বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮
Sunday, 05 Aug, 2018 02:56:09 pm
No icon No icon No icon

ঢাকাব্যাপী যাত্রী/জনবান্ধব গণপরিবহন এবং যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলার অনিবার্যতা


ঢাকাব্যাপী যাত্রী/জনবান্ধব গণপরিবহন এবং যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলার অনিবার্যতা


আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ: ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং সেবার মান অত্যন্ত নিম্নমানের ঝুকিপূর্ণ। এগুলো প্রধানত নন এসি, রঙচটা, ভাঙাচূড়া মুড়ির টিনের বাস/ট্যাম্পু, সিটের অবস্থাও করুণ, ভেতরের পরিবেশ অত্যন্ত নোংড়া। ড্রাইভার, কন্ডেক্টারদের কথা, ব্যবহার অত্যন্ত কর্কষ, খারাপ। কেবলমাত্র নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষরা নিতান্ত বাধ্য হয়েই এইসব বাসে যাতায়াত করে থাকে। এইসব বাসে টাউট-বাটপার, ছিনকারী, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, হকার, ইভটিজারদের অপতৎপরতা রয়েছে। তাদের দ্বারা প্রায়ই সাধারণ বাস যাত্রীরা নানাবিধ বিপদের মধ্যে পড়ছে। এই নিম্নমানের বাস, ভেতরের নোংড়া পরিবেশ, নিরাপত্তাহীনতার কারণে সাধারণ মধ্যবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণি, পেশার নারী/পুরুষ, শিক্ষার্থীরা এইসব পরিবহন বাস ব্যবহার করে না এবং করতে সাহসও পায় না। নিতান্ত কোন প্রয়োজনে তারা ক্ষেত্র বিশেষে এইসব বাসে যাতায়াত করে থাকে। নিজেদের নিরাপত্তাগত কারণে এবং স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য তারা প্রধানত রিক্সা, সিএনজি, প্রাইভেট গাড়ি, হোন্ডা ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া অনেকে টেক্সি, উবার, পাঠাও ব্যবহার করে। এগুলোই অধিকাংশ সাধারণ ঢাকাবাসীর যানবাহন। সরকারী এবং বেসরকারী উদ্যেগে ঢাকার অভ্যন্তরে কিছু রুটে কিছু ভাল এসি, নন বাস সার্ভিস চালু আছে এবং হয়েছে। এসব বাসের পরিবেশ ভাল, আরামদায়ক এবং নিরাপদ হবার কারণে সাধারণ মধ্যবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত, ধনী শ্রেণি, পেশার মানুষ, শিক্ষার্থীরা এইসব রুটের বাস সার্ভিসগুলোতে চলাচল করে থাকে। কিন্তু এইসব হাতেগনা এসি, নন এসি বাস এবং রুট সার্ভিসগুলো ঢাকার পঞ্চাশ লাখ সাধারণ মধ্যবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের জন্য মোটেও পর্যাপ্ত না।

ঢাকায় যেভাবে জনসংখ্যা বেড়ে চলেছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে ঢাকা শহরের সীমানাও প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সাথে ঢাকার সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ মধ্যবিত্ত, ধনী শ্রেণিগুলো প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে। স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে এইসব শ্রেণির মানুষ প্রাইভেট গাড়িই ব্যবহার করে থাকে। তাদের মধ্যে গাড়ি কেনার প্রবণতাও বেশি। ফলে ঢাকায় প্রতি বছর প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। একই সাথে পাল্লা দিয়ে প্রতি বছর ঢাকার রাজপথে অবৈধ রিক্সার সংখ্যাও প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। ঢাকায় প্রায় ১৪-১৫ লাখ রিক্সা এবং প্রায় ৮-১০ লাখ প্রাইভেট কার চলাচল করে। ফলে ঢাকায় জ্যামের প্রধান কারনই হচ্ছে রিক্সা এবং প্রাইভেট কার। ফলে প্রতিনিয়ত যানবাহনের চাপ বাড়ছে এবং জ্যাম অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। এজন্য সরকার বিভিন্নভাবে বিভিন্ন উদ্যেগ এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও গতিশীল করার এবং জ্যাম কমানোর ব্যবস্থা ও চেষ্টা করলেও কোনটাই কার্যকরভাবে কাজ করছে না। ফলে ঢাকার অসহনীয় জ্যাম কোনভাবেই কমছে না এবং নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কলকাতায় আন্ডার গ্রাউন্ড মেট্টোরেল সড়কের উপরে যানবাহন এবং যাত্রীদের চাপ অনেকটাই কমিয়েছে। আশা করা যায়, ঢাকার উড়ালপথের মেট্টোরেল সার্ভিস ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে কিছুটা আধুনিক, গতিশীল, নিরাপদ করবে। ঢাকার সাথে চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর, পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের মত অর্থনৈতিকভাবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চার বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোর মধ্যে বুলেট ট্রেন সার্ভিস ঢাকার গণপরিবহন ও রেল ব্যবস্থাকে আধুনিক, গতিশীল, নিরাপদ করবে। মেট্টোরেল এবং বুলেট ট্রেন সার্ভিস ঢাকার অভ্যন্তরে এবং মহাসড়কগুলোতে পরিবহনের চাপ এবং জ্যাম কমাতে ভূমিকা রাখবে। মেট্টোরেল এবং বুলেট ট্রেন দুটো প্রকল্পই অনেক ব্যয়বহুল, দীর্ঘ মেয়াদী। তবে এগুলো ঢাকার প্রতিষ্ঠিত এবং বিকাশমান পঞ্চাশ লাখ সাধারণ মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত, ধনীক শ্রেণি, পেশার মানুষ, শিক্ষার্থীদের তথা সাধারণ ঢাকাবাসীর জীবনযাত্রায় কোন আমূল পরিবর্তন আনবে না।

আধুনিক ঢাকা মেগাসিটি গড়ে তোলার জন্য ঢাকায় দ্রুত পর্যাপ্ত উন্নতমানের এসি এবং নন এসি বাস সার্ভিস বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে রিক্সা কমাবার ব্যবস্থা করতে হবে এবং অতি পুরানো ভাঙাচুড়া, কালো ধুয়াযুক্ত ফিটনেসবিহীন লোকাল বাসগুলোকে দ্রুত ঢাকার রাজপথে চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে। ঢাকার রাজপথ এবং সাধারণ ঢাকাবাসীকে যানবাহনের অসহনীয় চাপ এবং জ্যামের সমস্যা/কবল থেকে উত্তোরণ করতে/বাঁচাতে ঢাকাব্যাপী পর্যাপ্ত উন্নত এসি, নন এসি বাসের সার্ভিসের মাধ্যমে আধুনিক যাত্রী সেবামূলক সেক্টর পরিণত করতে হবে এবং রুট কানেক্টিভিটি গড়ে তুলতে হবে। যাতে ঢাকার সাধারণ মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত, ধনীক শ্রেণি, পেশার মানুষ, শিক্ষার্থীরা এইসব বাসে আরামে নিরাপদে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে দ্রুত চলাচল করতে পারে এবং তারা নিজ থেকেই রিক্সা, সিএনজি, প্রাইভেট গাড়ি, ট্যাম্পু, হোন্ডা, উবার, পাঠাও, টেক্সি ক্যাব ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হয়। 
ঢাকাব্যাপী পর্যাপ্ত উন্নত এসি, নন এসি বাসের যাত্রী সেবামূলক সেক্টর, সার্ভিস এবং রুট কানেক্টিভিটি ব্যবস্থাই ঢাকার অসহনীয় জ্যাম কমাবার এবং নিয়ন্ত্রণের একমাত্র সর্বোৎকৃষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা। তবেই ঢাকার মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত, ধনী, অভিজাত শ্রেণি, পেশাজীবী, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী, গৃহিণী, নারী, শিশু, বয়োবৃদ্ধরা, তাদের ঘরের/পরিবারের স্কুল/কলেজ/ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেমেয়ে/শিক্ষার্থীরা রিক্সা, সিএনজি, প্রাইভেট কার/উবার, হোন্ডা/পাঠাও ব্যবহার করতে নিরুৎসাহী হবে এবং অধিকহারে এসব এসি, নন এসি বাস সার্ভিসগুলো ব্যবহার করতে উৎসাহী হবে। এরফলেই ঢাকার রাজপথে কার্যকরভাবে পরিবহন চাপ, জ্যাম কমে আসবে এবং নিয়ন্ত্রণে আসবে। আর এজন্য সরকারকে নিকটবর্তী বন্ধুপ্রতীম ইন্ডিয়া এবং চায়নার কাছ থেকে কয়েক হাজার উন্নত মানের টেকসই নন এসি এবং এসি বাস বহর ক্রয় এবং আমদানী করার বলিষ্ঠ, কার্যকর উদ্যেগ, পরিকল্পনা গ্রহন, প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।

ঢাকার আধুনিক জনবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন সংস্থা, যাত্রীসেবা এবং যাতায়াত ব্যবস্থা ঢাকাবাসীর আজন্ম স্বপ্ন। ঢাকার পরিবহন সেক্টর একটি অসীম সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ সেক্টর/ক্ষেত্র। দেশি ও বিদেশি সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারীদের জন্য নিশ্চিত লাভজনক খাত। এজন্য সরকারকে আন্তরিকভাবে বলিষ্ঠ উদ্যেগ গ্রহন করার মাধ্যমে এই গণপরিবহন খাতকে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ, উন্মুক্ত, আকর্ষনীয় করে তুলতে হবে এবং এতে সকল পক্ষই লাভবান হবে। সরকারের উচিত ভারত এবং চীন সরকারের সাথে সহজ শর্তে, কম সুদে কিস্তিতে দ্রুত এইসব বাস বহর কেনা, আমদানী করার ব্যবস্থা করা। এরপর সেগুলো বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার মালিকদের মধ্যে বাসগুলো সহজ কিস্তিতে পরিশোধ করার চুক্তির মাধ্যমে বন্টন করে তাদের মাধ্যমে ঢাকার গণপরিবহন সেক্টর, সার্ভিসকে উন্নত যাত্রীসেবামূলক খাতে পরিণত করা এবং ঢাকাব্যাপী বাসের রুট কানেক্টিভিটি গড়ে তোলা। 
সেনাবাহিনী অত্যন্ত অভিজ্ঞ, দক্ষ, শক্তিশালী, সুশৃংখল সংস্থা সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ঢাকার আধুনিক পরিবহন সংস্থার যাত্রীসেবা দানের ব্যাপারটি তদারক করার জন্য একটি আলাদা মনিটরিং গঠন করতে হবে। এটা সরকার, পরিবহন মালিক সমিতি, যাত্রী, সাধারণ ঢাকাবাসী সকল পক্ষের জন্যই দীর্ঘমেয়াদী সময়ের জন্য/স্থায়ীভাবে ভাল, কল্যাণকর হবে। এভাবে পরিকল্পিতভাবে ঢাকাব্যাপী আধুনিক যাত্রীবান্ধব ও জনবান্ধব পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সেক্টর/গণপরিবহন সংস্থা, সার্ভিস/সেবা এবং রুট কানেক্টিভিটি/যাতায়াত সংযোগ ব্যবস্থার মাস্টারপ্লান/মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং চালু করা গেলে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে এবং আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন হবে। স্বাধীনতার পর থেকে সাধারণ ঢাকাবাসীর আরামদায়ক নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থার অধরা, অপূর্ণ স্বপ্ন, কল্পনা বাস্তবে রূপ নিবে এবং পরিণত হবে। 

[email protected]

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK