বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮
Wednesday, 08 Aug, 2018 09:47:31 am
No icon No icon No icon

এই গামছা আমার


এই গামছা আমার


জামশেদ নাজিম: কোনো সিনেমা বা নাটকের স্যুটিং নয়। এই গামছা আমার। সব সময় প্যান্টের পকেটে থাকে। গ্রামের সব কিছু ছেড়ে দিলেও গামছার মায়া ছাড়তে পারি নাই। গামছা আমার কাছে একটি অস্ত্র।
আচ্ছা গামছার কথায় পরে আসা যাক। আগে বলতে চাই আমাদের সাংবাদিক নেতাদের কথা। যারা যুগ যুগ ধরে আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন, তাদের অনুরোধ করব নৌ মন্ত্রী শাজাহান খানের সাথে একটু যোগাযোগ করবেন। তার কাছ থেকে শিক্ষা নিবেন- একজন নেতা কিভাবে তার শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলে। কতটা সংগঠন বান্ধব হলে একজন পরিবহন শ্রমিক প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করার পরও তাদের পক্ষে অবস্থান নেয়। এমনকি সরকারকে থোরাই কেযার করে পরিবহন বন্ধ রাখে। 
আর আপনারা সাংবাদিক নেতারা কি কি করেছেন, নির্বাচন আসলে একটু যোগাযোগ ছাড়া? এ বিষয়ে নিজের কাছে কখনো প্রশ্ন করেছেন? নির্বাচন আসলেই আমাদের সাথে কথা বলেন। নির্বাচিত হতে মরিয়া হয়ে যান- প্রয়োজনে মদের পার্টি দেন, টাকা দেন। কেউ কেউ নির্বাচিতও হন বটে। তারপর আবার লাপাত্তা।
গতকাল আমি ঘনিষ্ট জনদের বলেছি- সাবধানে থাকবেন। কারন এবার টার্গেট সাংবাদিকরা। 
আজ কয়েকজন সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হলো! এর কারন কি? এ প্রশ্নের জবাব কোনো সাংবাদিক নেতা দিতে পারবেন? পারবেন না! কারন- আপনি যদি সাংবাদিক নেতা হতেন- তাহলে জবাব দিতে পারতেন! আপনারা তো সাংবাদিক নেতা নন। আপনারা নেতার চেয়ারে বসা স্ব-স্ব সুবিধাভোগী মাত্র।
আজ আপনারা আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জামায়াতের কট্টর সমর্থক। আজকের আন্দোলনে সাংবাদিকদের ওপর যে হামলা হলো, কী অপরাধ তাদের? পেশাগত দায়িত্ব পালনে কেউ কেন বাঁধা দিতে আসবে? কেনো আমাদের মারবে? তথ্য সংগ্রহ করা তো আমাদের অধিকার।
আর সাংবাদিকগণের জন্য তো আজকাল ডিআরইউতে বসাই দায়। যারা বিএনপি জামায়াতের অন্ধ ভক্ত তাদের ভাষ্য অনুসারে হামলাকারীরা ছাত্রলীগ, যুবলীগ। যারা আওয়ামীলীগের অন্ধভক্ত তারা বলবেন- আন্দলোনরত শিক্ষার্থীদের আড়ালে জামাত, শিবির ও ছাত্র দলের লোকজন হামলা করেছেন। 
আমি বলতে চাই, হামলা কারীরা দুষ্কৃতিকারী, তাদের আটক করার দায়িত্ব পুলিশের। কেন তারা আটক করলো না? কেনো সাংবাদিকরা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা পেলো না? 
ওদের হামলার প্রতিবাদ কি কোনো সাংবাদিক নেতা করেছেন? বা কেউ কি আদৌ করবেন? 
যদিও অনেক নেতা ফেসবুকে প্রতিবাদ করছেন। কাল সমাবেশের ডাক দিছেন। কিন্তু কঠর কোনো উদ্যোগ কি নিবেন- যেটা হতে পারে কোমলমতী শিক্ষার্থীদের মতো কোনো প্রতিবাদ কিংবা শাজাহান খানের মতো পরিবহন ধর্মঘট!
কেউ কি একবারও চিন্তা করেছেন- শাজাহান খানের মাদকাসক্ত চালকরা প্রতিনিয়ত পথচারী হত্যায় কত অবদান রাখছেন? তারপরেও সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তার সামান্যতম বুক কাপে না। তাহলে আপনারা কেন এতো ভয় পান? আপনারা কেন আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামায়াতের এতো দালালি করবেন?

সবকিছু বাইরে গিয়ে নিজেকে শুধুমাত্র একজন সাংবাদিক নেতা হিসেবে কখনো ভাবতে পারেন না? যদিও সুবিধা নিতে নিতে আপনারা আজ উধাও! যার প্রমান এবারের ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচন। সৈয়াদ ইসতিয়াক রেজা ভাই, শাবান মাহমুদ ভাই এবং দীপ আজাদ ভাইয়ের নির্বাচনী ফলাফল। 
আপনারা অনেকেই আমার কাছের বড় ভাই। বিপদে পারিবারিক অধিকারে আমি আপনাদের সবার সহায়তা পাই। কিন্তু সবিনয়ে জানতে চাই, আপনারা কি অন্তত আমাদের উপর হামলার কড়া প্রতিবাদ করবেন না? 
পুলিশকে বলে হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে বাধ্য করবেন না। আমার বিশ্বাস আমার প্রানপ্রিয় রেজা ভাই ও শাবান ভাই আমাদের কষ্ট বুঝবেন। আমাদের জন্য অন্তত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন। 
হেফাজতের আন্দোলনে পক্ষ-বিপক্ষ, মার খাবে সাংবাদিক। এক-এগারোতেও টার্গেট সেই সাংবাদিক। সর্বশেষ কোটা আন্দোলন থেকে কোমলমতি শিশুদের আন্দোলন, সব পক্ষের অন্যতম টার্গেট কেন শুধুই সাংবাদিক? 
এই জন্যই বলেছি দলমত নির্বিশেষ সবাইকে এক হওয়া উচিত। না হলে সামনে আরও দুর্দিন আসবে। 
আর সহকর্মীদের বলবো পকেটে অন্তত একটা গামছা রাখবেন। ছোট বেলায় দেখতাম- বাবা-চাচারা গামছা মাথায় বেঁধে কাইজ্জা (ঝগড়া) করতেন। আমি কোনো দিন কাইজ্জা করি নাই। তবে ক্লান্ত শরীরে মুখে পানি দিয়ে গামছা মুখে দিলে শান্তি পাই। হঠাৎ কোনো বিপদ আসলে মাথায় গামছা বাধি অন্তত মাথার আঘাত থেকে রক্ষা পাই। 
নিজের নিরাপত্তা নিজেরাই নেন, সাংবাদিকরা মাথায় গামছা বাঁধেন।

লেখক: জামশেদ নাজিম।
স্টাফ রিপোর্টার, গাজী টিভি।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK