শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮
Tuesday, 10 Jul, 2018 11:13:01 am
No icon No icon No icon

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের কিশোর, তরুন, যুব সমাজের আবেগ, উচ্ছাসের ইতিবাচক মূল্যায়ন


বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের কিশোর, তরুন, যুব সমাজের আবেগ, উচ্ছাসের ইতিবাচক মূল্যায়ন


আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ: প্রতিবারের মত এবারও ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপ/বিশ্বকাপ ফুটবলকে উপলক্ষ্য করে বাংলাদেশের খেলা/ফুটবল প্রিয় কিশোর, তরুন, যুবক, সাধারণ মানুষ বিভিন্ন দেশের ফুটবল টিম/দলকে সমর্থন করছে এবং তা নিয়ে মাতামাতি, মজা, আনন্দ, উচ্ছাস, উল্লাস প্রকাশ করছে। তারা তাদের প্রিয়/সমর্থিত বিভিন্ন ফুটবল টিমের/দলের দেশের পতাকা বাসা/বাড়ি, এপার্টমেন্ট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ছাদে, বারান্দায়, রাস্তার পাশে, গলিতে, ক্লাবঘরে লাগিয়েছে। দলের জাতীয় জার্সি কিনে গায়ে চড়াচ্ছে এবং তা পড়ে ঘুরছে। প্রিয় বিখ্যাত ফুটবল তারকাদের ছবি দেয়ালে এঁকেছে, পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার বানিয়ে লাগিয়েছে, বিভিন্ন দলের সমর্থকরা ক্লাব বানিয়েছে, শোভাযাত্রা, মিছিল করেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা থেকে। এমন কি অনেকে নিজেদের বাড়ি/প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের পছন্দের দলের দেশের পতাকার রং দিয়ে সাজিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের আকাশে বিভিন্ন ভিন দেশি/বিদেশি দেশের পতাকা উড়ছে। এই নিয়ে একশ্রেনির পন্ডিত/বুদ্ধিজীবী/সমাজসেবী/আতেলদের ধারনা এবং বক্তব্য এতে দেশের স্বাধীনতার চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মর্যাদাহানি হচ্ছে! এছাড়াও তারা বিভিন্ন দেশের দলের ও তারকাদের সমর্থক কিশোর, তরুন, যুবক, সাধারণ

এই মিউজিক ভিডিওটি নিয়ে গীতিকার অনুরূপ আইচ বলেন-‘গানটা বিশ্বকাপ নিয়ে একটি প্রেমের গান, ফানি মোমেন্টের গান এটি। ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ইউটিউবে দর্শক- শ্রোতাদের উচ্ছ্বাস দেখে আমি অভিভূত।

মানুষের বিদেশি দেশের পতাকা কেনা, বিদেশি দলের জার্সি কেনা নিয়ে, প্রিয় দল ও তারকাদের ছবির পোস্টার, ব্যানার বানানো নিয়ে নিন্দা, সমালোচনা করেছে। তারা এগুলো না করে এসবের টাকা দিয়ে গরীব, অসহায়, ক্ষুধার্থ, অসুস্থ্য রোগীদের জন্য কাপড়, খাবার কিনে দিয়ে/তাদের আর্থিকভাবে সহায়তা করার পরামর্শ দিয়েছে/দিচ্ছে, অনুরোধ করেছে/করছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে। এই নিন্দুক, সমালোচকদের অনেক ভাল ভাল কথা, পরামর্শ, অনুরোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি প্রত্যেকটি ব্যাপার/ঘটনার সবদিক ভাল/নিখুত/বিস্তারিত/সার্বিক

ভাবে বিবেচনা না করে এবং না বুঝে কোন কিছু সম্পর্কে বুদ্ধিজীবী/মুরুব্বি/মোড়ল সেজে সে সম্পর্কে কেবল নেতিবাচক, খারাপ ধারনা পোষন, প্রচার করা, ঢালাওভাবে নিন্দা, সমালোচনা করা আমাদের জাতিগত বদ/কুঅভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাই আগে আমাদের নিজেদের এইসব নেতিবাচক, খারাপ ও ক্ষুদ্র-হীন মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

অন্য এক মাঠে ব্রাজিলের কাছে হারল আর্জেন্টিনা!

প্রথমত এসবের সাথে জাতীয়/আন্তর্জাতিক রাজনীতি, জাতীয়তাবোধ এবং দেশপ্রেমের কোন সম্পর্ক নেই। বরং প্রিয়/সমর্থক দল, তারকা, তাদের জার্সি এবং দেশের প্রতি নিতান্ত ভাললাগা, ভালবাসা, সমর্থন, আনন্দ, মজা, উল্লাস করার জন্যই তারা এইসব দেশের পতাকা কিনছে, উড়াচ্ছে, সেই দেশের দলের জার্সি কিনছে, পড়ছে, তারকাদের পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার বানাচ্ছে, লাগাচ্ছে। খেলা/ফুটবল প্রিয় কিশোর, তরুন, যুবক, সাধারণ মানুষের নিতান্ত আবেগ, ভাললাগা/সমর্থন, আনন্দ, উচ্ছাস ও উন্মাদনাই এখানে মূখ্য। 
দ্বিতীয়ত ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে যে সমস্ত ফেরিওয়ালা ও দোকানদাররা বিদেশি দেশের ও দলের পতাকা, জার্সি, পোস্টার, ব্যানার বানিয়ে বিক্রি করে কিছু টাকা আয় করছে। এতে একশ্রেণির গরীব, অস্বচ্ছল মানুষ এবং তাদের পরিবার আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছে। 

গানটিতে শিল্পী প্রতীক হাসান ছাড়াও মডেল হিসেবে অংশ নিয়েছেন আইরিন আফরোজসহ আরও অনেকে।
তৃতীয়ত এইসব আন্তর্জাতিক ফুটবল ও ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন যুদ্ধ বিধবস্ত দেশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হয়েছে/ হয়ে থাকে। এই সময়কালে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন অসামাজিক, অপরাধমূলক, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ অনেকাংশে হ্রাস পায় এটা বিভিন্ন দেশি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষনাতে প্রমাণিত হয়েছে। 
চতুর্থত বিশ্ব/আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলার ক্ষেত্রে ক্রিকেট খেলা দিয়েই বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি নাম, খ্যাতি, সফলতা পেয়েছে। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম কেনিয়াকে হারিয়ে আইসিসি ট্রফি জয়ের পর বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের অভিষেক ঘটে। এরপর বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং বাংলাদেশ-ভারত-শ্রীলংকা মিলে যৌথভাবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ টুনামেন্টের আয়োজন করেছিল। বিশেষ করে তখন থেকে সারা বাংলাদেশের কিশোর, তরুন, যুব সমাজ এবং সাধারণ মানুষ ক্রিকেট নিয়ে উৎসাহী হয়ে উঠে।

আসুন জেনে নিই কে এই ভিক্টোরিয়া লোপিরেভা?

যারা তাদের বিভিন্ন দেশের প্রিয় দলের দেশের পতাকা, তারকা এবং নিজেদের রঙ্গিন ছবি ছাপিয়ে মজা, আনন্দ, উচ্ছাস, উল্লাস করছে তারা বয়সে কিশোর, তরুন, যুবক। পেশায় তারা ছাত্র/বেকার, দরিদ্র ঘরের ক্ষুদ্র কর্মজীবী মানুষ। তারা নিতান্ত একটু মজা, আনন্দ, টাইমপাস, বিনোদনের জন্য এগুলো কিনছে, বানাচ্ছে, লাগাচ্ছে বাসাবাড়ি/ফ্লাট, প্রতিষ্ঠান, ক্লাবের ছাদ, রাস্তা, গলিতে। এই কিশোর, তরুন, যুবকদের কাঁচা মন, বয়স খেলা করার, দেখার, আড্ডা মারার, দল বেধে মজা, আনন্দ, উল্লাস করার এবং সুন্দরভাবে অবসর সময় কাটাবার। জীবন যুদ্ধ এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতা এইসব শিক্ষার্থী, বেকার, শ্রমজীবী কিশোর, তরুন, যুবকদের মনে তেমন ছাপ ও চাপ ফেলেনি। এইসব খেলা প্রিয় কিশোর, তরুন, যুবক, সাধারণ মানুষরা তাদের বয়স, বুদ্ধি, আবেগ, সময়, সুযোগ অনুসারে তাদের মত করে মজা, আনন্দ, উল্লাস করতে চায়। বিনোদন চায়। তাই একে নেতিবাচকভাবে নেবার, খারাপ বলার, নিন্দা, সমালোচনা করার কিছু নেই। ওরা ওদের জমানো/অর্জিত হাত খরচ/পকেট মানি/টাকা দিয়ে কি করবে সেটা তাদের নিতান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। 

মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা সৈকত নাসির।
বিশ্বের বহু বিখ্যাত শিশু বিশেষজ্ঞ এবং মনোবিজ্ঞানী বলেছেন, বয়স অনুসারে খেলনা দিয়ে খেলা, বুদ্ধি খাটিয়ে/শারীরিকভাবে খেলা করা, খেলা দেখার, তা বুঝার, আলোচনা, মজা করা নিয়ে আগ্রহ এবং শিশু, কিশোর, তরুন, যুবকদের নিজস্ব/প্রতিযোগীতামূলক চিন্তাচেতনার মানসিকতা, উৎসাহ সুস্থ্য স্বাভাবিক মানসিক ও শারীরিক বিকাশ, বুদ্ধি, সৃজনশীলতা, সাহসকে বিকশিত, প্রভাবিত করে থাকে। তা ছেলেমেয়ে শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুন-তরুনী, যুবক-যুবতী, নারী-পুরুষ সবার জন্যই প্রযোজ্য। অর্থাৎ ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেট, ব্যাটমিন্টন, চেজ, আইকিউ খেলা বিশেষত বিশ্বকাপ ফুটবল এবং বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার অনেক ইতিবাচক, ভাল দিক এবং প্রভাব রয়েছে/দেখা যায় পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। তাই এইসব কম বয়সী কিশোর, তরুন, যুবকদের বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে মজা, আনন্দ, উল্লাসের উপলক্ষ্য এবং অনুভূতিগুলোকে অবজ্ঞা করা/ছোট করে দেখা, তার নিন্দা-সমালোচনা করা নিতান্তই অনুচিত, অনধিকার চর্চা, দৃষ্টিকটু অবিবেচনাপ্রসূত এবং সমাজ-রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর।

অথচ আমি এমন কিছু অভিভাবক দেখেছি যারা মনে করেন বাচ্চা/ছেলেমেয়েদের খেলনা কিনে দিয়ে কি হবে? অযথা টাকার অপচয়। বরং এই টাকা দিয়ে তারা তাদের বাচ্চা/ছেলেমেয়েদের ভাল কোন খাবার/কাপড় কিনে দিতে পারে/কোথাও বেড়াতে নিয়ে যেতে পারে। খেলাধুলা করা নিতান্ত সময় অপচয় মাত্র। তারা বাচ্চাদের ১২/১৪ বছর হলেই মনে করে ছেলেমেয়ে অনেক বড় হয়ে গেছে। মেয়ের বিয়ে দেবার বয়স হয়ে যাচ্ছে। আর ছেলেরা বুড়া বেটাপুরুষ হয়ে গেছে। এখন এদের খেলা করার বয়স এবং কোন প্রয়োজন নেই। মূলত এইসব অভিভাবকরা নিজেরা ব্যক্তিগত এবং পারিবারিকভাবে খুব বেশি শিক্ষিত, সমাজ সচেতন এবং আধুনিক নয়। আর হলেও সুশিক্ষায় শিক্ষিত, সুনাগরিক এবং প্রগতিশীল নয়। তাহলে তারা অন্তত বুঝত যে, ২০ বছর পর্যন্ত ছেলেমেয়েরা কেউই শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিপূর্ণতা অর্জন করে না। এভাবে অনেক অভিভাবক তাদের ছেলেমেয়েদের ভুলভাবে গাইড ও মানুষ করেন। এইসব শিক্ষা, চিন্তাচেতনা, আধুনিকতায় অনগ্রসর, রক্ষণশীল পরিবারের ছেলেমেয়েরাই অনেকক্ষেত্রে পরিণত বয়সে ভুল পথে চালিত হয় এবং নানাবিধ অঘটন ঘটিয়ে থাকে। তারুণ্য একটি অমিত/অসীম সম্ভাবনাময় রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক শক্তিক্ষেত্র/কেন্দ্র।

বাংলাদেশের অধিকাংশ ফুটবলপ্রেমীর পছন্দের তালিকায় রয়েছে দুই দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। এ উন্মাদনায় দর্শক-শ্রোতাদের আনন্দের ভেলায় ভাসালেন কণ্ঠশিল্পী প্রতীক হাসান। এ গানটি লিখেছেন অনুরূপ আইচ।

তাই একে ভাল, সঠিক, শান্তিপূর্ণ, গঠনমূলক, প্রগতিশীলতার পথে চালিত করার গুরু দায়িত্ব পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের পরিণত, সফল এবং প্রতিষ্ঠিত বয়োজোষ্ঠ, প্রবীন ব্যক্তিদের। শিশু, কিশোর, তরুন, যুবকরা খেলাধুলা করার, দেখার এবং তা নিয়ে আগ্রহের ব্যাপারে উৎসাহী না হলে এবং তাদের আগ্রহী করতে না পারলে এইসব শিশু, কিশোর, তরুন, যুবকরা মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হবে না/হতে পারবে না। এই বয়সে খেলাধুলা না করলে, খেলাধুলার প্রতি উৎসাহ না থাকলে, খেলা না দেখলে, তা নিয়ে মেতে না থাকলে এইসব শিশু, কিশোর, তরুন, যুবকরা স্বাভাবিকভাবে ভুল পথে/বিপথে যাবে। নানাবিধ অসামাজিক, অপরাধমূলক, সন্ত্রাসী, জঙ্গীবাদী কার্যকলাপে আকৃষ্ট, উৎসাহী হবে, জড়িয়ে পড়বে, অঘটন ঘটাবে। যা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য সার্বিক ও

গানটির মিউজিক ভিডিও ২২ জুন ইউটিউবে প্রকাশ করে অডিও-ভিডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ধ্রুব মিউজিক স্টেশন (ডিএমএস)।

সুনিশ্চিতভাবে খারাপ ও অমঙ্গলকর ব্যাপার হবে। এই গুরুতর ব্যাপারটি কি তথাকথিত নিন্দুক ও সমালোচকরা ভেবে দেখেছেন? আর্ত মানবতার সেবা/ অসহায় গরীব/দরিদ্রদের প্রতি সহানুভূতিশীলতার নামে/দোহাই দিয়ে ফুটবল/ক্রিকেট প্রিয় কিশোর, তরুন, যুবক, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কৌশরিক উচ্ছাস, তারুন্যের উৎসাহ, যুব সমাজের উন্মাদনার ইতিবাচক দিকগুলোকে অবজ্ঞা/অবমূল্যায়ন করতে হবে এটা কোন যুক্তিতে ন্যায় এবং সঠিক হতে পারে?

যারা বিভিন্ন বিদেশি দেশ, দল এবং তারকাদের পতাকা, জার্সি কেনা, উড়ানো, পরা, পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার বানানো, লাগানো নিয়ে নিন্দা, সমালোচনা করছেন তারা অধিকাংশই প্রাপ্ত বয়স্ক এবং তারা নিজেদের কিশোর, তরুন কালকে পেড়িয়ে এসে যুবা/পৌড়ত্বে পদার্পন করেছেন। তারা নিজ নিজ পেশা, কর্মক্ষেত্রে নিযুক্ত এবং প্রতিষ্ঠিত। তাছাড়া তাদের অনেকেই আবার ফুটবল ও ক্রিকেট কোন খেলাই ভালভাবে বুঝেন না এবং বুঝলেও এখন তাদের খেলা করার/খেলা দেখার/তা নিয়ে মজা, আনন্দ, উচ্ছাস, উল্লাস করার মত বয়স, সময়, পরিস্থিতি, মানসিক উৎসাহ কোনটাই তেমন নেই। এই সমস্ত নারী-পুরুষ, অভিভাবক, মুরুব্বিরা শিশু, কিশোর, তরুন, যুবক ছেলেমেয়েদের বয়স্কজনিত মানসিকতা, খেলা নিয়ে তাদের আবেগ, ভাললাগা, মজা, আনন্দ, উচ্ছাস, উল্লাস, উন্মাদনার ব্যাপারগুলোকে কখনো গুরুত্ব দেয় না/দিতে চায় না। অনেকে আবার নিজেদের বয়স্কজনিত কারণে কিশোর, তরুন,

যুবকদের বয়স, মজা, আনন্দ, উচ্ছাস, উল্লাস, উন্মাদনা, আড্ডা, বিনোদন নিয়ে জেলাসীতে ভুগে/হিংসা করে থাকে। এজন্য তারা কিশোর, তরুন, যুবকদের অযথাচিতভাবে শাসন করতে/বাধা দিতে পছন্দ করে। বয়োজোষ্ঠদের এইসব ভুল ধারনা, বাড়াবাড়ি রকমের কথাবার্তা, কাজের জন্যই অনেক পরিবারে উঠতি বয়সী ছোটরা, কিশোর, তরুন, যুবক বয়সী ছেলেমেয়েরা বখে যায়/বিপথগামী হয়। বড়দের সম্মান দেয় না, শ্রদ্ধা করে না, মানে না। আমি বলব ওরা ছোট মানুষ। বয়স, শিক্ষা, বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা, সচেতনতা, বিবেচনাবোধ সবই এদের কম।

পারিবারিক/সামাজিক দায়িত্ব নেবার মত বয়স, চিন্তা, বুদ্ধি, সচেতনতাবোধ তাদের হয়নি। ধীরে ধীরে পরিণত বয়সে এরা সবাই পর্যায়ক্রমে পরিবারের দায়িত্ব নিবে এবং সমাজের ব্যাপারে দায়িত্বশীল হবে। তাই আমার পরামর্শ এবং অনুরোধ যারা এইসব কিশোর, তরুন, যুবকদের বিদেশি পতাকা, জার্সি কেনা, উড়ানো, পরা নিয়ে, পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার বানানো, লাগানো নিয়ে নিন্দা-সমালোচনা করছেন তারা যদি এইসব অহেতুক ফালতু চিন্তা, কথা, কাজ বাদ দিয়ে/পরিহার করে নিজেদের পরার কাপড়, ব্যবহার্য বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং সঞ্চিত/অর্জিত অর্থ/আয়/সম্পদ থেকে অসহায় গরীব, বেকার, দুর্দশাগ্রস্ত, রোগাক্রান্ত ছেলেমেয়েদের/মানুষদের কিছু কিছু করে দান, সহায়তা করেন এবং এরপর ফেইসবুকে পোস্ট দেন তাহলেও সমাজের কিছু গরীব, দরিদ্র অসহায়, বিপদাপন্ন মানুষের উপকার হবে। আপনাদের এই দয়া, দান, ভাল কাজ দেখে অনেকেই মানব সেবা এবং সমাজ সেবায় এগিয়ে আসবে। একই সাথে আপনাদের ভাল/ইতিবাচক চিন্তাচেতনা, পরিকল্পনা, কাজ, সাফল্য দেখে আজকের কিশোর, তরুন, যুব সমাজ আগামীতে

‘রুশ মেয়েরা সুন্দরী, তাই বহু পুরুষ তাদের সঙ্গে শুতে চায়।’

অন্যায়, অনাচার, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা, অপরাধ, সন্ত্রাসে আক্রান্ত, অগনিত সমস্যায় জর্জরিত,বিপর্যস্ত ঘুণে ধরা পুরানো রাষ্ট্র এবং সমাজ ব্যবস্থা ও কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে, গঠনমূলক ইতিবাচক চিন্তা, পরিকল্পনা, কাজ করতে অনুপ্রাণিত হবে, সাহস পাবে। আধুনিক যুগোপযোগী প্রগতিশীল জনকল্যাণকর রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণ করতে সক্ষম হবে। 

জীবনকে ভালবাসুন জীবনকে সুযোগ দিন

লেখক:আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ, সিনিয়র রিপোর্টার, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা:
[email protected]

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK