রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Monday, 20 Aug, 2018 01:03:23 am
No icon No icon No icon
আর কতো অসহায় হলে সরকারি অনুদান পাবো

আমি সহযোগিতা চাই


আমি সহযোগিতা চাই


কামাল পাশা দোজা: পিছনে আমার অথৈ পানি।যমুনার ঘোলা পানি তারপরও আমার কাছে বেশ স্বচ্ছ মনে হচ্ছে।আনমনে একাকি ভাবছি এই বিপুল পানি রাশি শহর বন্দর নগর জনপদ অার ফসলী জমি প্লাবিত করে সাগরে পতিত হবে। বাট আমি কোথায় যাবো? গোটা দুনিয়ায় আমার এক চিলতে জমি নেই। নেই বসত বাড়ি। আমি উদ্বাস্তু আমি ভূমিহীন আমি গৃহহীন। দেবার মতো ন্যুনতম ঠিকানাও আমার নেই।
সন্ধ্যাপর ক্লান্ত পাখিও নীড়ে ফেরে। পল্লীর মেঠোপথে জোনাকির ঝিঁ ঝিঁ শব্দ অামার মনকাড়ে। গো-ধূলি লগ্নে অামি আপ্লুত হয়ে পড়ি। ক্ষীন কন্ঠে কে যেন কানের কাছে ফিস ফিসিয়ে বলছে,অনেকতো হলো,তো এবার সাংবাদিক কই যাবেন? এ প্রশ্নের জবাব নেই আমার কাছে। অামি এক ব্যর্থ জীবন বয়ে বেড়াচ্ছি। গত কালকেও অামার এক ভীষন শূভাকাংখি অাক্ষেপের সুরেই বললেন! এতো আগে ঢাকা এসে কি করলেন? এই বয়সে এসে ভাবছেন। বাট কে শুনবে কার কথা। তো আমি এসবের জবাব দিতে পারিনা। অার সেকারনে সব সময় লো-প্রফাইলে চলি।
তো আমার তরক্কি কি অামার হাতে? আমি চাইলেই কি রাতারাতি একটা কিছু হয়ে যাবো? তবে এটা ঠিক আমি অার সাংবাদিকতা পেশায় থাকবোনা। অালাদীনের চেরাগ কোথায় পাই? তাই ভাবছি।
ঈদ মানে আনন্দ। নতুন জামা কাপড়,কোরবানি কেনা,নিজে গোশত খাওয়া অপরকে খাওয়ানো,এ সবই ইসলামি শরীয়তের বিধান। বাট আমি সত্যি কথাও বলতে পারছিনা। তাহারা ইসলামি দায়িত্ব পালন করবেনা,প্রতিবেশীর খোঁজ নিবেনা, জাকাত ওশর করজে হাসানা অনুদান কিছুই দিবেনা।বাট মুরতাদ আর কাফের বলে মুন্ডপাত করতে ঠিকই এগিয়ে আসবে। বলছিলাম ঈদ আমার জন্য যন্ত্রনা,মহা যন্ত্রনা। বাড়িওয়ালা ঈদের মাস বিধায় পাওনা টাকার চাপ অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বহুগুন বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমি এখন চিড়া চেপটা হওয়ার মতো অবস্থায় আছি।কোরবানি দেয়ার সমর্থ আল্লাহ আমাকে দেন নাই। ২-৪ কেজি গোশত কিনবো সে সাধ্যও কি আমার আছে?কারন আমি বেকার? সমাজ? কিসের সমাজ?সব কেবলি ভকোয়াজ,অার মিথ্যার বেসাতি করে!
আমি কারো দয়া করুনা আর ভিক্ষে নেয়ার জন্য এসব লিখছিনা। অামি অামার মতো একজন সিনিয়র সাংবাদিক প্রতিনিয়ত কিভাবে জীবনযুদ্ধ করে বেঁচে থাকার কসরত করছে তা কেবলি জানান দেয়ার জন্যই লিখছি। কথিত ভদ্র অার সুশীল সমাজের ঘৃনিত দিক অামি তুলে ধরতে চাই।
ইসলামি জীবন ব্যবস্থায় গরীব থাকার সুযোগ নেই? সহীহ হাদিস প্রতিবেশী না খেয়ে থাকলে সে ব্যক্তি ঈমানদার নহে। তার ইবাদত কবুল হবেনা। কমপক্ষে ৪০ ঘর প্রতিবেশীর খোঁজ নেয়ার কথা। তো অামরা কি ৪ জন প্রতিবেশীর খোঁজ নেই? তারপর সব কিছুর পরও একজন সচ্ছল মুসলমান অভাবী মুসলমানকে করজে হাসানা মানে উত্তম লোন দিবে। এ লোন স্বয়ং আল্লাহপাক পরিশোধ করবেন। তো মুসলমানরা অার নেতারা কি দায়িত্ব পালন করছেন?
সরকার প্রধান বহুবার সাংবাদিকদের অনুদান দিয়েছেন। বাট আমি দোজা একবারও পেলামনা।আর কতো অসহায় হলে সরকারি অনুদান পাবো?
সংবিধানে অাছে রাষ্ট্র প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের গ্যারান্টি দিয়েছে। অামার সব জমি,বসতবাড়ি,ভিটে মাটি সব নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।তারপরও রাষ্ট্র কেন আমাকে সহযোগিতা করছেনা? অামার সংসদ সদস্য ডেপুটি স্পীকার এডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া। তিনি অামার পরিবারের সব কিছুই জানেন। তারপরও কেন আমার পুনর্বাসন হচ্ছেনা?
আমার বাড়ি ভাড়া বাকি তাও লাখ খানেক টাকা হবে। দোকান আর ব্যক্তিগত ধার দেনা মিলে অামার কাছে মানুষ পাবে তাও প্রায়ই ৪ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।সমাজ,সতীর্থ বন্ধুরা,সর্বোপরি রাষ্ট্রযন্ত্র আমাকে সহযোগিতা না করলে আমার উত্তরনের পথ নেই।
ইসলামি সমাজ একটু দৃষ্টি দিলে আমার উত্তরন সহজতর হবে। এতো কিছুর পরও আমি ভিক্ষে চাইছিনা। আমি কাজ চাই।আমি সহযোগিতা চাই।

লেখক: কামাল পাশা দোজা, সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক, ঢাকা।
[email protected]

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK