সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮
Thursday, 09 Aug, 2018 12:24:15 am
No icon No icon No icon

ফুটওভার ব্রিজগুলো পথচারী জনসাধারণের ব্যবহার না করা এবং পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণ


ফুটওভার ব্রিজগুলো পথচারী জনসাধারণের ব্যবহার না করা এবং পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণ


আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ: ফুটওভার স্থাপন করা হয়েছে জনগণ এবং সরকারের ট্যাক্সের টাকায়। এর মূল উদ্দেশ্য পথচারী জনসাধারণকে জীবন/শরীরের ঝুকি নিয়ে রাস্তা পারাবার না হয়ে নিরাপদে ফুটওভারে চলাচল করার ব্যবস্থা করে দেয়া এবং উৎসাহীত করা। কিন্তু তারপরও রাস্তায় পথচারীরা ফুটওভারগুলোতে সচারচর উঠানামা/ব্যবহার করতে চায় না/করছে না। কেন? কি কারণ/ব্যাপার? অধিকাংশ মানুষের সাধারণ ধারনা মানুষ এতগুলো সিড়ি বেয়ে উচু ফুটওভারে উঠানামা করতে চায় না। কিন্তু এর পেছনে আছে নানাবিধ কারণ। যেমন, ফুটওভারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং সরকারের অব্যবস্থাপনা। অথচ এই ব্যাপারগুলো প্রশাসন গুরুত্বের সাথে অনুভব/বিবেচনা করছে না।

ক/প্রথম কারণ হচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা। আর এই সমস্যা সমাধানের ব্যাপার অনেকটাই সরকারের আন্তরিকতা, সিদ্ধান্ত গ্রহন এবং বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করছে। প্রধানত দুইটি নিরাপত্তাগত কারণে শিক্ষার্থী, মহিলা, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, সাধারণ মানুষ সবাই ভয়ে, নিরাপত্তাগত কারণে ফুটওভারে উঠতে চায় না। তাই তারা নিজেদের জীবন/শরীরের ঝুকি নিয়েও ফুটওভারের নিচ দিয়ে রাস্তায় পারাবার/যাতায়াত করে থাকে। ফুটওভার, ফুটপাত, আন্ডারপাস এগুলো ট্রাফিক সিস্টেমেরই এক একটি গুরুত্বপূর্ণ অবিচ্ছেদ্দ্য অংশ। তাই জনসাধারণকে ফুটওভার ব্যবহার করতে উৎসাহিত করার/দেবার ব্যাপারে সরকার কিছু বলিষ্ঠ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করলেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

১/অস্বাস্থ্যকর পরিবেশগত সমস্যাঃ ফুটওভারগুলোর উপরে এবং নিচে নানা ধরনের ভবঘুরে, ভিক্ষুক, পাগলের বেশধারী, মাদকাসক্ত, ছিনতাইকারী ব্যক্তিরা/গ্রুপ অযথা দাঁড়িয়ে /বসে থাকে। আড্ডা দেয়। অনেকে ঘুমিয়ে থাকে। আবার ধান্ধাবাজরা ঘুমিয়ে থাকার ভাব করে শুয়ে থাকে। সময় সুযোগ পেলে তারা পথচারী/ যাতায়াতকারীদের নানাভাবে হেনস্তা করে থাকে। এদের কারণেই পথচারীরা ফুটওভারে উঠতে, যাতায়াত করতে ভয় পায়, নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এবং অধিকাংশ ফুটওভার জনহীন নির্জন, নীরব থাকে।

সমাধানঃ তাই ফুটওভারগুলোতে এই ধরনের সন্দেহভাজন, বিপদজনক, উক্ত্যক্তকারী লোকদের দাঁড়িয়ে/বসে আড্ডা মারা, ঘুমানোর ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। একই সাথে ফুটওভারে সাধারণ মানুষকে যাতায়াতে উৎসাহীত করতে এবং যাতায়াতকারীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে প্রতিটি ফুটওভারে দুজন করে পুলিশ/কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগ দিতে হবে। বড় ফুটওভার হলে চারজন দিতে হবে। এতে সাধারণ মানুষ ফুটওভারে যাতায়াত করতে উৎসাহ, সাহস পাবে এবং নিরাপত্তাবোধ অনুভব করবে।

২/ফুটওভারের রেলিংয়ে বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড সমস্যাঃ ফুটওভার ব্রিজের দুই পাশের গ্রিলের রেলিং/বারান্দা কার্ণিশগুলো খোলামেলা রাখতে হবে। যাতে ফুটওভারের নিচের পথচারীগণ উপরে যাতায়াতকারী লোকজনকে এবং উপরের যাতায়াতকারীগণ নিচের পথচারীদের পরস্পরকে দেখতে পায়/পারে। তাহলে পথচারীরা নিশ্চিন্তে ফুটওভারে উঠতে, যাতায়াত করতে সাহস পেত/পায়। অথচ ফুটওভারের দুই পাশের খোলা গ্রিলের রেলিংগুলো বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড লাগিয়ে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে দেয়া হয়। এর ফলে ফুটওভারের উপরে যাতায়াতকারীদের নিচ থেকে পথচারীরা এবং উপরে যাতায়াতকারীরা নিচের পথচারীদের পরস্পরকে দেখতে পায় না। এতে ফুটওভারে উঠতে পথচারীরা খুব স্বাভাবিকভাবে/কারণে ভয় পায় এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।

সমাধানঃ ফুটওভার স্থাপন করার মূল উদ্দেশ্য জীবন/শরীরের ঝুকি নিয়ে পথচারীদের রাস্তা পারাবার না হয়ে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ফুটওভারে চলাচল করার সুব্যবস্থা করে দেয়া। সামান্য কিছু টাকা পাবার জন্য বিলবোর্ড ভাড়া দিয়ে ফুটওভারের গ্রীলের রেলিং সম্পূর্ণরূপে ঢেকে ফেলে পথচারী/যাতায়াকারীদের জন্য ভয়/নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করার জন্য না। এটা সরকার/সিটি কর্পোরেশানের জন্য একটি মারাত্নক ভুল ও অলাভজনক সিদ্ধান্ত। এই কারণে ১/পথচারীরা ফুটওভারে না উঠে নিচ দিয়েই যাতায়াত করছে সর্বদা।২/কোটি কোটি টাকায় নির্মিত অধিকাংশ ফুটওভার অধিকাংশ সময় নির্জন ও পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে/থাকছে। ৩/ট্রাফিক ব্যবস্থাও গতিশীল, নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ হচ্ছে না/করা যাচ্ছে না। এবং ৪/প্রায়ই সড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হচ্ছে।

খ/দ্বিতীয়ত নানা কারণে মানুষের শারীরিক অক্ষমতাঃ অধিক বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা, বিভিন্ন হার্ট, কিডনী, লিভার জনীত, পেগনেন্ট, সিজারিয়ান বিভিন্ন ধরনের অসুস্থ/অপারেশনের রোগীরা তাদের নানাবিধ শারীরিক অক্ষমতাজনিত কারণে ফুটওভারে উঠতে, যাতায়াত করতে পারে না এবং চায় না। তাদের ট্রাফিকের মাধ্যমে সড়ক পারাপারের ব্যবস্থা করে দিতে হবে অথবা ট্রাফিকের এই কাজে সহায়তা করার জন্য ভলেন্টিয়ার/সহায়তাকারী হিসাবে কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগ দেয়া যেতে পারে।

গ/স্থানীয় থানা পুলিশ প্রশাসনের অনুমতিতে এবং তত্ত্বাবধানে ফুটওভারগুলোতে কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক বাদাম, ঝালমুড়ি, ফল/আচারওয়ালা, ক্ষুদ্র হকার ব্যবসায়ী বসানো যেতে পারে। ফুটওভারের এই সরকার অনুমোদিত হকার ব্যবসায়ীদের পরিচয়পত্র দুই সেট স্থানীয় থানা এবং ফুটওভার সংলগ্ন পুলিশ বক্সে সংরক্ষিত থাকবে। ফুটওভারে চার/পাঁচজন করে স্থায়ী হকার ব্যবসায়ী থাকায় ফুটওভারগুলো আর নির্জন/নিরব থাকবে না এবং এতে ফুটওভারে ভবঘুরে, ভিক্ষুক, মাদকাসক্ত, ছিনতাইকারী, উক্ত্যক্তকারী ব্যক্তিরা/গ্রুপ বসে/ঘুমিয়ে আড্ডা দিতে/কোন অপকর্ম করার সুযোগ পাবে না। এতে একদিকে ফুটওভারগুলোর সার্বিক পরিবেশ অনেক ভাল, সুন্দর, নিরাপদ হবে/থাকবে। অপরদিকে পথচারীরা ফুটওভারে উঠতে, যাতায়াত করতে সাহস, উৎসাহ পাবে এবং নিরাপত্তাবোধ অনুভব করবে।

ঘ/ফুটওভারগুলোতে ইলেক্ট্রিক স্কেলেটর/চলন্ত সিড়ি লাগানোর প্রসঙ্গঃ উন্নত অনেক রাষ্ট্রে ফুটওভারের লোহার সিড়ির স্থলে/গোড়ায় স্কেলেটর লাগানো হয়। যাতে পথচারীরা ফুটওভারে দ্রুত উঠতে, যাতায়াত করতে পারে/উৎসাহিত হয়। কিন্তু প্রশাসনের অদক্ষতা, নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে এবং শিক্ষিত, সচেতন, রুচি সম্পন্ন, মার্জিত পথচারী/জনসাধারণ তথা নগরবাসীর কারণে বাংলাদেশে ফুটওভারে লোহার সিড়ির স্থলে স্কেলেটর লাগানো হলেও খুব বেশিদিন ভাল থাকবে না। সার্ভিস দিবে না। নষ্ট ও অচল হয়ে পড়বে। জনগণ দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে পারবে না। ফুটওভারগুলো একেবারেই পরিত্যাক্ত অবস্থায় থাকবে। কারন এসব ইলেক্ট্রিক যন্ত্রপাতি যখনতখন অচল হয়ে যায়/বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তখন তা দ্রুত ঠিক করে সচল করতে/রাখতে হয় এবং সেজন্য ভাল টেকনিশিয়ানও রাখতে হবে। তাই ঢাকায়/অন্য কোথাও ফুটওভারে স্কেলেটর সিড়িগুলো আনা, লাগানো, যত্ন নেয়া, পরিস্কার করা/রাখা, রিপেয়ারিং করার জন্য, দীর্ঘদিন এগুলো দিয়ে সার্ভিসং করার জন্য তমার মত বড় ও ভারী যান্ত্রিক কোন কোম্পানীকে একক দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। এগুলোর সার্বিক মেইটেনেন্স খরচ উঠানোর জন্য সরকার এগুলোতে নামমাত্র মূল্যে সার্ভিস চার্জ বসাবে। এতে সরকার ফুটওভার ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে সিটি কর্পোরেশানের পাবলিক টয়লেটের ন্যায় পাঁচ টাকা নেয়ার ব্যবস্থা করবে।

ঙ/অধিকাংশ ফুটওভারে যাত্রী ছাউনী নেই। ফলে প্রচন্ড রোদ, গরম, ঝড়, বৃষ্টিতে পথচারীদের ফুটোওভারে উঠতে/যাতায়াত করতে কষ্ট হয় এবং অনেকক্ষেত্রে ফুটওভার ব্যবহার করাই আর সম্ভবপর হয় না। তাই সকল ফুটওভারে যাত্রী ছাউনী দিতে হবে। তাহলে প্রচন্ড রোদ, গরম, ঝড়, বৃষ্টি সকল অবস্থাতেই পথচারীদের ফুটওভার পারাপারে অনেক সুবিধা হোত।

উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হলে এবং অব্যাহত রাখা হলে ফুটওভারগুলো প্রকৃতই পথচারী জনসাধারণের যাতায়াতের কাজে আসবে। ফুটওভারের নিচে/সড়কে পথচারীদের চাপ অনেক কমবে। ট্রাফিক ব্যবস্থা আরো নিয়ন্ত্রিত, গতিশীল, নিরাপদ হবে। পথচারীদের জীবন/শরীরের নিরাপত্তা বাড়বে। সড়ক দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে অনেক হ্রাস পাবে/কমবে। ভাল লাগলে শেয়ার করুন।

 [email protected]

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK