রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
Friday, 17 Aug, 2018 10:12:58 pm
No icon No icon No icon

মাতৃত্বের আর্তনাদ-মিষ্টি খামু


মাতৃত্বের আর্তনাদ-মিষ্টি খামু


মো: জাহাঙ্গীর হোসেন : আজ শুক্রবার (১৪-০৭-২০১৭) একটু সকাল সকালই বের হলাম বাসা হতে। উদ্দেশ্য – একমাত্র শ্যালিকাকে অট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে বিদায় জানানো, ওর স্বামী ছোট হতেই ওখানে পড়াশুনা করে এখন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে চাকুরী করছে।ধুম ধাম করে গত বছর সংসদ ভবনে বিয়ে হয়েছিল, এমন আত্মীয়ের শ্বশুর বাড়ীতে বেশ আয়োজন করেই যেতে হয়, শাহাবাগ থেকে ফুল নিলাম, এবার মিষ্টি জাতীয় কিছু নিতে হবে, বাংলামোটর আসতেই পেয়ে গেলাম মুসলিম সুইটমিটের দোকান, অবাক হয়ে দেখলাম লোভনীয় মিষ্টি খাবারগুলো পাঁচ জন ছোট ছোট বাচ্চা ও দু’জন মধ্যবয়স্ক মা কি অপলক দৃষ্টিতে দুপুর ০২.৩০ মিনিটের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে । গাড়িতে বসেই আমি লক্ষ করছিলাম, তখন আমার ড্রাইভার মিষ্টি জাতীয় খাদ্য দ্রব্যাদি কেনায় ব্যস্ত। কিছুক্ষন পর দেখলাম বাচ্চাগুলো নাছোরবান্দা, মিষ্টি খাওয়ার জন্য তারা তাদের মায়ের কাছে খুব আকুতি মিনতী করছে। মা দু’জন খুব সংকোচ ও ভয় নিয়ে, দোকানীকে জিজ্ঞেস করছে, একটা মিষ্টির দাম কত ? চোখে মুখে সন্তানকে তৃপ্তি করার সেকি আকাঙ্খা। হায়রে খাবার, দেখেই বুঝা যাচ্ছে মানুষগুলোর ঠিকমত তিনবেলাই খেতে পারে না, মিষ্টিতো ওদের কাছে বিলাসীতার মত। যাহোক গাড়ি থেকে নেমে দুজন মাকে কাছে ডেকে কথা শুরু করলাম, কি মিষ্টি খাবেন-সরল উত্তর, হ খামু, ঠিক আছে দু’শ টাকার মিষ্টি কিনে তাদের দিলাম (অস্পষ্ট ছবি দিলাম),কত তৃপ্তি নিয়ে যে তারা খাচ্ছিল, না দেখলে বিশ্বাস হবে না। একজন মা-মধ্যবয়সী, চোখের নীচে কাল মার খাবার দাগ, কিভাবে ব্যথা পেয়েছেন বোন, ভাই রে মার খাওনের লিগাই এই পৃথিবীতে জম্ম আমাগো, নদী ভাঙ্গা মানুষ আমরা, জমি-জমা ঘর বাড়ী সব গেছে, বাধ্য হইয়া মার মত বুড়া শ্বাশূরীরে ফেইলা ঢাকা চইলা আইছি, কি করুম বাচ্চা দুইটার বাপ ও আমিতো রাস্তা ঘাটে কোন রকমে বাইচা আছি, বুড়া মা তো সইতে পারবো না। কত কষ্টের যে ঢাকা শহর , রাস্তা ঘাটে রাতে এত বাঘ, ভাল্লুক, সাপ থাকে জানতাম না। প্রথম প্রথম নিজেরে বাচাইতাম এখন আর পারি না। ছোবল সইতে সইতে এখন সইয়া গেছে। দেহের উপর দিয়া গেলে কষ্ট হয় না, মনডা বড় কঠিন বিষয় রে ভাই, বাচ্চাগু বাপে যখন খারাপ কয়-খুব কষ্ট লাগে, চুরমাড় হইয়া যায় সব। কি করুম বাধ্য আমি, হাত পা যে বাঁধা, ছোট বাচ্চাগো রাস্তায় ফালাইয়া বাসা বাড়িতে কেমনে কাজ নিমু, ওগো কে দেখবো কন? দিনের বেলা হাত পাতলে কয় , জোয়ান জাহান কাম কইরা খাইতে পার না, সব মানুষই এই দুনিয়ায় কষ্টের মধ্যে আছে, একজনের কষ্ট একেক রকম। কেন যে মানুষ অবুঝের মত মন্তব্য করে, পারলে দেন, না পারলে কষ্ট দেওয়েন দরকার কি। দেহটার দিকেও অনেক নজর দেয়, কু-প্রস্তাব দেয়, এখন সব সইয়া গেছে, পেটের ক্ষুধার কাছে সবই তুচ্ছ রে ভাই, সবই তুচ্ছ । সন্তানের মায়া যে অমূল্য সম্পদ তা খালি মারাই বুঝে রে ভাই মা রাই বুঝে। মিষ্টির লাইগা পুলাপান গুলো যখন কানছিল, কইজ্জার থিকা টুকরা টুকরা রক্তের ঝুপা যেন ছিড়া ছিড়া পরছিল। ভাল লাগেনারে ভাই, ভাল লাগে না, নষ্ট কি মানুষ সহজে হয়, নষ্ট করে সমাজ দেশ ও বিশ্ব, অনর্গল কথা বলছে, বলুক না, হয়তোবা এমন মন খুলে সে অনেকদিন কথা বলেনি। জানেন ভাই এক, আফা প্রায়ই রাস্তা দিয়ে যাবার সময় আমার লাইগা বিরানীর প্যাকেট দিয়া যায়, খাইতে পারি না, বাচ্চাগুলা খাইলেই আমার খাওয়ন হইয়া যায়, বেশি খাওনেও আবার ভয় লাগে, রাস্তা ঘাটে থাকি হঠাৎ কইরা টয়লেট আইলে কই যামু কন। হাইরে মানুষ হাইরে মানুষের প্রতিকুলতা-বন্যা, পাহাড় ধস, অনাবৃষ্টি দেখতে দেখতে আর ভাল লাগে না। স্রষ্টা তো মহান, উনিতো পারেন হাজারো মানুষের দুঃখ ও কষ্ট ভুলিয়ে দিতে। স্রষ্টাও মানুষের সৃষ্টির মহিমার পরীক্ষা নেয়, মানুষইবা কম কিসে, ধৈয্যের কত্ত বড় বড় পরীক্ষা দেয়।

রাস্তা দিয়ে হাজারো মানুষ যাচ্ছে , গাড়ির ভিতর থেকে অনেকে দেখছি আমার দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, আমি এসবের তোয়াক্কা করি না, আমি কর্ম জীবনে অত্যন্ত ব্যস্ত একজন মানুষ, ছুটির সময়টায় যতটুকু সময় আমি অসহায় মানুষদের দিতে পারি সেটাই আমার প্রাপ্তি- হাজার কোটি মানুষ আছে, যাদের প্রত্যেকেরই মন আছে অসহায় মানুষের পাশে দাড়াবার, শুধু শংকা, সংশয়, ভয় যা মানুষকে মানুষের জন্য কাজ করতে বাধা দেয় –

ভেঙ্গে ফেল তোমাদের সংশয়ের দোয়ার
ভেঙ্গে ফেল সব ভয়
অসহায় মানবতার যে বড় আলোর প্রয়োজন
আলো দেখিয়ে তোমরা হও অক্ষয়

জোনাকীর আলো অতি ক্ষীন জেনো
তবুও সে আলো দিতে নয় ক্লান্ত
ছোট ছোট আলো জ্বালাও তোমরা
আলোয় ভরে যাবে বিশ্বের সব প্রান্ত

আজকে সারাবিশ্বে কিন্তু মানুষ মানুষের জন্য নিবেদিত প্রান। কোন মানুষই অন্য মানুষের দুঃখ, কষ্ট, নির্যাতন, বৈষম্য ও ধর্মের উপর আঘাত হানলে কিন্তু কেউ বসে থাকে না। ছোট্ট ছোট্ট প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ কত সুন্দর ভাবে চারিদিকে ছড়িয়ে যায়-মানুষ মানুষের জন্য, সিলেটের রাজনকে যখন কিছু নরপশু অত্যাচার করে মেরে ফেলে সে কষ্ট কিন্তু সকল মানবতার বুকে এসে লেগেছিল বিচার ও হয়েছে, তনুকে যখন হত্যা করার জন্য নির্মম আঘাত করা হয় সে আঘাতেতো সারাবিশ্ব কেঁপে উঠেছিল। সিরীয় শিশু আইলানের লাশ দেখে মানুষ কিন্তু বিশ্ব মোড়লদের ধিক্কার দিতে এতটুকু কুন্ঠিত হয় নি, বার্মীজ (মায়ানমার) বৌদ্ধদের নিশংসতায় বিশ্ব মানবতা কিন্তু ধিক্কারের বানীই দিয়েছে । ইসরাইল-ফিলিস্তিনিদের জাতীগত রেশারেশি কোন মানব হৃদয় সমর্থন করেছে? পাকিস্তানের নির্মম বোমা হামলা শুধুই কি বিজ্ঞানের অভিশপ্ত হাহাকার নয়, মধ্যপ্রাচ্যের এই অশান্তি, উন্নত বিশ্বে জঙ্গীদের বোমা হামলা কোন ভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। এত বড় বিষয়ের সমাধান সময় সাপেক্ষ, কিন্তু মানুষ সবাই এসবের বিপক্ষে, তবুও বিশ্ব আজ অশান্ত থাকছে জানি, উপরে উল্লেখিত অত বড় বড় মানবিক কাজ হয়ত আমরা করতে পারি না, কিন্তু করার ইচ্ছা ও যতটুকু সুযোগ পাই, তাই করি ও অন্যকে করতে উৎসাহিত করি ,হাজারো মানুষ দেখি আমর লেখা পড়ে ভাল কাজ করে ও আমাকে তা জানায় – এখানেই আমার ভাললাগা, এখানেই যেন মানবতার জয়। জানি মানবতার জয়ের জন্য আমরা সবাই উৎসাহিত ও উদার চিত্ত। শুধু একটি প্রয়াশ দরকার। সে প্রয়াশ শুধুই সময়ের ব্যাপার।
জানি আলো রয়েছে হাজার ঘরে
প্রজ্জলনের অপেক্ষায়, খুব শিঘ্রই প্রজ্জলিত হবে
বিশ্বকে থাকতে হবে না আর অপেক্ষায়।

লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, কবি ও সাংবাদিক।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK