সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮
Monday, 16 Jul, 2018 10:38:55 am
No icon No icon No icon

আড়াই'শ বছরের ঐতিহ্য বগুড়ার দই


আড়াই'শ বছরের ঐতিহ্য বগুড়ার দই


কামাল পাশা দোজা: আড়াই'শত বছরের একটি ঐতিহ্য পাশাপাশি আর্থিক ভাবে ঈর্ষনীয় লাভজনক খাত হচ্ছে দেশের গর্ব অামাদের বগুড়ার দই। বগুড়ার দই মানেই শেরপুরের দই। বগুড়ার দই কেউ নকল করতে পারবেনা। কারন অনেক। তো দু একটি মাত্র বলবো।ঢাকায় মালিবাগ অার বেরি বাঁধে যতোই কসরত করা হোক না কেন? তাহারা কোনদিনও বগুড়ার দই বানাতে পারবেন না?যেমন কাকের পিছে ময়ূরের পেখম লাগালেই তাহা ময়ূুর হবেনা? যতোই চিনি আর সেকারিন মারুক না কেন,তাহারা বগুড়ার দইয়ের ন্যাচারাল স্বাদ আনতে পারবেনা? ইহা খুবই কঠিন তাহাদের জন্য? কেমনে আনবে? ঢাকায় কি গো-চারণ ভূমি আছে? ফার্মে গরু পালন করা হচ্ছে টিনের ঘরে কিংবা সেডে। তো সে সব দুধ হয় পানসে। কারন বগুড়ার গরু খোলা মাঠে ঘাস খায় । সেই ঘাসে সূর্যের কিরন পড়ায় গাভীর দুধে প্রচুর ভিটামিন ডি থাকে। ফলে দুধ হয় ঘন। তো ঢাকার নকলবাজরা এই দুধ কেমনে পাবে? তারপর পাস্তরিত ননী তোলা পানসে দুধ,তারও লিটার ৬৫-/ টাকা। আর ফার্মের পানসে দুধের লিটার মাত্র ৭০-/ টাকা। আর বগুড়ায় ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ ঘন দুধের লিটার ৩০-/ ৩৫-/ ৪০ -/টাকা মাত্র। মাঝে মধ্যে ৪৫-/ টাকা লিটার হয়। তো নকলবাজরা কেমনে পারবে বগুড়ার আসল দই দিতে? যাহারা বোকা,জীবনে বগুড়ার দই খায়নি?তাহারাই নকলবাজদের খপ্পরে পড়তে পারে?
তারপর বগুড়ার দই এর অন্যতম বৈশিষ্ঠ্য হলো উনুনে জাল দেয়ার মাঝেই দই অনেকটা জমে যায়।অার সম্পূর্ন প্রাকৃতিক নিয়মে কারখানায় স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে দই প্রস্তুত করা হয়।শেরপুরের বিশাল বিশাল দইয়ের কারখানা আমি দেখেছি। ঢাকাতে নকলবাজরা এসব কারখানা কোনদিনই গড়তে পারবেনা?অার দুধ পাবে কই? কাজেই বগুড়ার দই অপ্রতিদ্বদ্নী।


বগুড়া অার শেরপুরে শত শত দই প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অনেক শ্রমিক সে সব প্রতিষ্ঠানে মানে কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তারা দেশের অর্থনীতির চাকাকেও সচল রাখছে বহুলাংশে।বগুড়ার দই নিয়ে এই ছোট পরিসরে কি লিখবো? ব্যবসা করার নিয়ত এবং উত্তরাঞ্চলের সম্পদ হিসাবে আমি বহু বছর থেকেই বগুড়ার দইয়ের খুঁটি নাটি জানার জন্য অনেক সময় ব্যয় করেছি। অনেক সময় বগুড়ায় না থেকে আমি শেরপুরের অাবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপন করেছি। তো বগুড়ার দই নিয়ে আমি কামাল পাশা দোজা যখন কিছু ণিখি তা মনোযোগ দিয়ে পড়ার আগে বেহুদা মন্তব্য না করাই ভালো। 
আমাদের রপ্তানি বানিজ্যে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারবে বগুড়ার দই। পর্যটন শিল্পও বিকশিত হবে বগুড়ার দইকে কেন্দ্র করে। এব্যাপারে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। বহু দেশে বগুড়ার দই যাচ্ছে। চীনে এ দইয়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আমার পরিচিতি এক ব্যবসায়ি বছর কয়েক আগে অামাকে বলেছিলেন,৫,৭ কেজি ওজনের হাড়িঁতে দই দেয়া যায় কিনা? চীনের ব্যবসায়িরা নমুনা চেয়েছে। সে সময়ে অবশ্য এ সব শখের হাঁড়িতে দই পাওয়া যেতনা। এখন বগুড়ার দইয়ের কারিগররা চীনের ব্যবসায়িদের মতোই দক্ষ হয়েছে। মানে কাষ্টমার যেভাবে চাইবে,সে ভাবেই দই সরবরাহ করা যাবে।
কলেবর বৃদ্ধি পাচ্ছে তবুও কিছু কথা লিখতেই হয়। বগুড়ার দইয়ের কয়টা আইটেম জানে ক্রেতা সাধারণ? টক দই,সাধারণ দই,পাতলা দই,হালকা দই,মিষ্টি দই,মিষ্টি ছাড়া দই,কম মিষ্টি দই,প্রিমিয়াম দই,স্পেশাল দই আরো কতো কি?

ইফতারে বগুড়ার সাদা দই
অার সরের দই,মালাই দই এসব কি বলতে হবে? আর ক্ষির দইয়ের কথাও কি বলতে হবে? একটা ক্ষির দই। আর একটা ক্ষিরসা। অনেকে না বুঝে ক্ষিরসাকেই অাবার দই ভেবে বলে বগুড়ার দই বেজায় ঘন?
বহু বছরের সাধনা। কাজেই সব লেখলে বন্ধুরা পড়বেন না? এমনিতেই বড় হয়ে গেছে লেখা। তবুও আমি লিখবো?অামাদের উত্তরাঞ্চল দেশের অর্থনীতিতে কতোটা গুরুত্বপূর্ন তা জানান দেয়ার জন্যও আমি লিখবো।

লেখক: কামাল পাশা দোজা, সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক, ঢাকা।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK