্তু বসে না থেকে পুরো পথ হেটে চলে গেছেন এমন কাউকে বলতে শুনিনি!
এবার বলি ২য় রেকর্ডের কথা- এটি করলাম ২৮ বছর পর ২০১৮ সালে নিউ ইয়র্কে। শুক্রবার টাইম টেলিভিশনের নিউজটা করে দেয়ার অনুরোধ ছিল তাহের ভাইয়ের, সে মতেই সব স্কেজিউল করা ছিল। কিন্তু ফ্রাইডে ট্রাফিক বলে একটা কথা আছে এখানে, শনি রবিবারের দু’দিনের উইকেন্ডের ছুটি কাটাতে শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই সবাই ছুটতে শুরু করেন এদিক সেদিক। ফলে বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কে দেখা দেয় ট্রাফিক জ্যাম। মনেহয় হলিডে সিজনের কারণে ঐদিন ট্রাফিক জ্যামটা একটু বেশীই ছিল, দুপুরে নিউজার্সী থেকে গাড়ী নিয়ে নিউ ইয়র্ক ফেরার পথে অনেক ভুগেছি। ফলে বিকেলে আর বাসা থেকে গাড়ী নিয়ে টাইম টিভিতে যাওয়ার সাহস হলো না! গাড়ী রেখে রওয়ানা হলাম সাবওয়ে ট্রেনে। কিন্তু ঐ যে বলে না- “সুখ একা আসে, আর দু:খ আসে দল বেধে” তাই হলো। ব্রঙ্কস থেকে ম্যানহাটনের লেক্সিংটন স্টেশনে গিয়ে ট্রেন বদলে এস্টোরিয়ামুখী আরেক ট্রেন ধরে যাব টাইম টিভিতে, কিন্তু লেক্সিংটনে নামতেই মেজাজ খারাপ হলো, রাশ আওয়ারের হাজার হাজার যাত্রী গিজগিজ করছে স্টেশনে, কিন্তু কোনো ট্রেনের খবর নেই। এস্টোরিয়াগামী না হোক, জ্যামাইকাগামী কোনো ট্রেনে বিকল্প পথে কাছাকাছি কোনো স্টেশনে নেমে যাব চিন্তা করলাম, তারও খবর নেই। মাইকে ঘোষণা শুনলাম, পথে একটি ট্রেন বিকল হয়ে পডায় ঐ দুই পথেই সব ট্রেন চলাচল বন্ধ, চালু হতে সময় লাগবে। খারাপ মেজাজ এবার বিগডে গেল। হাজার হাজার মানুষ ঠেলে বেরিয়ে এলাম স্টেশন থেকে। বাইরে তখন রাত্রি, কনকনে ঠান্ডা, সাথে হঠাৎ শুরু হওয়া গুঁড়িগুডি বৃষ্টি! একবার ভাবলাম একটা উবার বা লিফ্ট ডাকি, এটি সাধ্যের মধ্যেও, কিন্তু ফ্রাইডে ট্রাফিকের কথা চিন্তা করে সে ভাবনা ত্যাগ করলাম, তাতে মেজাজ আরো বিগডাবে! ফলে আর কোনো চিন্তা না করেই হাঁটা দিলাম, এবং ম্যানহাটন থেকে হেটে ইস্ট রিভার-রুজভেল্ট আইল্যান্ড পারি দিয়ে এস্টোরিয়া যাওয়ার ২য় রেকর্ডটি গডলাম!
এবার বলি আমার ২য় রেকর্ডটিও যে কোনো বাংলাদেশী ভাংতে পারবে না সে ব্যাপারে আমি কিভাবে নিশ্চিত হলাম? নিউ ইয়র্কের অন্য অনেক এলাকার মতো এস্টোরিয়াতেও প্রচুর বাংলাদেশীর বাস। এদের প্রায় সবারই কর্মস্থল ম্যানহাটনে। ঐদিন ট্রেন বন্ধ, কনকনে ঠান্ডা, গুঁড়িগুডি বৃষ্টিও - এমন দুর্যোগময় পরিস্থিতিতেও ভিনদেশী অনেককেই দেখলাম হেটে কিংবা সিটি বাইকের ভাড়ায় চালিত সাইকেল নিয়ে রাতের “এডকচ কুইন্সবরো ব্রিজ” পারি দিতে, কিন্তু এদের মধ্যে বাংলাদেশী পেলাম না একজনও!
হাঁটো বাঙ্গালী হাঁটো, সুস্থ থাকতে হলে হাটো...

লেখক: আবিদুর রহিম, সিনিয়র সাংবাদিক, নিউইয়র্ক।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK