বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮
Friday, 13 Jul, 2018 09:35:17 pm
No icon No icon No icon

জেনে নিন হজের সময় কিভাবে সুস্থ থাকবেন


জেনে নিন হজের সময় কিভাবে সুস্থ থাকবেন


আলহাজ্ব মোহাম্মাদ জ, ই বুলবুল: ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে হজ একটি। একজন মুসলমানের ওপর হজ্ব ফরজ হওয়ার শর্তগুলোর মধ্যে দৈহিক ভাবে সমর্থ হওয়া একটি। হজের সময় যথেষ্ট শারীরিক পরিশ্রম করা প্রয়োজন হয়। পবিত্র কাবা ঘরে চারদিকে তাওয়াফ করা সাফা ও মারওয়ার মাঝ খানেসায়ী করা, মিনার যাওয়া, আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়া, আরাফাতের ময়দান থেকে মুজদালিফার রাত যাপনের উদ্দেশ্যে যাওয়া, পরদিন সকালে ওঠে জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ ও কোরবানি করার জন্য মিনার গমন করা, পরিশেষে পবিত্র কাবা ঘরের চারদিকে বিদায়ী তাওয়াফ- সব মিলিয়ে ভিড়ের মধ্যে অনেক পথ হাঁটাহাঁটি করতে হয়। এ ছাড়া হজরত মোহাম্মদ (সা.) রওজা মোবারক জিয়া রতের জন্য মদিনায় গমন করতে হয়।

তাই হজে যাওয়ার আগে যেমন দৈহিক সামর্থ্যর পাশাপাশি দৈহিক সুস্থতা প্রয়োজন। পাশাপাশি অতন্ত এক বছর আগে থেকেই মক্কা-মদিনা সম্পকে বিশেষভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন এবং মনটাকে ভাব গার্ম্ভিজে মনো নিবেশ করে নিতে হবে। হজ পালন কালে হাঁটতে হয় বলে হজে যাওয়ার আগে থেকে নিয়মিত হাটার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। হাঁটার অভ্যাস আগে থেকে চালু রাখলে হজ পালন কালে মাংস পেশিতে টানবা পেশির ব্যথা কম হবে এবং হাঁটাহাঁটির কাজ সহজ হবে। হাঁটার জন্য স্যান্ডেল খুব আরামদায়ক। হজ পালন কালে মক্কায় প্রচন্ড ভিড় হয়। এ কারণে কিছু ছোয়াচে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ছোঁয়াচে রোগ গুলোর মধ্যে মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লয়েঞ্জঅন্যতম। তাই হজে যাওয়ার আগেই রোগ প্রতিরোধক টিকা নিতে হয়। সিভিল সার্জনের অফিস বা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে টিকা দেওয়া হয়। মক্কা, মিনা, আরাফাত, মুজদালিফায় প্রচন্ড গরম পড়ে। তাই বেশি বেশি জমজমের পানি পান করা প্রয়োজন হয়। তাছাড়া প্রচন্ড ভিড়ের কারণে ঘেমে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পানি ও লবণ বের হয়ে যেতে পারে।

পানিশূন্যতা লাগা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমিবমিভাব, বমি হতে পারে। শরীরে পানির ঘাটতি যেন না হয়, সে জন্য বেশি বেশি পানি পান করতে হবে। ভ্রমণের সময় পানির বোতন সঙ্গে রাখতেহবে। সফটড্রিং সফল ও ফলের রস ও পান করা যাবে। তাতে লবণের ঘাটতি পূরণ হবে জমজমের ঠান্ডা (কোল্ড) পানি পান করলে গলাব্যথা, কাশি হতে পারে। তাই প্রথমদিকে বেশি ঠান্ডা পানি পান না করে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি বা নট কোল্ড’ পানি পান করে অভ্যস্ত হতে হবে। গলাব্যাথা, কাঁশির সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েওষুধ সেবন করতে হবে। ফলের রস ও পান করতে হবে বেশি বেশি। তাতে লবণের ঘাটতি পূরণ হবে। হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় নাক-মুখ ঢেকে দিতে হবে, যেন অন্য হাজি সংক্রামিত না হয়।মিনা ও মুজদালিফার ট্যাপ সংযুক্ত ড্রাম জাতীয় বড় বড় পাত্রে খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়। এসব পাত্র থেকে মগ, গ্লাস, বোতল ইত্যাদি দিয়ে পানি তুলে বা এসব পাত্রে কোনো কিছু ফেলে পানি দূষিত করা থেকে বিরত থাকতে হবে। খাবার-দাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

খাওয়ারআগেঅবশ্যইভালোকরেহাত ও থালা-বাসনধুয়েনিতেহবে। ফলমূল ও ভালোকরেধুয়েনিতেহবে। অতিভোজনবাঅন্য যে কোনোকারণেবা দহজমবা পেটখারাপ যেননাহয়, সেদিকে ও খেয়ালরাখতেহবে। সঙ্গে লবণ, মরিচ, শুটকি, পছন্দমতখাবারনিয়ে যেতেপারলেভালহয়। কেননা যেখানেরখাবার স্বাদ বিহীনতবে বাঙ্গালী কাঁচাবাজার ও রয়েছে।

টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান দিয়েউভয় হাত ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। মক্কায় মসজিদে হারাম ও মদিনায় মসজিদে নববীর টয়লেট গুলোয় সাবানের ব্যবস্তা আছে। মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতে ব্যবহারের জন্য গন্ধহীন টুকরা সাবান সঙ্গে রাখতে হবে। মক্কা ও মদিনায় ঘরের বাইরে বেশ রোদ। প্রচন্ডও গরম। রোদে নাগিয়ে ছাতা ব্যবহার করতে হবে। ভিড় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। প্রচন্ড ভিড়ে পদদলিত হওয়ার ঘটনা ঘটে অনেক সময়। রাস্তা পারাপারের সময় ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। যাদের কোনো অসুখ আছে এবং চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়েছেন, তাদের সে অনুযায়ী চলতে হবে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তাচাপ বাতব্যথা ইত্যাদির জন্য ডাক্তারের পরামর্শমতো নিয়মিত ওষুধ সেবন করে যেতে হবে। মালামাল সঙ্গে যত কম নেয়া ও রাখা যায়। শেয়ার করেও চলা যায়। সর্বদা উদার হয়েছ বরের মানুষিকতা থাকতেহবে। কেননা আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য যাওয়া তাই দুনিয়াবী চিন্তুাভাবনা ত্যাগ করতে হবে। জুম্মার নামাজ পড়ে এসে দুপুরের খাবার সেরে বিশ্রাম নিয়ে একে বারে আসর, মাগরিব ও এশা শেষ করে আসতে পারেন। তাতে আসা যাওয়ার কষ্ট লাগব হবে।

আর কোরবানির ব্যাপারে ব্যাংকে ও টাকা দিয়ে পারেন। অনেক মোয়াল্লেম আছেন যারা কোরবানির কথা বলে সঠিক নিয়মে কোরবানি করেনা, দেখা যায় যে ৫০ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ৫-৬ কোরবানি দিয়েই তার মোবাইল বন্ধ রেখে সহকারীকে দিয়ে বলায় আপনাদের সবার কোরবানি হয়ে গেছে আপনারা সবাই মাথা মন্ডল করে ফেলেন। অথচ হজের একটি ফরজ ও যদি ছুটে যায় তাহলে তার কষ্টার্জিত হজটি পূর্ণতা পেল না। যদি নিজে সামনে থেকে কোরবানি দিতে পারেন তাহলে তো কোন কথাই নেই যদিও এটা ওই সময়ের জন্য সম্ভব হয়ে ওঠে নাযাই হোক ভেবেচিন্তে ধীর স্থির হয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে যৎ সামান্য তুলে ধরা হলো। আর খেয়াল রাখতে হবে, এ অসুখ গুলো যেন না বাড়ে। মক্কা-মদিনা হাজিদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য বাংলাদেশ হজ মিশনের মেডিক্যালটিমের ডাক্তার নিয়োজিত আছেন। তাদের পরামর্শ নিতে হবে সময় মত। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো কিছু কিছু ওষুধ সঙ্গে নেওয়া ভালো। জার ও শরীরব্যথার জন্য প্যারাসিটারমল, বমির জন্য ডমপেরিডন, অ্যাসিডিটি ও গ্যাসেরজন্য অ্যান্টাসিড, রেনিটিডিন, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, খাবার স্যালাইন এবং সঙ্গে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন রাখুন। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নারীদের জন্য স্যানিটারি প্যাড রাখুন। যেসব হাজির চশমার প্রয়োজন, তারা যেন অতিরিক্ত এক জোড়া চশমা রাখেন হাতের কাছে এবং সেটিপ্লাস্টিক ফ্রেমের হলে ভালো। ভিড়ের মধ্যে চোখ থেকে চশমা পড়ে গেলে তোলার চেষ্টা না করাই শ্রেয়। তাতে পদদলিত হওয়ার ভয় কম থাকে। আল্লাহ! আপনাদেরশারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রেখে হজ। কবুল করুক আমিন।

লেখক: আলহাজ্ব মোহাম্মাদ জ, ই বুলবুল, সিনিয়র সাংবাদিক, ঢাকা।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK