সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮
Friday, 13 Jul, 2018 05:59:20 pm
No icon No icon No icon

প্রতারক অনামিকা


প্রতারক অনামিকা

 


কোহিনূর আক্তার: আমার কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে , তার আগেই আমাকে বাড়ি যেতে হবে । 
দাদাভাই চিঠি দিয়ে আমার হোস্টেলের সুপারকে জানিয়েছে ।

অনামিকা , তুমি ছুটিতে যাবার আগেই আমাদের বিয়েটা সেরে ফেল । 
তমাল , তুমি এখনও বিদেশে , কি করে সম্ভব বলো ! তাছাড়া তুমি তো আমাকে কোনোদিন দেখনি , চেনো না ।
তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না অনামিকা । তুমি যেমনি দেখতে হও , আমি শুধু তোমাকে ভালোবেসেছি , তোমার চেহারাকে নয় ।

আমার অনামিকা , অনা - তুমি শুধু আমার ।
জীবন থেকে কখনও চলে যাবে না বলো ? বলো অনা ? কথা দাও !

হা হা হা - পাগল । কথা তো মানুষ একবার দেয় , আর আমি কথা দিই প্রতিদিন । তোমাকে ছেড়ে আমি কখনও চলে যাবো না ।

তোমার জন্য কি আনবো বলো , বিয়ের গয়না কি কি হবে ?

আবার দিতে হবে লিস্ট ! এর আগে কতোবার দিয়েছি .....!

ওকে , ঠিক আছে , তোমাকে সাঁজাতে সব আনবো । হৃদয়ের ময়না পাখি । 
তো কবে আসছো ?

আগামী 9/3/14 তারিখে । তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাবো । 
আমরা বিয়ের পর কোথায় উঠবো ? 
আমার এক বন্ধুর বাসায় উঠবো ময়না পাখি ।
আচ্ছা , আমাদে র নাতি পুতি কতগুলো হবে ? 
100 টা , চলবে ? 
এখনও বিয়ে হয়নি , ছেলেমেয়ে হয়নি --- উনি নাতি পুতির স্বপ্ন দেখছে !! কোন পাগল জুটেছে আমার কপালে , কে জানে ! 
পাগলি আমার তোমার সাথে কথা বলতে আমার অনেক ভাল লাগে । 
আচ্ছা তুমি তো আমাকে কখনও দেখনি , তাহলে চিনবে কি করে ? আর আমি চিনবো কি করে ? 
তুমি এয়ারপোর্টে আসবে , আমি ঠিক চিনে নেব - আমার অনা'কে ।

আমার কিন্তু অনেক লজ্জা করবে , আমি কথা বলতেই পারবো না । 
আমি প্রথমেই আমার অনাকে বুকে জড়িয়ে নেব । তখন সব লজ্জা ঢেলে দিও এ বুকে । 
টি এন টি ফোনে সব সময় কথা বলা যায় না । আর এই আমাদের শেষ কথা । তিন দিন পর সামনাসামনি কথা হবে - ভাবতে গা শিউরে উঠছে । 
এখনই এ অবস্থা হা হা হা ভালো থেকো ,,,,,,,,,, আল্লাহ হাফেজ ।

বিকেলে ---

নিচ তলা থেকে ভাকছে সুপার ম্যাডাম ---- ""502 অনামিকা , তোমার গেস্ট এসেছেন ।" 
আমি ভাবলাম , তমালের বন্ধু এসেছে । তাই হাল্কা সাজগোজ করলাম । নিচ তলায় গিয়ে দেখি - দাদাভাই এসেছে আমাকে বাড়ি নিয়ে যাবে বলে । তাই সুপার ম্যাডামের সাথে কথা বলছে , দাদাভাই ।

আমার অনেক কান্না পেল , আমি দশটি সিঁড়ি দৌড়ে উঠে পাঁচতলায় উঠলাম । আমার কান্না দেখে আমার রুমমেটদের বুঝতে বাকি রইল না -- কি হতে চলেছে আমার সাথে । 
আমার সব বন্ধুরা দাদাভাইকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলো । কিন্তু দাদাভাই কারও দিকে তাকিয়ে দেখলো না । 
আমিও অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম । 
তখন দাদাভাই বলছে - দিদার অবস্থা ভাল না , তাই যেতে হবে । ক'দিন পর চলে এসো ।

চলে এলাম গ্রামে । দুর থেকে দেখতে পেলাম বাসার গেটে অনেক মানুষ । ভাবলাম দিদা আর নেই । মনটা উড়ে গেল বুকের ভেতর থেকে ।

বাসায় ঢুকে দেখতে পেলাম , অনেক আয়োজন চলছে । কিসের আয়োজন ।!! 
রুমে ঢুকে বুঝতে বাকি রইল না , আমার বিয়ের আয়োজন চলছে । লোকজন হইচই করছে । আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম । ভাবি'কে ডেকে সব বললাম ।

অনা , এ সব বিয়ের আগে হয়েই থাকে -- ভুলে যাও সব । 
তোমার দাদাভাই কেমন তা তো জানো । 
আমি পালানোর চেষ্টা করলাম , কিন্তু ধরা পড়ে গেলাম । দাদাভাই এবং সবাই জেনে গেল আমার তমালের কথা - তারপর আরও কঠিন পাহারা দিয়ে রাখলো আমাকে ।

সকালবেলা আমার গায়ে হলুদ । তখন সকাল নয়'টা ।

তমাল তখন এয়ারপোর্টে নেমেছে - আরও 30 মিনিট চলে গেল । 
তমাল হয়তো আমাকে খুঁজছে । আমি তমালকে ভাবছি আনমনে আর অসহায় চোখে অশ্রুর ঢল নামছে । 
সবাই আমার শরীরটাকে হলুদের প্রলেপ দিচ্ছে ।
আমার বিয়ে হয়ে গেল । আমি চলে গেলাম শ্বশুরবাড়ি । 
তারপর তমালের কি হয়েছে , জানিনা । শেষ কথা হয়েছিল তমালের সাথে টি এন টি ফোনে । আর প্রেম আলাপন চলতো চিঠির মাধ্যমে ।

প্রায় চার বছর পর একটি চিঠি এলো -"তমালের"।

চিঠি 
---------
আমার অনামিকা , 
কেমন আছো ? 
আমাকে ছেড়ে খুব সুখে আছো তাই না -অনা ? 
তুমি আমার সাথে কেন এমন করলে বলো ? 
এয়ারপোর্টে নেমে পাগলের মতো তোমাকে খুঁজেছি । বেশ কিছু দুরে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে । তোমাকে খুঁজে না পাওয়ার ক্লান্তিটা দুরে চলে গেল । ওই যে আমার পাগলি অনামিকা , আমার জন্য দাঁড়িয়ে আছে । দৌড়ে ওর কাছে গিয়ে বললাম -- 
Are you Anamikaa ?

No ...!!

Anamika .. 
I suffered a lot ..please look at me . Anamikaa ..

আমি তোমার জন্য তোমার পছন্দের সব গহনা কিনেছিলাম । বেনারসী শাড়ি , আর আমার বন্ধু তোমার পছন্দের ফুলের মালা কিনে বাসর সাজিয়েছিল । শুধু তুমি ছিলে না বলে , সমস্ত ফুল ঝরে গিয়েছে । কেন এমন করলে অনামিকা ? 
সেদিন দুপুর পর্যন্ত তোমার জন্য অপেক্ষা করলাম এয়ারপোর্টে । 
তারপর তোমার হোস্টেলে চলে এলাম - সেখানে খোঁজ নিলাম -- 
Anamika . 
room no. 502 .. 
please , can I meet with Anamika here ?

হোস্টেল সুপার বললেন ---
Anamika left the hostel four days ago...

আমি পাগলের মতো ছুটে চলে গেলাম বোনের বাসায় । সেখানে জানতে পারলাম , আমার 'তুমি' , অন্য কাউকে বিয়ে করছো । আমি বিশ্বাস করতে পারিনি । আমার অনামিকা অন্য কারোর হবে । ঠিকানা নিয়ে সেই রাতে চলে এলাম তোমার বাসায় । দুর থেকে দেখলাম এটাই কি আমার অনা , বধূর সাজে বরের পাশে ! 
আমি ভাবলাম , নাহ্ ! ও অনামিকা নয় । আমার বন্ধু জাহিদ আমার হাত ধরে ছিল । সেও তোমাকে দেখছিল ।

অনেকেই আমাদেরকে দেখছিল , তারা মনে করেছিল আমরা দুজন বরযাত্রী । জাহিদ নিষেধ করলো । তবুও মনে হলো , আমার অনা আমার সাথে প্রতারণা করেছে , কিন্তু আমি তো ওকে ভালোবাসি । তাই তোমার পছন্দের লাল রক্ত গোলাপ পাথরের আংটিটা তোমার কাছে বসে তোমাকে পরিয়ে দিলাম । অনেক বড় করে ঘোমটা টেনেছিলে , তাই তোমার মুখটা দেখতে পেলাম না । আমি যখন তোমার সুন্দর মেহেদী পরা হাতটি ধরলাম , তখন আমার সমস্ত শরীর কাঁপছিল । আমার গলাটা শক্ত হয়ে আসছিল । আমি তোমাকে অনামিকা বলে ডাকতে পারিনি । জাহিদ বুঝতে পেরেছিল আমার অবস্থা । তাই ও আমাকে নিয়ে চলে এলো তোমার কাছ থেকে ।

অনামিকা আমি এই প্রথম চিৎকার করে কেঁদেছি জাহিদকে জড়িয়ে আর বলেছি ছেঁড়েদে না আমায়
আমি অনার কাছে যাবো ।
ঠিক তোমার ছোট্ট বাবুর মতো করে কেঁদেছিলাম,
আমার অনাকে চেয়ে । 
অনামিকা আমি ভালো ছিলাম না, ঠিকমতো ঘুমাতে 
পারিনি খেতে পারিনি । ঠিকমতো অফিসে যাওয়া হতো না বলে চাকুরিটা চলে গেল ।
অনামিকা এ জীবনে না হলেও পর জীবনে আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিও আমার কি দোষ ছিল ,
কেনো আমার সাথে প্রতারণা করলে ?

তোমার
------তমাল,

তমালের চিঠি পড়া শেষ হলো কিন্তু আমার কান্না তো শেষ হলো না আজও বলতে পারিনি ,তমাল আমি প্রতারক নই ,ছিলাম না । আমি তোমাকে ভালোবাসি 
ভালোবেসেছিলাম। তমাল তোমার দেয়া রক্ত গোলাপ পাথরের আংটিটা আজও আমার হাতে ,এই তুমি ছিলে ?
তবে কেনো হাতটি ছেড়ে চলে গেলে কেনো একবার বললে না অনামিকা আমি তোমার তমাল ? 
সেদিন কেনো নিয়ে গেলে না আমায় তোমার করে 
বলো ?

আজও বলতে পারিনি আমি প্রতারক নই ।
আমি চিরকাল তোমার কাছে প্রতারক হয়ে থাকলাম 
তমাল । 
তমাল যখন দেশে 
অনামিকা তখন স্বামীর সাথে আমেরিকায় ।
কেউ কাউকে দেখতেই পেলো না কেমন ছিল তারা
পাশ কেটে গেলেও হয়তো চিনবে না । 
সমাপ্ত:

১২/৭/১৮
°°°°°°°°°°°°

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK