সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮
Sunday, 11 Nov, 2018 09:31:11 am
No icon No icon No icon

দেশে আজও নিরাপদ নয় নারীরা জীবন দিয়ে তার প্রমান দিতে হয়


দেশে আজও নিরাপদ নয় নারীরা জীবন দিয়ে তার প্রমান দিতে হয়


ফিরোজ বাবু: মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কই? নিরাপত্তা নেই, নিরাপদও নেই। মানুষ আজ নিরুপায়। শুধু নিরুপায় নয় নিদারুন অসহায়। ঘরে বাহিরে কোনখানে মানুষ স্বস্তিতে নেই। আছে ভয়ে। আছে আতংকে। সবচেয়ে বড় ভয় হত্যা মৃত্যুর ভয়। মানুষ বাঁচতে চায়। সুন্দর পৃথিবীর মায়া মমতা ছেরে যেতে চায় না। বাঁচার জন্য আপ্রান চেষ্টা করে। কিন্তুু পারে কি? পারে না। স্বাভাবিক মৃ্ত্যু সবাই মেনে নেয়। কিন্তু অস্বাভাবিক মৃত্যু কেউ মেনে নিতে চায় না। আর যদি হয় সেটা হত্যা মৃ্ত্যু তাহলেতো কোন কথা নেই। পরিবারের সদস্যরা শোকে পাগল হয়ে যায়।
শোনা যায় বর্তমান দেশে নারীরা স্বাধীন। তারা অবাধে একাই চলাফেরা করতে পারে। আসলে সত্যি কি তাই?  না। নারীরা এখনো স্বাধীন না। অবাধ আর একা চলা তো দূরের কথা, সঙ্গে পুরুষ মানুষ থাকার পরেও নারীরা নিরাপদ নয়। দেশে আজও নিরাপদ নয় নারীরা, জীবন দিয়ে তার প্রমান দিতে হয়। এমনি একটি ঘটনা ঘটেছে গত শুক্রবার সন্ধার পর রাতের শুভসূচনাতে।
পত্রিকা  সূত্রে জানা যায়, ঢাকা আশুলিয়া চলন্ত একটি বাসে বৃদ্ধ বাবাকে ফেলে দিয়ে মধ্যবয়সী মেয়েকে নিয়ে গিয়ে হত্যার অভিযোগ। যা খানিক পরে হত্যা ঘটনার সত্যতার প্রমান পায় পুলিশ। গত ৯ নভেম্বর, শুক্রবার রাতে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে টাঙ্গাইলগামী একটি লোকাল বাসে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায় বৃদ্ধ বাবা আকবর আলীর (৭০) কথায় পত্রিকা মারফতে। তার মেয়ের নাম জরিনা খাতুন (৪৫)। তাদের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালী থানার খাস কাওলীয়া গ্রামে। তবে বৃদ্ধ বাবা সঠিকভাবে বাসটি সনাক্ত করতে পারেনি।
জানা যায়, শুক্রবার সকালে মেয়েকে নিয়ে তিনি আশুলিয়ার গাজিরচট এলাকায় নাতনীর বাসায় বেড়াতে আসেন। সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ ফিরে যাওয়ার উদ্দেশে আশুলিয়ার ইউনিক থেকে টাঙ্গাইলগামী একটি লোকাল বাসে উঠেন তারা।
বাসটি টাঙ্গাইল না গিয়ে কয়েক ঘণ্টা বিভিন্ন স্থান ঘুরে আবার আশুলিয়ার দিকে চলে আসে। মরাগাঙ্গ এলাকায় বাসটি পৌঁছালে বাসে থাকা চালক, সহযোগী সহ কয়েকজন  দুর্বৃত্তরা আকবরকে মারধর করে। তারা আকবরের মোবাইল ফোন, টাকাপয়সা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয়।
পরে পথচারীর সহযোগিতায় টহল পুলিশকে ঘটনাটি জানান আকবর। পরে আকবরকে ফেলে দেওয়ার স্থান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার সামনে মহাসড়কের পাশ থেকে জরিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আকবরের নাত জামাই নুর ইসলাম হত্যা মামলা দায়ের করেন।
অনেকে বলে,পরিবহন সংশ্লিষ্টরা সবসময় আলোচনায় এসে যায়। আসলে কি তাই। না। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আলোচনায় নয়, জঘন্য সমালোচনায় এসে যায়। এদের ভিতর মানষ্যত্ববোধ নেই। এরা পাশন্ড। এদের কলিজা মানুষের কলিজা নয়। হিংস্র কোন পশুর কলিজা এদের ভিতরে রয়েছে। তা না হলে এরা এ ধরনের নিকৃষ্ঠতম কাজের সাথে জড়িত থাকতে পারে না। বৃদ্ধের কথা আর যথেষ্ট প্রমানাদির ভিত্তিতে ঘটনার যদি সত্যতা প্রমানিত হয় তা হলে নিঃসন্দেহে ধরে নিতে হবে বাসের চালক ও তার সহযোগী প্রত্যক্ষ  কিংবা পরোক্ষভাবে হোক, কোন না কোন ভাবে জড়িত। যদি তারা জড়িত থাকে তাহলে সাধারন জনগন কিভাবে পরিবার কে নিয়ে বাসে চলাচল করবে। এ ধরনের হত্যা মৃত্যু কখনো মেনে নেয়া যায় না। কারন ঘটনা যদি সত্য হয় তাহলে আজ অথবা কাল এ ধরনের ঘৃনিত ন্যাক্কারজনক হত্যা কাজ পুণঃরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে। যা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
আজ দেশের বিবেকবান মানুষেরা ঘুমিয়ে। তাদের বিবেক জাগ্রত হচ্ছে না। হবে কি করে। মহিলাটি তো পরিচিত মুখ নয়। হয়ত থাকে বদ্ধ ঘরে গৃহিনী হয়ে। আর গৃহিনীরা বেঁচে থেকে করে কি। এরা সমাজে কি উপকারে আসে। হয়ত ভোটের সময় একটা ভোট দেয় এইতো। একটা ভোট কমিয়ে গেলো তাতে কি হয়েছে। বিবেকবান মানুষদের এদের নিয়ে ভাববার কোন সময় নেই। তারা এখন ব্যস্ত। কারন তাদের পরিবারের নারীরা পাবলিক বাসে ওঠে না। তাদের আছে প্রাইভেট গাড়ী। তাদের প্রাইভেট গাড়ীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে না। তাই তারা ভাবে না। তাই বলে এটি এগিয়ে যাওয়া যাবে না। কারন বাসে অনেক মেয়ে- মহিলা যাতায়াত করে। তারাও কারো না কারো মা, বোন, বউ। তাই তাদের চলাচলের নিরাপত্তা আমাদের দিতে হবে। দেশ কে দিতে হবে। দায় এড়িয়ে গেলে চলবে না। এটি বড় ধরনের অপরাধ। এর দায় সবাইকে নিতে হবে। দেশকে নিতে হবে।
আমরা আশাবাদী পুলিশ ভাইদের কাছে যে, এ ঘটনার মূল রহস্য ও সত্যতা উদঘাটন করে এই নির্মম,  নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডের সাথে সত্যিকার যারা জড়িত তাদের  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যাতে অদুূর ভবিষ্যতে এ ধরনের ভয়ংকর কাজ করা থেকে বিরত থাকে এবং ভয় পায় দুর্বৃত্তরা।

লেখক: ফিরোজ বাবু, লেখক ও সাংবাদিক।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK